নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সেলুলয়েডে খুঁজে ফিরি জীবনকে ।

এক চিলতে কাগজের কবিতা আজকাল আমায় খুব টানে, মধ্যাকর্ষণের চেয়েও বেশি সেই আকর্ষণ যা লুকিয়ে ছিল হৃদয়ের গহীনে ।

ইমু আনোয়ার

ধুলোমাখা পথে হাঁটতে গিয়ে হারিয়ে যাওয়া বালকের গুনগুন সুরে বিমোহিত বোহেমিয়ান......

ইমু আনোয়ার › বিস্তারিত পোস্টঃ

The English Patient (1996): ভালবাসা, নিয়তি, ভুল বোঝাবুঝি র সময়ে শুকিয়ে যাওয়া ক্ষতের গল্প

২১ শে জুলাই, ২০১৩ রাত ৩:৩৮





ভালোবাসা কেমন বলতে পারবেন ? আমি জানি অনেকেই বলতে পারবেন । তবে সেটা হবে অন্ধের হাতি দেখার মত । মানে সবাই যার যার অনুভূতি থেকে বলবেন নিজের মত করেই । এ হল এমন এক বিষয় যা শুধু অনুভব করা যায় । চাপা নিঃশ্বাসে কিছুক্ষণ দিবাস্বপ্নে কল্পনার রাজ্যে হারিয়ে যাওয়া । এই অনুভবের ভালোবাসা প্রকাশ পায় এক ঝলক চাহনিতে, দুটো মিষ্টি কথায়, আন্তরিকতায়, কখনো ক্রোধে, কখনো দূরত্বে আবার কখনো সেলুলয়েডেও । The English Patient এমনই এক সেলুলয়েড যা দেখার পর চোখ বন্ধ করে হেলান দিয়ে ভাববেন, অনুভব করবেন চোখের সামনে দিয়ে বয়ে যাওয়া ১৫৫ মিনিটকে ।



মুভির জেনর ড্রামা,রোমান্স,ওয়ার । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিতে মরুভূমির তপ্ত বালুকণায় কাঁটাময় ক্যাকটাসের মত জন্ম নেয়া অবৈধ এক ভালোবাসার গল্প The English Patient আসলেও আগে গল্প হয়েই এসেছিল । ১৯৯২ সালে শ্রীলংকান বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান লেখক Michael Ondaajte একই নামে লিখেছিলেন বিখ্যাত উপন্যাসটি । যার বদৌলতে পেয়েছিলেন বুকার পুরষ্কার । এই উপন্যাসের ওপর ভর করে তৈরি হয় The English Patient সিনেমা যা বইটির মতই আলোর কেন্দ্রবিন্দুতেই ছিল । হয়তোবা দর্শকদের মনের কেন্দ্রবিন্দুতেও রয়ে গেছে এখনো ।



Story Line : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ রয়্যাল জিওগ্রাফিক্যাল সোসাইটির পক্ষে সাহারা মরুভূমিতে মানচিত্র আঁকায় নিয়োজিত এক হাঙ্গেরিয়ান কাউন্ট Lászlo de Almásyকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে এক বেদুইন কাফেলা । পৌঁছে দেয় ফরাসি কানাডিয়ান নার্সের হাতে । নার্সের মরফিন আর পোড়াচামড়ার ব্যাথা ছাপিয়ে সে স্মৃতিচারণ করে নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া অসাধারণ এক প্রেমের গল্প ।



মমতাময়ী এক সেবিকা, এক ডাবল এজেন্ট চোর, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ভারতীয় এক শিখ, প্রতারিত এক ব্যারন ও তার লাস্যময়ী স্ত্রী এবং এই স্মৃতিচারণকারী ইংলিশ পেশেন্ট এই ছয়টি মূল চরিত্রের মিশেলে মুভিটা এগিয়েছে অনেকগুলো ফ্ল্যাশব্যাক ও কিছু নন-লিনিয়ার ইভেন্টের মাধ্যমে । যার ছোঁয়ায় সিনেমাটা হয়ে উঠেছে অনবদ্য এক চলচ্চিত্র ।



সিনেমাটা একটা প্রেমের সম্পর্ক ও তার পরিণতির গল্প হলেও আগেই বলেছি এটা শুধু রোমান্টিক জেনরের ভেতর পড়েনা । ড্রামা ? হ্যাঁ ড্রামাটিক একটা সাসপেন্সফুল পরিবেশ অবশ্যই আপনার চারপাশটায় বিরাজ করবে সিনেমাটা দেখার সময় । ওয়ার বা যুদ্ধ ? যুদ্ধ মানেইতো গুপ্তচরবৃত্তি, রক্ত, আত্মাহুতি আর বিশ্বাসঘাতকতার গল্প । মুভিটা দেখার সাথে সাথে মরুভূমির বালুকণার রন্ধ্রে রন্ধ্রে আবিষ্কার করবেন শত্রুকে খতম করার যত জঘন্য উপায় । Everything is fair in love and war. প্রচলিত এই কথাটার মর্মার্থ শতভাগ অনুধাবন করেছি এই মুভিতে । তবে আরেকটা জেনর বোধহয় তৈরি করা যায় এই সিনেমার ক্ষেত্রে । Humanism. হ্যাঁ, মানব প্রেমের অসাধারণ এক নিদর্শন পাবেন ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের মত ঐ নার্সের কাজে ও কথায় । শেষ করার পর কদিনের জন্য ভাবাবে আপনাকে যে এই সিনেমা, আমি তাতে সন্দেহহীন । এই অসামান্য চলচ্চিত্রটি দেখতে কোনদিক দিয়ে যে কার একটা ভাবুক মন উদয় হবে বলতেও পারবেনা কেউ ।



র‍্যালফ ফিনেস, ক্রিস্টিন স্কট থমাস, জুলিয়েট বিনোশে, কলিন ফার্থ ও উইলেম ডেফো । কাস্টিংয়ে কোথাও কোন ঘাটতি চোখে পড়বেনা, দুই ফরাসী নারী অতুলনীয় ছিলেন মুভিটায় বিশেষ করে নার্সের রোলে জুলিয়েট বিনোশের কথা বলতেই হবে । ফার্থ ও ফিনেস দুইজনই প্লটের সাথে পুরোপুরি ব্লেন্ডেড । বোমা নিষ্ক্রিয়কারীর রোলে ভারতীয় শিখ নবীন অ্যান্ড্রুসের কাজ দেখে মোহিত হয়েছি ।



প্রচুর নমিনেশন আর পুরষ্কার জুটেছে আর সমালোচকদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে The English Patient.



৬৯তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডে ১২টি বিভাগে নমিনেশন পায় এই মুভিটি । অস্কার জেতে নিচের ৯ টি বিভাগে ।



*****

Best Picture,

Best Director: (অ্যান্থনি মিঙ্গেলা),

Best Actress In A Supporting Role: (জুলিয়েট বিনোশে),

Best Cinematography,

Best Costume Design,

Best Film Editing,

Best Original Score (গ্যাব্রিয়েল ইয়ের্ড),

Best Sound,

Best Art Direction-Set Decoration,



*****

৫৪তম গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডে পায়



Best Picture (Drama) ও

Best Original Score এর সম্মান ।



*****

১৯৯৭ সালের BAFTA থেকে অর্জন করে

Best Picture,

Best Cinematography,

Best Editing,

Best Actress In A Supporting Role: (জুলিয়েট বিনোশে),

Best Screenplay (Adapted)

Best Music (Gabriel Yared) এই ছয়টি পুরষ্কার !



তো দেখবেন না এই অসাধারণ মুভি ? যারা দেখেননি এখনো আমি মনে করি তাদের অবশ্যই অবশ্যই দেখা উচিত । ভাবাবেগে মোড়ানো, সাহারা মরুভূমির কোণে সূর্যটা নামার শেষবেলায় একটা বিশাল প্রশ্নের জন্ম দিয়ে শেষ হবে অসাধারণ এই চলচ্চিত্রের । যে প্রশ্নটার উত্তর খুঁজে বেড়াবেন আপনমনেই ।

__________________________________

Details:



IMDb: 7.3

Rotten Tomatoes: 84% Fresh



ডাউনলোড লিংক

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.