| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বালির বাঁধ
বাঙালিরা খুব শৌখিন জাতি! শখ করে প্রেম করে,শখ করে ছ্যাঁকা খায়,শখ করে ধুমপান করে,শখ করে মানুষ কে কষ্ট দেয়, এমন কি শখের নেশায় মৃত্যু মুখে পতিত হতেও দ্বিধাবোধ করে না! প্রবাদে বলা অাছে, একে তো নাচন বুড়ি তার উপর ঢলের বাড়ি! আমরা এমনিতেই শৌখিন আর যদি দিবস আসে তাহলে তো কথাই নেই! এই দিবসের আসল গুরুত্ব না বুঝে পালন করতে করতে ধ্বসে গেল আমাদের মেরুদন্ড! গ্রামের অশীতিপর নামায পড়তে পড়তে পড়তে কপালে ঘা গেল অবশেষে সে জানতে পারল যে তার সুরা ফাতেহা পাঠ শুদ্ধ নয়! তেমনি আমরাও দিবস পালন করে এত বছর পরেও জানতে পারলাম না কেন আমার এটা পালন করছি? কি ইহার শানে নযুল? আজও এমন হাজারো ছাত্র এই বাংলায় পাওয়া যাবে, যাদের যদি জিজ্ঞেস করা হয় যে, ১৪ই ডিসেম্বর তিন জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর নাম বলতে ? তাহলে তারা এমন ভাব করবে যেন সদ্যজাত শিশু! অথচ তারাই আবার ১৪ তারিখে একটি গোলাপ নিয়ে বেদিতে বসে মুখটি ৩০ ডিগ্রি এঙ্গেল করে ছবি তুলছে! যতক্ষণ না দেশের সব মানুষ না জানবে এই সব দিবসের (১৪,১৬,ডিসেম্বর) আসল মর্মকথা ততক্ষণ পর্যন্ত ঐ অশীতিপর বৃদ্ধের মতই শুধু কপালে ঘাই হবে!! আসছে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও বিজয় দিবস! মাথার ওপরে যারা আছেন তারা ইতোমধ্যেই কিছু বিশেষ জায়গা ধোঁয়ামোছার কাজ শুরু করে দিয়েছেন,মাইকে,বেতারে,গনমাধ্যমে,স্যাটেলাইটে,সামাজিক গনমাধ্যমে বিশেষ দিবসের জন্য প্রচারণা! কথায় আছে প্রচারেই প্রসার।গ্রাম বাংলায় ওয়াজকারী বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন,যত জোড়ে সুবহানআল্লাহ তত বেশি সওয়াব! তাই শুনে মুছল্লিরা গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে... । তাই যত প্রচার তত এই দিনগুলির মহাত্না তত বেশি! শরীরের বিশেষ স্থান যদি মানুষ বছরে একবার চন্দন ও গোলাপ এবং আরবের আঁতর দিয়ে ৪ ঘন্টা পরিষ্কার করে আর বাকি ৩৬৪ দিন পানি ও হাতও না দিই তাহলে কি প্রিয়তমা তার রক্ত বর্ণসম চঞ্চু দিয়ে লেহ্য করবে? সূর্য হাজার বছরের পুরনো হলেও যেমন প্রতিদিন তার নতুন আলো নিয়ে পৃথিবীর তমসা দুরীভুত করে, তেমনি এসব গৌরবোজ্জ্বল দিন (স্বাধীনতা দিবস,বিজয় দিবস,বুদ্ধজীবী দিবস...) এর শিক্ষা প্রতিদিনের জীবনে, মনে,চেতনায়,কর্মে ধারণ করতে হবে। তাহলই দেশ আর ৪৫ বছর পেরিয়ে এই অপবাদ পেতে হবে না যে, আমাদের দেশ এখনও শিশু! অথচ তা না করে আমরা শুধু বিশেষ দিনে কথা ও বাণীর ব্যঞ্জনে আকাশ বিদীর্ণ করে ফেলছি!বিজয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবস অথবা বুদ্ধিজীবী দিবস গুলো কে আমরা একটি দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে ফেলেছি।ইহার থেকে প্রেরনা নিয়ে সারা বছর কিভাবে কর্মউদ্দোম থাকা যায় তা উপলব্ধিতে আমরা ব্যর্থ! তার বাস্তব প্রমাণ যখন দিবস গুলো পার হয়ে যায় সেখানে (স্মৃতি স্তম্ভ) দেখা যায় জুতো পরিহিত প্রেমক যুগল নইতো আবর্জনার একটা স্তর জমে আছে। প্রশ্ন হল কেন সেখানে ময়লা জমবে? সারাবছর নোংরা হয়ে থাকবে আর দিনে ধুয়ে মুছে ফুল দিয়ে বিশ্ব কে দেখাবে যে,বাঙালিরা স্মরণ কিভাবে করে! কত বড় ভন্ড আমরা! আমরা আমাদের স্মৃতিকে করে ফেলেছি ক্ষণস্থায়ী! বিশেষ দিন ছাড়া কিছুই মনে করতে পারি না আর প্রাত্যহিক কাজে এগুলোর শিক্ষা কে কাজে পরিণত করব কি ভাবে! হুমায়ুন আজাদের একটি বাণী এক্ষেত্রে প্রনিধাণযোগ্য, "বাঙালিরা আন্দোলন করে, ব্যর্থ হয়, মাঝেমাঝে জয় লাভ করে কিন্তু পরে কেন জয় লাভ করেছে তা ভুলে যায় "। আমরা এখন জানতে পারি নাই শহীদুল্লা কায়সার কে? মুনীর চৌধুরি কে? আনোয়ার পাশা কে? জহির রায়হান কে? জোতির্মহ গুহ কে? ৪৫ বছর ধরে দিবস পালন করেও যদি এ প্রজন্ম বলতে পারে না তারা কে,? কি তাদের অবদান ছিল দেশ নির্মানে?তাহলে এত সব আয়োজনের দরকার কি! রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, আমরা জীবিতদের কবর দিই আর মৃতদের পুজা করি! ১৬ টি মোমবাতি অথবা ১৪ টি বন্দুকের আওয়াজ দিয়ে কখনও বুদ্ধি জীবী ও বিজয় দিবসের গুরুত্ব অনুধাবন করা যায় না! অথবা ফুলের ডালা দিয়ে পাশে ঐ সুটেডবুটেডের তিন বা চারবার লাথি মেরে মেদেনী কে কাঁপিয়েও তাদের (শহিদের) আশার প্রতিফলন হয় না! অথচ ঐ ইতিহাস গুলো জানলে কোন সুস্থ মানুষের পক্ষে চোখে অশ্রু ধরে রাখার কথা নয়! এই প্রজন্ম কি দিবস পালন করতে গিয়ে এ কথা ভাবে যে, আর কোন কালজয়ী কবর নাটোক সৃষ্টি হবে না! লিখবে না আর কেউ আরেক ফালগুন! লিখবে না আর কেউ রাইফেল রোটি আওরাত! গুনীজনরা বলেন, কোন দেশ কে ধ্বংশ করতে হলে সে দেশের বুদ্ধিজীবীদের বিনাশ করতে হয় আগে। নেকড়েরা আমাদের দেশকে শেষ বারের মত কামড় দিয়ে যে বিষ ত্যাগ করে গেছে তা কখনো পুরনীয় নয়! তাদের বিষাক্ত ছোবলে যে সমস্ত গুনীজনরা আমরা হারিয়েছি তাদের অবদানের কথা কি জানি? কি অমানবিক নির্যাতন এর শিকার হয়ে ছিলেন তারা! বুকের কলিজাটা কত বড় হলে দেশের জন্য হাসিমুখে জীবনটা ত্যাগ করা যায়! তাই কোন সস্তা শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে না আসুন সত্যিকারের দেশ প্রেম নিয়ে শহিদের অসমাপ্ত কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি! গায়ে মশা বা মাছি পড়লে আপনাআপনি যেমন হাত চলে যায় মশার দিকে, তেমনি আমাদের সবার ভেতরে এমন দেশপ্রেম জাগ
©somewhere in net ltd.
১|
১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১২:১৫
তাজেরুল ইসলাম স্বাধীন বলেছেন: ভাল লাগল।