নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আগডুম বাগডুম

-_-

আহমদ শাকীর

আশ্চর্য! লেখার কিচ্ছু পাচ্ছি না!

আহমদ শাকীর › বিস্তারিত পোস্টঃ

জন্মকথন-০১

২৭ শে মে, ২০১৪ রাত ১২:২৮

১.



দ্বি-প্রহর!

বাতাসে অলস দুপুরের ঘ্রাণ ভেসে বেড়াচ্ছে। ক্লাসের জানালাগুলোয় শরতের স্নিগ্ধ সাদা মেঘ ছড়াছড়ি।

এই সময়টাতে দুনিয়ার তাবৎ ক্লাসরুমের প্রাণগুলো এক লৌকিক অলসতায় মগ্ন হয়ে যায়।

আজকেও তাই হবার কথা ছিলো। ঘুম ঘুম ক্লাসের বদলে ক্লাসটা একটা গুমোট পরিবেশে পরিনিত হয়েছে। ইতিহাসের বোরিং লেকচার শুনতে শুনতে অভ্যস্ত ছেলে মেয়েরা ক্লাসের পিনপতন নিরবতায় অসহ্য ফিল করছে।

হল কি আজ প্রফেসর সাহেবের!

প্রফেসর মফিজুল হকের প্লাস পাওয়ারের চশমাটা টেবিলের উপর রাখা। ছোট বাচ্চাটার মত কোলের উপর দুহাত রেখে থ মেরে বসে আছেন।

অনেকক্ষণ পর প্রফেসর উঠে দাঁড়ান। চোখেমুখে একগাদা জড়তা নিয়ে সবার দিকে তাকান। ছেলেমেয়েরা আগ্রহ নিয়ে তাকায় প্রফেসরের দিকে। মনে হচ্ছে আবার কিছু বলবেন তিনি।



--আচ্ছা তোমরা কি কেও জেসমিন ফুল চেনো? আই মিন, জেসমিন ফুল পাওয়া যাবে এমন কোন যায়গার খোঁজ দিতে পারবে?



ইতিহাসের প্রফেসরের মুখে ফুলের আলাপ শুনে ক্লাসে হাসির একটা হলকা বয়ে যায়। মেয়েরা কানাকানি শুরু করে। কিন্তু প্রফেসরের মুখটা দেখে হাসাহাসি- কানাকানি মুহূর্তেই থেমে যায়।



একটা ছেলে উঠে। বলল,

--“স্যার, বোটানি ডিপার্টমেন্ট এ খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। তাদের গার্ডেন এ জেসমিন ফুল পেলে পেতেও পারেন”।

-- ও আচ্ছা। আজকে তোমাদের আর ক্লাস নিচ্ছি না।

এই বলে প্রফেসর সাহেব বের হয়ে যান।

ক্লাসের সবাই ভাবতে বসলো হলটা কি প্রফেসরের!



২.



প্রফেসর সাহেব জন্মের পর আদর করে ছোট মেয়েটার নাম রেখেছিলেন “জেসমিন”। প্রিয় ফুলের নামটা মেয়েকে দিয়ে সংসারে জেসমিন ফুলের ঘ্রানে ভরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। হয়েছিলও ঠিক তাই।

আজ অনেক বছর পর মেয়েটার সময় এসেছে নতুন করে ফুলের ঘ্রাণ ছড়ানোর।

তাই চেয়েছিলেন দিনটাতে মেয়েটাকে সত্যিকারের জেসমিন ফুল গিফট করবেন।

হাতে সদ্যছেড়া জেসমিন ফুলটা নিয়ে মাঠের এপাশে কটকটে রোদের ভেতর দাঁড়িয়ে আছেন।রাস্তাটা পেরুলেই বাসায় যাবার মেঠো পথটা। অইতো দেখা যাচ্ছে হলুদ বিল্ডিংটা!

তবু প্রফেসরের মন সায় দিচ্ছে না বাসার দিকে একপা এগুতে। আদরের ছোট মেয়েটার কু কু করে কান্না টা তো তার একদম বুকে গিয়ে লাগে। দুদিন ধরে মেয়েটার পেইন বেড়েছে। বাচ্চা হবার শেষ সময়টা ঘনিয়ে এসেছে। কথামতে কিছুক্ষণের মধ্যেই সু-সংবাদ টা পাবেন। ছেলেটাকে বলে এসেছেন নাতি জন্মালেই যেন তাকে খবরটা দেয়া হয়।



সবমিলিয়ে তাই আপাতত দূরে থাকাই নিজের জন্য নিরাপদ মনে করছেন। বাসা ভর্তি মানুষ। সবার সামনে কি বাচ্চাটার মত চোখের পানি ফেলা যায়?



৩.



ওই তো!

ওই তো দেখা যায় ছোট ছেলেটা তার দিকেই তিড়িং বিরিং করে ছুটে আসছে।



মুহূর্তে থম ধরে থাকা প্রফেসরের দেহটা আশ্চর্য এক গতি পায়। বুড়ো বয়সের হিসেবটা হঠাত ভুলে পায়ের গতিটা আশ্চর্য রকম বেড়ে যায়। এক ছুট লাগান মেঠো পথটা ধরে।

লজ্জা ভুলে ততক্ষণে চোখের দু-কুল ছাপিয়ে আসে জল। জগতের বিসুদ্ধতম আনন্দ দুচোখে নিয়ে মানুষটার হাতে নেচে বেড়ায় একটা জেসমিন ফুল!



৪.



সেই দিনটা থেকে ২৪ বছর পর..



আজ জেসমিনের সেই ছেলেটার জন্মদিন। তাই রান্নাঘরে ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি। হাসিমুখে বানাচ্ছেন ছেলের প্রিয় ডিশগুলো।

রান্না ঘরে ব্যাস্ত মাকে দেখতে আসে ছেলে। টুপ করে মায়ের পাশে বসে থেকে চুপচাপ রান্না করা দেখতে থাকে।

ছেলেটা সামনে বসে থাকা মা আর প্রফেসরের সেই ছোট মেয়েটার সাথে একটা তুলনায় মগ্ন হয়। প্রফেসরের সেই ছোট মেয়েটা এখন আর ছোট্টটি নেই। সংসারের বাঁধা নিয়মে চেহারা থেকে জেসমিন ফুলের সুবাশটা অনেকটাই উধাউ হয়ে গিয়েছে।



রান্না ঘরের বাতাসে মউ মউ করছে পোলাউ-কোরমার গন্ধ।

মায়ের খুব কাছে বসে থাকা ছেলেটার নাকটা পোলাউ-কোরমার গন্ধ পায় না। পায় সারাদিন ধরে রান্না ঘরে বসে সিদ্ধ হতে থাকা ঘর্মাক্ত মায়ের গন্ধ।

আশ্চর্য! ঘামের গন্ধ এতো সুবাশ ছড়ায়!



ছেলেটা আর পারে না! দু চোখে পানির ধারা ছুটিয়ে জড়িয়ে ধরে মায়ের শরীরটা।

ছেলেটা বুঝতেই পারে না পৃথিবীর শুদ্ধতম সম্পর্কের সৃষ্টিকর্তা এই মাকে কি বলে কৃতজ্ঞতা জানাবে।

পেছনে থাকা বাবাটা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে দেখে দুটি প্রিয় মানুষের সুখের কান্না। ভেতরে থাকা উপচানো ভালোবাসাটুকু নিজের ভেতরে চেপে রেখে আশ্চর্য এক সুখ পায়। বাবা’রা মনে হয় এমনি হয়!



৫.

আচ্ছা...বেহেশতে নানা জাতের ফুল থাকবে। জেসমিন ফুল থাকবে তো?



জেসমিন ফুল থাকুক আর না থাকুক আমার ঘরে সুবাশ ছড়ানো প্রফেসর সাহেবের সাধের জেসমিন ফুলটা থাকলেই চলবে।

:)

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.