নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

রওনক সম্প্রীতি

রওনক সম্প্রীতি › বিস্তারিত পোস্টঃ

পার্বত্য চট্টোগ্রাম শান্তি চুক্তির ১৭ বছর : কেমন আছে বাংলাদেশের আদিবাসীরা ।

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৪৩

পার্বত্য চট্টোগ্রাম শান্তি চুক্তির ১৭ বছর : কেমন আছে বাংলাদেশের আদিবাসীরা ।

পাহাড় মানেই মনোরম পরিবেশ , আদিবাসি নারীদের সারিবদ্ধ নাচের চোখ জুড়োনো দৃশ্য নয় তা আদিবাসি অধিকার সংস্লিষ্ট আমার পূর্ববর্তী লেখাগুলোতে আগেই বলছি । এসবের আড়ালে লুকিয়ে আছে একটি জনগোষ্ঠির প্রতি বহুবছর ধরে চলে আসা নির্যাতনের কাহিনী, লুকিয়ে আছে কল্পনা চাকমা, চিলেশ রিছিলদের মর্মান্তিক পরিনতির চিত্র( রাষ্ট্র দেখেও কার্যত নীরব থেকেছে , লালন করেছে এই সব কালো রাত্রির নেপথ্য নায়কদের)।
বাংলাদেশের স্থায়ী সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি হলো পার্বত্য চট্টোগ্রাম সমস্যা । কেননা , সারা বছরই কোন না কোন দুসংসদ এই অন্চল ঘটে থাকে । কখনো আদিবাসি হত্যা ,কখনো অপহরণ, কখনো ধর্ষণ । সবচেয়ে দু খজনক হলো , এগুলো অনেক বছর ধরে চলে আসছে । আদিবাসিরা যেটাকে মুক্তির সনদ হিসেবে দেখতে চেয়েছিল সেই শান্তি চুক্তি ১৭ বছরেও পুরোপুরি আলোর মুখ দেখেনি । তাই আদিবাসি জনগন আজো মুক্তির ম্বাদ পায়নি । বার বারই সরকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে , শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন একটি দ্বীর্ঘ প্রক্রিয়া , এটি এক দু রাতে হয়ে যাবে না । পাহাড়ী জনগন তাদের নিজস্ব অধিকার (যেগুলো তাদের আপনা আপনিই পাওয়ার কথা) এখনো পায়নি । এখনো মেটেনি ভূমি বিরোধ । বাঙালী আদিবাসী মিলে সেখানে একটি ভয়ানক পরিমন্ডল তৈরি হয়েছে ।পাহাড়ী জনগন চায় তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে বসবাস করতে , পাহাড়ে প্রতিস্থাপিত বাঙালী জনগনও চায় নিজেদের মত করে সেখানে বসবাস করতে । বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনী কর্ৃতক আদিবাসীদের প্রতি নির্াতনের চিত্র দেখা গেছে । নিজেদের ভূখন্ড এ নিজের ভুমি অধিকার নেই , সেই সব ভুমিতে বাঙালীদের প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে , উপরন্তু সেনাবাহিনী হাতে নির্যাতিত হতে হচ্ছে তাদের । কেমন আছেন পাহাড়ী জনগন , কেমন আছে আদিবাসী জনগন যারা আমাদের মত আমাদের বাংলাদেশের ই নাগরিক।
১৯৯৭সালে চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে কিছুব্যতিক্রমী ঘটনা ছাড়া পার্বত্যাঞ্চলে এখনো পাহাড়ি জনগণকে উচ্ছেদকরা হচ্ছে। শুধু তাই-ই নয়,দিন দিন পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে যাচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীও এসব উচ্ছেদের সঙ্গে জড়িত।পার্বত্য ভূমি কমিশন আইন-২০০১ বাস্তবায়িত না হওয়া এর অন্যতম কারণ। সৈয়দ সাজেদা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন এ সংক্রান্ত একটি কমিটিও গঠিত হয়েছিল। পার্বত্যভূমি কমিশনকে সক্রিয় করতে আইনের একটি খসড়াও তৈরি হয়েছিলো। কিন্তু সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্রের একাংশ (লবিস্টগ্রুপ) একে এখন হিমাগারে পাঠিয়েছে। রাজারমতে, উপরন্তুসরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় ১৯৯৭ সালের চুক্তির মূলচেতনার পরিপন্থী কাজ করে চলেছে। এছাড়া শান্তি চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়নে ভারত প্রত্যাগত ও পার্বাঞ্চলের অভ্যন্তরীণ পাহাড়ি শরণার্থী পুনর্বাসন পার্বত্যচট্টগ্রামকে বেসামরিকীকরণ, পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ ওজেলা পরিষদসমূহকে সক্রিয় করা, পাহাড়িদের জন্য ন্যায় বিচার, সুশাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, আঞ্চলিক দলগুলোর ভাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধ–ইত্যাদি বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন । পার্বত্য নাগরিক কমিটিরসভাপতি গৌতম দেওয়ান মতে , সরকারগুলোর সদিচ্ছার অভাবে শান্তিচুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হয়ইনি, উপরন্তু পার্বত্যাঞ্চলে ‘স্থায়ী শান্তি এবং উন্নয়নে পাহাড়িদের অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা’ — এই মূলচেতনাটিই নষ্টকরে ফেলা হয়েছে। একারণে ভূমি কমিশনের পাশাপাশি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটি ও শরণার্থী পুনর্বাসন বিষয়ক টাস্কফোর্স কখনোই পুরোদমে সক্রিয় হয়নি।পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন জেলা পরিষদ নির্বাচন ও দেওয়া হচ্ছে না। ২৪ বছর ধরে তিনটি জেলা পরিষদ পরিচালিত হচ্ছে সরকারগুলোর পছন্দের ব্যক্তি দিয়ে। স্থানীয় এসব প্রতিষ্ঠানে জনপ্রতিনিধিত্ব নেই; জবাবদিহিতা ও নেই। সবমিলিয়ে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের কোনো সুফল পাহাড়ি-বাঙালির ঘরে এখনো পৌঁছেনি। দিনদিন জটিলতর হচ্ছে পার্বত্য সমস্যা।
দৃশ্যতই পাহাড়ি-বাঙালি জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হওয়া সুবাদে ক্রমেই পাহাড়ে এখন বাঙালি ভোটারের সংখ্যা বাড়ছে। এ কারণেই কোন সরকারই শান্তিচুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়ন, তথা এর প্রধান শর্ত ভূমি কমিশনকে সক্রিয় করে সেখানের জায়গা-জমির বিরোধ মেটাতে আগ্রহী নয়। কারণ, এতে ‘ক্ষুব্ধ’ বাঙালি ভোট হারানোর আশংকা আছে; পাহাড়ের প্রধান কর্তৃত্বকারী সংস্থা সেনা বfহিনীও পার্বত্য সমস্যাকে জিইয়ে রাখতে আগ্রহী। কারণ, শান্তিচুক্তির পক্ষে বিপক্ষের পাহাড়িদের অন্তর্দলীয় সশস্ত্র সংঘাতের সুযোগে পার্বত্যাঞ্চলে সেনা উপস্থিতির বৈধতা সৃষ্টি হয়; ‘আদিবাসী’ অভিধা ও সামরিক আমলাতন্ত্রের কারণে সরকারপক্ষ মানতে রাজি নয়। কারণ, জাতিসংঘের সনদ মেনে ‘ বাংলাদেশে আদিবাসী আছে’ স্বীকার করার অর্থ হচ্ছে সক্রিয় সেনা উপস্থিতিতে পাহাড়ে আদিবাসী দের মানবাধিকার লংঘনের কথা স্বীকার করে নেওয়া। সেক্ষেত্র জাতিসংঘ শান্তি মিশন থেকে বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর বাদ পড়ার আশঙ্কা আছে; উপরন্তু সরাসরি জাতিসংঘ শান্তি মিশনের নজরদারির ভেতরে থাকবে — এমন আশংকাও রয়েছে। সব মিলিয়ে শান্তিচুক্তি,তথা পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি দীর্ঘতর শুভঙ্করের ফাঁকিতে পড়েছে।
২রা ডসেম্বর ,২০১৪, এই পাবর্ত্য চট্টো্গ্রাম শান্তি চুক্তির ১৭ বছর পূর্ণ হলো । এই উপলক্ষে সরকার, এবং বিভিন্ন সংগঠন থেকে বানী দেওয়া হয়েছে । উয্যাপন করা হয়েছে দিনটি । কিন্তু, শান্তি চুক্তি এখনো কাগজ বন্দী আছে । এ অবস্থায় কারো শুভ কামনা বা দয়া-দক্ষিণায় নয়, বরং সিঁধু-কানহু-বীরসা মুণ্ডা-এমএন লারমা-কল্পনা চাকমা-আলফ্রেড সরেন-পিরেন স্নাল-চলেশ রিছিলের প্রদর্শিত সংগ্রামী পথই এই অচলাবস্থা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ বলে মনে করেন অনেক আদিবাসি। কারণ, এই শান্তি চুক্তির উপর বিশ্বাস করেই তারা অশ্ত্র জমা দিয়েছিল ( দয়া করে এটা ভাববেন না যে আমি এটা বুঝাতে চেয়েছি যে তাদের অশ্ত্র জমা দেয়া ঠিক হয়নি বা আবার অম্ত্র হাতে তুলে নেয়াটা ঠিক , আলোকপাতের বিষয়টি হলো , তারা তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব তুলে দিয়েছিল রাষ্ট্রের হাতে, শান্তি চুক্তিকে শান্তি ও মুক্তির সনদ ভেবেছিল )। কেমন আছে তারা শান্তিচুক্তির ১৭ বছর পরে? প্রকৃত অর্থে, বাংলাদেশের আদিবাসী জনগন, পাহাড়ী নাকেবোচা জনগোষ্টী শুভংকরের ফাকিতে পড়েছে । আদিবাসী নেতা, সাংবাদিক সস্জিব দ্রংয়ের কিছু কথা দিয়ে শেষ করতে চাই....

"কবে কোন কালে আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজ বলবে, আমি তোমাকে দেখি , দেখছি । এ দেখার মানে কি একজন মানুষকে শুধু চোখ দিয়ে দেখা নাকি এক গভীর মানবিক অর্ন্তদৃষ্টি দিয়ে এতজনকে দেখা ? যারা চোখ থাকতে অন্ধ ,তাদের এ কথা আমি কিভাবে বোঝাব? অ্যাভাটার ছবির নায়ক জ্যাক সুলি তো ওমাতিকায়া আদিবাসী ছিল না , কিন্তা ওমাতিকায়াদের পক্ষে লড়েছিল । এখানে এ ভুমিতেও আমি অনেকে দেখি আদিবাসীদের বেদনায় ব্যথিত হতে , পাশে দাড়াতে । এদের সঙ্গে নিয়েই আমাদের অনেক দূরের কছিন পথ পাড়ি দিতে হবে । "( সুত্র : প্রথম আলো , ৩১ অক্টোবর , ২০১২)



বি: দ্র: পোস্টকৃত লেখাটি দৈনিক সাতকাহনে প্রকাশিত ।


মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:২৪

মৃদুল শ্রাবন বলেছেন: ব্লগে স্বাগতম।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে লিখিত বিষয়টি গুরুত্ব বহন করে। আশা করি পরবর্তীতে আরো লিখবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.