| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কবি গুরুর একটি গান অাছে, ওলো সই
ওলো সই, আমার ইচ্ছে করে তোদের
মত, মনের কথা কই! আমি কেন কথা
বলতে পারছি না? কেন আমাকে
বলতে হচ্ছে গুরুর মত, কন্ঠ আজিকে
আমার রুদ্ধ! কেন ইচ্ছে করার কথা
বলছি? আজ চারেদিকে অন্যায় ,
বিশৃঙ্খলা, মৃত্যু , দাসত্ব পুরো
জাতিকে গ্রাস করে ফেলেছে।
মনে হচ্ছে প্যান্ডোরার ঢাকনা
খুলে দেওয়া হয়েছে, যারফলে যতসব
অশুভ প্রেতাত্মারা রাজত্ব কায়েম
শুরু করেছে। তাই সুনীল
গঙ্গাপাধ্যায়ের মত বলতে হয়,মন ভাল
নেই,মন ভাল নেই! অথবা সুফিয়া
কামালের মত বলতে হয়, হে কবি
নিরব কেন? অথবা বলতে হয় শওকত
ওসমানের " ক্রিতদাসের হাসি
"উপন্যাসের কবির মত, আমি আজ বেহুঁশ!
আজ এই অগ্নি পিন্ডের ওপর দাঁড়িয়ে
তাই বলছি,আমার ইচ্ছা করে.....।আমি
কবি নজরুলের মত বলতে পারছি না,
জাহান্নমে বসে আমি পুষ্পের মত
হাসি! আজ যদি কোন নতুন শিশু এই
ভাগাড়ের মাঝে আসে তাহলে কি
জবাব দেবো আমরা? তাকে কি
উত্তপ্ত কড়াই এর ওপর ছেড়ে দেওয়া
হবে নাকি, যেখানে তাকে প্রতক্ষ
করতে হবে অশুভ আত্নার,পড়তে হবে
নরপিচাশদের কবলে।ওড়ানিয়া
ফেল্লাচির "হাত বাড়িয়ে দাও
"উপন্যাসে বলা হয়েছে যে,এটি
(পৃথিবী) একটি যুদ্ধ, প্রতিদিনের -
প্রতিমুহূর্তের।প্রতি বিন্দু আনন্দের
জন্য এখানে জীবন কে কঠোর মূল্য
দিতে হয়।তাই দু:খের সাথে বলতে
হয়,
এ বিশ্ব কে শিশুর বাসযোগ্য
করে যাবো আমি নবজাতকের
কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার!
সুকান্তের এ কথা কি শুধুই মুখের বুলি
হিসেবেই থেকে যাবে! কেননা
আজ শিশু মায়ের উদরেও নিরাপদ নয়!
এমন উপস্থিতির জন্য আবু ইসাহাকের
মহাপতঙ্গ গল্পের পাখিও আমাদের
ধিক্কার দেয়! এমন আচরণের জন্য স্যার
জাফর ইকবালের মহাজাগতিক
কিউরেটর গল্পের মত ভিন্ন গ্রহে
সাবাই কে নিতে চায় মানুষ ব্যতীত!
কবি গুরুর "রাজর্ষি " উপন্যাসে রাজা
গোবিন্দমানিক্যের মত দীর্ঘ
নি:শ্বাস নিয়ে বলতে হয়,আমাদের
অরণ্যে কি হিংস্র পশু যথেষ্ট নাই,
শেষে কি মানুষও মানুষ কে ভয় করবে!
এভাবে সবকিছু চলতে থাকলে
হয়তো, মানুষ তার এই গর্বটি করতে
পারবে না যে, সমস্ত প্রাণীর মধ্যে
একমাত্র মানুষই উৎকৃষ্ঠ!!
©somewhere in net ltd.