| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
দিনটা ছিলো অন্যান্য দিনের মত একটা সাধারন দিন । যেকটা দিন জীবনে স্বরনীয় যেকটা দিন আছে, এটা তার মাঝে অন্যতমত ।
হ্যা 4 জানুয়ারীর কথা বলছি । বিকেলে কোচিং শেষে বাসায় ফিরছিলাম ।
খুব ভয়ে ছিলাম । এই বুঝি ককটেল মারলো রে ! এই বুঝি গাডির গ্লাস ভাংলো রে । চারিদিকে কেমন যেন একটা থমথমে পরিবেশ । জি ই সি তে গাডির আশায় তীর্থর কাকের মত দাডিয়ে আছি ।
প্রায় ২০ মিনিট পর একটা সোনার হরিন (টেম্পো) এলো ।
আমি সহ যাত্রি 7 জন ।
আমার পাশেই একটা ময়লা প্যান্ট আর সাদাসিধা পোশাকের এক ভদ্রলোক বসলেন । একটা ইয়া মোটা চশমা পরা । দেখে মনে হচ্ছিলো দুচোখে যেন দুটো ম্যগনিফাইং গ্লাস পরে আছে ।
হাতে ছিলো অদ্ভুদ আকৃতিয় একটা বিশাল ব্যাগ ।
তো, গাড়িতে আমি আমার মত পরীক্ষার প্রশ্নটা বের করে দেখছি কটা ভুল হল ।
কিন্তু লোকটা দেখি ট্যেরা চোখে প্রশ্নটা পডার চেষ্টা করছে ।
লোকটার আগ্রহ দেখে মনে হল যেন উনি পরিক্ষার হলে বসে প্রশ্ন কমন না পড়ায় আতংকে আছেন ।
তার চোখে মুখে সেরকম ই একটা ছাপ ।
তাই নিজে থেকেই প্রশ্নটা বাডিয়ে দিলাম ।
প্রশ্ন দেখবেন তো ?
এই নিন ।
( লোকটা খুশি মনে প্রশ্নটা দেখছে ।)
-আংকেল , কেমন দিলা পরিক্ষা ?
জি ! বেশি ভাল না ।
-কেন আংকেল ? প্রশ্নতো অনেক মানসম্মত হইছে ।
ইয়ে মানে , জি হ্যাঁ ।তবে পডে যাই নাই তো ।
- ও। তা কিসে পড ?
ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে ।
-ভাল ।
তা বড হয়ে কি হবা ?
(মনে মনে লোকটার কথায় বিব্রত হচ্ছিলাম । তার পর ও জবাব দিলাম ।)
-হু বুজলাম । অনেক বড আশা ।তা এমন গন্ডগোলের মাঝে বের হইছ যে ।
(লোকটা এমনভাবে কথা বলছিলো যেন আমি তার ঘরজামাই হই।)
বিরক্তি নিয়ে উত্তর দেই , গন্ডোগোর ভালো ই লাগে । তাছাড়া , বাসায় আর কত বসে থাকবো ? বলেন ?
-হ্যাঁ তাও ঠিক । তো , সাবধানে চলাফেরা করবা । চোখ কান খোলা রেখে চলবা ।
কেন ? কি হইসে ? আমার চোখ কান খোলা না থাকলে নিশ্চই আপনায় সাথে কথা বলতে পারতাম না । তাই না ?
-আংকেল , কানে একটা ডিশ এন্টেনার মত বিশাল হেডফোন দিয়ে চলাচল করাটা কি ঠিক ?
(এভাবেই লোকটা আমাকে তাঁর অমৃত মিশ্রিত উপদেশবানী শোনাচ্ছিলেন । ঠিক আমার আব্বার মত ।)
কথা বলতে বলতে আকবর শাহ্ পার হচ্ছিলাম ।লোকটার কথাবার্তার কোন শ্লীলতা ছিলোনা । যা তা জিঙ্গেস করা শুরু করলো ।
কয় ভাই বোন ? কে কিসে পডে ? এমন কি তাদেয় বয়স ও !
কিছুক্ষনের মধ্যেই আমার সহ্যের সীমা চরমে পৌছলো ।
তবুও ভদ্রতার খাতিরে অনেকটা অনিহার সাথেই জিঙ্গেস করলাম ।
কই যাবেন ?
লোকটা উত্তরে কোন একটা বস্তি এলাকার নাম বলল ।
গাডিতে তখন 4 জন যাত্রি ।
হঠাত্ হৈ চৈ শোনা গেল ।
হ্যাঁ । ঐ তো , কিছু লোক লাঠি শোটা হাতে আমাদের গাডিটার দিকেই তো আসছে ।
গাডিটা থামানোর চেষ্টা করছে ।
ড্রাইভার পরিস্থিতি সামলে নিয়ে জোরে একটা টান দিলেন । হারামিগুলা বৃষ্টির মত পাথর ছুডছিলো ।
লোকটা আমায় বলল মাথা নিচু করে বসে থাকতে ।
আমি তাই করলাম । কিন্তু হঠাত্ একটা কাঁচের ভাঙা টুকরাতে এক যাত্রির হাত কেটে গেল । প্রচন্ড বেগে রক্ত বেরুচ্ছে ।
ঠিক তখন ই চোখ পডলো পাশের লোকটার দিকে ।
দেখে অবাক হলাম ।ব্যাগের চেইন টা খুলে কি সব নিয়ে আহত লোকটার দিকে ছুটে
গেলেন । আহত লোকটাকে শান্ত করে ওনার কাটা হাতে একটা ব্যান্ডিস লাগিয়ে দিলেন ।
তারপর তাড়াতাড়ি গাডি থেকে নামলাম আমরা ।
লোকটা চলে যাচ্ছিলো । যাওয়ার আগে নিজের আগ্রহ থেকেই লোকটাকে বিনয়ের সাথে জিঙ্গেস করলাম ,
-আংকেল কিছু মনে না করলে একটা প্রশ্ন করবো ?
অবশ্যই ।কর কর ।
-আচ্ছা আংকেল আপনি কি করেন ?
পকেট থেকে পরিচয় পত্রটা বের করে উত্তরে যা বললেন পুরোটাই স্তম্ভিত হয়ে যাই । বিশ্বাস ই হল না ।মনে হয় 20 সেকেন্ড হা করে দাড়িয়ে ছিলাম । তাঁনি ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের কোন এক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ! ! ! !
আমি শুধুই তাঁর দিকে তাকিয়ে ছিলাম !
-দুঃখিত স্যার । আসলে গাডিতে আপনার সাথে খারাপ ভাবে কথা বলছি । কিছু মনে করবেন না ।
না না ঠিক আছে ।আর আমাকে আংকেল বলেই ডেকো ।
- জি । আচ্ছা , আপনি ঐ বস্তিতে কেন যাচ্ছেন ? আপনার কেউ থাকে নাকি ?
হ্যা । ওখানে আমার অনেক রুগি আছে । আজ ওদের ওখানে আমার জন্য সবাই অপেক্ষা করছে । আজ আশি ।
-জি হ্যাঁ । ভাল থাকবেন ।
যেতে যেতে পেছনে ফিরে মিষ্টি একটা মুচকি হাসি দিয়ে আমায় বিদায় জানালেন ।
এদের মত মানুষ পৃথিবীতে আছে বলেই আজ ও আমাদের মত মানুষেরা বেচে আছে ।
প্রকৃত ডাক্তার বলতে যা বুঝায় ওনি ছিলেন তার ই এক জ্বলন্ত প্রতিচ্ছবি ।
হাজার সালাম আর শ্রদ্ধা জানাই এই মানুষটিকে ।
©somewhere in net ltd.