| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
চট্টগ্রামের এ. কে. খান মোর থেকে বাসটা ছাড়লো ।বাসের একেবারে সামনের সিটটায় তখনো কোট টাই পরা ভদ্রবেশী অমানুষ টা বসে ছিলো । অথচ কালো সালোয় কামিজ পডা মেয়েটা তখন ও দাডিয়ে । একটা নীল রঙের ওড়না পডা । কাধে ঐকটা কলেজ ব্যাগ । একপাটি নুতন জুতা ছিলো ধবধবে পায়ে । কপালে বিন্দু বিন্দু গাম , চোখে তার ঝাপসা ঝাপসা আবছা আবছা অনিশ্চিত ভবিশ্যতের কালো ছায়া । ডান হাতটা দিয়ে সে বাসের রেলিং টা ধরেরাখার প্রানপন চেষ্টা করছে । শীতের শিশিরে মত এক ফোঁটা জল তার চোখের কোনায় টলটল করছে । মনে হয় ও কাদছে । আশেপাশে চেয়ে দেখলাম , কিন্তু কই ? আর কেউতো কাদছে না ,
তবে শুধুই মেয়েটা কাদছেন কেন ?
*******
বাসটা তখন জি ই সি এর মোরে থামলো , কোট পরা লোকটা তখন ও মহিলা সিটটায় বসা । ড্রাইভার টা তার সর্বশক্তিতে সিগারেট টেনে চলেছে । আর ওদিকে বাসের যাত্রিরা নামছে ।
যে ট্ট্রাফিক পুলিশটা প্রতিদিন এখানে দুহাতে দায়িত্ব পালন করতো , আজ তাকেও দেখছিনা । কি যে হয়েছে আজ ? এরিমধ্যে একটা চোট্ট পিচ্চি বাসে উঠলো । পত্রিকা বিক্রি করবে বলে । ওরকাছ থেকে একটা পত্রিকা কিনলাম । কিছুক্ষনের মধ্যে পুরো বাসটা প্রায় খালি হয়ে গেছে ।
কোট পরা লোকটা তখনো মহিলা সিটেই বসা । আর সেই মেয়েটা তখনো কাদছে । আমি একেবারে পেছনের সিট থেকে 5 সিট সামনে এগিয়ে আসলাম।
উদ্দেশ্য একটাই ।যেকরেই হোক মেয়েটার সাথে আমাকে কথা বলতেই হবে ।জানতে হবে ওর অভিমানের কারন । এর পরেই
ও একটা বসার সিট পেলো।
পেপার পডার বাহানায় বার বার তাকাচ্ছিলাম মায়াভরা চাঁদমুখো মেয়েটার দিকে । মনে হয় ও তখনো কাদছিলো ।কিন্তু কাউকে কিছু বুঝতে দিচ্ছিলো না ।
হারামজাদার কোট পরা বেহায়া লোকটা তখনো মহিলা সিটেই বসা । ওখানে যেন এক শক্ত ঘাটি গেডেছে।
আমার চোখ আবার তাহার উপর ।দেখছি, দেখছি। কি অপরুপ এক মায়া তার দুচোখে। ওখানে অশ্রু শোভা পায় না ।
চুলগুলো অন্ধকার রাত্রির মত কালো। হালকা বাতাসে এদিক ওদিক দুলছে।কপালটা কুচকানো । ব্যাগ থেকে সবুজ রুমালটা বের করে একবারটি চোখটা মুছে নিলো ।
কোট পরা লোকটা মনেহয় মহিলাসিটেই ঘুমাবে ।লোকটা মৃত্যু যেন ওখানেই হবে ।।।
এর কিছুকক্ষন পর ই ট্রাফিকে সবুজ বাতি জ্বলে উঠলো।
4 নম্বর বাসটা আবার তার যাত্রা শুরু করল ।
ওয়াসা যেতেনা যেতেই এক বৃদ্ধ উঠলেন বাসে ।বসলেন ওই মায়াবী মেয়েটার পাশেই।
ধুর ! কুটনি বুরিটা বসার আর জায়গা পেলোনা ?ওনার জন্য তো ওকে আর দেখাই যাচ্ছে না !
যাই ,একটু সরে বসি ।।
আমার গন্তব্য টাইগারপাস । কিন্তু আমি নামলাম না ।
ওটাই ছিশো আমার সবচাইতে বড ভুল ! এখনো এর জন্য পস্তাতে হয় । আমাদের বাসটা যখন নিউ মার্কেট পৌছলো ,ভাবলাম মেয়েটা তো অবশ্যই এবার নামবে । তাডাতাডি পেপার টা গুছিয়ে নিলাম ।
হ্যঁ , ঐ তো মেয়েটা নামছে ।
আমিও নামবো । তবে নামার আগে ওই কোট টাই পরা লোকটার দিকে শেষবারের মত তাকালাম । কিন্তু হালার পো তখন ও ওই মহিলা সিটটা আগলে বসে আছে । মনে মনে আরও কিছু অভিশাপ দিলাম তারে ।
এরই মাঝে দেখলাম মেয়েটা রেল ষ্টেশনের দিকে যাচ্চে ।
আমাকে আর থামায় কে ?
ওর পিচু পিছু হাটছি । মনে পড়লো পেপার টা বাসেই রয়ে গেছ । ধুর ৪ টা টাকাই জলে । একটা লাইন ও তো পডলাম না । এইসব নিজে নিজেই বিডবিড করছিলাম । মেয়েটা মাত্র ষ্টেশনে ঢুকল ।
ঘডিতে তখন ১১.২৬ । শুনলাম ১১.৩০ এ নাকি একটা ট্রেন আছে । ওটার আপেক্ষায় ই ও হয়তো ছোট্ট পিলারটার পশে বসলো । ছোট কলেজ ব্যাগটা তখনো তার হাতে ।
একটা লোক ফেরিকরে বাদাম বিক্রি করছিলো । ৫ টাকার বাদাম কিনে খেতে খেতে ওর দিকে এগিয়ে গেলাম । যেকরেই হোক কথা আমাকে বলতেই হবে । ও কাদছিলো কেন তা আমাকে জানতেই হবে ।
হঠাত্ আমাকে অবাক করে দিলো মেয়েটা ।
আমার নাম ধরে ডাকলো ।
-তুমি তানভীর না ?
জি হ্যা ।
-একটু এদিকে আসোতো ।
(ভয়ে ভয়ে এগিয়ে গেলাম ।)
-আমার ব্যাগটা একটু রাখতে পারবা ?
- আমি একটু হাত মুখ ধুয়ে আসছি ।
আমি তো অবাক !আবার সন্দেহ ও হল । জিঙ্গেস করলাম , কি আছে এতে ?
ও বললো । এর নিজের লেখা একটা ডায়েরি , একটা পেন্সিল আর একটা কলম আছে ওখানে ।
এটা বলে ও চলে গেলো ।
আমিও বেকুপের মত ব্যাগটা নিয়ে ওর বসা জায়গাটার শূন্যতা পূরন করছি ।
তখন কাটায় কাটায় ১১.৩০ । ট্রেনটা স্টেশনে এসে দাডালো । কিন্তু কই ? ও এখনো আসছেনা কেন ? এদিক সেদিক তাকালাম , খুজতে লাগশাম তাকে । কই আসছেনা তো !তার নাম ই জানিনা , স্টেশনে কেন এসেছে তাও তো জানা হয়নী । এখন কোথায় খুজি তারে । তার দেয়া ডায়রিটা তখন ও হাতেই ছিলো । খুলে নাম ঠিকানা কিছু আছে কিনা একবার দেখে নিব ? নাহ থাক । অপেক্ষা আর অপেক্ষা ই করলাম । এরমাজে ফোনে মুজিব , দিপু , ইমু আর আদিত্যকে ঘটনাটা খুলে বললাম । ওরা বলল আরেকটু অপেক্ষা করতে । ট্রেনটা ততক্ষনে চলে গেছে ।
আরো ২ ঘন্টা অপেক্ষার পর ডায়রিটা খুললাম । । । ।
কি সুন্দর তার হাতের লেখা . . . পডা শুরু করলাম । । ।
এই ওঠ ।ওঠ বলছি । আর কত ঘুমাবি ? কোচিং এ যাবি না ? এ্যাই তানভীর ওঠ । মা , দাডাও ডায়েরি থেকে ওর নামটা অন্তত দেখে নেই ।কি সব বকছিস ?
তাডাতাডি ওঠ বলছি । তোর আব্বুকে ডাক দিবো ?
মা . . . .
আর পাঁচটা মিনিট ঘুমাতে দাও প্লিজ ।
কি ! তবে রে হতোচ্ছারা । । আজ তোর একদিন কি আমার একদিন । এই বলে এক জগ পানি ঢেলে দিলো । হাঁ । আমার ঘুম ভাঙলো ।
বিছানায় ডায়েরিটা খুজলাম । নেই তো !
তবে এতক্ষন আমার সাথে এসব কি ঘটলো ? এতক্ষন কি তবে স্বপ্ন দেখছিলাম ! ! ! !
ধুর ! দিনটাই মাটি হল ।
কিন্তূ ওটাকে স্বপ্ন মনে করতে এখনো কষ্ট হচ্ছে ।
কি আজব . . . . .
২|
০৭ ই জুন, ২০১৪ রাত ৩:১৭
তানভীর বলছি বলেছেন: পুরোটাই ছিলো স্বপ্ন
৩|
০৭ ই জুন, ২০১৪ রাত ৩:৫৮
মুনতাসির নাসিফ (দ্যা অ্যানোনিমাস) বলেছেন: ভালো লিখেছেন ...
প্রথম ভালোলাগা ...
©somewhere in net ltd.
১|
২৮ শে মে, ২০১৪ বিকাল ৫:০০
আহসানের ব্লগ বলেছেন: দিনটাই মাটি হল
)

কিন্তূ ওটাকে স্বপ্ন মনে করতে এখনো কষ্ট হচ্ছে
কি আজব . (আহারে
তানভীর ভাইয়া পোস্ট টা পড়লাম ।
সামহোয়ার ইন ব্লগে আপনাকে স্বাগতম ।
ব্লগে পড়ুন লিখুন আর সহযাত্রী হউন আমাদের ।
পরিশেষে শুভকামনা রইল আপনার জন্য