নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

এক বোষ্টমী যে কৃষ্ণপক্ষের আধাঁরেই সুর বাধেঁ। তার ইচ্ছা কোন এক শুক্লাদ্বাদশীর দিন চাদেঁর আলোয় সে সুর বাধঁবে... সেই সুরের মূর্ছনায় কারো চোখ ভিজে আসবে...। তবে বোষ্টমীর সেই ইচ্ছা অপূর্ণই থেকে যায়.... কারণ শুক্লপক্ষে যে কৃষ্ণপক্ষের বোষ্টমীর সুর বাধাঁ বারণ।

কৃষ্ণপক্ষের বোষ্টমী

কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনি ছেলেবেলায় এক বোষ্টুমি তার আগমনী গান হঠাৎ থামিয়ে বলেছিল শুক্লা দ্বাদশীর দিন অন্তরাটুকু শুনিয়ে যাবে তারপর কত চন্দ্রভূক অমাবস্যা চলে গেলো কিন্তু সেই বোষ্টুমী আর এলো না পঁচিশ বছর প্রতিক্ষায় আছি। কেউ কথা রাখেনি- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

কৃষ্ণপক্ষের বোষ্টমী › বিস্তারিত পোস্টঃ

টিউশন: কামলা খাটার আরেক নাম

০৯ ই মে, ২০২২ রাত ১২:৩৬

প্রথম কথা- কামলা শব্দটি এখানে হীন অর্থে ব্যবহৃত হয়নি। দৈনিক যারা দৈহিক শ্রমের বিনিময়ে রোজগার করে সেই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

বিঃদ্রঃ "Exceptions can never be examples"

#মনুষ্য_প্রজাতির_বিবরণী
প্রজাতি: টিউশন মাস্টার /টিউশনি/প্রাইভেট পড়ানো
যারা অন্তর্ভুক্ত: আপাত লেভেলে সবাই ছাত্র। তন্মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের আধিক্য বেশি।

শ্রেণী: আপাতদৃষ্টিতে টিউশন মাস্টার প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত হলেও এরা কামলা( যারা দৈনিক শ্রমের বিনিময়ে দৈনিক উপার্জন করেন) শ্রেনী/গোত্রের রোবট বিশেষ। এদের জন্য রোদ, গরম, ঝড়, বৃষ্টি নেই, এদের অসুখ-বিসুখও হয়না। এবং এদের কোন ঈদ পার্বণ, ছুটিছাটাও নেই, এমনকি এদের জীবনে শুক্রবার বলেও কোন দিন নেই। যতদিন কামলা খাটবা.... ততদিনের টাকা পাইতে পারো.... সেটাও ছাত্রের অভিভাবকদের দয়ায়। কামলা খাটায় মিস দিলা... তো তোমার পয়সা কাট ✂️✂️✂️✂️।

যাদের পড়ায়: বর্তমানের শিশু শ্রেণী থেকে এডমিশন টেস্ট এর শিক্ষার্থী যাদের বেশিরভাগই বাবা মার অত্যন্ত আদরের (যারা টিউশন পড়ায় তারা বাবা মার আদরের না, তাদের রাস্তা থেকে কুড়াইয়া পাইছিল মেবি)।

প্রজাতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: এইসব অতি আদরের সন্তানদের মাথায় কোন প্রেসার, কোনপ্রকার বকাঝকা (মাইর তো অনেক দূরের ব্যাপার) ব্যতীত (তাদের মাথায় গোবর থাকুক আর ছাই ই থাকুক, নো ম্যাটার) ভবিষ্যতের আইনস্টাইন ও নিউটন হিসেবে গড়ে তোলা, স্টিফেন হকিং হইলে তো কথাই নাই।

প্রজাতির খাদ্য: এদের খাবারের কোন নির্দিষ্ট চাহিদা নাই। ছাত্রের বাসায় এরা যা পায়, তাই গিলে ফেলে। এদের খাদ্যতালিকায় ছাত্রের বাসার যা কেউ খায় না সেই খাবারই বেশি অন্তর্ভুক্ত থাকে। এদের আবার ভদ্রতা, সামাজিকতা এত বেশি যে এইসবই তারা হাসিমুখে গলাধঃকরণ করে আর বলে, আন্টি কি ভালো যে রান্না করছেন...খুবই ভালো ছিল।

প্রজাতির চাহিদা: এদের কোন চাহিদা নাই। এদের আত্মসম্মান এত উচুঁ যে মাস শেষে নিজের অধিকারের টাকা চাইতেও এদের প্রেস্টিজে লাগে। সো আপনাকে যে মাস শেষে তারে পেমেন্ট করাই লাগবে এমন কোন কথা নাই। মাসের ১৭/১৮তারিখের দিকে মন চাইলে দিবেন.... নাহলে বলবেন যে পরের মাসে দিবেন.... এইভাবে মাসের পর মাস ঝুলাইয়া রাখবেন... জানালায় যেমন পর্দা ঝুলাইয়া রাখেন ঠিক সেভাবে... অন্তত যতদিন না আপনার বাচ্চা আইনস্টাইন নিউটন হিসেবে আবির্ভাব ঘটাইতেছে...

প্রজাতির প্রাপ্তিস্থান: বাংলাদেশের যেকোন প্রান্তে এদের দেখা পাবেন। বিশেষত যেসব অঞ্চলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থাকে, সেসব অঞ্চল এসব প্রজাতির হটস্পট (হটস্পট- কোন এক অঞ্চলে নির্দিষ্ট প্রজাতির আধিক্যকে ওই প্রজাতির হটস্পট বুঝায়)। এদের দূর থেকে হেঁটে যেতে থাকলেও আপনি চিনতে পারবেন যে এরা কামলা খাটা টিউশন মাস্টার।

পরিশেষে এই প্রজাতি অনেকটা টাকার মতোন, টাকায় যেমন লেখা থাকে, চাহিবামাত্র ইহার বাহককে দিতে বাধ্য থাকিবে, এদেরও তেমন এদের রোবট শ্রেণীর হওয়ায় অভিভাবকদের চাওয়ামাত্র এরা যেকোন সময়, যেকোন দিনে এভেইলেবল থাকবে এবং আইনস্টাইন নিউটন বানানোর মতো মহৎকর্মে নিজেকে সদা উৎসর্গ করিয়া দিতে প্রস্তুত থাকিবে।



ছবি: গুগল

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই মে, ২০২২ সকাল ১০:১৭

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন:
যারা টিউশনি করেনি তারা অনেক কিছুই অর্জন করতে পারেনি।

০৯ ই মে, ২০২২ সকাল ১১:৫৬

কৃষ্ণপক্ষের বোষ্টমী বলেছেন: তা ঠিক বলেছেন। তবে অর্জনের চেয়ে দেখার পরিধিটা বেশি.... এই দুনিয়াতে কতরকম মানুষ আছে, কতরকম ছাত্র আছে, হসপিটালিটি কত প্রকারের হইতে পারে, নিজের কষ্টার্জিত টাকা চাইতে মানুষের কাছে কতটা নিচু হওয়া লাগে, কতটা ঘুরতে হয় যারা টিউশন করায় নি.. তারা কখনও এগুলো বুঝবে না...

আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

২| ০৯ ই মে, ২০২২ দুপুর ১২:২০

বিজন রয় বলেছেন: ব্যাপার না।

জীবনটা পূর্ণ করার প্রয়োজনে অনেক কিছুই করতে হয়।

০৯ ই মে, ২০২২ দুপুর ১২:৩২

কৃষ্ণপক্ষের বোষ্টমী বলেছেন: জীবনকে পূর্ণ করার এইযে আপ্রাণ চেষ্টা, একসময় তা থেমে যায়। আমরা থিতু হই। তবে এইযে মাঝপথের এইসব তুচ্ছতাচ্ছিল্য, আর অন্যের থেকে পাওয়া কষ্ট এইসব মনে গেথেঁ যায়।

৩| ০৯ ই মে, ২০২২ দুপুর ১২:২৫

সৈয়দ মশিউর রহমান বলেছেন: টিউশনিকে আমি খারাপ চোখে দেখিনা। ছাত্রজীবনের অসমাপ্তটুকু টিউশনিতে পূর্ণ হয়।

০৯ ই মে, ২০২২ দুপুর ১২:৩৫

কৃষ্ণপক্ষের বোষ্টমী বলেছেন: কাউকে কিছু শিখাইতে পারা, ব্যাপারটা খারাপ না। খারাপ হচ্ছে যারা টিউশন করায় তাদেরকে মানুষ না ভাবা বা নিচুস্তরের কিছু ভাবা।

৪| ০৯ ই মে, ২০২২ দুপুর ১২:৪৪

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: টিউশনি হচ্ছে নিজের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে অন্যের বাচ্চার ভবিষ্যৎ তৈরি করা। হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছি।

০৯ ই মে, ২০২২ দুপুর ১২:৫৫

কৃষ্ণপক্ষের বোষ্টমী বলেছেন: অন্যের বাচ্চার ভবিষ্যৎ তৈরি করার সাথে সাথে নিজের ধৈর্য্য বাড়াচ্ছেন, স্কিল ডেভেলপ হচ্ছে। এত নেগেটিভলি নিলে পড়াতে পারবেন না, বিতৃষ্ণা চলে আসবে। পজেটিভ ভাবুন, ভালো থাকবেন জীবনে।

৫| ০৯ ই মে, ২০২২ দুপুর ১:০৫

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: আমি জীবনে মাত্র দুইজনকে পড়িয়েছি। এবং বিনাঅর্থে পড়িয়েছি।
একজনকে ১০ম শ্রেণীতে কিছুদিন। অতীনির্বোধ ছাত্র ছিলো গণিতে।
আরেকজন আমার বন্ধু, হিসাববিজ্ঞানে মাস্টার্সের সকল অংক করিয়েছি ওকে।

০৯ ই মে, ২০২২ দুপুর ১:১৩

কৃষ্ণপক্ষের বোষ্টমী বলেছেন: সেই অর্থে আপনি টিউশন করাননি। আজকাল টিউশন চিত্র খুবই ভয়াবহ। আমরা ছোটবেলায় ক্লাস ফাইভে উঠে ক্লাস ফোরের ছোট ভাইবোনরে পড়াতাম। আর এখনকার সচেতন অভিভাবকরা ক্লাস ফাইভ এর বাচ্চার গণিত পড়ানোর জন্য একটি স্বনামধন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ছাত্র চাই বলে বিজ্ঞাপন দেন।

৬| ১০ ই মে, ২০২২ রাত ১২:৪৪

রাজীব নুর বলেছেন: সুন্দর লিখেছেন।

১০ ই মে, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:১২

কৃষ্ণপক্ষের বোষ্টমী বলেছেন: ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.