| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রেড ব্লেডস্
হয়তো একদিনে হবেনা, কিন্তু একদিন না একদিন হবেই!
বর্তমানে আমি সি পি আর ( Cardio Pulomanry Resuscitation) এর ওপর ছোট্ট একটি কোর্স করছি । খুব একটা ইচ্ছা ছিলোনা, কিন্তু এক বন্ধু নিজে কোর্সটা করার জন্য টাকা জমা দিয়ে ঢাকা থেকে আর আসতে না পারায় তার বদলে আমাকে সিট টা দিয়ে দিল ।
স্যাররা বেশ আন্তরিকভাবে ক্লাস নিলেও, বাংলাদেশের বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে এই মুখে-মুখ লাগিয়ে শ্বাস দিয়ে মানুষ বাঁচানোর বিদ্যার উপযোগিতা নিয়ে আমার বিশাল সন্দেহ আছে ! হাসপাতালের পরিবেশে ব্যাগ-মাস্ক থাকলে হয়তো আশা আছে, কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে আসলে এর প্রয়োগ কতোটুকু ?
মনে করুন রাস্তাঘাটে ধাম করে অচেনা একটা লোক আপনার সামনে পড়ে গেল। আশেপাশে লোকবল থাকলে হয়তো আপনি 'আরে আরে,একী হল ? " বলে চিৎকার দিয়ে তার হাত পা ধরে টানাটানি শুরু করবেন , এবং ঘণ্টা খানেক এ ও বেচারাকে নিয়ে টানাটানি করার পর 'পৃথিবী বদলাতে দৃঢ় পরিকর' কোন উদীয়মান তরুণ তাকে টেনে হিঁচড়ে ট্যাক্সিতে তুলে সরকারি মেডিক্যালে নিয়ে যাবেন !
আপনি যদি বড় মাপের ডাক্তার হন , তাহলে একদম বাস্তব কথা হল - পথে পড়ে থাকা লোকটার দিকে আপনি ফিরেও তাকাবেন না, কারণ বাংলাদেশের ডাক্তারদের এত ভয়াবহ মানসিক ও আর্থিক চাপে থাকতে হয় যে শিডিউল রোগীর বাইরে 'লস ফ্যাক্টর ' নি য়ে চিন্তা করার সময় তাদের নেই !
যদি আপনি ইন্টার্ন ডাক্তার হন- তাহলে অন্য কথা : তখন পুরো পৃথিবীর প্রতি আপনার গর্ভজাত সন্তানের মত মায়া , যেহেতু মনটা তখনো পচে যায়নি , তাই আপনি তাকে বাঁচাবার চেষ্টা করবেন।
(অবশ্য যদি নির্জন কোন এলাকায় লোকটিকে পান, তো সোজা আল্লাহর নাম নিয়ে জোরে হেঁটে পালাবেন - যেহেতু লোকটির ছিনতাইকারী হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা !!! আপনি বাঁচলে ডাক্তারি !)
তো , বাঁচাতে চাইলে - হাসপাতালে নেওয়ার আগে আপনার এই মানুষটিকে সি পি আর দিতে হবে ।
সি পি আর এর প্রথম ধাপ হল সাবজেক্ট এর ( বেহুশ হওয়া মানুষটির ) কোন সারা শব্দ আছে কিনা, তা পরীক্ষা করা ।
করলেন।
দ্বিতীয় ধাপ - 911 এ কল করে ইমারজেন্সি মেডিক্যাল সার্ভিস ডাকা ...!!!! ![]()
কীঈঈঈঈ ? ইমারজেন্সি মেডিক্যাল সার্ভিস ? ইবে খায় না ফিন্দে ( এটা খায়, না পরে ) ????
আমাদের দেশে না আছে 911 এর মত কোন লাইন, না আছে ইমারজেন্সি মেডিক্যাল সার্ভিস এ্যাম্বুলেন্স !!!
আমেরিকার পথে পথে অক্সিজেন ট্যাঙ্ক, ডিফিব্রিলেটর এই সেই বহন করা যেই গাড়ি প্রতিদিন ৫- ৬ বার করে দেখেছি , আমাদের ডাক্তারদের মা- বাপ শ্বাস আটকে মরে গেলেও আমরা সে গাড়ির সুবিধা যোগার করতে পারবোনা ! চেনা হাসপাতালে ফোন করলেও তাদের গাড়ির দুই মাইল আসতে লাগে ৩ ঘণ্টা !
তাহলে আপনি এর বদলে যে কাজ করতে পারেন, তা হল - সাবজেক্টের বুকে চাপ (compression) দেওয়ার জন্য তার কাপড় খুলে ফেলতে পারেন ...
সিরিয়াসলি ????
চেষ্টা করে দেখুন তো না খেয়ে জিরো ফিগার বানিয়ে মার্কেট ঘুরে বেড়ানোর সময় অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়া কোন শুটকি সুন্দরির বুকের কাপড় খুলতে ! জনগন পিটিয়ে তক্তা বানিয়ে দেবে !
আর আমাদের ক্লাসে শিখিয়েছে তাদের ব্রা পর্যন্ত খুলে / কেটে ফেলতে !!!! আরঘ!!!
যান, নাহয় কাপড়ের ওপর দিয়েই চাপ দিলাম ? নোপ ! চাপ দেওয়া যাবেনা ! Chest compression is out of question !!! ![]()
দ্বিতীয় ধাপ - মুখে মুখ লাগিয়ে শ্বাস দেওয়া ।
কীভাবে সম্ভব??????
একটা ছেলে একটা মেয়ের মুখে মুখ লাগিয়ে শ্বাস দিলে গণধোলাই খাবে!
একটা ছেলে আরেকটা ছেলের মুখে মুখ লাগিয়ে শ্বাস দিলে গে ট্যাগ খাবে, হাল্কা ধোলাইয়ের সম্ভাবনা !
একটা মেয়ে একটা ছেলেকে কখনই মুখে মুখ লাগিয়ে শ্বাস দিয়ে বাঁচাবে না ! বাজে মেয়ের খেতাব তো জুটবেই, তার ওপর তার নিজের নিরাপত্তার প্রশ্ন !
একটা মেয়ে যদি আরেকটা মেয়ের মুখে মুখ লাগিয়ে শ্বাস দেয় তো আশেপাশে সিনেমা দেখার জন্য দ্বিগুণ লোক জমে যাবে --> পুরুষেরা হাসি হাসি মুখে এখানে সেখানে চুলকানো শুরু করবে --> কতোগুলো পারভারট পিক / ভিডিও তুলে নেট এ ছেড়ে দেবে !!!
ফলাফল- মহিলা ডাক্তারের ক্যারিয়ারের ওখানেই ইতি !
( এখানকার মানুষের ওরাল হাইজিনের যা দুরবস্থা , আমি তো মরে গেলেও কারো মুখে শ্বাস দেবনা ! ক্লাস এ ডা মি র মুখে মুখ লাগিয়েই আমার বমি চলে এসেছিল !)
আচ্ছা মানলাম - শ্বাস দিলাম না - লাফিয়ে পরের ধাপে চলে গেলাম - ডিফিব্রিলেটর দিয়ে রোগীর হার্টে শক দেওয়া , যেটার জন্য আবারো রোগীর কাপড় খোলা প্রয়োজন !! এইবার ভাগ্য ভালো, কাপড় না খুললেও চলবে , কারণ পুরো বাংলাদেশ ঘুরে কয়টা হাসপাতালে যে এই সামান্য যন্ত্রটা পাওয়া যাবে, তা সন্দেহের বিষয় ! পেলেও তারা হাসপাতালের বাইরে ওটা আনতে দেবেনা !
শেষ ধাপ হল - প্যারামেডিক্স এর গাড়ি চলে আসার আগ পর্যন্ত উপরোক্ত ধাপগুলো চালিয়ে যাওয়া
উন্নত একটা দেশে ওই গাড়ি এসে পৌঁছাতে গড়ে ১৫ মিনিটের মত লাগে, বাংলাদেশে ওই গাড়িই নেই !!! কাজেই সি পি আর দেওয়ার চেষ্টা মানেই বেহুদা সময় নষ্ট করা !
### বাংলাদেশে মানুষ বাঁচানোর একমাত্র উপায় হল চেনা কোন হাসপাতালে ফোন করে গলাকাটা দামে এ্যাম্বুলেন্স ডাকিয়ে তা এসে পৌঁছা্নোর জন্য ৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করা, বা মৃতপ্রায় লোকটিকে ছেঁচড়ে কোন বেবিট্যাক্সিতে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া !!!
**********************
তাহলে এই বিদ্যা শিখে আমার কী লাভ হল ?
১) যেহেতু আমার দোস্ত ক্লাসের ফী দিয়ে দিয়েছে, তাই আমি মাগনা কয়েকটা ক্লাস করে উন্নত দেশের উন্নত চিকিৎসা ব্যাবস্থার কতোগুলো ভিডিও দেখলাম আর আহা উহু করলাম ।
২) ক্লাসে কলা এবং স্যান্ডউইচ ফ্রী খাওয়ানো হয়েছিল । নিজে রোজা রেখে খেতে না পারলেও অন্যদের খাওয়া দেখলাম ।
৩) বাংলাদেশীয় মূল্যহীন অমুল্য সার্টিফিকেট এর তালিকায় ( যা দিয়ে বিশ্বের উন্নত কোন দেশে দুই পয়সাও পাত্তা পাওয়া যায়না ) আরেকটি কাগজ যুক্ত হল।
মন্দ কী ???
ফেসবুক লিংক
২|
৩০ শে জুলাই, ২০১৩ সকাল ৭:০০
কস্কি বলেছেন: খিক্সজ .......……………………………
কিন্তু ……………………
!
©somewhere in net ltd.
১|
৩০ শে জুলাই, ২০১৩ রাত ১২:০১
পাহাড়ী নদী বলেছেন: হা হা ম গে