নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

চিন্তা হচ্ছে কাজের সূক্ষ্ম শরীর

"আকাশে নক্ষত্র দেখে নক্ষত্রের মতন না হয়ে পারিনি আমি / নদী তীরে বসে তার ঢেউয়ের কাঁপন, / বেজেছে আমার বুকে বেদনার মত / ঘাসের হরিৎ রসে ছেয়েছে হৃদয়"। _আহমদ ছফা

আবু নাঈম

'আগুনের ছবি দেখতে আগুনের মতো দেখালেও পোড়াবার ক্ষমতা থাকে না' _ আহমদ ছফা

আবু নাঈম › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রসঙ্গ নজরুল-গান্ধী : চমকে ওঠা ইতিহাসে কিছু বিভ্রান্তির জবাব

১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ১:৪৭

প্রসঙ্গ নজরুল-গান্ধী

চমকে ওঠা ইতিহাসে কিছু বিভ্রান্তির জবাব



ইদানিং ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম শীর্ষ নেতা গান্ধী এবং ওই সময়ের আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, যিনি রাজনীতির মঞ্চের কুশিলব না হয়েও রাজনীতি-বিমুখ তো ছিলেনই না বরং রাজনীতির ময়দানে সরব উপস্থিতি জারি রেখেছিলেন, সেই কবি নজরুল-কে নিয়ে কয়েকটি লেখা চোখে পড়েছে।

ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সম্পাদিক নতুন দিগন্ত সপ্তম বর্ষ প্রথম সংখ্যা (অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০০৮) সংখ্যায় "গান্ধীর রাজনৈতিক দর্শন ও ব্রিটিশ-বিরোধী মতপথ : নজরম্নলের প্রতিক্রিয়া" শিরোনামে আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়ার প্রবন্ধটি সুলেখ্য না হলেও ছিল তথ্যবহুল। এর আগে গত ২৫ মে ২০০৭ কবি নজরুলের জন্মজয়নত্মী উপলক্ষে দৈনিক প্রথম আলো-র সাহিত্য সাময়িকী পাতায় সলিমুল্লাহ খান-এর "নজরুল ইসলাম ও মহাত্মা গান্ধী" শিরোনামে একটি লেখা ছাপা হয়েছিল। লেখাটির বিষয়বস্তু গান্ধী এবং নজরুলের রাজনৈতিক মতাদর্শ। সুপাঠ্য হলেও লেখকের মতের সাথে, বিশেষত নজরুলের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে তার আলোচনার সাথে সহমত পোষণ করা কঠিন। কারণ খানের উপস্থাপনায় বিভ্রান্তি আছে, আছে সত্যের অস্বীকৃতি। আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়ার প্রবন্ধটির প্রতিপাদ্যও "রাজনৈতিক দর্শন" সুতরাং, তৎকালীন ভারতবর্ষের চলমান স্বাধীনতা সংগ্রামে কোন কোন রাজনৈতিক দর্শন ক্রিয়াশীল ছিল, গান্ধীর রাজনৈতিক দর্শনের রূপটি কি ছিল এবং নজরুলের রাজনৈতিক দর্শনের রূপটিই বা কি ছিল - এ তুলনামূলক আলোচনার উপস্থাপন ছিল অত্যন্ত জরুরি যা লেখক করে উঠতে পারেননি। পুরো প্রবন্ধটিতে বিষয় এবং ঘটনার পারম্পর্য খুব ভাল রক্ষিত হয়নি।

গান্ধী এবং নজরুলের রাজনৈতিক মত-পথ নিয়ে আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়ার লেখার অসম্পূর্ণতা এবং সলিমুল্লাহ খানের লেখার বিভ্রান্তি - দুটোকে এক পাল্লায় মাপা ঠিক হবে না। কিন্তু আমার ধারণা, খানের সৃষ্ট বিভ্রান্তির জবাব দিলে ভূঁইয়ার লেখার অসম্পূর্ণতাটুকুও ধরিয়ে দেওয়া যাবে। সে চেষ্টাই করা যাক।

দৈনিক প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকী পাতায় সলিমুল্লাহ খানের "নজরুল ইসলাম ও মহাত্মা গান্ধী" নামাঙ্কিত লেখাটির মূল প্রতিপাদ্য নজরুল। নজরুলের কথা লিখতে গিয়েই তিনি গান্ধীর প্রসঙ্গও উত্থাপন করেছেন। আমরা যাঁদের দুই মেরুর বাসিন্দা বলে জানতাম, তাদের তিনি মিলিয়েছেন এক বিন্দুতে। এ প্রয়াস নিঃসন্দেহে অভিনব, পাঠক হিসাবে এ আমাদের জন্য চমকপ্রদও বটে।

খান সাহেবের মতে, "বিনা গোলাবারুদে ব্রিটিশকে ভারত ছাড়িতে বাধ্য করিতে হইলে মুসলমান-হিন্দু বিশেষ না করিয়া নির্বিশেষ এক জায়গায় আনিতে হইবে। আমাদের কবি নজরুল ইসলাম এই প্রশ্নে তাঁহার (অর্থাৎ গান্ধীর) সহিত আঠারো আনা একমত ছিলেন"। শুধু তাই নয়, হিন্দু-মুসলমানের মিলিত "সংগ্রামে নজরুল ইসলাম মহাত্মা গান্ধীকেই কাণ্ডারি ভাবিয়াছিলেন"। "গান্ধীজি মনে করিতেন ভারতে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অস্ত্র ব্যবহার করা বিধেয় নহে" - এই অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতি, খানের মতে, হিন্দু-মুসলমানকে এক জায়গায় আনার উদ্দেশ্যে। হিন্দু-মুসলমান মিলনের প্রশ্নে গান্ধী "হিন্দুধর্মের ভাষা বা অলংকার পরিত্যাগ করিয়া হিন্দু-মুসলমান ঐক্য স্থাপন করিতে চাহেন নাই"। নজরুলও গান্ধীকে অনুসরণ করে "হিন্দু-মুসলমান মিলনের পথ চওড়া করিবার খাতিরে মুসলমান সমাজের বাগধারা বা ইতিহাস লুকাইতে চাহেন নাই"। সলিমুল্লাহ খান মোহন দাস করমচাঁদ গান্ধী ও কাজী নজরুল ইসলামকে এই যে এক বিন্দুতে মেলাতে চেষ্টা করেছেন, তাতে তিনি সফল হয়েছেন কি ব্যর্থ হয়েছেন সে আলোচনায় যাওয়ার আগে তার কথাগুলো আরেকবার যাচাই করে নেওয়া ভাল। আমাদের বিবেচ্য বিষয় : ঠিক কোন প্রশ্নে নজরুল গান্ধীর সাথে আঠারো আনা একমত ছিলেন - "বিনা গোলাবারুদে ব্রিটিশকে ভারত ছাড়িতে বাধ্য" করার প্রশ্নে? নাকি "হিন্দু-মুসলমান ঐক্য" স্থাপনের প্রশ্নে? অথবা, উভয় প্রশ্নে?

গান্ধী এবং নজরুলের প্রসঙ্গ ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের সাথে একসূত্রে গাঁথা। শ্রদ্ধেয় খান সে ইতিহাসের তেমন কোনো উল্লেখ তার লেখায় করেন নি। ধরে নিতে পারি, তিনি পাঠককে এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল ধরে নিয়েছেন, এবং ইতিহাসের ওই আলোচনা প্রবন্ধটিকে প্রলম্বিত করত, সে কারণেই তিনি ইতিহাস-আলোচনা সযত্নে এড়িয়ে গেছেন। শুধু বলেছেন, "নজরুল ইসলাম যেদিন কলিকাতায় ফিরিলেন, সেদিন বাংলাদেশেও হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে ঐক্য বিধানের চেষ্টাও শুরু হইয়াছে"। বলা দরকার, বাংলায় হিন্দু-মুসলমানের ঐক্য বিধানের চেষ্টা নজরুলের কলকাতা প্রত্যাবর্তনের বহু আগেই শুরু হয়েছিল। নজরুল যুদ্ধ শেষে কলকাতায় ফিরেছিলেন ১৯২০ সালের মার্চে। অথচ বাংলায় হিন্দু-মুসলমানের ঐক্য বিধানের প্রথম প্রয়াস ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলন।

উনিশ শতকের শেষে এবং বিশ শতকের শুরুতে স্বাধীনতার লক্ষ্যে যে আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছিল তার কেন্দ্রবিন্দু ছিল রাজধানী কলকাতা এবং নেতৃত্বে ছিল কলকাতা-কেন্দ্রিক উচ্চবর্ণের অভিজাত বাঙালি হিন্দুরা। ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় কংগ্রেস তখন পর্যন্ত আন্দোলনের পরিবর্তে দেন-দরবার, আবেদন-নিবেদনের রাস্তায় হাঁটছে। কংগ্রেসের এই দুর্বল ও আপসকামী চরিত্র প্রত্যাখ্যান করে সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করার আকাঙ্ক্ষাও তখন জেগে ওঠেছিল। এ সময়ই সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে ভারতবর্ষ থেকে ব্রিটিশ শক্তিকে তাড়ানোর প্রয়াস হিসাবে "অনুশীলন", "যুগান্তর" ইত্যাদি সশস্ত্র বিপ্লববাদী দলগুলো গড়ে ওঠে। এগুলোর কেন্দ্র ছিল বাংলা এবং পৃষ্ঠপোষক ছিলেন বাংলার শিক্ষিত হিন্দু সম্প্রদায়। ফলে আন্দোলনকারী শক্তিকে খর্ব করার উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ শাসকরা হিন্দু-মুসলমানের সাম্প্রদায়িক স্বার্থবুদ্ধিকে উস্কে দিয়ে বাংলাকে ভাগ করার নীতি গ্রহণ করে। (নজরুল ইসলাম : বাংলার হিন্দু মুসলমান সম্পর্ক, কলকাতা, মাঘ ১৪০২, পৃ : ২১০) এই পরিকল্পনা থেকেই ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর "বঙ্গভঙ্গ" ঘোষণা করা হয়। বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনে হিন্দু-মুসলমান দুই সম্প্রদায়ের মিলন ঘটাতে রবীন্দ্রনাথ ও রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীর পরিকল্পনায় রাখীবন্ধন উৎসব ও ঘরে ঘরে অরন্ধন পালিত হয়। রবীন্দ্রনাথ নিজে শোভাযাত্রাসহ রাখীবন্ধনে নেতৃত্ব দেন। তিনি পথের মুসলমান সহিস এমনকি চীৎপুরের বড় মসজিদে গিয়ে উপস্থিত মুসলমানদের রাখী পরিয়ে ছিলেন। (নেপাল মজুমদার : ভারতে জাতীয়তা ও আন্তর্জাতিকতা এবং রবীন্দ্রনাথ, কলকাতা, জানুয়ারি ১৯৮৩, পৃ : ২১৭)

বঙ্গভঙ্গ-রদ আন্দোলনে মুসলমানদের একটা ক্ষুদ্র অংশমাত্র শামিল হয়েছিল। বেশিরভাগই অবস্থান নিয়েছিল বঙ্গভঙ্গের পক্ষে। ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহকে সহজ শর্তে ১৪ লাখ টাকা ঋণ দিয়ে সরকার বশ করেছিল। তাকে কেন্দ্র করে অন্যান্য অভিজাদ ও বনেদী মুসলমানরাও সংগঠিত হতে থাকে। পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন শহরে বঙ্গভঙ্গের পক্ষে মিটিং-মিছিল হয়। ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের ২৬ অক্টোবর যেদিন বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয়, সেদিনই সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার জন্য সম্ভ্রান্ত মুসলমানদের নিয়ে ঢাকায় "মহামেডান প্রভিন্সিয়াল অ্যাসোসিয়েশন" স্থাপিত হয়। অত্যচারী হিসাবে কুখ্যাত ব্যামফীল্ড ফুলারের সংবর্ধনার ব্যবস্থাও করা হয়। (নজরুল ইসলাম, পূর্বোক্ত, পৃ : ২১১-২১২) বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনের প্রতিক্রিয়ায় ১৯০৬ সালে গড়ে ওঠে মুসলিম লীগ। মুসলীম লীগ স্থাপনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে গৃহীত ৩টি প্রস্তাবের প্রথমটি ছিল - "ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি রাজভক্তি উদ্রেক করা এবং সরকারের কোনো ব্যবস্থা সম্বন্ধে তাদের মনে ভুল ধারণা জন্মিলে তা দূর করা"। বাকি প্রস্তাব দুটিও এর অনুসারী।

১৯১১ সালে যখন বঙ্গভঙ্গ-রদের ঘোষণা আসে ততদিনে হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের চূড়ান্ত অবনতি ঘটেছে। উভয় পক্ষের তিক্ততা ও অবিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে, সাম্প্রদায়িকতা এবং স্বাতন্ত্র্যবোধের প্রসার ঘটেছে। যে অল্প কয়েকজন মুসলমান তখনও কংগ্রেসে ছিলেন বঙ্গভঙ্গ-রদের পরপর তাদের অনেকেই কংগ্রেস ত্যাগ করেন। ১৯০৯ সালে মর্লি-মিন্টো রিফর্মের নামে হিন্দু-মুসলমানের জন্য পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা হিন্দু-মুসলমানের সাম্প্রদায়িক-স্বার্থগত বিভেদ তীব্র করে তোলে। এই বিভেদ নিরসন করতে সেদিন লীগ-কংগ্রেসের নেতারা আপস-চুক্তি করেছিলেন। ১৯১৬ সালের এই লক্ষ্মৌ প্যাক্ট সম্পর্কে সে-সময় রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, রাজনীতির খাতিরে হিন্দু-মুসলমান মিলনের এই "সতর্ক" "নাট্যভঙ্গী" কখনোই সফল হতে পারে না। (লোকহিত, কালান্তর, পৃ : ৩৯; সবুজপত্র, ভাদ্র ১৩২১) সে প্রচেষ্টা সফল হয়ও নি, চুক্তির অনতিকাল পরেই বিহার ও ভারতের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা শুরু হয়। সলিমুল্লাহ খান উল্লেখিত "হিন্দু-মুসলমানের ঐক্য বিধানের চেষ্টা" এর পরের ঘটনা।

গান্ধীর নেতৃত্বে সত্যাগ্রহ বা নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ আন্দোলন চলাকালে ১৩ এপ্রিল ১৯১৯ সংঘটিত হয় ইতিহাস কুখ্যাত জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড। গান্ধী কিন্তু এই ঘটনায় ইংরেজ সরকার অপেক্ষা দেশের জনসাধারণের "হিংসাত্মক ও বিশৃঙ্খল" কার্যকলাপেই বেশী ক্ষুব্ধ হন এবং ১৮ এপ্রিল তারিখে তিনি সত্যাগ্রহ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন। তিনি জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড অপেক্ষা খিলাফত সমস্যার উপর অধিক গুরুত্ব দিলেন, কারণ ওতে নাকি হিন্দু-মুসলমানের ঐক্য গড়ে উঠবে।

ভারতের মুসলমান সম্প্রদায় তুরস্কের অর্থাৎ অটোমান বা উসমানিয়া সাম্রাজ্যের সুলতানকে খলিফা বা ধর্মগুরু এবং তার সাম্রাজ্যকে খিলাফত বা ধর্মীয় সাম্রাজ্য মনে করত। প্রথম মহাযুদ্ধে তুরস্ক জার্মানির পক্ষ নিয়েছিল তাই যুদ্ধশেষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ তুরস্ককে খণ্ড-বিখণ্ড করার প্রচেষ্টা চালায়। এর বিরুদ্ধে মুসলমানরা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তার নাম খিলাফত। তুরস্কের অখণ্ডতা এবং খলিফার মর্যাদা রক্ষার দাবিতে গান্ধী মুসলমানদের অসহযোগ আন্দোলন শুরু করার পরামর্শ দেন। ২৮ মে ১৯২০ বোম্বেতে খিলাফত কমিটির বৈঠকে গান্ধীর প্রস্তাব গৃহীত হয়। ৩১ আগস্ট থেকে শুরু হল খিলাফত আন্দোলন। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, বিপিনচন্দ্র পাল, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, মদনমোহন মালব্য প্রমুখ নেতৃবৃন্দ গান্ধীর প্রস্তাবের বিরোধী ছিলেন। বিরোধী মতকে পক্ষে আনতে গান্ধী অসহযোগ আন্দোলন চালিয়ে এক বছরের মধ্যে স্বাধীনতা এনে দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এ সময় গান্ধী সশস্ত্র বিপ্লববাদীদের প্রতি তাঁদের কার্যক্রম কিছুদিনের জন্য স্থগিত রাখার আহ্বান জানালেন -

"যাঁহারা হিংসামূলক কার্যে বিশ্বাসী তাঁহাদিগকে আমি এই শান্তিপূর্ণ অসহযোগ আন্দোলনকে পরীক্ষা করিয়া দেখিতে বলিতেছি ...। ভারতবর্ষ তরবারির পথ গ্রহণ করিলে সাময়িক জয়লাভ করিতে পারে, কিন্তু সেই ভারতবর্ষে আমার গর্ব করিবার কিছুই থাকিবে না।" (নেপাল মজুমদার, পূর্বোক্ত, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃ : ৭৯)

দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, যিনি শুরুতে অসহযোগের বিপক্ষে ছিলেন, তিনিও গান্ধীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মাসে ১৫/২০ হাজার টাকার ওকালতি পেশায় ইস্তফা দিয়ে সর্বশক্তি নিয়ে অসহযোগে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। এ সময় দেশবন্ধুকে নেতা হিসাবে বরণ করে নিয়ে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, সুভাষচন্দ্র বসু প্রমুখ কংগ্রেসে যোগদান করেন এবং অসহযোগ আন্দোলনে সামিল হন। অল্পদিনের মধ্যেই দেশবন্ধু, মতিলাল নেহেরু, আবুল কালাম আজাদ, সুভাষ বসুসহ অসংখ্য নেতাকর্মী গ্রেফতার হলেন। এ সময় ব্রিটিশ বড়লাটের পক্ষ থেকে আন্দোলন প্রত্যাহার করার শর্তে বন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তি দেওয়ার আপস প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গান্ধী সর্বাগ্রে লীগ নেতা মওলানা মুহাম্মদ আলী ও মওলানা শওকত আলীর মুক্তি দাবি করেন এবং আপস-প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন তীব্র করার ঘোষণা দেন। এদিকে ৫ ফেব্রুয়ারি উত্তর ভারতের গোরখপুর জেলার চৌরিচোরা নামক গ্রামে তিন হাজার কৃষকের এক মিছিলের ওপর পুলিশ গুলি চালায়। বিক্ষুব্ধ জনতা থানা আক্রমণ করে আগুন জ্বালিয়ে দিলে ২২ জন পুলিশ নিহত হয়। "অহিংস অসহযোগ" "সহিংস" হয়ে পড়েছে দেখে মর্মাহত গান্ধী অসহযোগ প্রত্যাহার করে নিলেন। আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেওয়ার সংবাদ পেয়ে কারারুদ্ধ দেশবন্ধু, মতিলাল, জওহরলাল প্রমুখ নেতারা অত্যন্ত বিস্মিত ও বিক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। তাঁরা গান্ধীকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু গান্ধী তাতে কর্ণপাত করেন নি। অসহযোগ আন্দোলনের এই হল পরিণতি। এখন দেখা যাক, হিন্দু-মুসলমান ঐক্য-বিধানের জন্য মহাত্মা-সমর্থিত খিলাফতে পরিণতি কী হল।

কামাল পাশা নামে নজরুলের একটি কবিতা আছে। সবাই জানেন, তারপরও দু-এক ছত্র উদ্ধৃত করছি -

"ঐ ক্ষেপেছে পাগ্‌লি মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই,

অসুর-পুরে শোর উঠেছে জোরসে সামাল সামাল তাই।

কামাল তুনে কামাল কিয়া ভাই!"

এই কামাল পাশা কে? ভারতের মুসলমানরা যে তুরস্কের খলিফার গদি রক্ষার দাবিতে খিলাফতে নেমেছিল, গান্ধী যে খিলাফতে সমর্থন ও পরামর্শ দিয়ে হিন্দু-মুসলমান ঐক্য সাধন করতে চেয়েছিলেন, ইনি তাদের সব আশার গুড়ে-বালি দিয়েছিলেন। মুস্তাফা কামাল পাশা শুধু তুরস্ক থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকে খেদিয়ে ক্ষান্ত হননি, খলিফার পদও অবলুপ্তি ঘটালেন। কামালের তাড়া খেয়ে মুসলমানদের প্রাণপ্রিয় খলিফা সুলতান ওয়াহিদউদ্দীন জান নিয়ে পালিয়ে ব্রিটিশেরই আশ্রয় নিলেন। কামাল তুরস্ককে সম্পূর্ণ স্যেকুলার রাষ্ট্র হিসাবে ঘোষণা করলেন। খোদ তুরস্কের মাটিতেই যে খিলাফত উৎখাত হয়ে গেল, ভারতে সেই খিলাফত রক্ষার আন্দোলন কী করে চলে? চলল না, মুখ থুবড়ে পড়ল। আর খিলাফত-উৎখাতকারী সেই কামালের নামে নজরুলের উচ্ছ্বাস ও প্রশস্তি প্রমাণ করছে, তিনি খিলাফতের থোড়াই কেয়ার করতেন। নজরুলের আরেকটি প্রবন্ধ আছে "কামাল" নামে। সেখানেও নজরুল খিলাফতকারীদের তীব্র সমালোচনা করেছেন, তরবারি হাতে নিয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকে উৎখাত করার জন্য বাংলার মুসলমানদের আহ্বান জানিয়েছেন।

খিলাফত সম্পর্কে নজরুলের মতামত নিয়ে বোধ করি আর অস্পষ্টতা নেই। রবীন্দ্রনাথ, গান্ধীর প্রতি যাঁর ভক্তি-শ্রদ্ধার কমতি ছিল না, তিনিও এই খিলাফত আন্দোলনকে সমর্থন করতে পারলেন না। (দেখুন : নেপাল মজুমদার, পূর্বোক্ত, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃ : ৮৫) অন্যদিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের উদার সংস্কারমুক্ত অংশও খিলাফত নিয়ে আশাবাদী ছিল না। মোসলেম ভারত পত্রিকার ১৩২৭ বঙ্গাব্দ মাঘ সংখ্যায় লেখা হয় -

"আজ যে "খেলাফৎ"-এর জন্য আমরা উঠিয়া পড়িয়া লাগিয়াছি, সেই "খেলাফৎ"-এর প্রতিনিধিরাই যদি কালক্রমে ভারত আক্রমণ করিতে আসেন, তবে তাহাদের বিরম্নদ্ধচারণ করাই হইবে আমাদের কর্তব্য ... ... ভারতের এই যে অগণিত হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান - তাহাদিগকে অধীনতাপাশে আবদ্ধ করিবার অধিকার কাহারও নাই, আমাদের খলিফার প্রতিনিধিবর্গেরও নাই।" (উল্লেখ - শুভঙ্কর মুখোপাধ্যায় : সেকুলার ভারতে ধর্ম ও রাজনীতি, কলকাতা, ফেব্রুয়ারি ২০০৩, পৃ : ১০৬)

এবার হিন্দু-মুসলমান ঐক্য গড়তে খিলাফতের অবদান মূল্যায়ন। গান্ধীর ঘণিষ্ঠ সমকর্মী জওহরলাল নেহেরু তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন :

"১৯২১ সালে খিলাফত আন্দোলনকে প্রাধান্য দেওয়ার ফলে বহু সংখ্যক মৌলবী ও মুসলমান ধর্মপ্রচারক রাজনৈতিক সংঘর্ষে যোগ দিয়াছিলেন। তাঁহারা আন্দোলনের উপর ধর্মের রং চড়াইতেন যাহাতে মুসলমান জনতা বিশেষভাবে প্রভাবান্বিত হইত। অনেক পাশ্চাত্যভাবাপন্ন মুসলমান, যাঁহারা ধর্ম লইয়া মাথা ঘামাইতেন না তাঁহারাও দাড়ি রাখিতে আরম্ভ করিলেন এবং ধর্মাচরণে নৈষ্ঠিক হইয়া উঠিলেন। পাশ্চাত্য ভাবের ক্রমপ্রসার ও নূতন নূতন চিন্তার ফলে যে মৌলবীদের প্রভাব ও প্রতিপত্তি স্বাভাবিক রূপে কমিয়া আসিতেছিল তাহারা পুনরায় প্রবল হইয়া মুসলমান সমাজের উপর আধিপত্য বিস্তার করিল। ... ... বলা বাহুল্য, গান্ধীজী সর্বদাই আন্দোলনে ধর্ম ও আধ্যাত্মিক ভঙ্গির উপর জোর দিতেন। তাঁহার অবশ্য ধর্মের গোঁড়ামি ছিল না। তথাপি সমগ্র আন্দোলনের মধ্যে এক ধর্মের জাগরণ অনুভূত হইল এবং জনসাধারণের মধ্যেও এই আন্দোলন ধর্মজীবনের আকাঙ্ক্ষা জাগাইল। ... ... গান্ধীজীর কতকগুলি উক্তিও আমার কানে বাজিত। তিনি প্রথমই রামরাজ ও সত্যযুগ ফিরাইয়া আনিবার কথা বলিতেন ...।" (আত্মচরিত : সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার অনূদিত, পৃ : ৭৭-৭৯; উদ্ধৃত : নেপাল মজুমদার, পূর্বোক্ত, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃ : ১২৭)

এবার খোদ গান্ধীর কথায় আসি। কেন তিনি খিলাফতে সমর্থন দিয়েছিলেন? তিনি সে সময় বলেছিলেন, -

"আমি দাবি করছি যে আমাদের উভয়ের পক্ষেই খিলাফতই প্রধান বিবেচ্য। মৌলানা মহম্মদ আলীর পক্ষে, কারণ এটাই তাঁর ধর্ম, আর আমার পক্ষে, কারণ খিলাফতের জন্য জীবন দান করতে পারলে আমি আমার ধর্ম অর্থাৎ গো-জাতিকে মুসলমানদের ছুরিকাঘাত থেকে বাঁচাতে পারব।" (ইয়ং ইন্ডিয়া, ২০.০৯.১৯২০)

বলার অপেক্ষা রাখে না, গো-জাতিকে রক্ষার ও রামরাজ প্রতিষ্ঠার এই খিলাফত হিন্দু-মুসলমানের ঐক্য বা সংহতি গড়তে পারে নি। বরং খিলাফত আন্দোলনের অবসানে দুই সম্প্রদায়ের স্বাতন্ত্র্যবোধ তীব্র থেকে তীব্র হয়ে উঠেছে, তার বিস্তর নমুনা সে সময়ের ইতিহাসে আছে।

এবার ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের পন্থা সম্পর্কে গান্ধীর মনোভাব ও চিন্তাধারা বিবেচনা করে দেখা যাক। এবং এর সাপেক্ষ নজরুলের মনোভাব বোঝাও সহজ হবে। গান্ধী ব্রিটিশের শুভবুদ্ধির কাছে আবেদন-নিবেদন করে স্বরাজ আদায় করতে চেয়েছেন। তাঁর মত অনেকটা এই রকম যে ব্রিটিশ স্বেচ্ছায় ভারত ছেড়ে চলে গেলে তবেই আমরা স্বাধীনতা পেতে পারি, কিন্তু কোনোভাবেই ভারত ত্যাগে ব্রিটিশকে বাধ্য করা যাবে না। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে স্বাধীনতা দাবি করা, গান্ধীর মতে, ধর্মবিরুদ্ধ। (দেখুন : নেপাল মজুমদার, পূর্বোক্ত, ২য় খণ্ড, পৃ : ১৬০) যে কারণে ১৯২১ সালের ডিসেম্বর কংগ্রেসের আহমেদাবাদ অধিবেশনে মওলানা মোহানি `সর্বপ্রকার-বিদেশী-প্রভাবমুক্ত-পূর্ণ-স্বাধীনতা'র প্রস্তাব উত্থাপন করলে গান্ধী তাতে বিরক্ত হন। অন্যদিকে নজরুল ১৯২২ সালের ১৩ অক্টোবর নিজের সম্পাদিত ধূমকেতু পত্রিকায় লিখছেন, -

"সর্বপ্রথম "ধূমকেতু" ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা চায়। স্বরাজ টরাজ বুঝিনা ...। ভারতবর্ষের এক পরমাণু অংশ বিদেশীর অধীন থাকবে না। ভারতবর্ষের সম্পূর্ণ দায়িত্ব, সম্পূর্ণ স্বাধীনতা রক্ষা, শাসনভার সমস্ত থাকবে ভারতীয়দের হাতে। তাতে কোনো বিদেশীর মোড়লী করবার অধিকারটুকু পর্যন্ত থাকবে না। ... প্রার্থনা বা আবেদন নিবেদন করলে তাঁরা শুনবেন না। তাঁদের অতটুকু সুবুদ্ধি হয়নি এখনো। আমাদেরও এই প্রার্থনা করার, ভিক্ষা করার কুবুদ্ধিটুকুকে দূর করতে হবে।" (ধূমকেতুর পথ)

নজরুল গান্ধীকে বড় মানুষ, মাহাত্মাই মনে করতেন; কোনো প্রকার অশ্রদ্ধা পোষণ করতেন না। কিন্তু গান্ধীর অহিংস আন্দোলন সম্পর্কে নজরুলের মনোভাব ছিল সম্পূর্ণ বিরুদ্ধ। নজরুল বলছেন -

"দেশকে যে নারীর করুণা নিয়ে সেবা করে, সে পুরুষ নয়, হয়ত মহাপুরুষ। কিন্তু দেশ এখন চায়, মহাপুরুষ নয়। দেশ চায়, সেই পুরুষ যার ভালোবাসায় আঘাত আছে, বিদ্রোহ আছে। যে দেশকে ভালোবেসে শুধু চোখের জলই ফেলবে না, সে দরকার হলে আঘাতও করবে, প্রতিঘাতও বুক পেতে নেবে, বিদ্রোহ করবে।" (আমি সৈনিক)

আরও দু-একটা নমুন তুলে দিচ্ছি। ধূমকেতু-তে প্রকাশিত (২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২) "আনন্দময়ীর আগমনে" কবিতার জন্য নজরুল কারারুদ্ধ হয়েছিলেন। সেই কবিতায় তিনি লিখেছিলেন -

" ... মাদীগুলোর আদি দোষ ঐ অহিংসা-বোল নাকি-নাকি,

খাঁড়ায় কেটে কর্‌ মা বিনাশ নপুংসুকের প্রেমের ফাঁকি!

হান্‌ তরবার, আন্‌ মা সমর, অমর হবার মন্ত্র শেখা,

মাদীগুলোয় কর্‌ মা পুরুষ, রক্ত দে মা, রক্ত দেখা!

লক্ষ্মী-সরস্বতীকে তোর আয় মা রেখে কমল-বনে,

বুদ্ধি-বুড়ো সিদ্ধিদাতা গণেশ-টনেশ চাই না রণে।"

অন্যত্র বলছেন -

"ভারত হবে ভারতবাসীর"- এই কথাটাও বল্‌তে ভয়!

সেই বুড়োদের বলিস্‌ নেতা - তাদের কথায় চল্‌তে হয়!

বল রে তোরা বল্‌ নবীন -

চাইনে এসব জ্ঞান-প্রবীণ! "

(বিদ্রোহী বাণী)

নিশ্চয়ই বুঝিয়ে বলতে হবে না, "বুড়ো" আর "প্রবীণ" উপমায় নজরুল কাকে অভিষিক্ত করেছেন! আর ওই প্রবীণ বা প্রবীনদের উদ্দেশে নজরুলের সুপারিশ কি? -

"প্রেমিক ঠাকুর মন্দিরে যান, গাড়ুন সেথায় আসত্মানা! " (ঐ)

এই মনোভাবেরই প্রতিধ্বনি করছে কুহেলিকা উপন্যাসের বিপ্লবী আদর্শে দীক্ষিত শিক্ষক প্রমত্ত, এখানে নজরুলের মনোভাব আরো স্পষ্ট, আরো তীব্র -

"নেংটি পরা বাবাজীদের এই অহিংসাবাদ আমায় এত আহত করে তোলে যে তখন আমার আর কাণ্ড-জ্ঞান থাকেনা।"

আর তাই তিনি আক্ষেপ করে বলছেন -

"যতবার বাঁধি ছেঁড়ে সে শিকল,

মেরে মেরে তারে করিনু বিকল,

তবু যদি কথা শোনে সে পাগল! মানিল না রবি-গান্ধীরে।"

(আমার কৈফিয়ত)

সলিমুল্লাহ খান বলছেন, "গান্ধীজি হিন্দুধর্মের ভাষা বা অলংকার পরিত্যাগ করিয়া হিন্দু-মুসলমান ঐক্য স্থাপন করিতে চাহেন নাই। নজরুল ইসলামও তাঁহার পথ ধরিয়াছিলেন"। একজন রাজনীতিক, যাঁকে লক্ষ কোটি জনসাধারণ নেতার আসনে বসিয়েছে, তাঁর ধর্মাচরণ আর একজন কবির ধর্ম-মনোভাব এক তুলাদণ্ডে মাপা চলে কি? নজরুল নিজেও রাজনীতিতে নেমেছিলেন, দল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি কিন্তু তাঁর ধর্ম-পরিচয় নিয়ে রাজনীতির ময়দানে হাজির হননি। ফলে হিন্দু-মুসলমানের মিলনে গান্ধীর পন্থা আর নজরুলের পন্থা ভিন্ন শুধু নয়, পরস্পর বিরোধীও। স্বাধীনতা আন্দোলনে, রাজনীতিতে ধর্মকে ব্যবহার করার প্রসঙ্গে নজরুল তাঁর মনোভাব স্পষ্ট করেই ব্যক্ত করেছেন -

"দেশে একটা কথা উঠেছে যে, মুক্তির জন্য যে আন্দোলন আমরা চালাচ্ছি আমাদের তা ধর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত করে নিতে হবে। ... .. আমরা শুনতে পাচ্ছি যে, আমাদের ধর্মের ভিতর দিয়ে চলতে হবে। কিসের জন্যে আমাদের ধর্মকে আশ্রয় করতে হবে? ... ... মানুষের দাস তুমি, তোমার আবার ধর্ম কি? তোমার ধর্মের বলবার অধিকার কি? "ওরে আমার তরুণ, ওরে আমার লক্ষ্মীছাড়ার দল, তোরা আয়, তোরা ছুটে আয় - এই ভন্ডাামি থেকে চলে আয়। তোরা বল আমাদের আগে বাঁচতে হবে।" (আমার ধর্ম)

সর্বশেষে সলিমুল্লাহ খান তার লেখায় "সত্য-মন্ত্র" কবিতাটি উল্লেখ করেছেন যেখানে বলা আছে -

"চিনেছিলেন খ্রিষ্ট বুদ্ধ

কৃষ্ণ মোহাম্মদ ও রাম -

মানুষ কী আর কী তার দাম।

(তাই) মানুষ যাদের করত ঘৃণা,

তাদের বুকে দিলাম স্থান

গান্ধী আবার গান সে গান।"

খান বলতে চাইছেন, এটি গান্ধীর হিন্দু-মুসলমান বিরোধনাশক-মন্ত্র যা নজরুল ঘোষণা করছেন। ইতিহাস বলছে সেটা হিন্দু-মুসলমান বিরোধনাশক মন্ত্র হিসাবে লেখা নয়। তিনি খেয়াল করলেই দেখতে পেতেন, এখানে বলা আছে - "মানুষ যাদের করত ঘৃণা"। মানুষ কাদের ঘৃণা করত? এ কথা অনেকেই জানেন যে গান্ধী হিন্দু সম্প্রদায়ের নিম্নবর্গ, আমরা যাদের মেথর-মুচি-চাঁড়াল বলে জানি সেই তাদের হরিজন আখ্যা দিয়ে বুকে তুলে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। নজরুল গান্ধীর সেই দরদী ভূমিকারই স্বীকৃতি এ কবিতায় দিয়েছেন।

খান তাঁর লেখার শুরুতেই প্রথম মহাযুদ্ধে ব্রিটিশের পক্ষ হয়ে গান্ধী এবং নজরুলের যোগদানের কথা উল্লেখ করেছেন। তথ্যগতভাবে এতে কোনো ভ্রান্তি নেই। কিন্তু এর সাহায্যে তিনি গান্ধী ও নজরুলের যে মতাদর্শগত মিল দেখানোর চেষ্টা করেছেন সেটা সম্পূর্ণই বিভ্রান্তিকর। কারণ তিনি তথ্য উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তার পরিপ্রেক্ষিতটি আড়াল করেছেন। প্রথমত, গান্ধী যে সময় ব্রিটিশকে সহযোগিতা করছেন সে সময় তিনি একজন পরিণত বয়ষ্ক মানুষই শুধু নন, রাজনীতিবিদও। অন্যদিকে নজরুল সদ্য কৈশোরউত্তীর্ণ এক তরুণ মাত্র। কিন্তু বয়সের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে উদ্দেশ্য। গান্ধী কি উদ্দেশ্যে ব্রিটিশকে সহযোগিতা করেছিলেন? এ বিষয়ে গান্ধী লিখেছিলেন :" "... I did all these in the belief that acts such as mine must gain for my country an equal status in the empire." (Mahatma: Vol 2, P - 31; উল্লেখ - নেপাল মজুমদার, পূর্বোক্ত, প্রথম খণ্ড, পৃ : ৩৭০) অর্থাৎ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মধ্যে ভারতের সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে এই আশায় তিনি যুদ্ধে সহযোগিতা করেছিলেন। অন্যদিকে নজরুলের যুদ্ধে যোগদান সম্পূর্ণ ভিন্ন উদ্দেশ্যে। নজরুল বন্ধু শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণ থেকে জানা যায়, এই মহাযুদ্ধে ব্রিটিশের হয়ে যুদ্ধে যোগদানের উদ্দেশ্য যুদ্ধবিদ্যা আয়ত্ত্ব করা, যা দিয়ে একদিন ব্রিটিশকেই উৎখাত করা যাবে।

একইভাবে উভয়ের পার্থক্য ছিল শ্রমজীবী মানুষের রাজনীতি এবং রাজনীতিতে তাদের ভূমিকা নিয়ে। বিস্তর আলোচনায় না গিয়ে শুধু নজরুলের গড়ে তোলা দলটির নাম থেকেই তা স্পষ্ট হয়। নজরুল যে দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তার নাম ছিল শ্রমিক-প্রজা স্বরাজ পার্টি। নজরুল সম্পাদিত লাঙল ছিল এ দলের মুখপত্র। উভয়ের পার্থক্য ছিল সাম্রাজ্যবাদ সম্পর্কেও। যারা নজরুল পাঠ করেছেন তারা নজরুলের মনোভাব নিশ্চয়ই জানেন, তিনি সাম্রাজ্যবাদকে দশমুখওয়ালা রাবণের সাথে তুলনা করেছিলেন।

সলিমুল্লাহ খান তার লেখায় গান্ধী এবং নজরুলকে এক বিন্দুতে মেলানোর যে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, অভিনব হলেও নিঃসন্দেহে সেটা ইতিহাস-সম্মত হয়নি। তার লেখায় তিনি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন বঙ্কিম এবং শরৎচন্দ্রের প্রতি। এসব অভিযোগেরও জবাব আছে। স্থানাভাবে সেদিকে না গিয়ে আমরা মূল প্রতিপাদ্যেই আলোচনা সীমিত রেখেছি। আমাদের চিন্তায় নতুন উপাদান যোগান দেওয়ার ক্ষমতা সলিমুল্লাহ খানের আছে। কিন্তু নতুন প্রস্তাব তুলে পাঠককে চমকে দেওয়ার আগে একটু হলেও ভাবা উচিত - এমন কিছু বলা সমীচীন নয় যাতে খোদ ইতিহাসই চমকে ওঠে।

মন্তব্য ৩৪ টি রেটিং +২০/-০

মন্তব্য (৩৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ১:৫৩

প্রিয়সখা বলেছেন: অনেক বড় করে লেখা হয়েছে। সবটুকু আর পড়তে পারিনি, তবে পরে পড়বো। ধন্যবাদের অনেকখানি আপনার জন্য থাকলো।

১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ২:০২

আবু নাঈম বলেছেন: ধন্যবাদ, প্রিয়সখা।

২| ১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ১:৫৮

অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: ব্যাপক জ্ঞান হইলো। সলিমুল্লাহ খানটা দেখি কিচ্ছু জানে না

১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ২:০৪

আবু নাঈম বলেছেন: আমিও জানতাম না!

৩| ১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ২:১৫

অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: আমি খালি একটা কথাই ভাবি- দুই মাথার থিকা ধইরা দুইজনরে সরলরেখায় মিলানোর মতো জটিল কাম করতে কয় পেগ ঝাড়তে হয়

১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ২:১৯

আবু নাঈম বলেছেন: উনি সম্ভবত পেগের হিসাবের বাইরে !!!!!

৪| ১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ২:২৬

নাজমুল হক রাসেল বলেছেন: বিশাল বড়। একটা সারমর্ম থাকলে বেশ হত।।

১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ২:৩৫

আবু নাঈম বলেছেন: লেখাটা বড় হওয়ায় দুঃখিত। সারমর্ম দিতে না পারায় আরো দুঃখিত। তৃতীয়বার দুঃখিত যে প্রথম আলোয় প্রকাশিত সলিমুল্লাহ খানের লেখাটার লিংক দিতে পারলাম না। ওয়েবে লেখাটা নেই।
আশা করি এতবার দুঃখপ্রকাশ করছি, একটা কমপক্ষে গ্রহণ করবেন।

৫| ১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ২:৪৬

নাজিম উদদীন বলেছেন: খানের ভাবসাবই আলাদা,কনভিন্সিং,লেখার স্টাইল খুব ভাল লাগে। লিন্ক দিলে বুঝতে পারতাম উনি গান্ধী আর নজরুলরে কিভাবে মেলাতে চাইছেন।

লেখাটা ভাল লাগল।

১১ ই জুন, ২০০৯ রাত ৩:০৭

আবু নাঈম বলেছেন: লিংক দিতে পারিনি সেজন্য দুঃখিত। উনার পুরো লেখা দিতে গেলে আরো বিরাট লেখা হয়ে যেত। কিন্তু উনার মূল বক্তব্যটুকু আমি কোট করেছি, তারপরও আবার তুলে ধরছি :
খান সাহেবের মতে, "বিনা গোলাবারুদে ব্রিটিশকে ভারত ছাড়িতে বাধ্য করিতে হইলে মুসলমান-হিন্দু বিশেষ না করিয়া নির্বিশেষ এক জায়গায় আনিতে হইবে। আমাদের কবি নজরুল ইসলাম এই প্রশ্নে তাঁহার (অর্থাৎ গান্ধীর) সহিত আঠারো আনা একমত ছিলেন"।
শুধু তাই নয়, হিন্দু-মুসলমানের মিলিত "সংগ্রামে নজরুল ইসলাম মহাত্মা গান্ধীকেই কাণ্ডারি ভাবিয়াছিলেন"। "গান্ধীজি মনে করিতেন ভারতে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অস্ত্র ব্যবহার করা বিধেয় নহে" - এই অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতি, খানের মতে, হিন্দু-মুসলমানকে এক জায়গায় আনার উদ্দেশ্যে। হিন্দু-মুসলমান মিলনের প্রশ্নে গান্ধী "হিন্দুধর্মের ভাষা বা অলংকার পরিত্যাগ করিয়া হিন্দু-মুসলমান ঐক্য স্থাপন করিতে চাহেন নাই"। নজরুলও গান্ধীকে অনুসরণ করে "হিন্দু-মুসলমান মিলনের পথ চওড়া করিবার খাতিরে মুসলমান সমাজের বাগধারা বা ইতিহাস লুকাইতে চাহেন নাই"।
আশা করি উনার বক্তব্যটা ধরতে পারবেন।

৬| ১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ২:৫০

সুদীপ চৌধুরী বলেছেন:
মূল বিষয়টা পড়বার আগেই অনুমেয় ছিলো, কিন্তু এতোটা তথ্যবহুল হবে ভাবিনি।
বঙ্কিম এবং শরৎচন্দ্রের প্রতি তোলা অভিযোগের আঙুল এবং তার জবাব সম্পর্কে আগ্রহী হলাম।

১১ ই জুন, ২০০৯ ভোর ৪:৫৯

আবু নাঈম বলেছেন: বঙ্কিম এবং শরৎ -- দুজনের প্রতি খান সাহেবের অভিযোগ -- এঁরা দুজনেই সাম্প্রদায়িক। উনি লিখেছেন :
"হিন্দুদের মধ্যে যাহারা আর্যজাতির হারানো গৌরব ফিরাইয়া আনিতে বদ্ধপরিকর তাহারাই 'হিন্দুত্ব' নামক নতুন জাতীয়তবাদ প্রচার করিতেছিলেন। (রায় ২০০১) ইঁহাদের শ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি বলা যায় বাংলার জনপ্রিয় সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে। শরৎচন্দ্র সেই দুর্দিনের আগুনে ঘৃতাহুতি যোগ করিবার আয়োজন করিলেন।"
এরপর তিনি শরৎচন্দ্রের একটি লেখা, যা শরৎচন্দ্র প্রকাশিত হওয়ার পরপরই দুঃখপ্রকাশ করে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন (এই কারণে যে ওতে একটি বিশেষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর ক্ষোভের মাত্রাতিরিক্ত প্রকাশ ঘটেছিল) তা থেকে উদ্ধৃত করলেন :
" হিন্দুস্থান হিন্দুর দেশ। সুতরাং এ দেশকে অধীনতার শৃঙ্খল হইতে মুক্ত করিবার দায়িত্ব একা হিন্দুরই। মুসলমান মুখ ফিরাইয়া আছে তুরস্ক ও আরবের দিকে,-- এ দেশে চিত্ত তাহার নাই। ... মুসলমানের সংখ্যা গণনা করিয়া চঞ্চল হইবারও আবশ্যকতা নাই। সংখ্যাটাই সংসারে পরম সত্য নয়। ইহার চেয়েও বড় সত্য রহিয়াছে যাহা এক দুই তিন করিয়া মাথা-গণনার হিসাবটাকে হিসাবের মধ্যে গণ্য করে না।" (শরৎচন্দ্র ১৯৮১ : ৩/৪৭৫)
এরপর খান সাহেবই লিখছেন :
"তুরস্ক ও আরকের দিকে মুসলমান মুখ ফিরাইয়া আছে বলিয়া শরৎচন্দ্র যে অভিযোগ করিতেছেন তাহা পুরাপুরি অসত্য নহে। কথাটি সাধারণভাবে নয়, মুসলমান সমাজের কোনো কোনো অংশ সম্পর্কে সত্য।"
আমার লেখায় মুসলমান সমাজের রাজনৈতিক সংগঠন মুসলিম লীগের খেলাফত আন্দোলন সম্পর্কে উল্লেখ করেছি। আশা করি তাতে বোঝা যাবে, মুসলমান সমাজের কতটুকু অংশ তুরস্ক ও আরবের দিকে মুখ ফিরিয়ে ছিল। নজরুল এবং মোসলেম ভারতের সাথে যুক্ত দু'চারজন ছাড়া আর কে তুরস্ক-আরব থেকে মুখ ফিরিয়ে স্বদেশের মাটিতে পা দিয়ে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছিলেন? আবার শরৎচন্দ্রের এ মনোভাব যে একটি বিশেষ ঘটনায় উষ্মার ফল তা শরৎচন্দ্র বুঝতে পেরেছিলেন এবং সে কারণে দুঃখপ্রকাশ করে নিজের লেখা প্রত্যাহারও করে নিয়েছিলেন। বস্তুত তিনি এ লেখাটা লিখেছিলেন ১৯২৬ সালে ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিশেষত বাংলার পাবনায় সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রতিক্রিয়ায়। জানা যায়, ওই সময় বিহার এবং উত্তর প্রদেশ থেকে একদল মোল্লা বাংলায় প্রবেশ করে এবং তাদের উস্কানিতেই দাঙ্গা ঘটে। তাঁর লেখাটার শিরোনামও ছিল 'বর্তমান হিন্দু-মুসলমান সমস্যা'। শরৎচন্দ্র-ও জানতেন গোটা মুসলমান সমাজ তুরস্ক-আরব-মুখী হয়ে নেই। মুসলমান সমাজে যে নজরুল আছেন, বা কাজী মোতাহের হোসেন - আব্দুল ওদুদ-রা আছেন সেটা তিনি কি জানতেন না? জানতেন। ১৯২৩ সালে নজরুল যখন কারাবন্দি অবস্থায় জেলে অনশন করছেন তখন তিনি গিয়েছিলেন নজরুলের অনশন ভাঙাতে। কারণ তাঁর মতে, 'রবীন্দ্রনাথের পর বাংলার সবচেয়ে বড় কবি' নজরুল। ১৯৩৬ সালের ২৯ জুলাই শরৎচন্দ্রকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক ডি.লিট. প্রদান করে। এরপর ৩১ জুলাই মুসলিম সাহিত্য সমাজের দশম বার্ষিক অধিবেশনে তিনি সভাপতিত্ব করেন। আব্দুল ওদুদ, কাজী মোতাহের হোসেন-সহ আরো বেশ কয়েকজনের লেখায় শরৎচন্দ্রের সঙ্গে তাঁদের ঘণিষ্ঠতার নমুনা আছে।
বঙ্কিমের প্রতিও খানের একই অভিযোগ। বঙ্কিম সম্পর্কে তিনি বলছেন :
"মধুসূদনের এন্তেকালের পর বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যে শোক প্রবন্ধ উপস্থিত করিয়াছিলেন তাহাতে বহু বাঙালির নাম। উঁহাদের মধ্যে অতি অল্পই বাংলায় লিখিতেন।"
"অথচ বিংশ শতাব্দীর আগে শত শত বাংলা পুঁথি লিখিয়াও মুসলমান সাহিত্যসাধকরা বাঙালির তালিকায় স্থান পান নাই। বঙ্কিমের তালিকায় দেখুন, সেখানে আলাওল কিংবা দৌলত কাজী কোথায়?"
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস আমার খুব ভাল পড়া নাই। কিন্তু যতটুকু পড়েছি তাতে এটুকু জানি যে মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যে, বিশেষত পুঁথি সাহিত্যে মুসলমানদের অবদানের বিষয়টি প্রথম পরিস্কারভাবে তুলে ধরেন আব্দুল করীম সাহিত্যবিশারদ এবং এরপর ড. আহমদ শরীফ। এঁদের কাজের আগ পর্যন্ত সে সম্পর্কে স্বচ্ছ স্পষ্ট কোনো ধারণা দেশের মানুষের ছিল না। ফলে যে ধারণা বা ইতিহাস তখনো পরিস্কার হয়নি, সে সম্পর্কে বঙ্কিম কেন নিরব ছিলেন -- এ প্রশ্নের জবাব কি হতে পারে?

৭| ১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ৩:১৬

পুতুল বলেছেন: অনেক তথ্য সমৃদ্ধ লেখা। অনেক কথা জানতাম না!
ধন্যবাদ।
বঙ্কিম এর আনন্দ মঠ পড়া আছে, সে হিসাবের বাইরে কিছু থাকলে জনতে চাই।
কিন্তু পথের দাবীর লেখক আমার হিরু শরৎ বাবুর বিরোদ্ধে কি অভিযোগ থাকতে পারে?
মনে হয় আপনি বিষয় গুলো বেশ ঘেটেছেন, এ ব্যাপারে কিছু লিখুন।

১১ ই জুন, ২০০৯ ভোর ৫:০৪

আবু নাঈম বলেছেন: উপরের মন্তব্যে সংক্ষেপে যতটুকু সম্ভব বলেছি।

৮| ১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ৩:৩৬

'লেনিন' বলেছেন: তথ্যবহুল. পড়ে দেখে মন্তব্য করবো আপাতত প্রিয়তে।

১৪ ই জুন, ২০০৯ রাত ১২:২৫

আবু নাঈম বলেছেন: মন্তব্যের আশায় আছি ... ... ... ... ...

৯| ১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ৩:৪১

নরাধম বলেছেন:
পরে পড়ে দেখব, বুকমার্কড।

১৪ ই জুন, ২০০৯ রাত ১২:২৬

আবু নাঈম বলেছেন: কেমন লাগল জানাবেন না?

১০| ১০ ই জুন, ২০০৯ রাত ৩:৪১

গায়ত্রী সান্যাল বলেছেন: ++

১৪ ই জুন, ২০০৯ রাত ১২:২৬

আবু নাঈম বলেছেন: ধন্যবাদ ...

১১| ১০ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৩

নিলাচল বলেছেন: অনেক তথ্যবহুল। ধন্যবাদ পোস্টটির জন্য।

১৪ ই জুন, ২০০৯ রাত ১২:৩০

আবু নাঈম বলেছেন: ধন্যবাদ।

১২| ১০ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ২:৩০

আমি স্বার্থপর বলেছেন: +++++++++

১৪ ই জুন, ২০০৯ রাত ১২:৩২

আবু নাঈম বলেছেন: এতো প্লাস কই রাখি ! ধন্যবাদ।

১৩| ১০ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৪:১৭

তায়েফ আহমাদ বলেছেন: প্রিয়তে নিলাম...
পরে পড়ে , কমেন্ট।

১৪ ই জুন, ২০০৯ রাত ১২:৩৫

আবু নাঈম বলেছেন: কমেন্ট কই?
প্রিয়তে নিলেন ...! .. ধন্যবাদ।

১৪| ১২ ই জুন, ২০০৯ রাত ১:৫০

ভালো-মানুষ বলেছেন: অত্যন্ত চমৎকার সুখপাঠ্য একটি প্রবন্ধ! প্রিয়তে নিলাম।

১৪ ই জুন, ২০০৯ রাত ১২:৩৭

আবু নাঈম বলেছেন: ধন্যবাদ। আমার লেখা সুখপাঠ্য ... এত প্রশংসা কোথায় রাখি ...

১৫| ১২ ই জুন, ২০০৯ রাত ২:০৪

মনজুরুল হক বলেছেন:

পুরোনো কেচ্ছা। বাসি ক্যাচাল। সেকেলে সিদ্ধান্ত। মোটাদাগে গার্বেজ।


না ভাই আপনার লেখাকে নয়। বলছি তাদের, যারা বেশ কয়েক বছর ধরে শ্রেণী সংগ্রাম আর জিহাদ কে এক করে পাথরের বাটিতে পিষে দাগকাটা মিক্শচার বানানোর ব্রতে আছেন তারা যে অচিরেই "কাজী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বর্ধমানী" বলে নজরুলকে সম্বোধন করবেন এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই!

গান্ধী-নজরুল দুটোকেই ব্রিটিশ বেনিয়ারা যথাযথ ভাবে ব্যবহার করেছে। যা প্রকারন্তরে গণমানুষের বিপক্ষেই ভূমিকা রেখেছে।

১৪ ই জুন, ২০০৯ রাত ১২:৩৪

আবু নাঈম বলেছেন: ধন্যবাদ মনজুরুল হক।
কিন্তু আপনার কথার এ অংশটুকু বুঝলাম না ...
"গান্ধী-নজরুল দুটোকেই ব্রিটিশ বেনিয়ারা যথাযথ ভাবে ব্যবহার করেছে। যা প্রকারন্তরে গণমানুষের বিপক্ষেই ভূমিকা রেখেছে।"

১৬| ২৬ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ১:৩২

প্রণব আচার্য্য বলেছেন: "কাজী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বর্ধমানী"@ হাহাহা



+

১৭| ১৪ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৩০

আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন: খুব ভালো লিখেছেন।

শ্রমসাধ্য লেখাটার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

মনজুরুল ভাই,

"গান্ধী-নজরুল দুটোকেই ব্রিটিশ বেনিয়ারা যথাযথ ভাবে ব্যবহার করেছে। যা প্রকারন্তরে গণমানুষের বিপক্ষেই ভূমিকা রেখেছে"।

কথাটা বুঝলাম না

১৮| ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৭

মহাকালর্ষি বলেছেন: পড়বো বলে তুলে রাখতে হলো, কৃতজ্ঞতা!

১৯| ০৯ ই মে, ২০১০ রাত ১০:১১

বুদ্ধু বলেছেন: ভারতের স্বাধীনতার প্রশ্নে ভারতীয় হিন্দু নেতা ও মুসলমানদের যথাযত ভূমিকা সম্পর্কে জানতে হলে আল্লামা গোলাম মূর্তজা রচিত 'বাজেয়াপ্ত ইতিহাস এবং ইতিহাসের ইতিহাস বই দুটো পড়বেন। লেখক পশ্চিম বঙ্গের লোক, তাঁর এইসব ইতহাস নিয়ে ভারতে তোলপাড় হয়েছে, মামলা হয়েছে, কিন্তু সঠিক ও প্রামাণ্য তথ্য থাকায় মামলায় লেখকেরই জয় হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.