![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আর কত দিন...
জহির রায়হান
তবু মানুষের এই দিনতার বুঝি শেষ নেই
শেষ নেই মৃত্যুরও।
তবু মানুষ মানুষকে হত্যা করে।
ধর্মের নামে ।
বর্ণের নামে।
জাতীয়তার নামে।
সংস্কৃতির নামে।
এই বর্বরতাই অনাদিকাল ধরে আমাদের এই পৃথিবীর শান্তিকে বিপন্ন করেছে।
হিংসার এই বিষ লক্ষ কোটি মানব সন্তাঙ্কে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।
জীবনকে জানবার আগে।
বুঝবার আগে।
উপভোগ করার আগে।
কিন্তু । মানুষ মরতে চায় না।
ওরা বাঁচতে চায়।
এই বাঁচার আগ্রহ নিয়েই গুহা-মানব তার গুহা ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে এসেছে।
সমুদ্র সাঁতরেছে।
পাহাড় পর্বত পেরিয়েছে।
ইতিহাসের এক দীর্ঘ যন্ত্রণাময় পক্ষ পেরিয়ে সেই গুহা-মানব এসেছে অন্ধকার
থেকে আলোতে।
বর্বরতা থেকে সভ্যতার পথে।
মানুষের এ এক চিরন্তন যাত্রা।
জ্ঞানের জন্যে।
আলোর জন্যে।
সুখের জন্যে।
তবু আলো নেই।
তবু অন্ধকার
অন্ধকারের নিচে সমাহিত মৃত নগরী।
প্রাণহীন।
যেন যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত তার অবয়ব।
দীর্ঘ প্রশস্ত পথগুলোতে কবরের শুন্যতা।
ভাঙ্গা কাচের টুকরো। ইটের টুকরো। আর মৃতদেহ।
কুকুরের।
বিড়ালের।
পাখির।
আর মানুষের।
একটা।
দুটো।
তিনটে।
অগণিত।
জীবনের স্পন্দনহীন নগরী শুধু এক শব্দের তাণ্ডবের হাতে বন্দি।
যেন অসংখ্য হিংস্র জানোয়ার বন্য ক্ষুধার তাড়নায় চিৎকার করছে।
যেন অনেকগুলো পাগলা কুকুর।
কিম্বা রক্তপিপাসু সিংহ। বাঘ।
অথবা একদল মারমুখো শূকর শূকরী।
আর সেই বন্যতার ভয়ে ভীত একদল মানুষ নোংরা অন্ধকারে একটি ঘরের ভেতরের;
ইঁদুর যেমন করে তার গর্তের মধ্যে জড়সড় হয়ে বসে থাকে, তেমনি বসে আছে।
আতঙ্কে অস্থির মুখ, শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে যেন কষ্ট হচ্ছে ওদের।
একদল ছেলে বুড়ো মেয়ে।
যুবক। যুবতী।
আর একটি সন্তান-সম্ভবা মহিলা।
অন্ধকারের আশ্রয়ে নিজেদের গোপন করে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে ওরা।
একটা বাচ্চা ছেলে খুকখুক করে কাশলো।
সঙ্গে সঙ্গে সবাই ঘুরে তাকালো ওর দিকে।
দৃষ্টিতে যেন আগুন ঝরছে। খবরদার, আর শব্দ করো না।
যদি না পারো দু’হাতে চেপে রাখো।
নইলে ওরা আমাদের অস্তিত্বের কথা টের পেয়ে যাবে।
তাহলে কারো রক্ষা নেই।
অন্তঃসত্ত্বা মহিলাটি স্যাঁতস্যাঁতে মেঝেতে শুয়ে। যন্ত্রণাকাতর মুখে চারপাশে তাকাচ্ছে
সে।
সবাই তাকে দেখছে। শব্দ করো না।
কয়েকটা আরশুলা আপন মনে ঘুরে বেড়াচ্ছে দেয়ালের গায়ে।
সহসা কার যেন পায়ের শব্দ শোনা গেল বাইরে
মুহূর্তে সবার মুখ ফেকাসে হয়ে গেলো
শ্বাস বন্ধ হলো
এই বুঝি মৃত্যু এলো।
( সংক্ষিপ্ত)
©somewhere in net ltd.