নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

রওনক সম্প্রীতি

রওনক সম্প্রীতি › বিস্তারিত পোস্টঃ

নারী, পুরুষতান্ত্রিকতা ও নারীর প্রতি সহিংসতা

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:০৬

সমাজ, সভ্যভা অনেক আগেই পার করেছে প্রাচীন , মধ্যযুগীয় ভয়াবহতা । মানব সভ্যতা এখন স্বর্ণশিখরে । আর এই স্বর্নারী সভ্যতার মনিকোঠায় বসে আমরা প্রতিনিয়ত সংবাদপত্র, টেলিভিশন তথাপি মিডিয়ার বদৌলতে ইভ টিজিং, হত্যা, ধর্ষন ইত্যাদি বাহারী সহিংসতার খবর পাই। এটা বললে ভুল হবে না যে, সভ্যতার অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে নারীর প্রতি সহিংসতার মাত্রা দ্রুতলয়ে ধাবমান । প্রশ্ন হল, আজকের প্রগতিশীল সমাজে দাড়িয়ে এই বিপরীতমুখী পরিবর্তনের কারন কী হতে পারে । অবশ্যই বিষয়টি ব্যাখার দাবি রাখে ।

নারীদের সুরক্ষায় দেশে নানান আইন থাকলেও সেসব আইন কোনো কাজে আসছে না, নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়েই চলেছে। সব শ্রেণির নারীই কোনো না কোনোভাবে নির্যাতিত হচ্ছেন। দুঃখজনক নিজ ঘরে বা পরিবারে নারী ব্যাপকভাবে নির্যাতিত হচ্ছেন। নির্যাতনকারীর ভূমিকায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরুষকেই দেখা যায়। ঘরেই নারী বাবা, ভাই ও স্বামীর দ্বারা নির্যাতিত হন। ঘরের বাইরে রাস্তাঘাটে, যানবাহনে, কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সর্বত্রই নারী নিরাপত্তাহীন। ধর্ষণ এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা । প্রেমের প্রস্তাবে বা বিয়েতে রাজি না হলে নারীকে ধর্ষণ করা হয় , অ্যাসিড দগ্ধ করা হয়। শিশুরা এই বর্বরতা থেকে রেহায় পাচ্ছে না । মুঠোফোনে ধর্ষণের ছবি তুলে তা শহরময় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অনেক সময় ধর্ষণের পর হত্যাও করা হয়। এইসব ঘটনায় মামলা হলেও বিচারের নজির প্রায়শ সামান্য।

এর পিছনে প্রধান ভুমিকাপালনকারী কারণ হলো পুরুষতান্ত্রিকতা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে বলে কারনটি যে পুরুষতান্ত্রিক তা নয় ।পুরুষতান্ত্রিকতা সমাজের মজ্জায় মজ্জায়, শিরায় রক্তে। এটা মননে মননে ছড়িয়ে পড়েছে । অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে বয়ষ্ক কোন স্বজন কতৃক পরিবারের নারী সদস্য যৌন নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন, অথচ পরিবারের অন্যান্য নারী সদস্যরাই তা বিশ্বাস করতে চাইছেন না । সবক্ষেত্রে নারীকে দোষারাপ করা, নারীকে কলুষিত, চরিত্রহীণ প্রমাণ করার পুরুষতান্ত্রিক প্রবণতা নারীদের মধ্যেই শক্তপোক্তভাবে মিশে গেছে । এই মানসিকতার পরিবর্তন হতে আরো কতটা সময় লাগবে তা নির্ভর করছে, আমরা সমাজজস্থ মানুষগুলো ব্যাপারটিকে এখনো কোন দৃষ্টিভঙ্গিতে নিচ্ছি? আমরা সত্যিই কি পরিবর্তিত হতে চাই ? এই অপরিপক্ক প্রশ্নগুলো আসছে এই কারণেই যে নারীর প্রতি সহিংসতা ঘটে যাওয়ার পর পর কিছুদিন প্রতিবাদের যে ঝড় আসে তা ব্যাপারটা একধরনের বিনোদনে পরিণত হয়েছে ।

বাংলাদেশে স্বামীর দ্বারা কোনো না কোনো নির্যাতনের শিকার হন ৮৭.০৭% নারী। এর মধ্যে ৮১.০৬% মানসিক, ৫৩.০২% অর্থনৈতিক, ৩৬.০৫% যৌণ আর ৬৪.০৬% নারী শারীরিক নির্যাতন ভোগ করেন তথ্যসূত্র:বিবিএস জরিপ-২০১১–মহিলা পরিষদের তথ্যমতে ২০১৩ সালে দেশে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে চার হাজার ৭৭৭ টি–জাতীয় মহিলা আইনজীবীসহ বিভিন্ন সংস্থার দেয়া তথ্য অনুযায়ী গড়ে প্রতিদিন দেশে ৫০টির মতো নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। তথ্যসূত্র: আমার দেশ(অনলাইন), ৮ মার্চ ২০১৪।২০১৩ সালে মোট ৮১২ নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন–২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত ৩০৯ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তথ্যসূত্র:প্রথম আলো ১৩ জুলাই ২০১৪!যদিও নারীরা ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে কর্মক্ষেত্রে যোগ দিচ্ছেন এবং এর সংখ্যা টিও আকর্ষণীয়, সবধরনের কর্মক্ষেত্রেই নারীদের নির্যাতনের স্বীকার হতে দেখা যাচ্ছে ।

নারী নির্যাতন বা নারীরপ্রতি সহিংসতা বন্ধে বাংলাদেশে ১৯৮৫সালের পারিবারিক আদালত, ১৯৯৫সালের নারী ও শিশু নির্যাতন আইন, ২০০০ ও ২০০৩ সালের নারী ও শিশুনির্যাতন দমন আইন, সিটিজেনশীপঅ্যাক্ট-২০০৮, হাইকোর্ট নির্দেশিতযৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা-২০০৮ পাসহয়েছে। এত ধরনেরআইন বা নীতিমালা পাসহওয়া সত্ত্বেও কেন বন্ধহচ্ছে না নারীর প্রতি সহিংসতারঘটনা।

পরিবর্তন একদিন বা একরাতের ব্যাপার নয় । একটি গঠনমূলক পরিবর্তন আপনা আপনি আসবে না । এর জন্য কতিপয় নিরবচ্ছিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন । মোদ্দা কথা গোটা রাষ্ট্রের বৃহত্তর অর্থে সমাজের পরিবর্তন আনা প্রয়োজন । সেই সাথে রাষ্ট্রীয় শক্তির জবাবদিহিতা, দায়বদ্ধতা, সততা বিশেষ ভুমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে। সংশ্লিস্ট আইন গুলোর দুর্বলতা দূরীকরণপূর্বক তা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা, অপরাধের শাস্তির নিশ্চিতয়তা বিধান করা এবং ভুক্ত ভোগীকে নিরাপত্তা প্রদান করা রাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব । কিন্তু , এটা নারীর প্রতি সহিংসতা দুরীকরনে যথেষ্ট নয়। বেসরকারি, সেচ্ছাসেবী প্রতিস্ঠানগুলো এ ক্ষেত্রেজোরালো ভুমিকা রাখতে পারে । পরিবার থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে নারীর মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে । সচেতন মহলগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে । এখনো গ্রামীন অশিক্ষিত পরিবার গুলোতে মেয়ে শিশু জন্ম নেয়াকে ভালো চোখে দেখা হয় না । গর্ভ ধারনের আগেই শিশুটি ছেলে না মেয়ে তা পরীক্ষা করার মানসিকতা তাদের আছে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব তাদের পর্যাপ্ত শিক্ষা দেয়া, সচেতনতা তৈরি করা


বি: দ্র: লেখাটি দৈনিক সাতকাহনে প্রকাশিত ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.