নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সেলুলয়েডে খুঁজে ফিরি জীবনকে ।

এক চিলতে কাগজের কবিতা আজকাল আমায় খুব টানে, মধ্যাকর্ষণের চেয়েও বেশি সেই আকর্ষণ যা লুকিয়ে ছিল হৃদয়ের গহীনে ।

ইমু আনোয়ার

ধুলোমাখা পথে হাঁটতে গিয়ে হারিয়ে যাওয়া বালকের গুনগুন সুরে বিমোহিত বোহেমিয়ান......

ইমু আনোয়ার › বিস্তারিত পোস্টঃ

K-19: The Widowmaker (2002) রোমাঞ্চ, সংশয়, ত্যাগ ও সৈনিক আদর্শে বলীয়ান এক অপূর্ব চলচ্চিত্র ।

২৪ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ১:৫২





K-19: The Widowmaker নামের মধ্যেই কেমন জানি একটা অন্ধকার-অমঙ্গল ধরনের ভাব আছে । আসলে আমার প্রিয় একজন অভিনেতা লিয়াম নিসন আছেন দেখে বেশি কিছু না ভেবেই দেখলাম এবং ভালো লাগার সাথে সামান্য অসঙ্গতির মিশ্রণে উপভোগ করলাম । সত্য কিছু ঘটনার উপর ভিত্তি করে নির্মিত এই সিনেমাটা বাস্তবিক অর্থেই পৃথিবীতে রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং আন্ত:দেশীয় সংঘাতের চিত্র কিছুটা হলেও তুলে ধরতে পেরেছে বলে আমার মনে হয় ।



১৯৬১ সাল । আমেরিকা এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন দুই মহারথীর কব্জায়ই আছে গোটা দুনিয়াটাকে কয়েকবার ধ্বংস করার মত নিউক্লিয়ার অস্ত্র এবং এই ব্যাপারে একজন আরেকজনকে ছাড়িয়ে যাবার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত । জন ফিজগারাল্ড কেনেডি মস্কো ও লেনিনগ্রাদের সমুদ্রসীমায় নিউক্লিয়ার সাবমেরিন প্রেরণ করেন । এই হুমকির জবাবেই সোভিয়েত রাশিয়া পরীক্ষামূলক ভাবে মিসাইল উৎক্ষেপণের জন্য তৈরি করে সাবমেরিন K-19 । ব্যাজের ভারে ফুলে থাকা পকেটের জেনারেলদের নির্দেশে তড়িঘড়ি করে কিছুটা অসম্পূর্ণ অবস্থায়ই সাগরে যাত্রা করে K-19 .







নির্মাণ কাজের শুরু থেকে বিভিন্ন সময়ে মৃত্যু বরণ করা দশ শ্রমিক , যাত্রার আগে সাবমেরিনের মেডিকেল অফিসারের মৃত্যু , উদ্বোধনী যাত্রায় K-19 এর গায়ে ছুঁড়ে মারা শ্যাম্পেনের বোতল অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসা ( কোন শুভ কাজের আগে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যেমন এক আছাড়ে নারকেল ভাঙেন ) এগুলোই বোধহয় একে Widowmaker বলার কারণ , যে কিনা শুধু স্বজনহারা করতেই জানেনা বরং অভিশপ্তও ।



K-19 এর নির্মাণ কাজের শুরু থেকে এর ক্যাপ্টেনের দায়িত্বে ছিলেন মিখাইল পোলেনিয়েন (লিয়াম নিসন) । কিন্তু তাড়াহুড়ো করে কোনমতে নির্মাণকাজ শেষ করে অপ্রতুল উপকরণ নিয়ে সাগরে ডুব দেবার পরিকল্পনায় একমত হতে পারেননি বলে ক্যাপ্টেন পোলেনিয়েনকে এক্সিকিউটিভ অফিসার পদে নামিয়ে তার জায়গায় নিযুক্ত করা হয় ক্যাপ্টেন অ্যালেক্সি ভস্ত্রিকভকে (হ্যারিসন ফোর্ড) । ধারণা করা হয় ক্যাপটেন ভস্ত্রিকভের স্ত্রী সোভিয়েত পলিটব্যুরোর একজন প্রভাবশালী সদস্যের ভাইঝি হবার কারণেই ভস্ত্রিকভ সোভিয়েত রাশিয়ার সবচেয়ে ব্যায়বহুল ডুবোজাহাজের দায়িত্ব লাভ করেন । ভস্ত্রিকভ আর পোলেনিয়েন এর ক্ষেত্রবিশেষে দন্দ্ব , অতল সমুদ্রের গহীনে হঠাৎই ঘটে যাওয়া বিপদসঙ্কুল পরিস্থিতি , সৈনিক আদর্শের সুকঠিন ভিত্তি আর ত্যাগের নিদর্শনে উজ্জ্বল K-19: The Widowmaker .







সিনেমাটায় প্রচুর থ্রিল এবং সাসপেন্স রয়েছে যা মন ভরে উপভোগ করা যায় । প্রায় অর্ধমাইল সমুদ্রগর্ভে চারপাশ থেকে বিপুল জলরাশির চাপে সাবমেরিনের ধাতব শরীর কুঁকড়ে যাওয়ার শব্দ , ভীম গতিতে পুরু বরফের স্তর ভেঙে সমুদ্রপৃষ্ঠে ভেসে ওঠা , তেজস্ক্রিয় রিঅ্যাক্টর রুমে রেডিয়েশন স্যুট ছাড়াই জীবনবাজি রেখে কাজ করা , অঘোষিত কবরে চলাফেরায় ক্রুদের আবার নীল আকাশ - চাঁদসূর্য - সবুজগাছ - প্রিয় মানুষটির মুখ দেখতে পাওয়ার আশা এসব অন্যরকম শিহরণ সৃষ্টি করে । এছাড়া নিজদেশের বুকে নিশ্চিন্ত মনে চলে ফিরে বেড়ানো সাধারণ জনমানুষদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে শত্রুদেশের ডেস্ট্রয়ারের থাবার আওতা থেকে সরে গিয়ে আলো বাতাসহীন অন্ধকার জলে ডুবে যাওয়া , নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও দাঁতে দাঁত কামড়ে অবিচল থাকা , বিপদের মেঘ কেটে শান্তির সন্ধান এসবই কখনো পেশী ঢিল বা টানটান করে তোলে ।



সিনেমার কয়েক জায়গায় আমার একটু খুঁতখুঁতানি থেকেই গেল । যদি স্মরণে না থাকে তবে তবে মাঝে মাঝেই খেই হারিয়ে ভুলে মনে হতে পারে সোভিয়েত আবহে নির্মিত নয় বরং এটা আমেরিকান মুভি । তবে এই খুঁতখুঁতানি অবশ্য বেশিক্ষণ থাকেনা । অন্যদিকে মুভির শেষ পর্যায়ে যখন K-19 আমেরিকান ডেস্ট্রয়ারের মুখোমুখি হয় তখন শুধু দুই-একবার হেলিকপ্টার পাঠানো পর্যন্তই আমেরিকানদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকে , এই বিষয়টাতে আমেরিকা ও সোভিয়েত রাশিয়ার সম্পর্কটা সামনে রেখে আরেকটু তুলি বোলালে মনেহয় আরো ভাল হত ।



মুভির কাস্ট নিয়ে বলার কিছুই নেই । লিয়াম নিসন আর হ্যারিসন ফোর্ডের মতো অভিনেতার উপস্থিতি নি:সন্দেহে অলংকৃত করেছে সিনেমাটাকে । এরা দুজন মুভির প্রধান চরিত্রে থাকলেও আরো যেসব কুশীলব ছিলেন সবাই অত্যন্ত ভাল পারফর্মেন্স দেখিয়েছেন । এক্ষেত্রে নবীন রিঅ্যাক্টর অফিসার চরিত্রে পিটার স্কার্সগার্ডের অভিনয় উল্লেখ করার মত ।







মুভিটা সম্পর্কে অদ্ভুত কিছু বিষয় জানতে পারলাম যেমন শুরুতে কোন বড় স্টুডিয়োই এই সিনেমার অর্থায়ন করতে চায়নি । ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সিনেমাটির একটি বড় অংশের ইনভেস্টর । এই সিনেমার পরিচালক অস্কারজয়ী ক্যাথরিন বিগেলো (দ্য হার্ট লকার) অনেক কষ্ট করে প্রযোজক জোগাড় করেছেন । অসাধারণ ডিরেকশন দিয়েছেন তিনি । মুভিটার জলে ডুবন্ত দৃশ্য বেশি পরিমাণে না দেখিয়েও একটা নেভাল মুভিকে আকর্ষণীয় কি করে করতে হয় তা ভালভাবেই দেখিয়েছেন বিগেলো । মুভির মিউজিক (কয়েক জায়গায় স্থবির বলে মনে হয়েছে) , লাইটিং , স্ক্রীণপ্লে জাস্ট ফ্যানটাস্টিক । IMDb এর আন্ডাররেটেড মুভিগুলোর মাঝে অন্যতম একটি মুভি K-19: The Widowmaker (6.6) . আমার মনেহয় 7.9 দিলে অতিরঞ্জিত কিছু হবেনা । ২০০২ সালে মুক্তি প্রাপ্ত ১৩৮ মিনিট দৈর্ঘ্যের অপূর্ব এক থ্রিলার K-19: The Widowmaker .



ডাউনলোড লিংক



(পূর্বে ফেসবুকে সিনেমাখোর গ্রুপে প্রকাশিত)

মন্তব্য ১০ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (১০) মন্তব্য লিখুন

১| ২৪ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ১০:২৪

কাউসার রুশো বলেছেন: চমৎকার লিখেছেন।
+++
সিনেমাটা ওয়াচলিস্টে নিলাম। দেখে এসে মন্তব্য করবো আবার।
আর আপনাকেও অনুসরণে রাখলাম
শুভকামনা :)

২৫ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ১:২০

ইমু আনোয়ার বলেছেন: ভাই কি যে খুশি লাগছে আমার বলে বোঝাতে পারবনা । আপনার লেখা পড়ে বেশ কিছু সিনেমা দেখেছি আমি । সামহোয়্যারের অন্য আরো লেখার সাথে সাথে সব সিনেমাখোরদের লেখা খুব আগ্রহ নিয়ে পড়ি আমি । এই পড়া থেকেই আগ্রহ জাগল আপনাদের সাথে একই ক্যানভাসে লেখার । অনুপ্রেরণা পেলাম আপনার মন্তব্যে । শুভকামনার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ ।

২| ২৫ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ২:৩২

বোকামন বলেছেন:








“মুভিটার জলে ডুবন্ত দৃশ্য বেশি পরিমাণে না দেখিয়েও একটা নেভাল মুভিকে আকর্ষণীয় কি করে করতে হয় তা ভালভাবেই দেখিয়েছেন বিগেলো”

A Good Review.......
শুভকামনা

অনুসরণে থাকলেন

২৫ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ২:৩৫

ইমু আনোয়ার বলেছেন: অনুপ্রেরণায় মাখা মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ ।

৩| ২৬ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ১:৪৯

আহমেদ আলাউদ্দিন বলেছেন:
আজ দাগিয়ে গেলাম! পরে এসে পড়ে যাবো।

২৬ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ১:৫৯

ইমু আনোয়ার বলেছেন: আপনার অপেক্ষায় থাকলাম ।

৪| ২৬ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ২:০৮

মহামহোপাধ্যায় বলেছেন: ম্যুভিটা দেখি নাই দেখার আগ্রহ জাগল। রিভিউ চমৎকার হয়েছে। লিখে যান। হ্যাপি ব্লগিং :)

২৬ শে মার্চ, ২০১৩ ভোর ৬:২৭

ইমু আনোয়ার বলেছেন: মুভিটা দেখার আগ্রহ জাগাতে পেরে খুশি লাগছে । ধন্যবাদ ।

৫| ২৭ শে মার্চ, ২০১৩ ভোর ৪:১৩

আহমেদ আলাউদ্দিন বলেছেন:
না! এই ছবি না দেখলে হবে না! দেখতেই হবে! আপনি যেভাবে রিভিউ লিখেছেন তাতে না দেখলে অন্যায় হবে।

২৮ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ১:২৭

ইমু আনোয়ার বলেছেন: দেখে ফেলুন । মুভিটা দেখার পর অনুভব করবেন ১৩৮ মিনিট সার্থক কি না । আর অবশ্যই আপনার কেমন লাগল জানার ইচ্ছা রইল ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.