| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
তারিখঃ ২০ শে অগাস্ট,২০১২
সময় তখন রাত ৪ টা।
একমাসের practice করার ফলস্বরূপ ঘুম ভেঙ্গে গেলো।
মনে পড়লো আজ ঈদ!
বুঝলাম এখন আর ঘুম আসবে না।
বাইরের আকাশে তখন বৃষ্টি হবার প্রস্তুতি চলছে।
৫ টার কিছু আগে জুতো পায়ে বেরিয়ে পড়লাম। নদীর পাঁড় ধরে চললাম পার্কের দিকে।
আকাশের অবস্থা দেখে বুঝলাম আজ আর অন্য দিনের মত সূর্যোদয় দেখা হচ্ছে না।
অগত্যা নদীর পাড়ে কিছুক্ষণ ঝিম মেরে বসে থেকে বাসায় এসে দিলাম একটা ঘুম।
আম্মুর ডাকাডাকিতে একসময় ঘুম ভাঙল।
সবাই নামাজ পড়তে চলে গেছে।
মহল্লার এক মসজিদে একলাই ঈদের নামাজ পড়তে গেলাম।
নামাজ পড়ে আসার সময় মাথায় একটা আইডিয়া আসলো।
দুটো বেলুন কিনে রওনা দিলাম বাসার কাছে নদীর দিকে।
উদ্দেশ্য, একটা নৌকা ভাড়া করবো আর বেলুন দুটোকে নদীর মাঝখানে নিয়ে ভাসিয়ে দিবো!
তারপর এক ঘণ্টা ভাসন্ত বেলুনের পিছু পিছু যাব।
আইডিয়া টা কেমন হলো?
কিছুটা পাগল কিছিমের হলো। কিন্তু খুব একটা মন্দ না।
যাই হোক...হাতে দুটো বেলুন নিয়ে হাঁটছি।
নৌকা খুঁজছি।
এমন সময় দেখলাম বিপরীত দিক থেকে দুটো ছোট্ট মেয়ে দৌড়ে আসছে।
আমার কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়ে পড়লো।
পিচ্চি দুটোর সাঁজ দেখে হাসি আটকাতে পারলাম না।
রঙের পিছনে আসল মুখটা দেখতেই পাচ্ছি না।
হঠাৎ খেয়াল করলাম ওরা আমার হাতের বেলুনের দিকে তাকিয়ে আছে।
তাদের চোখের ভাষা বুঝতে পেরে কাছে গিয়ে জিগ্যেস করলাম বেলুন নিবে কিনা।
মুহূর্তে তাদের হাসি কান পর্যন্ত চলে গেলো।
হাতে বেলুন ধরিয়ে দিতেই দুজনেই ছুট লাগালো।
তাদের দিক থেকে অন্য দিকে ফিরতেই দুজনের দৌঁড়ে পালানোর কারণটা বুঝতে পারলাম।
১০/১২ টা পিচ্চি পোলাপাইন। আমার দিকে তাকিয়ে হাসতেছে।
একজন তাকেও একটা দিতে বললো।
কি আর করা!
সবাইকে অপেক্ষা করতে বলে গেলাম বেলুন কিনতে।
১৫ টা বেলুন আর কিছু চকলেট কিনে ফিরে আসলাম।
চকলেট সবাই পেলো কিন্তু বেলুন দেয়া শেষ করে রইলো আরো একটা।
কাওকে ডাবল দেয়া যায় না।
তাই শেষের টা আমার কাছেই রইলো।
কোন পিচ্চিই কোন কথা বলে না। দাঁত বের করে হাসছে শুধু ।
অজ্ঞাত কারনে আমিও দাঁত বের করে হাসছি! মনে হয় মেঘ কিছুটা হলেও কেটে গিয়েছিলো...
সামনে একটা নৌকা দেখে পিচ্চিগুলোর কাছ থেকে বিদায় নিলাম।
ঘন্টাখানেকের জন্য নৌকা ভাড়া করলাম।
মাঝির হাসাহাসি উপেক্ষা করে নৌকার পাল খুলে লম্বা রশিতে লাগালাম শেষ বেলুনটা...
মাঝিকে বললাম চুপ করে বসে থেকে স্রোত যেদিকে যায় নৌকাকে সেদিকে যেতে দিতে ।
কিছুক্ষণ পর...
নৌকায় হেলান দিয়ে শুয়ে ছিলাম।
মাঝির হাসির শব্দ শুনে হাসির কারন জিগ্যেস করতে পাঁড়ের দিকে চাইতে বললো সে।
নদীর পাঁড়ের দিকে তাকিয়ে মনটা খুশি হয়ে গেলো।
একটু আগে বেলুন দেয়া সবগুলো পিচ্চিই নদীর পাঁড় ধরে বেলুন নাড়াতে নাড়াতে দৌড়াচ্ছে ।
আমি তাদের দিকে ফিরে হাত নাড়াতে তারাও পাল্টা হাত নাড়লো।
কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি শুরু হলো।
নদীর দুপাশে মানুষজন খুব একটা দেখতে পাচ্ছি না।
মাঝ নদী দিয়ে নৌকা চলছে...
সামনে বিস্তৃত ঝাপসা দিগন্ত...
একসময় মানুষের সাড়া পেয়ে খেয়াল করি পার্কের কাছে এসে পড়েছি।
সামনেই একটা নৌকা।
নৌকায় তিনজন আরোহী...
একজন পুরুষ,একজন মহিলা আর একটা পিচ্চি...
পিচ্চিটা ছাতা নিয়ে বসে থাকা মার কোলে আর পিচ্চির বাবা ভিজে চুপচুপ হয়ে বসে আছে।
তিনজনই হাসছে...
অবশ্যই দৃশ্যটা ভালোলাগার।
কিন্তু কেনো জানি দৃশ্যটা একটু আগে পাওয়া আনন্দ টা বাসি করে দিলো ।
পালের দড়ি থেকে বেলুন টা নামিয়ে ফেলে দিলাম নদীতে।
মাঝি কে বললাম পাল উড়িয়ে দিতে। ফিরে যাবো যেখান থেকে এসেছিলাম...
নৌকা চলছে পূর্ণগতিতে...
আর আমি তখন নিজের সামনে ঘুমিয়ে পড়ার অভিনয়ে ব্যাস্ত!
জেগে জেগে ঘুমুচ্ছি...
বাহ!
মচৎকার!
”Annoying GOD i am sleeping and sleeping”.
Remember it?
©somewhere in net ltd.