নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষ আর বিপ্লবী কখনো মরে না, তাদের জীবন-কর্ম-দর্শন নিয়ে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে বিপ্লবীদের কথা। www.biplobiderkotha.com

মানুষ আর প্রাণীর মধ্যে পার্থক্য হলো-চেতনাগত ও সংস্কৃতিগত।

শেখ রফিক

সম্পাদকঃ বিপ্লবীদের কথা (মাসিক পত্রিকা), সম্পাদকঃ www.biplobiderkotha.com, সাধারণ সম্পাদকঃ বিপ্লবী গবেষণা সংসদ।

শেখ রফিক › বিস্তারিত পোস্টঃ

রাসবিহারী বসু : ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম বিপ্লবী

০৬ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৫:৪৮

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম বিপ্লবী রাসবিহারী বসু। তিনি ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। ভারতের বাইরে জাপানে আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করেন। তৎকালীন ব্রিটিশ গভর্ণর জেনারেল এবং ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জকে বোমা হামলা করে মারার প্রচেষ্টার সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন। http://www.biplobiderkotha.com View this link এছাড়া গদর ষড়যন্ত্রের সাথে তিনি যুক্তছিলেন। ভারতের সেনাবাহিনীতে বিপ্লবীদের অনুপ্রবেশ করিয়ে ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে সমগ্র ভারতব্যাপী একটি বিদ্রোহ করার পরিকল্পনা করেছিলেন।

রাসবিহারী বসুর জন্ম ১৮৮৬ সালে। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের সুবলদহ গ্রামে। বাবা বিনোদবিহারী বসু। তিনি বর্ধমান থেকে চন্দন নগরে গিয়ে বসবাস করেন আর চাকরি করতেন সিমলায়। তিনি ছিলেন মানবদরদী ও সমাজহিতৈষী প্রকৃতির মানুষ। স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবীদের নানাভাবে তিনি সহযোগিতা করতেন।

পড়াশুনার হাতেখড়ি পরিবারে। তারপর পাঠশালার পাঠ। প্রাথমিক পাঠ শেষ করে চন্দননগরের দ্যুপ্লে (উঁঢ়ষবরী) কলেজের প্রবেশিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। কিন্তু রাসবিহারী বসুর শৈশবে পড়াশোনার প্রতি তার মনোযোগ ছিল না বললেই চলে। তাই এক সময় তাঁর বাবা তাঁকে দেরাদুনে বন বিভাগের গবেষণাগারে কেরানির চাকরিতে ঢুকিয়ে দেন। তবে ছুটি পেলেই বসু চন্দনগরে চলে আসতেন। এই চন্দনগরেই তিনি বিপ্লববাদী রাজনীতির হাতেখড়ি নেন।

বিপ্লববাদী রাজনৈতিক জীবনের প্রথম দিকে তিনি নানা বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯০৮ সালে আলীপুর বোমা বিস্ফোরণ মামলায় তাঁকে অভিযুক্ত করে কারাগারে আটকে রাখে ব্রিটিশ সরকার। কারাগার থেকে মুক্তিলাভের পর তিনি দেরাদুনে যান। সেখানে বন গবেষণা ইনস্টিটিউটে হেডক্লার্ক হিসেবে কাজ করেন। দেরাদুনে তিনি গোপনে বাংলা, উত্তর-প্রদেশ ও পাঞ্জাবের বিপ্লবীদের সংস্পর্শে আসেন। বহু বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা আছে বলে ব্রিটিশ সরকার তাকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখতে শুরু করে।

১৯১১ সালের ১০ অক্টোবর রাসবিহারী বসু নারীর ছদ্মবেশ ধারণ করে ব্রিটিশ বড়লাট লর্ড হার্ডিঞ্জের ওপর বোমা নিক্ষেপ করেন। এই বোমা হামলা চালিয়ে রাতের ট্রেন যোগে তিনি নিজের কর্মস্থল দেরাদুনে চলে আসেন। কোথাও কিছু ঘটেনি এমন এক ভান করে পরদিন নিয়মিত অফিস করেন। কিন্তু একপর্যায়ে ব্রিটিশ গোয়েন্দার নজরদারি থেকে মুক্ত থাকার জন্য তিনি আত্মগোপনে যান।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে তিনি জাপানে যান। ১৯২০ সালে জাপানের একমেয়েকে বিয়ে করার সুবাদে তিনি নাগরিকত্ব লাভ করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তাঁর কারণে জাপান সরকার ভারতীয়দের পাশে দাঁড়ায়। একপর্যায়ে জাপান ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয় সমর্থন দেয় এবং সহযোগিতা করে।

১৯৪২ সালের ২৮-২৯ মার্চ। তাঁর ডাকে টোকিওতে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি হন রাসবিহারি বসু। এই সম্মেলনে ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লীগ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি সেই সম্মেলনে একটি সেনাবাহিনী গঠনের প্রস্তাব দেন। ওই সম্মেলনে 'আজাদ হিন্দ ফৌজ' গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হয়। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বাধীনে আজাদ হিন্দ সরকার গঠিত হলে রাসবিহারী বসু সেই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিযুক্ত হন।

১৯৪২ সালের ২২ জুন ব্যাংককে তিনি লীগের দ্বিতীয় সম্মেলন আহ্বান করেন। এ সম্মেলনে সুভাষচন্দ্র বসু কে লীগে যোগদান ও এর সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাব গৃহীত হয়। যেসব ভারতীয় যুদ্ধবন্দি মালয় ও বার্মা ফ্রন্টে জাপানিদের হাতে আটক হয়েছিল তাদেরকে ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লীগে ও লীগের সশস্ত্রশাখা ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মিতে যোগদানে উৎসাহিত করা হয়। রাসবিহারী বসুর প্রারম্ভিক সাংগঠনিক শ্রমের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সময়ে সুভাষচন্দ্র বসু ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি( আজাদ হিন্দ ফৌজ নামেও পরিচিত) গঠন করেন। মৃত্যুর পূর্বে রাসবিহারী বসুকে জাপান সরকার সম্মানসূচক ‘সেকেন্ড অর্ডার অব দি মেরিট অব দি রাইজিং সান’ খেতাবে ভূষিত করে।

১৯৪৫ সালের ২১ জানুয়ারি রাসবিহারি বসু মারা যান।



মন্তব্য ২ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৫

ভিন্ন চিন্তা বলেছেন: আপনার প্রচেষ্ঠা কে ধন্যবাদ।

২| ০৬ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৯:০১

নাজেহাল নাগরিক বলেছেন: একজন বিপ্লবী সত্তার সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.