নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

রওনক সম্প্রীতি

রওনক সম্প্রীতি › বিস্তারিত পোস্টঃ

মহান বিজয় দিবসউদযাপন ওমুক্তিযুদ্ধেরঅঙ্গিকার

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:৩৫

স্বাধীনতা দিবস,বিজয়
দিবস উদযাপনের ইতিহাস
খুব বেশী দিনের নয়।
ব্রিটিশদের আধিপত্য
চ্যালেঞ্জ
করে মার্কিনরা প্রথম দীর্ঘ
যুদ্ধের মাধ্যমে জনগণের
রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করল।
সেটা ১৭৭৬ সালের
৪ঠা জুলাই। সেই থেকে শুরু
দিবসগুলো উদযাপন।
স্বাধীনতা এমন এক
শক্তিযাএকটিজাতিকেতার
সর্বোচ্চ
শিখরে পৌঁছে দেয়ার জন্য
অপরিহার্য
সত্ত্বা হিসেবে কাজ করে।
নিজের ভেতরকার অফুরন্ত
সম্ভাবনাকেজাগিয়েতুলতেএর
কোনো বিকল্প নেই।
অপরদিকে,
স্বাধীনতা হীনতায় কেউ
পূর্ণাঙ্গভাবেবেড়েওঠেনা।
বরং সে দুর্বল, হীন এবং পঙ্গু
হয়ে যায়। বিশ্বের
স্বাধীনতাঅর্জনকারীদেশগুলোর
প্রায় সবাই
স্বাধীনতা লাভের ২০-৩০
বছরে মধ্যে অর্থনীতিসহ সকল
ক্ষেত্রে সমৃদ্ধির চরম
শিখরে পৌঁছে গেছে।
ব্যতিক্রম শুধু বাংলাদেশ।
সে আলোচনা একটি পরে করি।
আমাদের জাতীয় জীবনের
সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন স্বদেশভূমির
স্বাধীনতা।
এটি একটি অমূল্য সম্পদ।
যেকোন অমূল্য সম্পদের
সৃষ্টি হয়ে থাকে কোন এক
দুর্লভ মুহূর্তের হাত ধরে। অমর
একুশে ফেব্রুয়ারি সেই এক
দুর্লভ মুহূর্ত। ভাষা আন্দোলই
বাঙালী জাতীর প্রথম সফল
আন্দোলন। এই আন্দোলনের
হাত ধরেই পরাধীনতার
শৃঙ্খল মোচন ও এই
স্বাধীনতার
অভ্যুদয়েবাঙালিজাতিমুক্তির
মহা মন্ত্রে উজ্জীবিত
হয়েধাপেধাপেএগিয়েগেছেস্বাধীনতাও
মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্যে, ৫৪,৬২,৬৬
আর ৬৯-এর রক্তঝরা মহান
গণঅভ্যুত্থানের পথ
পেরিয়ে ৭০-এর ঐতিহাসিক
নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়
সবই বাঙালি জাতির
গৌরবোজ্জ্বল
সংগ্রামী ইতিহাসের
একেকটি মাইলফলক।
অর্থাৎ,ভাষা আন্দোলনই
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি, যার
প্রেক্ষিতে অভূতপূর্ব
রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের
মধ্যদিয়ে পৃথিবীর
মানচিত্রেবাংলাদেশের
পতাকা।
দু:খজনক হলেও সত্য যে,
বাংলাদেশের
স্বাধীনতা সংগ্রাম প্রকৃত
অর্থে একটি মুক্তিযুদ্ধ ছিল
কিনা এটা নিয়ে অযাচিত
বিতর্ক এখনও
শুনতে পাওয়া যায়। বিশেষ
করে যুদ্ধাপরাদীদের
বিচারের ক্ষেত্রে এই
কথাটি বার বারই
উঠে এসেছে যে,১৯৭১
সালের
মুক্তিযুদ্ধটি আসলে কোন
গৃহযুদ্ধ ছিল কিনা ?
অথচ,আমরা পার
করেছি স্বাধীনতার ৪৪
বছর। এই অযাচিত প্রশ্নের
জবাবে একটু
বলে রাখতে হয়,১৯৭১ সালের
২৫শে মার্চ
কালোরাতেপাকিস্তানিসেনাবাহিনীঅপারেশন
সার্চ লাইটের
নামে নিরস্ত্র
বাঙালী জনগনের উপর
অমানবিক
পৈশাচিকতা চালায়। এর
মাধ্যমেই তারা মূলত
বাঙলী জনগোষ্টীর উপর যুদ্ধ
চাপিয়ে দেয়।
বাংলাদেশের
স্বাধীনতার
ঘোষণাপত্রেস্পষ্টভাবেবলাহয়েছে,
বাংলাদেশ
পাকিস্তানিবর্বরতারুখতেসর্বশেষ
পন্থাহিসেবেস্বাধীনতার
ঘোষনা দিয়েছে।
এবং স্বাধীনতার
ঘোষনা দেওয়ার পর এই
ভুখন্ডে যেকোন বাহিনীর
উপস্থিতিই বহি:শত্রু
বলে গন্য ছিল।
সুতরাং এটি কোন গৃহযুদ্ধ
ছিল না। কেননা,সাধারনত
গৃহযুদ্ধ হলো একটি দেশের
দুটি বিবদমান দলের
মধ্যে ক্ষমতা দখলের লড়াই।
ক্ষমতাচ্যুত দল সবসময়
ক্ষমতাসীন দলকে ক্ষমতাচ্যুত
করে নিজেরা ক্ষমতাদখলের
লড়াইয়ে নিয়োজিত
থাকে। সুতরাং,১৯৭১
সালে সংঘটিত
মুক্তিযদ্ধকে গৃহযুদ্ধ
বলেবিভ্রান্তিতৈরিকরার
কোন অবকাশ নেই।
স্বাধীনতা কি,কতটুকু
স্বাধীনতা-
এটা বিবেচনার বিষয়।
স্বাধীনতামানেযথেচ্ছাচারের
ছাড়পত্র নয়,যেমন খুশি তেমন
আচরণ করার বৈধতা নয়।
প্রত্যেকের যেমন অধিকার
রয়েছে তেমন সেই সকল
অধিকার ভোগের
বিপরীতে কতিপয় দায়
দায়িত্বও রয়েছে।
এখন কথা হলো ৪৪ বছর
একটি রাষ্ট্রের
জীবনে একেবারে কম সময়
নয়। পরাধীনতার শৃঙ্খল
থেকে মুক্ত
হতে পারা নিশ্চয় একটি বড়
অর্জন। কিন্তু যেসব
আদর্শ,উদ্দেশ্য ও
স্বপ্নকেসামনেরেখেঅগণিত
মানুষ জীবন দিয়েছিল,
বিপুল ত্যাগ স্বীকার
করেছিল এই দেশের
সর্বস্তরের মানুষ- তার কতটুকু
অর্জিত হয়েছে?
পাকিস্তানী শাসকদের
অত্যাচার, নিপীড়ন ও
বঞ্চনা থেকে মুক্তি লাভের
পর প্রকৃত অর্থে আমাদের
প্রত্যাশিত
মুক্তি কি হয়েছে?
দেশের অগণিত মানুষ
দারিদ্র্যসীমার
নিচে জীবনযাপন করছে।
রাস্তাঘাটে-
ফুটপাতে অন্নহীন, বস্ত্রহীন,
আশ্রয়হীন, ভুখা মানুষের
চিত্র
হরহামেশা চোখে পড়ে।
বিপরীতে এক শ্রেণীর
মানুষ সম্পদের পাহাড়
গড়ে বিলাসী জীবন যাপন
করছে। হতদরিদ্রদের
দিকে তাকাবার অবসর
তাদের নেই। তাদের
মুখে জনগণের কল্যাণের জন্য
অনেক বড় বড়
কথা শোনা গেলেও
বাস্তবে এর প্রতিফলন নেই।
রাজনৈতিক সহিংসতা ও
রক্তপাতের
ঘটনাবলি দৈনন্দিন
জীবনের জন্য অপরিহার্য
হয়ে দাড়িয়েছে । উদার
গণতন্ত্রের চর্চা নাই বললেই
চলে। গণতন্ত্রের
কথা বলা হলেও কোথাও
সহিষ্ণুতার চিহ্ন আছে কী?।
আইন আছে, আইনের প্রয়োগ
নেই। আইনের শাসন ও
রীতিনীতির
প্রতি শ্রদ্ধাবোধের বড়ই
অভাব। সন্ত্রাস-সংঘাতই
হয়ে উঠেছে প্রতিবাদ ও
দাবি আদায়ের ভাষা, আর
সহিংস রাজনীতির
বলি হচ্ছে নিরীহ সাধারণ
মানুষ। ধ্বংস হচ্ছে দেশের
সম্পদ ও ঘটছে অর্থনৈতিক
বিপর্যয়। শোষণ-বৈষ্যমের
বিরুদ্ধে যুদ্ধ
করে বাংলাদেশ স্বাধীন
হলেও চরম অর্থনৈতিক
বৈষ্যমের শিকার আজ
দেশের মানুষ।
একদিকে ধনিক শ্রেণী।
যাদের সম্পদের
কোনো অভাব নেই।
অন্যদিকে গরিব শ্রেণী।
যাদের শিক্ষা নেই,
চাকরি নেই, রুজি-রোজগার
নেই, চিকিৎসা নেই,
আবাসন নেই,
নিরাপত্তা নেই, অভাব
ছাড়া কিছুই নেই। সমাজ
এখন অসম দুটি ভাগে বিভক্ত।
বৃহত্তর দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও
ক্ষুদ্রতর ধনিক শ্রেণী।
বাহ্যিকভাবে হয়তো এই দুই
শ্রেণীর মধ্যে দ্বন্দ্ব-
সংঘাত চোখে পড়বে না।
দিন যত যাচ্ছে বৈষম্য তত
বাড়ছে, ক্ষোভও
বাড়ছে একইভাবে। রাষ্ট্র
পরিণত হচ্ছে এক অমানবিক
পুজিবাদি প্রতিষ্ঠানে ।
মাঝে মাঝেই বিভিন্ন
প্রতিবেদনগুলোতেদেখাযায়
যে, জাতীয় সংষদ ভবনের
সামনে জুতা সেলাই
করে জীবিকা নির্বাহ
করছেন কোন এক
মুক্তিযুদ্ধা,আবার কোন একজন
দারিদ্রে পীষ্ট
হয়ে চিকিৎসাহীন
মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন
টিনের চালের
একটা কুড়ে ঘরের মাঝে।
এসকল বীরসন্তানরা কোন
প্রতিদানের আশায় দেশের
জন্য লড়াই করেন নি,আবার
কোন প্রতিদানই তাদের
আত্মত্যাগের সমতূল্য হবে না।
কিন্তু একজন
মুক্তিযোদ্ধাযিনিএকটিস্বাধীন
সার্বভৌম ভূখন্ড
এনে দিলেন, সেই বীর
সন্তান তার বাকিটা জীবন
পঙ্গু অবস্থায় অপরের
জুতা সেলাই
করে জীবকা নির্বাহ
করছেন,
এটিনিঃসন্দেহেগোটাজাতির
জন্য লজ্জা। বিষ্ময়
হলো,আমরা রোদ চশমায়
লজ্জা ঢেকে রেখেছি ।
আমাদের ছাত্র রাজনীতির
গৌরবজনক অধ্যায়ের
পরিসমাপ্তি ঘটেছে। জন্ম
নিয়েছে ধ্বংসাত্মক,
হিংসাত্মক
শিক্ষা বিবর্জিত ছাত্র
রাজনীতি। ছাত্র
রাজনীতি আজ কলঙ্কিত এক
অধ্যায়। অথচ বায়ান্নর
ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু
করে উনসত্তর, একাত্তরে ছাত্র
রাজনীতির ভূমিকা ছিল
গৌরব করার মতো। ছাত্র
রাজনীতি ও জাতীয়
রাজনীতি দুটিই আজ গভীর
সংকটে ভুগছে।
১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয়
দিবস । ১৯৭১ সালের এই
দিনেই বাংলাদেশ
পুরোপুরি শত্রুমুক্ত হয় ।
প্রতি বছর
এইদিনে বাংলাদেশের
জনগন উদযাপন করে বিজয়,
বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ
করে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা,
এদেশের বীর সন্তান দের।
কামনা করে দেশের উত্তর
উত্তর সমৃদ্ধি। জাতীয়
দিনগুলোকে কেন্দ্র
করে আজকাল
বাজারমুখো বিভিন্ন
আয়োজন দেখা যায়।
বাংলাদেশ
মানবসৃষ্টিসবচেয়েপতাকাগড়ে,জাতীয়
সংগীত গেয়ে বিশ্ব রেকর্ড
গড়েছে। অভিনন্দন।
তবে,যতদিন পর্যন্ত এদেশের
জনগন অন্নহীন বস্ত্রহীন,
আশ্রয়হীন, বুবুক্ষ জীবন যাপন
করবে ততদিন এসব রেকর্ড
অর্থহীন। মনে রাখতে হবে,
চকচক করলেই সোনা হয় না,
আবার চোখ
ধাধালো আলো অন্ধকার
তৈরী করে।
অনেক
ত্যাগ,তিতীক্ষা,রক্ত,সম্মানের
বিনিময়েস্বাধীনতাছিনিয়েএনেছেএদেশের
সর্বস্তরের মানুষ। স্বপ্ন
দেখেছে মুক্তি ও প্রগতির।
আজ্ও আমরা বাংলাদেশের
জনগন স্বপ্ন দেখি একটি সুন্দর,
সম্বৃদ্ধ,স্বর্ণালীবাংলাদেশের।
আমার সোনার
বাংলা,আমি তোমায়
ভালোবাসি।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.