নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অপ্‌সরা

যেখানে ঘর বাঁধবো আমি, আসে আসুক বান, তুমি যদি ভাসাও মোরে, চাইনে পরিত্রাণ!!

অপ্‌সরা › বিস্তারিত পোস্টঃ

দ্যা বেবি রেসলার ইন দ্যা ডে কেয়ার সেন্টার- নিজের চোখকেও অবিশ্বাস হয় আজকাল .....

২৯ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৭


বহু বছর ধরে বাচ্চাদের সাথে কাজ করছি। নানা রকম শিশু কিশোর দেখে দেখে চোখ, কান, মাথা, প্রায় অভ্যস্থ হয়ে গেছে। বাচ্চারা বাড়িতে এক, বাড়ির বাইরে খেলার মাঠে বা স্কুলে বা লোকচক্ষুর অন্তরালে যে আরেক তাহা অনেক বাবা, মা, নানু, দাদুরা বিশ্বাসই করতে পারেন না। সত্যিই পারেন না কারণ বাচ্চারা বড়ই বুদ্ধিমান কোন কোন টিচার বা কোন কোন বাবা মা তাদের ভুল আচরণের জন্য একশনে যাবেন তারা খুবই ভালো বুঝে আর তাই তাদেরকে খুশি রাখতে ঘাটায় না তেমন। যা কিছু করেন তাদের চক্ষুর অন্তরালেই করেন। আর তাই কিছুতেই আমাদের বিশ্বাস হয় না আমার বাচ্চা এটা করেছে বা করতে পারে!!!

সে যাইহোক আমার এত বছরের শিশু কিশোর নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতার আলোকেও আমি কখনও এতটুকুন একটা বাচ্চাকে এইভাবে দীর্ঘক্ষন যাবৎ আরেকটা বাচ্চাকে এমন নির্দয়ভাবে নানা স্টাইলে নানা ভঙ্গিমায় মাইরপিট করতে দেখিনি। সত্যিই দেখিনি। মারামারির যত রকম আইটেম আছে, কিল, চড়, ঘুষি, খামচি, কামড়, এটা সেটা টেনে নিয়ে, ভেঙ্গে নিয়ে সেসব দিয়ে বাড়ি মারা, দেওয়ালে দরজার মাথা, কাঁধ ঠুকে ঠুকে ঘায়েল করা, তুলে আছাড় দেওয়া স্টাইলে ধাক্কা মেরে বুকে পিঠে চেপে বসা, শুধুমাত্র লাথিটা মনে হয় সে ইউজ করেনি তাছাড়া সব কিছুই একজন অভিজ্ঞ রেসলারের মত সে ইউজ করেছে। এমন জিঘাংসামূলক আচরণে দেখে আজ বিশ্ববাসী হতবাক! নানা রকম কমেন্ট শেয়ারে ভরে গেছে নিউজফিড।

যাইহোক সবার আগে বলবো, বাবামায়েরা সচেতন হউন। বাচ্চাকে সঠিক আচরন শেখাতে স্কুলে আসার আগেই বাড়িতেই অভ্যস্থ করে তুলুন। সঠিক আচরনের শিক্ষা দিন। ও শিশু তাই মারতেই পারে, ও শিশু তাই যা খুশি তাই করতেই পারে, ও শিশু তাই বোঝে না, বড় হলে বুঝবে এসব বলে বেঠিক আচরনকেও সঠিক বলে আল্লাদ দিয়েন না। বাচ্চারা কেউ ক্রিমিনাল হয়ে জন্মায় না। বড় হতে হতে পরিবেশ ও শিক্ষার কারণেই সে ক্রিমিনাল হয়।

যাইহোক আমার শিক্ষাজীবনে তখন আমার অনার্স চলছে। একটা থিসিসের কাজে আমি টঙ্গীর বাংলাদেশ শিশু কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে গিয়েছিলাম। সেখানে সর্বকনিষ্ঠ শিশুটি যার সংশোধনের প্রয়োজনে সে সেখানে অবস্থান করছিলো তার বয়স ছিলো ৭। মানে সে অনেক কিছুই তখন বুঝতো। তার বিধবা মায়ের সাথে চাচার অত্যাচার সে মেনে নিতে না পেরে চাচাকে কিভাবে যেন খুন করে ফেলেছিলো। সেই বাচ্চাটা খুব গম্ভীর হয়ে বসেছিলো। আমাদের নিষেধ ছিলো তার সাথে কোনো কথা বলার। সে যাইহোক সেই বাচ্চাটার জন্য আমার অনেক মায়া লেগেছিলো। খুনের মত অপরাধ করার পরেও আমি তাকে দোষী মনে করতে পারিনি। কারণ সে যেই নেতিবাচক পরিবেশের শিকার তাতে মনে হয় আর তার এছাড়া কিছু করার ছিলো না।

কিন্তু কাল যখন ঐ পুচকে ৩/৪ বছরের বাচ্চাটার ননস্টপ মাইরপিট দেখলাম তখন অবাক হলাম! একজন মদ্যপ রেসলার ঠিক যেভাবে আচরণ করে তেমনিভাবে তখন আমার মাথায় প্রথমে বিস্ময় ছাড়া কিছুই আসেনি। পরে আরও ভালোভাবে বুঝবার জন্য আবার দেখলাম। যে বাচ্চাটাকে মারা হচ্ছিলো তার জন্য কলিজা ছিড়ে যাচ্ছিলো। তবুও আরেকটা বাচ্চাও কেনো এমন করলো সেই গবেষনায় রত হলাম যা আজকালকার ফেসবুকবাসীরা আমরা করি তেমনি ভাবে।

১। বাচ্চাটা ভীষন ডিসটার্বড তাই সে এটাক করেছিলো।
২। অন্যের কান্না বা চিৎকার সে সহ্য করতে পারে না বা বাড়িতে কাঁদলে তাকে ওভাবেই মেরে থামানো হয় তাই হয়ত সে ঐ কাজ করেই চলেছিলো কারণ বাচ্চাটা কান্না থামাচ্ছিলো না।
৩। তার মাইরপিটের স্টাইল একজন টিভি রেসলারের মত আর আমার ধারনা সে অনেক রেসলিং দেখে হয় পরিবারের মানুষের সাথে নয়ত তাকে এমন টাইপ গেম দিয়ে দেওয়া হয় হাতে।

নয়ত কোনোভাবেই এমন স্টাইলে কোনো বাচ্চা কখনও মারামারি করতে পারবেই না ।
সে যাইহোক সবার আগে তদন্ত করে এই বাবা মায়ের পারিবারিক বিষয়টি দেখতে হবে। গুড প্যারেন্টিং এখন শুধু তাদের জন্য না সকলের জন্যই অবশ্য কর্তব্য। আমাদের আমলে বা আমাদের বাচ্চাদের আমলেও যত না দরকার ছিলো এখন এটা অবশ্য কর্তব্য হয়ে পড়েছে। প্রেগনেনসিতে শুধু বাচ্চাকে বড় করে তোলাই না স্কুলে যাবার আগ পর্যন্ত এমনকি পাবলিক প্লেস বা অন্য যে কোনো স্থানে কি করে গুড ম্যানার মেইনটেইন করতে হবে, সহমর্মিতা সহযোগীতা শিখতে হবে তা শুধু বড় হবার অপেক্ষায় না থেকে খুব ছোট বয়স থেকেই পরিবার থেকেই শেখাতে হবে। অনেকে বলে একটা মাইর খেলে আরেকটা দিয়ে আসবি। এই মেন্টালিটির বাবামায়ের বাচ্চারা ছোট থেকে বুঝে যায় তাকে বড় হয়ে ক্রিমিনাল টাইপ কিছু হতে হবে।

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (সংশোধন কেন্দ্রে) পাঠানোর জন্য শিশুর বয়স ১৮ বছরের কম হতে হবে। 'শিশু আইন, ২০১৩' (Children Act, 2013) অনুযায়ী, যেকোনো ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যক্তিকে শিশু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অপরাধে জড়িত ১৮ বছরের কম বয়সীদের সাধারণ কারাগারে না রেখে সংশোধনের জন্য কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হয়।

আমার দেখা সেই শিশু অপরাধির বয়স ছিলো ৭ । আর আমার চোখে এই ভিডিওতে দেখা শিশু অপরাধীর বয়স ৩ কিংবা ৪। আর অনেকেই হয়ত আমার উপরে রাগ করবেন, বলবে আহা সেও শিশু কিছু বুঝে না। তবুও বলছি এই শিশু নামের অপরাধীকে অবশ্যই এখুনি শিশু কিশোর সংশোধনি কেন্দ্রে পাঠানো হোক। এর মা বাবা এই শিশুকে মানুষ করার যোগ্য না। অনেকেই হয়ত বলবে ছোট বাচ্চা কিছু বুঝে না। কিন্তু এই টাইপের বাচ্চা কিছু না বুঝেই এমন আচরণ করা মানে অবশ্যই তাকে সংশোধনের বিশাল প্রয়োজন রয়েছে। নয়ত তার দ্বারা অন্যের যেমন ক্ষতি হবে তার নিজেরও ক্ষতি হবে। তার ভালোর জন্যই তাকে কঠোর আওতায় এনে যোগ্য শিক্ষা দেওয়া উচিৎ।

আবারও বলছি অবশ্যই শিশুরা অবুঝ এবং তারা যা দেখে তাই শেখে। সে কারণে অনেকেই বলছে ও এসব ফ্যামিলী থেকে শিখেছে। মনে হয় বাবা মাকে মারামারি করতে দেখে শিখেছে, এই বাচ্চার সাথে নিশ্চয় কঠোর আচরণ করা হয়। কথা সত্য, কঠোর আচরণে বাচ্চারাও অন্যের সাথে কঠোর আচরণ শেখে সে কথা সত্য আর কেউ কেউ হয় ভীতু আর কেউ কেউ মেনে নেয়। এই বাচ্চা সম্পর্কে আমি কিছুই জানিনা। একটু একটু শব্দে মনে হচ্ছিলো বাচ্চাটা ঠিক মত কথা বলতে পারেনা হয়ত। আর এ কারণেই সে বেশি বিরক্ত। তবে এটাও খুব অবাক করা সে ননস্টপ মেরেই চললো বাচ্চাটাকে। এমনটা হবার কথা না। এতটা সময় ধরে তার রাগ পড়ছেই না এটা কেমন কথা! এঙ্গার ম্যানেজমেন্ট প্রবলেম নাকি অকারণ আনন্দে মারছে? এটা খুব এবনরমাল লেগেছে। তার সংশোধন প্রয়োজন। যে কোনো মূল্যে। বাবা মার উচিৎ অবিলম্বে শিশু মনোবিজ্ঞানী দেখানো এবং আমার ধারণা ধৈর্য্য নিয়ে তাদের নিজেদেরকেও সংশোধন হতে হবে। একটা বাচ্চাকে জন্ম দেওয়াই সব না। তার শাররিক মানসিক নিরাপত্তা ও সঠিক শিক্ষা দানও অবশ্য কর্তব্য!

এরপর আসি সেই ডে কেয়ার সেন্টারের কথায়। ঐ বাচ্চার মারামারির স্টাইল এতটাই ভয়ানক ছিলো যে সবাই মিলে আরেক অপরাধীকে ছেড়ে ঐ বাচ্চা আর বাবা মায়ের শিক্ষার পিছে লাগলো। আর ঐ আসল অপরাধী ডে কেয়ার সেন্টার। যে বাচ্চার দায়িত্ব টাকা দিয়ে নিয়েছিলো অথচ এক বাচ্চাকে অমানুষিক কষ্ট পেতে হলো ১১/১২ মিনিট যাবৎ! পশুর মত কামড় আচড় মাইর পিট তো সাপের ছোবলের থেকেও, ভালুকের আক্রমন থেকেও ভয়ংকর লেগেছে আমার। সেসব করতে দিলো যারা এই ডে কেয়ার সেন্টার তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ জেইলে পোরা হোক।


এই প্রিস্কুল অথবা ডে কেয়ারে বেবি রেসলার এর কান্ড ভিডিও

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.