নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ডাক্তারের দিনলিপি

হয়তো একদিনে হবেনা, কিন্তু একদিন না একদিন হবেই!

রেড ব্লেডস্

হয়তো একদিনে হবেনা, কিন্তু একদিন না একদিন হবেই!

রেড ব্লেডস্ › বিস্তারিত পোস্টঃ

নিষ্পাপতার মৃত্যু

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১:৪৩

আমার কর্মজীবনের এক বছর পার হল।

পাশ করার পর শপথ করেছিলাম যে যতভাবে পারি মানুষের ভালো করব। সেই শপথ এখন গলার ফাঁস হয়ে চেপে বসেছে।

অল্প সময়ের মাঝে জীবনকে এত বেশী চিনে ফেলেছি যে, সব কিছুর উপর একটা অশ্রদ্ধা চলে এসেছে।

মৃত্যু দেখেছি, শোক দেখেছি, নতুন জন্মের আনন্দ উল্লাস দেখেছি; বিভিন্ন রকম মানুষের কান্না দেখে চিনতে শিখেছি কোনটা সত্যিকারের অশ্রু, আর কোনটা ডাক্তারের ভিজিটের টাকা না দিয়ে মেয়ের ঘৃণ্য যৌতুকের জন্য গয়না গড়ার অজুহাত!



বেঈমানদের চিনতে শিখেছি; অনেক সহকর্মীর,"প্লীজ আমাকে কিছু ডিঊটি যোগাড় করে দাওনা!" শুনে ক্লিনিক ডিউটি যোগাড় করে দিয়েছি, এদের অনেকেই শেষ পর্যন্ত আমার ডিউটিই খেয়ে বসেছে! ওসব পরজীবীরা রোগীর সাথে যাচ্ছেতাই ব্যবহার করলেও, ক্লিনিকের ডিরেক্টরদের সামনে 'মধুর চাক' বনে যায়!

এর মাঝে একজন আবার নাকি এক ডিরেক্টরের সাথে শুচ্ছেন সর্দারনী হওয়ার আশায় (সংগত কারনেই নাম প্রকাশ করছি না)।



রোগীর প্রতি মায়া থাকলেও কতগুলো রোগীর হারামি টাইপের কিছু আত্মীয়ের মুখোমুখি হওয়ার দুর্ভাগ্য আমার হয়েছে; এর মাঝে সবচেয়ে ক্ল্যাসিক এক হারামি রোগী নাইট ডিউটি করা কালীন সময়ে (তার ঘুম না আসায় আমাকে থ্রেড দিয়েছিল এই বলে যে ''ডাক্তার, তারাতারি আমার ঘুমানোর ব্যবস্থা করেন, নইলে আপনি মহিলা মানুষ, খারাপ কিছু করে ফেলব!'' ) এসব দুই পয়সা ওয়ালা অশিক্ষিত নব্য বড়লোক ডিউটি ডাক্তারকে হোটেল বয় মনে করে, আর মহিলা ডাক্তারদের মনে করে পতিতা।



এসব ক্ষেত্রে আমাদের কনসালটেন্ট স্যার/ ম্যাম'রা ও কম যাননা!

প্রচুর পড়াশোনা ও কঠোর পরিশ্রমের বদলে উনারা এখন দুই হাতে+ পায়ে টাকা কামাচ্ছেন; সেই জ্ঞানের জোরে রোগী একটাকে ক্লিনিকে এনে ফেলতে পারলেই হল!

এর পর উনাদের বেশীরভাগ কে আর ফোনে পাওয়া যায়না। রোগীর দেখভাল করি আমরা, ঘন্টায় ২০-১০০ টাকা দরের এমবিবিএস ডিউটি ডাক্তাররা, এবং নার্সরা।

নামে ডাক্তার হলেও আমাদের কাছ থেকে আশা করা হয় ওয়ার্ড বয়দের কাজ; রোগীর বেডে প্রশ্রাব কেন? রোগীর কাপড় সকাল থেকে পাল্টানো হয়নি কেন? বাথরুমের দরজা ভাঙা কেন?! ভাব দেখে মনে হয় আমরা ওয়ার্ড মাস্টার কাম মাসি কাম টেলিফোন অপারেটরের কাজ করে একেবারে লাখ লাখ টাকা কামিয়ে ফেলছি!

এরপর কোন মহান কনসাল্টেন্টের সিডিউল যদিও বা পাওয়া যায়, উনারা যথাসময়ে আসেন না, এবং রোগীর পার্টির তোপের মুখে পড়তে হয় ডিউটি ডাক্তারকে।



যখন কনসাল্টেন্ট এসে হাজির হন তখন এক মুহূর্ত দাঁড়াতেও তাদের আপত্তি,ফাইল/ স্টেথোস্কোপ নিয়ে ছুটোছুটি করে ডিউটি ডাক্তার ও নার্সদের নাভিশ্বাস উঠে যায়।

৭-৯ ঘন্টার প্রতি শিফটে গাধার খাটুনি খেটে মাস শেষে যখন অনেক ক্লিনিক বলে বেতন দেয়ার টাকা নেই তখন নিজের পেশার উপর ঘৃণা আসে, নিজের অসহায়ত্বের উপর ঘৃণা আসে!



এই ভোগান্তির জন্যই কি সারাটি জীবন এত কষ্ট করেছি?

এই দেশ, সমাজ ও মানুষের কাছে আসলেই বোধহয় আমার কোন দায়বদ্ধতা নেই!

সবাই দেশটাকে লুটেপুটে খাচ্ছে, আমিই বা ব্যতিক্রম হই কেন?

আমি যীশুখ্রিষ্ট নই, মাদার টেরেসা নই; আমি এক সাধারন হতভাগা বাংলাদেশি যার নুন আনতে পানতা ফুরায়।

তাই নিঃস্বার্থ মানবসেবা আর নয়, আমার বাকি জীবনটা আমি নিজের আখের গোছানোর কাজে নিয়োজিত থাকব, কারণ আর সবাইতো তাই করছে!

মন্তব্য ২ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১:৫৯

এ যুগের শ্রীকান্ত বলেছেন: হয়তো একদিনে হবেনা, কিন্তু একদিন না একদিন হবেই
এই বিশ্বাসটা ধরে রাখুন প্লীজ।
দিন বদলাতে বাধ্য

২| ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ২:১৪

পাহাড়ী নদী বলেছেন: এ যুগের শ্রীকান্ত বলেছেন: হয়তো একদিনে হবেনা, কিন্তু একদিন না একদিন হবেই
এই বিশ্বাসটা ধরে রাখুন প্লীজ।
দিন বদলাতে বাধ্য...

সহমত!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.