নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি সাদামাটা মানুষ। ভালবাসার কাঙ্গাল। অল্পতেই তুষ্ট। সবাই আমাকে ঠকায়, তবুও শুরুতে সবাইকে সৎ ভাবি। ভেবেই নেই, এই মানুষটা হয়ত ঠকাবেনা। তারপরেও দিনশেষে আমি আমার মত...

অপলক

তত্ত্ব, তথ্য ও অনুভূতি ভাগাভাগি করা আমার অভিপ্রায়। কারও যদি ইচ্ছে হয় তবে যে কেউ আমার এই ব্লগের যে কোন কিছু নিজের সংগ্রহে রাখতে পারে।

অপলক › বিস্তারিত পোস্টঃ

হাস্যকর বিচারের রায়

০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৯

বাংলাদেশের ইদানিং কালের কিছু বিচারিক রায় মনে হাস্যরসের কারন হয়ে গেছে। কিন্তু তাই বলে আদালত কে অসম্মান করছি না।



উদাহরন স্বরুপ:


১. বরিশালের এক আসামীকে আদালত ফাসির রায় দিলেন এবং একই সাথে ১ লাখ টাকা জরিমানা। আমার প্রশ্ন হল, মৃত ব্যক্তি কি করে ১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করবে? ধরলাম, ফাসির আগেই জরিমানা আদায় করতে হবে, তাহলে প্রশ্ন হল, জেলে বন্দী অবস্থায় কি করে ১ লাখ টাকা উপার্জন করবে? ধরুন তার কোন স্বজন নেই, জমি জমা ভিটে বাড়ি কিছুই নেই। একজন ছিন্নমূল আসামী।

এটা যৌক্তিক হতে পারে, ফাসির আসামীর মরোনত্তর অঙ্গ বিক্রীর মাধ্যমে জরিমানা আদায় করা হবে। কিন্তু আইনে তো সেটাও নেই। হাস্যকর...



২. এক পাগলীর বাচ্চা ভূমিষ্ট হলো। কিন্তু পুরুষ আসামীকে (ধর্ষককে) যাবৎজীবন কারাদন্ড দেয়া হল। বিঞ্জ আদালত শিশুর দায় ভার দিলেন জেলা প্রশাসক কে। এটা কেমন বিচার? রেপ করে বাচ্চা পয়দা করল একজন, আর বাচ্চার দায় দায়ীত্ব দেয়া হল জেলা প্রশাসককে!!! অদ্ভূত না? উচিত ছিল, কিডনি বেচে হলেও ধর্ষককে ঐ বাচ্চার খরচ চালাতে হবে এবং বাচ্চার পিতৃ পরিচয় দিতে হবে। অন্যথায় মৃত্যুদন্ড।

আমার মতে, একটা রেপিস্টকে জেলে বন্দী রেখে রাষ্ট্রীয় খরচে খাইয়ে পরিয়ে বেচে রেখে কোন লাভ নেই। এরা দেশের বোঝা, দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি। কারাগারে এই আসামীরা কখনও সংশোধন হয় না। বরং আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে।


৩. এক সাহসী সাংবাদিক ভাই ভিডিও সহকারে থানার এসআই কে বললেন, অমুক এলাকায় চীনারা বাড়ি বাড়ি ঢুকে মহিলাদের ভিডিও স্ট্রিমিং করছে কোন অনুমতি ছাড়াই। ঐ সব চাইনিজরা বৈধ কিনা বা ভিডিও স্ট্রিমিং করার ব্যপারে প্রশাসন কেন কিছু করছে না? এসআই সাহেব বললেন, কেউ অভিযোগ দেয়নি কিংবা কেউ প্রমান দিলে আমরা তদন্ত করব।

আমার কথা হল, সাংবাদিক ভাই ভিডিও দেখালেন, লোকেশন জানালেন, স্থানীয় মহিলাদের বক্তব্যের রেকড দিলেন, তারপরেও আর কি প্রমান লাগবে বুঝলাম না। পুলিশ তো নিজেও বাদি হয়ে বিদেশী নাগরিকদের বিরুদ্ধে তদন্তে নামতে পারে, তাই না? সাইবার ক্রাইম আইন তো আছে!!!



৪. বগুড়ায় কিছুদিন আগে ঝটিকা অভিযানে কিছু নেশাখোর ধরা পড়ল। উপস্থিত শাস্তি হিসেবে, বাবা মাকে ফোন দিয়ে মাথাপিছু এক হাজার করে টাকা নিয়ে আসতে বলল। যাদের বাবা মা অভিমানের ছলে সে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাদের কোর্টে চালান দেয়া হয়। পরবর্তীতে আদালতের রায় ছিল এরকম: ৩ মাস বিনাশ্রম কারাবাস এবং ৬০০ টাকা জরিমানা। অনাদায়ে আরও ১ মাস কারাবাস।

আমার প্রশ্ন হল, দেশে এখন একজন ধানকাটার শ্রমিকের মজুরী ১০০০টাকা, রাজমিস্ত্রী ৮০০টাকা, একজন মেথরের দৈনিক মজুরী ২০০০ টাকা। তাহলে কোন যুক্তিতে ৬০০ টাকা আদায় না করলে ১ মাস কারাভোগ বৃদ্ধি হবে? যদি দিনে ২ বেলা খাওয়া খরচও ধরা হয়, দৈনিক একজন আসামীর পেছনে ১২০টাকা যায়। তাহলে ৩০ দিনে সরকারের খরচ ৩৬০০টাকা মাথাপিছু। সেখানেও সরকারের লস। ব্যক্তির লাভ লোকসান তো বাদই দিলাম।

আর তাছাড়া আসামী বন্দী অবস্থায় কি করে লোন নেবে? ব্যাঙ্ক কি কয়েদী খুজে খুজে লোন দেয় নাকি সেকরম কোন নিয়ম আছে? যে আসামীর বাবা মা ১০০০ টাকাই দেয়নি, সেখানে ৬০০ টাকা দেবে তার কোন মানে নেই।


হাস্যকার... এ ধরনের আইনানুগ রায় যুগের সাথে সামঞ্জস্য করা দরকার। আদালত সম্মান এবং শেষ ভরসার জায়গা। সেখানের কোন কাজ প্রশ্নবিদ্ধ হবার সুযোগ রাখা ঠিক না।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:০৮

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আদালত সম্মান এবং শেষ ভরসার জায়গা।
সেখানের কোন কাজ প্রশ্নবিদ্ধ হবার সুযোগ রাখা ঠিক না।

....................................................................................
কিছু দিন আগে এক যোগে ১৫/১৬ জন আইনজীবি আদালতের
বিভিন্ন পদ থেকে ইস্তফা দেয় ।
এরা কারা ?
কিভাবে নিয়োগ পেয়েছিলো ?
বিগত ১৮ মাসে তারা কি কি বিচারে পক্ষপাত করে ছিলো ??
এইসব হিসাব কি আমাদের জানা আছে ???

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.