নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

Oh Allah Plz Save Bangladesh

সৈয়দ মবনু

সৈয়দ মবনু

সৈয়দ মবনু, থাকি ছিলট

সৈয়দ মবনু › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমি কমিনিস্ট বা নাস্তিক নই বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম ---সাক্ষাৎকার গ্রহণে : সৈয়দ মবনু

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:১৭

সমসাময়িকের কাছে তিনি করিম ভাই, ভক্তের কাছে করিম শাহ বা শাহ করিম অথবা বাউল করিম, মরমী-বাউল গবেষকদের কাছে বাউল সম্রাট আব্দুল করিম। নিজের কাছে ফকীর করিম। আর আমাদের কাছে তিনি করিম চাচা। দু’চার দাঁতই বর্তমানে তাঁর সম্বল। চেহরায় ভাঙন শুরু হয়েছে। চামড়া কুঁচ-কুঁচ। মাথায় যে কয়টি চুল তাও পাটের মতো। পাঞ্জাবী-লুঙ্গীতে খাঁটি বাংগালী। কিছুদিন আগেও তিনি শুধু বৃহত্তর সিলেটের গ্রামের বাউল-মরমি গান শোনা মানুষের কাছে শ্রদ্ধেয় ছিলেন। ইতোমধ্যে তিনি তাঁর গান নিয়ে বৃহত্তর সিলেটের গ্রামসমূহের সীমা ডিঙ্গিয়ে একুশের পদক নিয়ে পৌঁছে গেছেন গোটা বাংলাদেশ হয়ে বিশ্বের হালঘাটায়। শহরবাসী আধুনিক মানুষেরা এখন তাঁর মূল্যায়ন করতে শুরু করেছেন। সিলেটের শেকড়সন্ধানি লেখক-সাহিত্যিক মহলে তাঁর প্রতি বিশেষ দুর্বলতা আগেও ছিলো, এখনও রয়েছে। তবে সর্বক্ষেত্রে, বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে তাঁর দিকে যেভাবে এগিয়ে যাওয়া উচিৎ ছিলো, আমরা তা পারিনি। রাজধানি কেন্দ্রিক পত্র-পত্রিকা গুলোর উপেক্ষা অনেকটা দৃষ্টিতে লাগার মতো। বেশিরভাগ পত্রিকাগুলো যেনো প্রতিভা নয়, ক্ষমতা আর প্রভাবের সন্ধানে, কিংবা ‘খাতিরের ছন একগল¬া কম’, আর সাধারণভাবে তারা এই প্রতিভাকে মূল্যায়ন করে থাকেন যা বিশাল সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা ডিঙিয়ে নৌ-বন্দরে এসে নোঙর ফেলেছে। আর ‘বার্ণাড শো’ তো এই জন্যই নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। নোবেল প্রত্যাখ্যানকালে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য ছিলোÑ‘ আমার নৌকাতো তীরে নোঙর ফেলে দিয়েছে, আমি তোমাদের অনুদানের প্রত্যাশি নই। যে এখনো সমুদ্রের মধ্যখানে, সম্ভব হলে তার দিকে সাহিয্যের হাত এগিয়ে দাও।’ অতি-বিলম্বে হলেও শাহ আব্দুল করিম একুশের পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি এক অবহেলিত গ্রাম্য কৃষকের ছেলে, প্রথম জীবনে নিজেও রাখালি পেশায় ছিলেন, লেখাপড়াও নিজের প্রচেষ্টায় মাত্র বর্ণ অক্ষর। এতো শূন্য থেকে শুরু করে গান লিখে দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় পুরস্কার ‘একুশের পদক’ লাভ¬¬¬Ñকতটুকু প্রতিভা থাকলে সম্ভব? তা বিবেচনার দাবি রাখে। শাহ আব্দুল করিমের প্রতিভা অলৌকিক কিংবা কুদরতি। তিনি সারাজীবন মাটির কাছাকাছি থেকে মাটি ও মানুষের কথা লিখে গানের জগতে দ্রুবতারার মতো একটা আসন করে নিয়েছেন। সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানার ধল গ্রামে ১৩২৮ বাংলার ফাল্গুন মাসের প্রথম মঙ্গলবার ( মোতাবেক ১৯১৬খ্রিস্টাব্দের ফেব্র“য়ারী) শাহ আব্দুল করিমের জন্ম। পিতা ইব্রাহীম আলী মরহুম, গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক ছিলেন। দারিদ্রতার কারণে আব্দুল করিম যে বয়সে স্কুলে যাওয়ার কথা সেই বয়সে গেলেন গরু রাখালীর চাকুরীতে। তিনি নিজেই লিখেছেনÑ‘ গরীব কুলে জন্ম আমার আজও মনে পড়ে/ ছোটবেলা বাস করিতাম ছোট্ট এক কুড়ে ঘরে।’ এই যে কুড়ে ঘরের কথা শাহ আব্দুল করিম তাঁর গানে বলেছেন, এর অবস্থা এতোই করুন ছিলো যে, বৃষ্টির দিনে মাঝেমধ্যে ঘরের ভেতর ছাতা ব্যাবহার করতে হতো। শাহ করিম তাঁর প্রথম জীবনে গরু রাখালীর চাকুরীর কথা প্রায়-ই বলেন; গানে এবং ব্যক্তিগত আলাপচারিতায়। গানের ভাষায় আমরা তাঁর কাছ থেকে শোনতে পারি এই কথাটা। তিনি ‘ভাটির চিঠি’ গানে লিখেছেনÑ‘ ছেলেরা মাঠে চড়াইতো গরুর পাল।/ আজও আমার মনে পড়ে সে জমানার হাল।।/ রাখাল বাজাইতো বাঁশি আনন্দে তখন।/ সে রাখালদের মধ্যে ছিলাম আমিও একজন।।’ তখন ছিলো বৃটিশ শাসন। বৃটিশদের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে নাইট স্কুল গড়ে উঠলো, আব্দুল করিম তাতে ভর্তি হলেন। বর্ণ অক্ষর শিখলেন, যুক্ত অক্ষর লেখাপড়া শিখলেন। এর মধ্যে ছাত্রের অভাবে স্কুল বন্ধ হয়ে গেলো। আব্দুল করিমের একাডেমিক লেখাপড়া এখানেই ইতি। এরপর গানের জগতে পদযাত্রা। বৃটিশ ভারতে জন্ম নিয়ে শাহ আব্দুল করিম গানের জগতে হাটতে হাটতে পাকিস্তান হয়ে ১৯৭১খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশকে পেয়ে যান। না, তিনি ক্লান্ত হয়ে বসে থাকেননি, বাংলাদেশেও হাটতে থাকেন দারিদ্রতার সাথে যুদ্ধ করে নিজের কক্ষপথে। তবে দারিদ্রতার অজুহাতে শাহ আব্দুল করিম বিবেকের সাথে প্রতারণা করে আপোষ করেননি কোনো ক্ষমতাবান কিংবা বিত্তশালীর সাথে। তাঁর ভেতরে অহম ছিলো, আত্ম-মর্যদাবোধ ছিলো অত্যন্ত প্রখর। তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন দারিদ্রতার সাথে কিন্তু কারো করুনার লোভে কিংবা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির আশায় কাতরস্পর্শী হোননি। তাঁর আত্ম-বিশ্বাস ছিলো নিজের প্রতিভা ও প্রভুর প্রতি¬। তিনি নিজেই লিখেছেনÑ‘রহমান-রহিম তুমি বন্ধুরে, ও বন্ধু, গফুর ও রহিম।/ তোমার কাছে পানাহ চায়, বাউল করিমÑদ্বীনবন্ধুরে।।’ আর প্রতিভার স্বাক্ষরতো আমরা দেখতে পাই তাঁর জারি, সারি, মারফতি, মুর্শিদি, মরমি, গণসঙ্গিত, ভক্তিমূলক গান সমূহে। ইতোমধ্যে তাঁর গান বৃহত্তর সিলেটের গ্রামগুলো ডিঙিয়ে বাংলাদেশের শহরগুলোতেও অনেক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। কালনীর ঢেউ, কালনীর কূল, আফতাব সঙ্গীত, গণসঙ্গীত, ভাটির চিঠি, ধলমেলা ইত্যাদি নামে তাঁর বেশ কিছু গানের বই বাজারে রয়েছে। বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের যে গানের হিসাব ইতোমধ্যে পাওয়া গিয়েছে তা সংখ্যায় প্রায় দুই হাজার। শাহ করিম শুধু সংখ্যায় নয়, বিষয়, বর্ণনা, শৈল্পিকতা, স্বচ্ছতা এবং স্বাতন্ত্রতায় সত্যই আমাদের স্বদেশী সুরের গানের জগতে এক ক্ষণজন্মা সম্রাট। তাঁর গানে দেশ, জাতি, সমাজ, রাজনীতি, ইতিহাস, মানুষের সুখ-দুঃখ, দেশ-বিদেশে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত সরল-সহজ এবং শৈল্পিকভাবে প্রস্ফূটিত হয়ে আছে। তিনি আধ্যাত্মিক পুরুষ ছিলেন বলেই লিখেছেনÑ ‘ আশিকের রাস্তা সোজা/ আশিক থাকে মাশুক ধ্যানে/ এই তার নামাজ এই তার রোজা।’ তবে তিনি সমাজ, রাজনীতি, পরিবার বিমূখি ‘ফানাফিল¬াহ’ নয়, তিনি ছিলেন উর্দু সাহিত্যের কবি সম্রাট ইকবালের মতো ‘বাকিবিল¬াহ’। অনেক বাউলÑসন্যাসীরা রোমান ক্যাথলিক সন্ন্যাসীদের ‘রুহবানিয়াত’ ( ইহকাল বিমূখতা) গ্রহণ করলেও আমরা বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের গানে ইসলামের ‘রাব্বানী’ ( ইহকাল এবং পরকাল) দর্শনের প্রচণ্ড প্রভাব দেখতে পাই। তাঁর গানে আছে সমাজ ও রাজনীতির সমসাময়িক বিষয়গুলো স্পষ্ট। তিনি মাওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনে এবং সুনামগঞ্জে শহিদ হোসেন সোহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মঞ্চে সমসাময়িক বিষয়ে স্বরচিত গান গেয়ে সকলের প্রশংসা অর্জন করেছেন। তবে শাহ আব্দুল করিম কোনো প্রকার দলীয় রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না। তিনি আজীবন মজলুম মানুষের মুক্তির স্বপ্নে নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে গান লিখেছেন, গান গেয়েছেন। স্বাধীনতার স্বপ্নে, মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির কাকুতি নিয়ে শাহ আব্দুল করিম বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মঞ্চে গিয়ে গান গাইলেও তিনি শেষ পর্যন্ত নেতাদেরÑরাষ্ট্রীয় কর্তাদের লুটপাট, চুরি, বাটপাড়িতে হতাশ হয়ে লিখেছেনÑ‘ করি ভাবনা সেদিন কি পাব না/ ছিল বাসনা সুখী হইতাম/ দিন হতে দিন আসে যে কঠিন-/ করিম দীনহীন কোন পথে যাইতাম।’ অন্য একটি গানে তিনি বলেছেনÑ‘মজুতদার কালোবাজারী কেউ করে ইজারাদারী কেউ করে / রিলিফ চুরি আমলাতন্ত্রের আশ্রয় ধরে/ এই যুগে আর বাঁচবেনা মান করিম বলে গাটুরী বাঁন্দ/ আসিবে আজলী তুফান দোহাই দিলে মানবেনারে।’ মোটকথা শাহ আব্দুল করিমের গানে সর্বশ্রেণির মানুষের সুখ-দুঃখ, আশা-হতাশা, প্রতিবাদ-সংগ্রাম সবই এসেছে। শাহ করিম অনেক গানে রঙতামশা করেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কথা বলে দিয়েছেন। যেমন তাঁর নৌকা বাইছের সারী গান আমাদেরকে প্রায় কাতর করে ফেলে। যদিও তিনি গানটি লিখেছেন নৌকা দৌড়ের খেলোয়াড়ীদের জন্য, কিন্তু প্রচন্ড রকমের আধ্যাত্মিক চিন্তা এর ভেতরে আমরা দেখতে পাই। তিনি বলছেনÑ‘ কোন মেস্তরী নাও বানাইলো কেমন দেখা যায়/ ঝিলমিল ঝিলমিল করেরে ময়ূর পংখী নায়/ চন্দ্র সূর্য বান্ধা আছে নায়েরই আগায়/ দূর্বিনে দেখিয়া পথ মাঝি মাল¬ায় বায়/ রঙে বে-রঙের কত নৌকা ভবের থলায় আয়/ হারা জিতা ছুবের মাঝে কার পানে কে চায়/ মদন মাঝি ভারি পাজি কত নাও ডুবায়/ বাউল আব্দুল করিম কয় বুঝা ভীষম দায়/ কোথায় থাইক্যা আইসা নাও কোথায় চইলা যায়/ ঝিলমিল ঝিলমিল করেরে ময়ূর পংখী নায়।’ এই গানে শাহ আব্দুল করিম নৌকা দৌঁড়ের বর্ণনার মধ্যদিয়ে একটা বিশাল জীবনকে বর্ণনা করে দিয়েছেন। শাহ করিমের ঝিলমিল ঝিলমিল করা ময়ূর পংখী নৌকা হলো মাটির মানুষ। নৌকা দৌঁড়টা হলো জীবন সংগ্রামের ব্যস্ততাÑপ্রতিদিনের প্রতিযোগিতা। এখানে কেউ বিজয়ী হয়, আবার কেউ পরাজিত। ‘মদন মাঝি ভারি পাজি কত নাও ডুবায়’ এখানে তিনি বিলাসী-নফসের কথা বলেছেন। ‘কোথায় থাইক্যা আইসা নাও কোথায় চইলা যায়’ মানুষ পৃথিবীতে আসে কোথায় থেকে এবং মৃত্যুর পরে যায় কোথায়? এই প্রশ্নেই শাহ আব্দুল করিম তাঁর ভাবনাকে একটা দার্শনিক চিন্তার মধ্যে নিয়ে গেছেন।

শাহ করিম প্রায়ই আসেন আমাদের বাসায়। আমার বড়চাচা সৈয়দ আব্দুর রহমানের সাথে তাঁর অন্তরঙ্গ সম্পর্ক। এই সূত্রে আমি খুব ছোটবেলা থেকে তাঁকে দেখার সুযোগ পেয়েছি। আমাদের বাসায় রহমান চাচা ছাড়া শাহ আব্দুল করিমের মূল্য আর কারো কাছে তেমন ছিলো না। রহমান চাচার মতেÑ‘শাহ আব্দুল করিম সাক্ষাৎ আল¬াহর খাস লোক’, যাকে আমরা আল¬ার ওলী বলে থাকি। তাঁর যুক্তি হলোÑ‘আল¬াহর সাথে খাস সম্পর্ক না থাকলে করিম শাহ এতো উচুঁ মার্গের আধ্যাত্মিক গান রচনা করতে পারতেন না। তা ছাড়া শাহ আব্দুল করিমের সম্পদের লোভ, খ্যাতির মোহ এবং হিংসা-বিদ্ধেষ নেই।’ বেশ আগে সিলেট থেকে প্রকাশিত ‘খোয়াব’ লিটলম্যাগে তাঁর একটি সাক্ষাৎকার ছাপা হয়, যা পাঠকদের একটি গ্র“পকে কিছুটা ক্ষুব্ধ করে দেয়। কোনো কোনো ভক্ত মনঃক্ষুণœ হলেন। সিলেটের লেখক-সাহিত্যিকদের একটি গ্র“প ১৪০৭ বাংলার পহেলা বৈশাখ নববর্ষ উদযাপনে শহর থেকে দূরে-ঐতিহ্যবাহী সৈয়দপুর গ্রামে যাবে। উৎসব হবে মরমী কবি পির মজির উদ্দিনের বাড়িতে। তাই অনেকের প্রস্তাব একজন বাউল বা মরমী গায়ক সাথে নিলে ভালো হয়। আমি শাহ আব্দুল করিমের নাম প্রস্তাব করলাম। সবাই একবাক্যে আনন্দ প্রকাশ করলেও কেউ কেউ ‘খোয়াব’ এর সাক্ষাতকারের কথা উপস্থাপন করেন। আমি কিছুটা সত্য-মিথ্যা নিয়ে বিভ্রান্ত হলাম। স্মরণহলো আল¬ামা ইকবালের কথা। ইকবাল শেকওয়া লিখলে ভারতবর্ষের একদল আলেম তাকে কাফের ফতোয়া দিলেন। কিন্তু দারুল উলূম দেওবন্দের শায়খুল হাদিস মাওলানা আনোয়ার শাহ কাশমীরী এই ফতোয়ায় স্বাক্ষর না দিয়ে সোজা লাহোরে এসে ইকবালের বাড়িতে মেহমান হলেন। ইকবালের সাথে শেকওয়া নিয়ে আলোচনা করলেন। স্বয়ং ইকবাল নিজে জোয়াবে শেকওয়া লিখলেন। কাদিয়ানীদের প্রতি ইকবালের কিছুটা দুর্বলতা ছিলো। আল¬ামা আনোয়ার শাহ কাশমীরীর সংস্পর্শে আল¬ামা ইকবাল সঠিক ভাবে কাদিয়ানীদের স্বরূপ উন্মোচন করতে সক্ষম হলেন। মুসলমানদের মধ্য থেকে ইকবাল সম্পর্কে ভুল বুঝাবুঝির অবসান হলো। ইকবাল ছিলেন কবি সম্রাট-বিশ্বকবি। শাহ আব্দুল করিম লেখাপড়া না জেনেও বাউল সম্রাট-স্বভাব কবি। তাই ভাবলাম শাহ আব্দুল করিমের সাথে তা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন। বৃষ্টিঝড়া এক সকালের কথা। বাতাসে হালকা শীত। আমাদের শাহী ঈদগাস্থ বাসায় শাহ আব্দুল করিম বসে আছেন। চা-নাস্তা পর্ব আগেই শেষ। আমি গিয়ে বসি পাশাপাশি। জানতে চাইÑ চাচা কেমন আছেন?

শাহ করিম: আল্ল¬ার মনশা।

মবনু: আপনার সাথে কিছু কথা বলতে চাই?

শাহ করিম : বলুন।

মবনু : কিছুদিন আগে ‘খোয়াব’ লিটল ম্যাগ ওয়ালারা আপনার সাক্ষাৎকার নিয়ে তৃতীয় সংখ্যায় প্রকাশ করেছে। আমার কথাগুলো সেই সাক্ষাৎকারের গর্ভ থেকেই জন্ম। আপনি স্বীকার করেছেন রাখাল থেকে গায়ক হওয়ার কথা। গানের পথে আসতে গিয়ে কিভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছেন?

শাহ করিম : আমার এক দাদা ছিলেন। নাম তাঁর নসিবুল¬াহ। জীবনে শাদী করেননি। আমার একটা গান আছে-

জন্ম নিয়ে একজনের সান্নিধ্য পাইলাম

পিতামহের ছোট ভাই নসিবুল¬াহ নাম

ফকির ছিলেন, করতেন সদা আল¬াহ্র জিকির

ফকিরী বিনে ছিলো না অন্য ফিকির

আসতনে কাছে ফকির সাধু হিন্দু-মুসলমান

লাউ বাজাইয়া গাইতেন তখন ভক্তিমূলক গান

গানের একটি কলি আমার আজো মনে পরে

‘ভাবিয়া দেখ মাটির সারিন্দারে বাজায় কোন জনে’।

এই কলিটাই আমার জীবনের প্রথম মনে চিত্র অঙ্কন করে। দাদা মারা গেলেন। তারপর এই কলি থেকে আমার উৎপত্তি। আরেকজন ছিলেন করম উদ্দিন। সম্পর্কে নানা। আমার মায়ের মামা। তিনি দুতারা বাজিয়ে গান গাইতেন। তাঁর পাশে বসে আমিও গাইতাম। এই থেকেই আমার আরম্ভ। তারপর আমি গান শিখতে নেত্রকোনায় রশিদ উদ্দিন সাধকের কাছে যাই। উদ্দেশ্য তাঁর সামনে কিছু সামনে গান গাওয়া। এভাবেই আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি।

মবনু : প্রত্যেক শিল্পীর প্রেরণার কিছু কিংবা একটি উৎস থাকে। আপনার সেই উৎস কি?

শাহ করিম : আমারও উৎস আছে। আমি তো গানে আমার নিজের কথা বলি। তাই আমার মতো মানুষ যারা ওদের কথা আমার গানে এসে যায়। আমি শোষণ নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলি। আমরা এই সমাজের শোষিত, বঞ্চিত, নির্যাতীত মানুষ। আমরা দুঃখ-কষ্টে আছি। আমার কথা বলতে গিয়েই এই শ্রেণীর সবার কথা এসে যায়। এটা-ই আমার গানের উৎস।

মবনু : ‘খোয়াব’ লিটল ম্যাগের তৃতীয় সংখ্যায় এক প্রশ্নের উত্তরে আপনি নিজ স্ত্রী আপ্তাবুন্নেসাকে মুর্শিদ বলে সম্বোধন করেছেন, কারণ ব্যাখ্যা করবেন কি?

শাহ করিম : ওনি এমন এক লোক যাকে আমার সঙ্গীনী না পেলে আমি করিম হতে পারতাম না। তিনি যে ধৈর্য্যসহকারে আমার সেবা যতœ করেছেন তা বলার মতো নয়। আমি বছরে এগারো মাসই বাড়িতে থাকতাম না। এই সময় তিনি অর্ধাহার-অনাহারে থেকেও জীবনে কোনদিন বিরক্তি প্রকাশ করেননি। তাই তাকে মুর্শিদ সম্বোধন করেছি এবং আমার আপ্তাব সঙ্গীত গ্রন্থটি তারই নামানুসারে নামকরণ করেছি।

মবনু : আপনাদের বিয়ে কি প্রেম ঘটিত?

শাহ করিম : না, না। প্রেম ঘটিত নয়। আমাদের বিয়ে পারিবারিক।

মবনু : ‘খোয়াব’ এর অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে আপনি বলেছেন, ‘আসমানী খোদা কে মানি না’ তাহলে আপনি কি নাস্তিক?

শাহ করিম : না, আমি নাস্তিক নই। আমি বলেছি আকাশে নয়, পাতালে নয়, খোদা মানুষের অন্তরে। রাসুল (সা.) বলেছেন- ‘কুলুবুল মু’মিনিনা আসিল¬াহী তা’য়ালা।’

আল¬াহ ও যে বলেছেন, নাহনু আকরাবু ইলাইহী মিন হাবলিল ওয়ারিদ।

তাই আমি বিশ্বাস করি আল¬াহ আমার শাহ রগ থেকে আরো কাছে। আকাশে খোদা এতো দূর আমি মনে করি না। আমি খোদাকে কাছে বিশ্বাস করি। আমি বলেছিলাম আকাশে খোদা মানি না। ওরা অর্থ উঠিয়েছে আকাশের খোদা মানি না।

মবনু : আরেক প্রশ্নের উত্তরে দেখলাম আপনি বেহেস্ত, দোজখ, দু’কান্ধের ফেরেস্তা অস্বীকার করছেন। অথচ পবিত্র কুরআন-হাদিসের দ্বারা এগুলো সত্য বলে প্রমাণিত। আপনি কি কোরআন-হাদিস মানেন না?

শাহ করিম : দেখো কোরআন আল¬াহর বাণী তা আমি বিশ্বাস করি। কিন্তু তার অপব্যাখ্যা কিংবা সুবিধাবাদী ব্যাখ্যা আমি মানি না। বেহেস্ত-দোজখতো দুনিয়াতেই আছে। যারা দুঃখী তারা কষ্ট পাচ্ছে। আর যারা সুখী তারা বেহেস্তের মতো আছে। পরকালেও বেহেস্ত-দোজখ আছে তা আমি বিশ্বাস করি। যারা আল¬াহ-রাসুলের প্রতি বিশ্বাস রেখে সুকাজ করে তারা পরকালে বেহেস্তে যাবে। এবং যারা মন্দকাজ করে তারা দোজখে যাবে। এটাই আমার বিশ্বাস।

মবনু : আপনাকে অনেকে বাম, নাস্তিক বা কমিউনিস্ট করতে চায়। এ সম্পর্কে আপনার প্রতিক্রিয়া কি?

শাহ করিম : তারা যাই বলেন, আমি কিন্তু নাস্তিক নই। আমি আল¬াহ্র বিশ্বাসী এবং সর্বদা প্রার্থনা করি আমার শেষ নিঃশ্বাস যেনো ত্যাগ হয় আল¬াহ আল¬াহ বলে। এটাই আমার শেষ কথা। তারা আমায় নাস্তিক কিংবা যাই বলুক। আমি যে শোষণের বিরুদ্ধে বলি তাই অনেকে ভাবে কমিউনিস্ট। আমি কমিউনিস্ট বা নাস্তিক নয়। আমি আমার প্রভুর বিশ্বাসী। যারা আমাদের উপর অন্যায় করে আমি তাদের বিরুদ্ধে বলি। এটা আমার চরিত্র। এটা ইসলামের বৈশিষ্ট্য।

মবনু : আপনি ‘খোয়াব’ এর অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন-‘আমার দীর্ঘ জীবনে রকীব শাহ নামের কোনো ফকিরের গান তো দূরের কথা নাম পর্যন্ত কানে আসেনি। হঠাৎ রেডিও টেলিভিশনে তার গান শোনে বিস্মিত হই।’ আমাদের প্রশ্ন আজ যেসব গান রকিব শাহ-এর বলে প্রচারিত তা কি অন্যকারো?

শাহ করিম : হতে পারে এগুলো রকীব শাহ এর। কিন্তু আমার জীবনে সৈয়দ শাহনূর, শিতালং শাহ, আরকুম শাহ, জালাল উদ্দিন, লালন শাহ, রাধারমন, হাসন রাজা প্রমুখের গান ছোট বেলা থেকেই গেয়ে এবং শোনে আসলেও রকীব শাহ-এর কোন গান পাইনি, শোনিনি, গাইনি। রকীব শাহ হতে পারেন মহাজন, ফকীর কিংবা পীর কিন্তু আমি আমার দীর্ঘ জীবনে তাঁর কোনো গান পাইনি-গাইনি এবং কাউকে গাইতেও শোনিনি। এই কিছু দিন থেকে শোনা যাচ্ছে রকীব শাহ নামক একজন লেখক ছিলেন, তাঁর প্রচুর গান রয়েছে এবং সেগুলো তার বিত্তশালী ছেলে প্রচার করতেছেন। আমি কিন্তু তাকে অমান্য করছি না। তবে আমরা পাইনি তাঁর গান।

মবনু : সৈয়দপুরের মরমী কবি পীর মজীর উদ্দিন সম্পর্কে আপনার কোন ধারণা আছে কি?

শাহ করিম : ওনির সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে। তাঁর কথাবার্তা শোনেছি। তার প্রতি আমার যথেষ্ট শ্রদ্ধা আছে। আমার দিরাইতেও তাঁর প্রচুর শিষ্যভক্ত রয়েছেন। দিরাই হয়ে তিনি ময়মনসিংহ পর্যন্ত যেতেন। দিরাইতে আমার এক শিষ্য ছিল ‘তখবুল’ তার নাম। তখবুলের বাপ-দাদা সবাই তিনির শিষ্য ছিলেন। তখবুলরা খুব গরীব লোক হলেও তাদেরকে তিনি খুব স্নেহ করতেন। সেই বাড়িতে আমি তাকে দেখেছি। তিনি আমায় খুব স্নেহ করতেন। প্রতি বর্ষাকালে তিনি দিরাই হয়ে ময়মনসিংহ যেতেন। দিরাইতে তাঁর সাথে প্রায়ই দেখা হতো।

মবনু : সিলেটে আপনার প্রিয় বাউল বা মরমী কবি কারা?

শাহ করিম : অনেক আছেন। যেমন মনে করেন মরমী কবিদের মধ্যে আরকুম শাহ, সৈয়দ শাহনুর, শিতালং শাহ। আর বাউলদের মধ্যে হাসন রাজা, কালাশাহ, সৈয়দ ইসাক শাহ প্রমুখ। ওদের গান পেয়েছি এবং গেয়েছি। রকীব শাহ-এর পাইনি এবং গাইনি।

মবনু : বাউল-মরমী-মালজুরার মধ্যে ব্যবধান কি?

শাহ করিম : বাউল হলো এই যে আমরা রাই-শ্যাম ইত্যাদি নিয়ে গেয়ে থাকি। মরমী হলো ভক্তিমূলক ভাবে মনের কথা গানের ভাষায় প্রকাশ। আর মালজুরা হলো একটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন-উত্তরের মাধ্যমে গান গাওয়া।

মবনু : আপনার জীবনে সব চাইতে আশ্চর্যজনক ঘটনা কি?

শাহ করিম : জীবনের একেক অবস্থায় একেকটি আশ্চর্যজনক ঘটনা। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘটনাই আশ্চর্যজনক। রাজনীতি-অর্থনীতি-সমাজ নীতি সব ব্যাপারেই আশ্চর্য হতে হয়।

মবনু : তা হলে বলুন সব চাইতে আনন্দদায়ক ঘটনা?

শাহ করিম : (একটু হাসলেন) আমরা আনন্দ গান গেয়েই পেয়ে থাকি। তাছাড়া যারা মানুষের সেবা করে তাদেরকে দেখলে আমি আনন্দ পাই।

মবনু : দুঃখজনক ঘটনা?

শাহ করিম : মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। মানুষ তার প্রকৃত মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মানুষের আজ এই সমাজে বেঁচে থাকার অধিকার নেই। জান-মাল-ইজ্জতের নিরাপত্তা নেই। এগুলো দেখলেই দুঃখ পাই।

মবনু : আধুনিক গান ও কবিতা সম্পর্কে আপনার ধারণা কি?

শাহ করিম : আধুনিকতা আমি তেমন বুঝি না। দেখুন রবীন্দ্রনাথ যদি বিশ্বকবিও হয়ে যান কিন্তু এদেশের সাধারণ মানুষ তার গান বুঝে না। কিন্তু লালন-হাসন রাজার গানে আমরা খুব আনন্দ পাই। আমি মনে করি রবীন্দ্রনাথের গান যদি খুব ভালোও হয় তবু আমাদের সাধারণ মানুষের মন স্পর্শ করে না। হতে পারে তা আমাদের না বুঝার কারণে। তবে যা বুঝি না বা মন স্পর্শ করে না, তা নিয়ে আমাদের সুখ-দুঃখের কি আছে? কবিতার ক্ষেত্রেও একই কথা।

মবনু : আপনি কোনো আধুনিক গান পড়েছেন বা গেয়েছেন?

শাহ করিম : আমি তো লেখা পড়া করিনি। বৃটিশ সময়ে আমাদের অঞ্চলে নাইট স্কুল হয়েছিলো। আমি তখন গরু-রাখালী করতাম। একজন আমায় সেই স্কুলের কথা বললে আমি ভর্তি হই। কিন্তু লোকের ধারণা যখন জন্ম নিলো নাইট স্কুলে পড়লে বৃটিশ সৈন্যদের সাথে গিয়ে জার্মানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে তখন ছাত্ররা পালাতে লাগলো। ফলে নাইট স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে সামান্য লেখাপড়া শিখেছি। তাই আধুনিক কবিতা বা গান আমার হৃদয় স্পর্শ করে না। তা ছাড়া আধুনিকতার লালনকারীরা মানুষকে মানুষের মতো করে দেখতে পারে না। ওরা সব কিছুকে বস্তুর মতো দেখে। কিছু দিন আগে বাংলাদেশ টেলিভিশনে আমার একটি গান দিয়েছে। একজন লোকের মাধ্যমে হুমায়ূন আহমদ আমাকে নিয়েছিলেন। আমার গান রেকর্ড হলো। অথচ হুমায়ূন আহমদ আমাকে দেখা দিলেন না। তিনি আমায় মানুষ হিসেবেই গণ্য করলেন না। আমাকে সামান্য টাকা দিয়ে একজন লোক বললোÑস্যার এখন দেখা করতে পারবে না। আমি কি তার কাছে টাকার জন্য গিয়েছিলাম। আব্দুল করিম টাকার জন্য গান গায় না। আব্দুল করিম টেলিভিশনে গান গাওয়ার জন্যও প্রত্যাশী নয়। আব্দুল করিম গরীব হতে পারে কিন্তু আত্মমর্যাদাহীন নয়। ছিঃ ছিঃ আধুনিকতা। যেখানে মানুষের কোন মূল্য নেই সেখানে আব্দুল করিম ও নেই।

মবনু : ধন্যবাদ আপনি আমায় কিছু সময় দেয়ার জন্য।

শাহ করিম : তোমাকেও ধন্যবাদ।



কিছু কথা আমার কাছ থেকে নিয়েছে, বাকি তারা বানিয়ে ফেলেছে

আমি নাস্তিক নই¬

Ñ বাউল সম্রাট আব্দুল করিম



কিছুদিন আগে সুনামগঞ্জের একটি ছেলে আমার কাছে বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম সম্পর্কে লেখা চাইলে ‘আমি নাস্তিক নই’ শিরোনামের লেখাটি তাকে দিয়ে ছিলাম। আমার এক বন্ধু শাহেদ হোসেন, যার গ্রামের বাড়ি করিম সাহেবের গ্রামে, সে একদিন আমাকে এসে জানালো, ঐ ছেলে নাকি তাকে বলেছেÑ‘আমি নাস্তিক নই’ এ কথা বাদ না দিলে লেখাটা তার স্মারকে যাচ্ছে না। আমি স্পষ্ট বলে দিলাম, না গেলে নাই। পরে ঐ ছেলেটি একদিন আমার সাথে দেখা করে বললোÑতার গুরুরা নাকি বলেছেন ‘আমি নাস্তিক নই’ শিরোনামে লেখা যাবে না। তাদের কথা হলো শাহ আব্দুল করিম এমন কথা বলতে পারেন না। তাই যদি আমি এই বাক্যটি কেটে দেই, তিনি কৃতজ্ঞ হবেন। আমি তাকে জানিয়ে দিলামÑআমি কাউকে খুশি করার জন্য লেখালেখি করি না। শাহ করিম যে নাস্তিক নয়, এটাতো প্রকাশিত এবং সত্য কথা, আমি কাটতে পারবো না। সে জানালো যারা তার সাইবোর্ডের পিছনে দাঁড়িয়ে তার স্মারকের জন্য কাজ করছেন তারা ‘আমি নাস্তিক নই’ কথা মেনে নিতে পারছেন না। আমি ছেলেটিকে বললামÑকরিম চাচা তো এখনো বেঁচে আছেন, তোমরা যাও, তাঁর কাছ থেকে জেনে নাওÑতিনি নাস্তিক কি না? সে আমায় জানালো-তারা গিয়েছিলো। করিম চাচা তাদেরকে ধমক দিয়েছেন। তার মন্তব্য হলো-করিম সাহেবের এখন ‘হুশ-বুদ্ধি জায়গায় নেই’। আমি আর প্রতিবাদ করিনি। গত ৬ জুনÑ০৭ শাহ আব্দুল করিম সিলেট আসলে প্রথমে দু-রাত আমাদের বাসায় থাকেন। আমার ক্যাসেট রেকর্ডার সাথে না থাকায় আমি করিম চাচার সাথে এ বিষয়টি আলোচনায় যাইনি। আমাদের বাসায় দু-দিন থেকে করিম চাচা ‘ইসলামপুর চলে যান। ৮ জুন সন্ধ্যায় ক্যাসেট রেকর্ডার সাথে নিয়ে আমি আর তরুণ কণ্ঠশিল্পী এম. কাওসার ইসলামপুরে শাহ আব্দুল করিমের সাথে দেখা করি। দীর্ঘ কথা হয়। কথাটা প্রথমে শুরু করে দেন বাবুল ভাই, অর্থাৎ করিম চাচার একমাত্র ছেলে নূর জালাল।

নূর জালাল: বাবা, বেশ কিছুদিন আগে সিলেট থেকে একটা ম্যাগাজিন বেরিয়েছিলো, এতে বিভিন্ন কথা এনেছে যে, আপনি আল¬াহ মানেন না, রাসুল মানেন না, বেহেস্ত দোজখ মানেন না-এই সেই নানা হাবিজাবি?

মবনু: এটা নূর জালার ভাইও দেখেছেন যে, একটি ম্যাগাজিন তা লিখেছে। এই বিষয় নিয়ে আপনার সাথে আমার আগে একবার আলোচনা হয়েছে, আমি দেখেছি যে, আপনি গানের মধ্যেও বারবার আল¬াহ রাসুলের কথা বলেছেন। আধ্যাত্মিক অনেক বিষয় আপনার গানে স্পষ্ট এসেছে।

শাহ করি : (হাসেন, শব্দ করেই হাসেন) আল¬াহ-রাসুলের কথা না বলে আপনি পির সাহেব, চুর সাহেব, ডাকাত সাহেব, মোটকথা কিছুই হতে পারবেন না। আপনি আল¬াহর পক্ষে, রাসুলের পক্ষে, আশিকের পক্ষে, বুজুর্গানের পক্ষে কথা বলতে হবে, বুঝতে হবে এবং নিজে মানতেও হবে। অন্যজন মানুক কিংবা নাই মানুক-আপনাকে অবশ্যই মানতে হবে। আমাকেও অবশ্যই মানতে হবে।

মবনু : খোয়াব নামক ম্যাগাজিনে যে তারা লিখলো, নূর জালাল ভাইয়ের ভাষ্যমতে তিনিও ছিলেন যখন তারা সাক্ষাৎকার নিয়েছে, তার বক্তব্য হলো আপনি এমন কোনো কথা বলেননি। তারা তাদের মনের ইচ্ছে মতো এ কথাগুলো তৈরি করেছে। আমি এই কথাগুলোর প্রতিবাদ করেছিলাম ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে আপনার সাক্ষাৎকার নিয়ে। এই যে আপনার সামনে গ্রন্থখানা, তারা আমার কাছে আপনার সম্পর্কে একটা লেখা চেয়েছিলো, আমি এই লেখাটি দিয়েছিলাম। এই বইয়ের সম্পাদক আমায় বললো, তার আড়ালে যারা বইটির জন্য মূলে কাজ করছেন তারা নাকি বলেছেন-করিম সাহেব এমন কথা বলেননি। আমি তাদেরকে বললাম-তিনি নিজে আমায় এ কথাটি বলেছেন।

শাহ আব্দুল করিম : (শব্দ করে আবার হাসেন) নাস্তিক হয়ে তুমি যাবে কোথায়? নাস্তিক হলে তো তুমি আল¬াহ বিরোধী, রাসুল বিরোধী, ধর্ম বিরোধী হয়ে গেলে। নাস্তিক হইবে না। (শাহ আব্দুর করিম তার অভ্যাস মতো জিকির করেন-ইয়া আল¬াহ, মুর্শিদ, মাওলা)।

মবনু : আমার মনে হচ্ছে আপনি এ কথা বলেননি যে আপনি নাস্তিক, ওরা তা বানিয়ে বলেছে?

শাহ করিম : হাসতে হাসতে তিনি বলেন-হ্যাঁ, বানিয়ে লিখেছে। আসল কথা হলো-তারা কিছু কথা আমার কাছ থেকে নিয়েছে, বাকি তারা বানিয়ে ফেলেছে। (তিনি আবার শব্দ করে হাসেন)

মবনু : যাই হোক, ব্যক্তিগত বিষয়ে আসি। বর্তমানে আপনার সময় কীভাবে যাচ্ছে?

শাহ করিম : সময় আল¬াহ যেমন চাচ্ছেন তেমন চলছে।

মবনু : শোননাম লন্ডন যাচ্ছেন।

শাহ করিম : লন্ডন যেতে পারি। অন্য কোথাও যেতে পারি, আল¬াহ যেখানে ইচ্ছা সেখানে নেবেন।

মবনু : আব্দুর রহমান চাচা বললেন, তিনি এবং আপনি লন্ডন যাচ্ছেন?

শাহ করিম : হ্যাঁ, আব্দুর রহমান সাহেব আমাদের বাড়িতে গিয়েছিলেন এবং মত করছিলেন যাবেন, আমিও যাবো। অতঃপর তিনিও যাননি, আমিও যাইনি। আমি গেলে তিনিকে নিয়ে যেতাম এবং তিনি গেলে আমাকে নিয়ে যেতেন।

মবনু : শরীরের অবস্থা কেমন?

শাহ করিম : দুর্বল।

মবনু : আগামী দিনের প্রজন্মের প্রতি আপনার কোনো অসিহত-নসিহত।

শাহ করিম : থাকবে-ই তো, তাদের প্রতি কিছু অসিহত-নসিহত থাকবেই। আমার মুর্শিদের, আমার বাপের অসিহত-নসিহত যেমন আমার উপর আছে তেমনি আমার ছেলের উপর, আমার শিষ্যের উপর আমার কিছু থাকবেই।

মবনু : শিষ্য ছাড়াও আমারা যারা ভক্ত আছি তাদের সম্পর্কে?

শাহ করিম : ভক্তরা এক প্রকারের শিষ্য।

মবনু : তা হলে কষ্ট করে বলুন সবার জন্য কিছু কথা?

শাহ করিম বেশ কিছু সময় চিন্তায় হারিয়ে গেলেন। হয়তো ভাবছেন বিশেষ কিছু। আমি তাকে জিজ্ঞাস করলাম-কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে কি?

শাহ করিম : না, কষ্ট হচ্ছে না, অসিহত-নসিহত এতটুকুই আমরা যে যতটুকু বুঝি তা যেনো অন্যকে বুঝানোর চেষ্টা করি।

মবনু : আপনার গান বর্তমানে অনেকগুলো সুরে প্রচার হচ্ছে। আপনার নিজস্ব সুর ও কেউ কেউ বাদ দিয়ে গেয়ে যাচ্ছেন, আপনি শোনেছেন কি-না?

শাহ করিম : শোনেছি।

মবনু : কেমন লাগে আপনার কাছে।

শাহ করিম : যারা যেমন খুশি গাইতে থাকুক। আমার কোনো আপত্তি নেই।

‘বাবার কথা হলো’ বলে নূর জালাল এসে প্রবেশ করেন কথার ফাঁকে। তিনি বলতে থাকেনÑবাবার গান হলো কথা প্রধান। বাবার কথা হলো, কথা ঠিক রেখে যে সুর দিয়ে যে কেউ তার ইচ্ছে মতো যেটা মানুষ গ্রহণ করে করুক। তবে কথা যেন না পাল্টায়। তারা তো অনেকে কথাকে পাল্টিয়ে ফেলে, নাম বাদ দিয়ে দেয়, নাম বলে না, বাবার কথা হলো যে কোনোভাবে গাউক আমার কথা যেনো ঠিক থাকে, গানের ব্যাপারে বাবার এটাই মত।

মবনু : আপনাকে কি তারা কোনো রয়েলিটি দিয়ে থাকে, যারা গানগুলো বিভিন্ন স্থানে গেয়ে থাকে?

শাহ করিম : আমাকে কি দেবে, আমি গান দিয়েছি, আমরাই তো তাদেরকে দেওয়ার কথা। সে আমার গান গেয়ে জনতার কাছে প্রচার করছে। আমি তাদেরকে পুরস্কার দেওয়ার কথা।

মবনু : তারা তো এই গান দিয়ে ব্যবসা করছে, উচিত ছিলো আপনাকে রয়েলিটি দেওয়া।

শাহ করিম : আচ্ছা, ব্যবসাই করুক। (তিনি হাসেন)

নূর জালাল : দেয় বাবা, অনেকেই দেয়। এটা নিয়ম দেওয়া। রেডিও-তে যারা গান গায় সেখানে একটা গানে পাঁচ টাকা কেটে রাখা হয় সরকারিভাবে। যেমন সাউন্ড মিশিন একটা ক্যাসেট করেছে আমাদের অনুমতি নিয়ে। তারা আমাদেরকে প্রায় ত্রিশ-চলি¬শ হাজার টাকা দিয়েছে। আপনি গীতিকার হিসেবে এটা নিয়ম, আমাদেরকে টাকা দেওয়া। যে শিল্পীরা গায়, তারা যদি আমাদের হক্ব অনুযায়ী কিছু কিছু দিতো তবে আমাদের অর্থনৈতিক অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেতো।

মবনু : আপনাদের পারিবারে অর্থনৈতিক অনেক সমস্যা আছে, নূরজালাল ভাই তো আর কাজেও নয়। তিনি আপনার খেদমতে আছেন। টাকা পয়সার প্রয়োজন আছে না, পৃথিবীতে তো কিছুই টাকা ছাড়া হয় না। আপনার মতো সবাই তো আর দরবেশী জীবন কাটাতে পারবে না। এটার জন্য টাকার প্রয়োজন। আপনি যদি এভাবে বলেন যে, দিলে দেউক-নাইলে না, তবে চলবে কীভাবে?

নূর জালাল : বাবা যে সময়ের মানুষ সেই সময়ের মতো কথা বলছেন। ইদানিং কিছু দিন যাবৎ এই অবস্থা এসেছে যে, রয়েলিটি দিতে হয়। এরপূর্বে বাবা কেনো, আরও যত আছেন বাউল, তারা কেউই রয়েলিটির কথা ভাবতে পারেননি। তারা অনেকে জানতেনও না, বুঝতেনও না। তারা মনে করতেন, ওরা যে আমার গান গাচ্ছে-তাই ভালো। বাবাতো বলতে বলতে এমনও উদার কথা বলেন যে, তারা করিমের বদলে রহীম বললেও আমার কোনো আপত্তি নেই। বাবাতো সাগর।

মবনু : সেদিন গিয়েছিলাম ছেলে-মেয়ে-বউসহ ঢাকার নন্দন পার্কে। ভেতরে গিয়েই শোনলাম আপনার গান চলছে ক্যাসেটে। আমার ছেলে-মেয়েরা আপনাকে আমাদের বাসায় তো অনেক দেখেছে। আমি তাদেরকে আপনার গানের কথা শোনালাম। তারা খুব মন দিয়ে শোনলো। আমরা আরও অনেক জায়গায় দেখেছি, এখন আপনার গানের ব্যবসা জমজমাট। আমার প্রশ্ন হলো আপনি তার বিনিময়ে কি পাচ্ছেন?

নূর জালাল : এই যে ক্যাসেট (এম. কাওসারের ক্যাসেট) তার নামই আপনার গান দিয়ে-বসন্ত। এখানে আপনার ছবি দেখেই অনেক ভক্ত এই ক্যাসেট খরিদ করে নিবে। যে শিল্পী গেয়েছেন তিনি কিন্তু টাকা নিয়ে গেয়েছেন। যারা তা বের করেছে তারা কিন্তু ব্যবসা করছে। নিয়ম গীতিকারকেও একটা সম্মানী দেওয়া। এটার উপর যদি আমি এখন মামলা করি তবে তা বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের অনুমতি নিয়ে গান গাওয়া উচিত ছিলো। যারা এমনি গায় তাদের কাছে আমাদের কোনো দাবি নেই। কিন্তু যারা টাকা পাচ্ছে তাদের উচিত আমাদেরকে রয়েলিটি দেওয়া।

মবনু : চাচা, আপনার কি মত এ ব্যাপারে?

শাহ করিম : (হাসেন) আমার আবার মত কী? আমি তো বাজারে ছেড়ে দিয়েছি। এটাকে আপনি গাইবেন খুব সুন্দর করে, আরেকজনে গাইবে বেসুন্দর করে, আরেকজন গাইবে শুদ্ধতা করে, আকেরজনে গাইবে সত্য-মিথ্যা লাগিয়ে, আমি কিতা তারার লগে খাইজ্জা করতামনি?

মবনু : খাইজ্জা করার কথা বলছি না, কিন্তু আইনের ব্যাপরটা?

শাহ করিম : আইন আমি কার বাড়িতে গিয়ে কি খাটাবো? আমার গান যে গাইবে সে গান বুঝে। বুঝে যদি কেউ গায় এবং অন্য দু-জন শোনে যদি সন্তুষ্ট হয়, তবে সে আমার গান গাইবে।

মবনু : আপনি গান কোন উদ্দেশ্যে লিখেছেন, আপনার উদ্দেশ্য কী মানুষের গাওয়াটা?

শাহ করিম : আসলে আমি মূলত নিজে গাওয়ার জন্য গান লিখেছিলাম।

মবনু : আপনি নিজে গাওয়ার জন্য?

শাহ করিম : আমি গাইলে যদি আপনি শোনে একটা গেয়ে ফেলেন, ওনিও একটা গেয়ে ফেললেন, মোটকথা সবাই যদি গায় তবে ভালো। আমি তো সবাই গাওয়ার জন্য লিখেছি।

মবনু : তা হলে আপনার কোনো দাবি নেই?

শাহ করিম : না, আমার কোনো দাবি নেই।

নূর জালাল : আমি একটু কথা বলি বাবা, বাবা তো সত্যই বাদশা, সম্রাট, ঠিক না-তিনি সম্রাট? কিন্তু বাবার সৃষ্টিটা বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমার টাকার প্রয়োজন। আমার খুব ইচ্ছে ছিলো শাহ আব্দুল করিম রচনা সমগ্র একটা প্রকাশের। আমি শাহ আব্দুল করিম স্মৃতি সংসদ করার বিষয়েও চিন্তা করছি। বাড়িতে আছে একটা শাহ আব্দুল করিম সঙ্গীতালয়, এটার অনেক কাজ অসমাপ্ত অবস্থায় আছে। এখানে বি-বাড়িয়া, ময়মনসিংহ এবং ভাটি এলাকা থেকে অনেক লোক আসে গান শিখতে। কিন্তু আমি তাদের জন্য কোনো সুব্যবস্থা করতে পারছি না। একটু সুব্যবস্থা করতে পারলে অনেক ছাত্র আসতো এবং এখান থেকে গান শিখে শুদ্ধ সুরে প্রচার করতো। অনেক শিল্পীই বাবার গান গাচ্ছে ভুল। যেমন-‘বন্দে মায়া লাগাইছে’ এই গান গেয়ে আজ হাবীব ভাই, পলাশ প্রম

মন্তব্য ৪৯ টি রেটিং +৫/-৬

মন্তব্য (৪৯) মন্তব্য লিখুন

১| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:২২

ইমন সরওয়ার বলেছেন:
চমৎকার। পরে বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে রাখলাম।



ধন্যবাদ।

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৪৪

সৈয়দ মবনু বলেছেন: ধন্যবাদ, বিস্তারিত লিখলে খুশি হবো।

২| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৩২

সৈয়দ নাসির আহমেদ বলেছেন: প্রিয়তে রাখলাম
সময় করে পরে পড়বো,
ধন্যবাদ প্রিয় বাউলের সাক্ষাৎকার পোস্ট করার জন্য,

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:৪৫

সৈয়দ মবনু বলেছেন: ধন্যবাদ। পড়ার পর জানিয়ে দিবে কেমন হলো।

৩| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৩৯

সত্যান্বেষী বলেছেন: রাই, শ্যামকে নিয়ে গান লিখলেই বাউল হয়ে যায়? বাউল একটি সম্প্রদায় যার সদস্যগন কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম কানুন কিছু কঠোর সাধনার পরই বাউল হন। আব্দুল করিম কি সেই বিচারে বাউল বা বাউল সম্রাট? নাকি তাকে আখ্যা দেয়া আমাদের মাত্রাজ্ঞানের অভাবকেই স্ফুট করে তোলে?

৪| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৪৫

সত্যান্বেষী বলেছেন: নিচের ব্লগে তার বাউলত্ব নিয়ে কিছুটা আলোচনা রয়েছে। ঘুড়ে আসবেন।

Click This Link

৫| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৪৭

আহমদ ময়েজ বলেছেন:
@সত্যান্বেষী। প্রসঙ্গটা যখন আপনি উত্থাপনই করলেন, তাহলে আশা রাখি আলোচনাটা আরেকটু এগিয়ে নিবেন। বাউলের পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা আশা রাখি আপনার কাছ থেকে পাবো।

৬| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:৫১

সত্যান্বেষী বলেছেন: @আহমদ ময়েজ: ৪নং কমেন্টে দেয়া লিঙ্কটিতে দেয়া বক্তব্যটি দ্রষ্টব্য। ধন্যবাদ।

৭| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:০২

রাজর্ষী বলেছেন: ভালো লাগলো। আরো ভালো লাগতো যদি অপ্রসাংগিকভাবে ইকবাল ইকবাল না করতেন। উর্দু মহাকবির লগে আমি কোন সম্পর্ক দেখিনা আমাগো শিল্প, সাহিত্য আর গানের।

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:০৫

সৈয়দ মবনু বলেছেন: আপনার কাছে যা অপ্রাসঙ্গিক তা ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিক হয়ে যেতে পারে। সম্পর্ক বুঝতে হলে উর্দু এবং বাংলা সাহিতের মরমী ধারাকে পাশাপাশি রেখে পড়তে হবে। শব্দপাঠের জন্য আবু মকসুদ ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করুন।

৮| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:০৬

আহমদ ময়েজ বলেছেন:
না, সৈয়দ মবনুর সঙ্গে একমত হতে পারিনি। নিকনাম ধারণ করলেই সত্যগোপন বোঝায় না। অনেক নিকনাম রয়েছে ব্যক্তিত্বহীন। যারা কেবল গালাগালি করতেই কিংবা বিভ্রান্ত করতেই আসে। সত্যেন্বষককে এখন পর্যন্ত আমার সেরকম মনে হয়নি। আপনার কথা ফিরিয়ে নিন। তার সাথে আলাপচারিতা চালিয়ে যেতে ভালো লাগছে।

তিনি যে লিংকটি দিয়েছেন এধরণে অর্থহীন বাউল ব্যাখ্যা আমি বহু পড়েছি। এসব বক্তব্য হলো, অন্ধের হাতি দেখার মতো।
শাহ আবদুল করিমকে যে কেউ বাউল না বলতে পারে, এটা কোনো মৌলিক বিষয় নয়। মৌলিক বিষয় হলো, তিনি কতটা বাউল জীবন-যাপন করেছেন সেগুলো দেখা।
আপনি লক্ষ্য করবেন, বউল করিম সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে অনেকেই লেখেন যে 'তিনি যদিও অনেক এইস-সেইব' ইত্যাদি লিখেছেন। এই 'যদিও' কথাটায় আমার আপত্তি রয়েছে। তিনি অবশ্যই লিখেছেন প্রচুর দেহতত্ত্বের গান। কিন্তু বাউল তার জীবন থেকে অন্যসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারবে না এ ধরণের ধারণা হলো কেন? তিনি মানুষের কথা বলবেন, হাওর-জঙ্গলের কথা বলবেন কিংবা জীবজন্তু-পশুপাখি অথবা আধুনিক জীবনের অসারতার কথা উল্লেখ করবেন। এসব কেন করতে পারবেন না। বাউল মৌলবাদী কিংবা চরমপন্থা কিছু নাকি যে, সে অন্য কিছু সহ্য করতে পারবে না। বাউল অনুশীলনে স্থির কিন্তু চিন্তায় চিরবহমান। এটা যুগ থেকে যুগান্তরকে অতিক্রম করেই সে চির-অগ্রসমান।

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:১৬

সৈয়দ মবনু বলেছেন: বেয়দবি নিবেন না। নিক নাম আমি পছন্দ করি না তা আমার ব্যক্তিগত একটা বিষয়। প্রশ্ন যদি করেন কেন করি না তবে তা ঐতিহাসিক কারন। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক পাকিস্তানের দালালি করেও নিক নামের কারনে বেঁচে গেছেন। যেমন, কথা সাহিত্যিক শওকত উসমান, যিনি একাত্তরে আব্দুল আজিজ নামে পাকিস্তানিদের দালালী করেছেন এবং শওকত উসমান নামে স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধা সেজেছেন। এমনি আরো ঘটনা আছে। তাই আমি নিক নাম পছন্দ করি না। তবে আপনার বক্তব্যের সাথে আমার কোন সংঘাত নেই।

৯| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:৩২

সপ্ন বলেছেন: এক নিশ্বাসে পড়ে গেলাম । প্রিয়তে চলে গেল

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:১৭

সৈয়দ মবনু বলেছেন: ধন্যবাদ

১০| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৯:৫২

ফকির ইলিয়াস বলেছেন: আমি সত্তা আর সত্তাই আমি ।
আনা ( আমি ) আল হাক্ব ।

তা নিয়ে কথা চলতেই পারে।

তবে মূল মালিক হচ্ছে , যে আসল সত্যের ধারক।

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:২১

সৈয়দ মবনু বলেছেন: মনসুরের আনা আল হক্বের ভেতরেই ছিলো আল্লাহর অস্তিত্ব। যে নিজেকে জানে সে প্রভুকে জানের মধ্যেই এই আনা আল হক্ব। আমরা এটার ব্যাখ্যা নিজেরা নিজেদের জ্ঞান মতো করেছি।

১১| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:১৯

তরু বলেছেন: দারুণ লেখা। খবি ভালো লাগলো ভাই।

১২| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৫৪

শেখ সাজ্জাদুর রহমান বলেছেন:
তিনি নাস্তিক নন কিন্তু তার মুর্তি বানিয়ে তাকে দুযখে পুরানোর পায়তারা করা ঠিক নয়

১৩| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:২৮

মোনাবেস্ট বলেছেন: ভালো লাগলো।

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:২২

সৈয়দ মবনু বলেছেন: ধন্যবাদ

১৪| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩০

আবু মকসুদ বলেছেন:
মবনু ভাই আমার কাছে আস্তিক নাস্তিক প্রসঙ্গটি অবান্তর মনে হচ্ছে। আর আপনার সাথে আলাপেও পরিস্কার কিছু বেরিয়ে আসে নি। তিনি আপনার প্রশ্নের উত্তরে আস্তিকতার পক্ষে জোরালো কোন যুক্তি দেননি।
যেমন--
মবনু: এটা নূর জালার ভাইও দেখেছেন যে, একটি ম্যাগাজিন তা লিখেছে। এই বিষয় নিয়ে আপনার সাথে আমার আগে একবার আলোচনা হয়েছে, আমি দেখেছি যে, আপনি গানের মধ্যেও বারবার আল্লাহ রাসুলের কথা বলেছেন। আধ্যাত্মিক অনেক বিষয় আপনার গানে স্পষ্ট এসেছে।
শাহ করি : (হাসেন, শব্দ করেই হাসেন) আল্লাহ-রাসুলের কথা না বলে আপনি পির সাহেব, চুর সাহেব, ডাকাত সাহেব, মোটকথা কিছুই হতে পারবেন না। আপনি আল্লাহর পক্ষে, রাসুলের পক্ষে, আশিকের পক্ষে, বুজুর্গানের পক্ষে কথা বলতে হবে, বুঝতে হবে এবং নিজে মানতেও হবে। অন্যজন মানুক কিংবা নাই মানুক-আপনাকে অবশ্যই মানতে হবে। আমাকেও অবশ্যই মানতে হবে।
মবনু : খোয়াব নামক ম্যাগাজিনে যে তারা লিখলো, নূর জালাল ভাইয়ের ভাষ্যমতে তিনিও ছিলেন যখন তারা সাক্ষাৎকার নিয়েছে, তার বক্তব্য হলো আপনি এমন কোনো কথা বলেননি। তারা তাদের মনের ইচ্ছে মতো এ কথাগুলো তৈরি করেছে। আমি এই কথাগুলোর প্রতিবাদ করেছিলাম ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে আপনার সাক্ষাৎকার নিয়ে। এই যে আপনার সামনে গ্রন্থখানা, তারা আমার কাছে আপনার সম্পর্কে একটা লেখা চেয়েছিলো, আমি এই লেখাটি দিয়েছিলাম। এই বইয়ের সম্পাদক আমায় বললো, তার আড়ালে যারা বইটির জন্য মূলে কাজ করছেন তারা নাকি বলেছেন-করিম সাহেব এমন কথা বলেননি। আমি তাদেরকে বললাম-তিনি নিজে আমায় এ কথাটি বলেছেন।
শাহ আব্দুল করিম : (শব্দ করে আবার হাসেন) নাস্তিক হয়ে তুমি যাবে কোথায়? নাস্তিক হলে তো তুমি আল্লাহ বিরোধী, রাসুল বিরোধী, ধর্ম বিরোধী হয়ে গেলে। নাস্তিক হইবে না। (শাহ আব্দুর করিম তার অভ্যাস মতো জিকির করেন-ইয়া আল্লাহ, মুর্শিদ, মাওলা)।
মবনু : আমার মনে হচ্ছে আপনি এ কথা বলেননি যে আপনি নাস্তিক, ওরা তা বানিয়ে বলেছে?
শাহ করিম : হাসতে হাসতে তিনি বলেন-হ্যাঁ, বানিয়ে লিখেছে। আসল কথা হলো-তারা কিছু কথা আমার কাছ থেকে নিয়েছে, বাকি তারা বানিয়ে ফেলেছে। (তিনি আবার শব্দ করে হাসেন)

শাহ আবদুল করিম কিন্তু বলেন নি কোন কথা তিনি বলেছেন এবং কোন কথা তারা বানিয়ে লিখেছে। তাই আমাদের কাছে কিছুই পরিস্কার হচ্ছে না। আমি এবং আপনিও জানেন বাউলরা ভাবুক প্রকৃতির, বাস করেন ভাবের জগতে। আল্লাহ খোদা তাদের কতটা ভাবায় সেটা তারাই বলবেন, সব বাউলের ক্ষেত্রে অথবা ভাবুকের ক্ষেত্রে যেটা সত্য হচ্ছে তাঁরা মানব ধর্মকে প্রাধান্য দেন। একজন আবদুল করিমের প্রচলিত ধর্মে বিশ্বাস অবিশ্বাস খুব একটা জরুরী বিষয় মনে হচ্ছে না।

১৫| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:০৭

সৈয়দ মবনু বলেছেন: আবু মকসুদ ভাই আপনি আমার গুরুজন। আপনার বক্তব্যের পাল্টা বক্তব্য দিয়ে বেয়াদবী করতে আমার মনে খুব কষ্ট হচ্ছে। তবু কিছু কথা না বললে পাঠকদের প্রতি অবিচার হবে। আপনার বক্তব্যের প্রতি পূর্ণাঙ্গ সম্মান রেখে এখানে কিছু কথা বলতে চাই। আপনি লিখেছেনÑ‘মবনু ভাই আমার কাছে আস্তকি নাস্তকি প্রসঙ্গটি অবান্তর মনে হচ্ছ।ে আর আপনার সাথে আলাপে পরিস্কার কিছু বেরিয়ে আসে নি তিনি আপনার প্রশ্নরে উত্তরে আস্তকিতার পক্ষে জোরালো কোন যুক্তি দেননি।
আমি এখানে বলবো আপনার কাছে আস্তিক নাস্তিক বিষয়টি অবান্তর হওয়ার কারণ হয়তো শৈল্পিক চিন্তার বহিঃপ্রকাশ। আমিও এসব নিয়ে কথা বলতে চাই না। আপনি আমাকে যতটুকু জানেন হয়তো বিশ্বাস করবেন যে, ধর্ম-বর্ণ দর্শন চিন্তার উর্ধ্বে আমার একটা বিশাল বন্ধু মহল এবং আত্মার আত্মীয় গোটা বিশ্বে রয়েছে। আমি ওদের সবার সাথে প্রেম অনুভব করি। না, তাদের কারো সাথে আমার কোন সংঘাত হয় না। কারণ প্রেমের ক্ষেত্রে এসব অবান্তর। প্রেম হলো অন্তরের বিষয়। আমরা যে বস্তুটাকে ভাব বলি সেটাও প্রেমের বিষয়। প্রেম ছাড়া ভাব হয় না। এখন প্রশ্ন হলো প্রেম কি? আপনি যদি নগর লিটল ম্যাগে ‘সৈয়দ মবনুর প্রেম পত্র’ গুলো কিংবা আত্মার অনুবাদ কাব্যগ্রন্থ পড়ে থাকেন তবে দেখবেন আমি প্রেম নিয়ে আমার যোগ্যতানুসারে আলোচনা করেছি। তাই এ প্রসঙ্গে আমি এখানে আলোচনায় যাবো না। তবে প্রেমের ক্ষেত্রে আমরা বইÑপত্রের আলোচনা ফেলে দিয়েও যদি বিবেচনা করি তবে দেখবো তারও একটা ধর্ম আছে। প্রেম কিংবা ভাব ক্ষেত্র বিশেষ ভিন্ন হয়ে থাকে। প্রধানত প্রেম দু’প্রকারÑ১) প্রাকৃতিক, ২) যৌক্তিক। এই দুই প্রকার প্রেমের দীর্ঘ ব্যাখ্যায় আমি যাবো না। আমার বিষয়টা হলো শাহ আব্দুল করিম আস্তিক না নাস্তিক? না, এই বিষয়টা আমার কাছে কোন গুরুত্ব রাখে না। কারণ, এটা শাহ সাহেবের নিজস্ব ব্যাপার। যারা তাকে নাস্তিক প্রমানের জন্য প্রথম উদ্যোগ নিলেন তারা মূলত এই আলোচনার সূত্রপাত করেছেন। যারা এই সূত্রপাত করেছেন ওরাও আমার প্রিয় বন্ধুদের অন্যতম। আর যে ম্যাগাজিনে তা প্রকাশ হয়েছে এর সম্পাদক শুধু আমার বন্ধু নয়, ঘণিষ্ট আত্মীয়ও। আবার এই ম্যাগাজিন পড়ার পর যারা শাহ আব্দুল করিমকে নাস্তিক ভেবে ঘৃণা করতে শুরু করেছিলেন তারাও আমার খুব কাছের লোক। আর স্বয়ং শাহ আব্দুল করিম ছিলেন আমাদের পরিবারের সাথে বিভিন্ন কারনে জড়িত। শাহ আব্দুল করিমকে নিয়ে আজকের বিলাসি অনুষ্ঠানগুলোর ছবি পত্রিকায় দেখলে আমার স্মরণ হয় তাঁর অর্থনৈতিক কষ্ঠের দিনগুলোর কথা। না, তাঁর কিছু ভক্ত ছাড়া ওরা কেউ তখন তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়াননি। তখন যারা শাহ আব্দুল করিমের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন আজ সাংস্কৃতিক মাফিয়াচক্রের ধাক্কাধাক্কিতে ওরা মিডিয়ার তালিকায় নেই। শাহ আব্দুল করিমকে আমরা দেখেছি খুব কাছে থেকে সেই ছোটবেলা থেকে। তিনি কোনদিনও নাস্তিক ছিলেন না। আমার বন্ধুরা কেনো যে তাকে নাস্তিক বানানোর জন্য এত ব্যস্ত হয়ে উঠেলেন তা আমার বুঝে আসে না। তিনি প্রকৃতপক্ষে নাস্তিক হলে আমার কোন আপত্তি ছিলো না। কিন্তু যেহেতু পারিবারিকভাবে তাকে ছোটবেলা থেকে জানি তাই বিষয়টি আমাকে কষ্ট দেয়। আবার যারা তাকে নাস্তিক মনে করে ঘৃণা করতেন তাদের বক্তব্যেও আমি কষ্ট অনুভব করতাম। এখানেই হলো আমার বিপদ। তাই তাঁর একটা সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। যা বেশা আগে ‘আমি নাস্তিক নই’ শিরোনামে লন্ডনের নতুনদিন পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছিলো। পড়ে যখন শাহ করিমের কিছু গানের উপর আলোচনা করে এই লেখাটা একজনকে দিলাম তখন সে তাঁর গুরুদের পক্ষ থেকে আপত্তি জানালো। এখনও ছেলেটি আমার খুব প্রিয়ভাজন। তাঁর গুরুরাও আমার শ্রদ্ধাভাজন। উনাদের প্রতি আমার কোন রাগ নেই। কোন মানুষ যদি তার আদর্শের উপর অটল থাকে তাকে আমি শ্রদ্ধা করি । আমি ভণ্ডামী পছন্দ করি না। করিম চাচার গান-ই প্রমান করে তিনি নাস্তিক ছিলেন না। কিন্তু খোয়াবে তাঁর সাক্ষাৎকার পড়ে আমার কাছে মনে হলো তিনি আল্লাহ রাসুল নিয়ে এত গান লিখলেন, এগুলো কি তার ভণ্ডামী? আমি খুব কষ্ট পাই কোথাও ভণ্ডামী দেখলে। তাই বিষয়টি আমাকে আরো ভাবিত করে। আমি আহমদ শরিফকে সম্মান করি, তিনিও ঘোষিত নাস্তিক ছিলেন। আমার কথা হলো একজন মানুষ নিজে বলছে আমি নাস্তিক নই, তাকে কেনো আমরা নাস্তিক বানাতে যাই। এখানে আমি ধার্মিক এবং অধার্মিক সবাইকে বলছি। করিম নাস্তিক নয়, কেনো অধার্মিকরা তাঁকে নাস্তিক প্রচার করবেন? আবার ধার্মিকরা কেনো তাঁকে নাস্তিক ভেবে ঘৃণা করবেন? আমরাতো শিল্পকে দেখি শৈল্পিকভাবে সত্যের দৃষ্টিতে। এখানে সাদাকে যারা কালো করে তাদের পক্ষ আমরা যেমন নিতে পারি না তেমনি ‘নিরবতাই সম্মতির লক্ষন’ বলে অসত্য দেখেও নিরব থাকতে পারি না। আশা করি কবি আবু মকসুদ শৈল্পিক মন নিয়ে আমাকে এখানে সমর্থন করবেন? আর যেখানে কথা হলো ‘আর আপনার সাথে আলাপে পরিস্কার কিছু বেরিয়ে আসে নি। তিনি আপনার প্রশ্নের উত্তরে আস্তকিতার পক্ষে জোরালো কোন যুক্তি দেননি।’ ভাই পরিস্কার কিছু বেরিয়ে না আসলে মনে করে নিবেন এটা আমার অযোগ্যতা। তবে আমার বিশ্বাস, বুদ্ধিমানের জন্য ইশারাই যথেষ্ট। যেতটুকু বেরিয়ে এসেছে তা থেকে একজন পাঠক নিজের যোগ্যতা দিয়ে বাকী অংশ বুঝে নিবেন বলে আমি আশা করি। আর তিনি যে আস্তিকতার পক্ষে জোরালো যুক্তি দেননি, তা কি সঠিক? আবার পাঠের আমন্ত্রন রইলো। আপনি চাইলে আমি ই-মেইল করে দেবো আপনাকে। তা ছাড়া একজন কবি আর কতটুকু পরিস্কার করলে বিষয়টি পরিষ্কার হয় তা যদি শ্রদ্ধেয় আবু মকসুদ ভাই বলে দিতেন তবে আমি খুশি হইতাম। আপনি আমার গুরুজন। আপনার সাথে তর্কে যেতে চাই না। ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর দয়া করে শাহ আব্দুল করিমের গানগুলোর প্রতি একটু দৃষ্টিপাত করবেন। আপনি একজন কবি। আপনাকে বুঝানোর কোন প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। করিম চাচার গান পড়লেই বুঝবেন তিনির স্পষ্ট বক্তব্য। আমরা যারা গান, কবিতা লিখি তা কি অন্তর থেকে নয়? কবিতা, গান কি আত্মার অনুবাদ নয়? শাহ করিম নাস্তিক হলে এত আল্লাহÑরাসুল বলতে গেলেন কেন? আমি তর্কে যেতে চাই না। আমি চাই আমার করিম চাচার গান পড়ে বিবেচনা করবো তিনি কি বলতে চেয়েছেন। আশা করি কবি আবু মকসুদ আমার উপর রাগাম্বিত হবেন না।
এখন কথা হলো আবু মকসুদ ভাই, আপনার বক্তব্য হলোÑ‘শাহ আবদুল করমি কন্তিু বলনে নি কোন কথা তিনি বলছেনে এবং কোন কথা তারা বানিয়ে লিখেছে। তাই আমাদের কাছে কিছু পরিস্কার হচ্ছে না।
কবি আপনি জানেন, প্রশ্নের সাথে উত্তর হলে শুধু হ্যাঁÑকিংবা না বলে দিলে ক্রিয়া পূর্ণাঙ্গ হয়ে যায়। যেমন, কেউ আপনাকে প্রশ্ন করলোÑআপনি কি গতকাল লন্ডন থেকে বার্মিংহামে এসেছিলেন? আপনি উত্তর দিলেনÑনা। এই হয়ে গেলো। আমি জানি আপনাকে ব্যাকরনের এই নিয়ম বলে দেয়ার কোন প্রয়োজন নেই। আপনি সবই জানেন। মাফ করবেন। আপনি এই নিয়ম মাথায় রেখে যদি সাক্ষাৎকারটি আবার পাঠ করেন তবে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।
আপনি বলেছেন ‘আমি এবং আপনওি জাননে বাউলরা ভাবুক প্রকৃতরি, বাস করনে ভাবরে জগত।ে আল্লাহ খোদা তাদরে কতটা ভাবায় সটো তারাই বলবনে, সব বাউলরে ক্ষত্রেে অথবা ভাবুকরে ক্ষত্রেে যটো সত্য হচ্ছে তাঁরা মানব র্ধমকে প্রাধান্য দনে।
আবু মকসুদ ভাই, প্রথমে আমাদেরকে চিহ্নিত করতে হবেÑবাউল কি? ভাব কি? ভাবের সংজ্ঞা কি? ধর্ম কি? আস্তিকতা এবং নাস্তিকতা কি? এবং মানবধর্ম বলতে কি বুঝায়? আমি আপনার সাথে একমত যে, বাউলরা ভাবুক, তারা বাস করেন ভাবের জগতে। আল্লাহÑখোদা তাদেরকে যতটুকু ভাবায় তারা তাই বলেন।’ আপনার এই বক্তব্য নিয়ে আমরা যদি শাহ আব্দুল করিমের গান বিবেচনা করি তবে বলতে হবে আল্লাহÑখোদা তাকে প্রচুর ভাবিয়ে রাখতো। যাকে আল্লাহÑখোদা ভাবিয়ে রাখতো তাকে নাস্তিক বলবেন কোন যুক্তিতে? তাই প্রশ্ন হলোÑনাস্তিকতার সংজ্ঞাটা কি? আর এখন প্রশ্ন হলো মানব ধর্ম নিয়ে। আমি এখানে বিতর্কে যেতে চাই না। শুধু আপনার কাছে জানতে চাইবোÑপৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষ আস্তিক না নাস্তিক? নিশ্চয় আপনি স্বীকার করবেন আস্তিক। তা হলে মানব ধর্ম আস্তিকতা নয় কি? তাই আমরা বলি শাহ আব্দুল করিম মানব ধর্মে ছিলেন। তিনি আস্তিক ছিলেন।

১৬| ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:০৭

আবু মকসুদ বলেছেন: মবনু ভাই আমি শাহ্‌ আবদুল করিমকে জোর করে নাস্তিক কিংবা আস্তিক বানাতে রাজী নই। তিনি কমিনিউষ্ট হউন, না হলেও আমার কোন আপত্তি নেই। মৃত্যুর পরে কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে যা হয়েছিল (জোর করে মুসলমান বানানো) বাউল করিমকে নিয়ে তাই হউক তা আমার কাম্য নয়। তাঁর ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে তর্ক প্রতর্ক না করে তাঁর কর্ম নিয়ে আমরা কথা বলতে পারি। আমি মনে করি ভবিষ্যতে তিনি ধর্ম বিশ্বাসে পরিচিত হবেন না, কর্মে পরিচিত হবেন, লালনের ক্ষেত্রে যা হয়েছে। আপনাকে ধন্যবাদ।

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:২৭

সৈয়দ মবনু বলেছেন: আপনি আস্তিক কিংবা নাস্তিক বানাবেন কেনো? তিনি যা আছেন তাই তাকে থাকতে দিতে হবে। যারা তাকে নাস্তিক বানাতে চায় তারা ভুল করছে তাকে জোর করে নাস্তিক বানানোর প্রচেষ্টায়। তার ধর্ম নিয়ে তর্ক করার কোন প্রয়োজন নেই। তাঁর কর্ম (গান)- প্রমান দেয় কি ছিলেন।

১৭| ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৩১

কাজল রশীদ বলেছেন:
বাউল ,নাস্তিক, আস্তিক মৌলবাদ, প্রগতিশীল বিতর্ক পামারদের কাজ।


আপনার পোষ্টটি ভালো লাগলো।

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:২৯

সৈয়দ মবনু বলেছেন: ধন্যবাদ ভালো লাগার জন্য। আমি মনে করি তর্ক ভালো, কুতর্ক ভালো নয়।

১৮| ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:১৪

ত্রিশোনকু বলেছেন: পোস্টটি ভাল লেগেছে ।


তবে,

সত্যান্বেষীর সত্যানুসন্ধান সঠিক। তিনি কখনও বাউল ছিলেন না।

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৩১

সৈয়দ মবনু বলেছেন: ভাই বাউলের সজ্ঞা কি একটু লিখে জানাবেন।

১৯| ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৫৫

আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
চমৎকার লেখা ।


(অফ টপিক, কিম্বা হয়তো টপিকও !)

"আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক পাকিস্তানের দালালি করেও নিক নামের কারনে বেঁচে গেছেন। যেমন, কথা সাহিত্যিক শওকত উসমান, যিনি একাত্তরে আব্দুল আজিজ নামে পাকিস্তানিদের দালালী করেছেন এবং শওকত উসমান নামে স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধা সেজেছেন। এমনি আরো ঘটনা আছে।"


বিষয়টা ব্যাপক কৌতূহলোদ্দিপক ! শওকত ওসমান বিষয়ে আপনার দেয় তথ্যের জোরালো কোন সূত্র থাকলে দিয়েনতো, আমরা যারা শওকত ওসমানের লেখা পছন্দ করি, তাদের জন্য কাজ দিবে ।

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৩৪

সৈয়দ মবনু বলেছেন: তাঁর জীবনী খুঁজলেই পাবেন। আমি বর্তমানে একটু দেশের বাইরে আছি। আগামী মাসে দেশে ফিরবো। সূত্রগুলো আপনাকে জানিয়ে দেবো। আর আপনিই পেয়ে যাবেন্ খুঁজে দেখুন একাত্তরে তিনি কোথায় ছিলেন? কী করতেন? নাম কবে পরিবর্তন করেছেন? এবং কেনো?

শওকত ওসমান আমারো প্রিয় গল্পকার।

২০| ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩৫

মুসতাইন জহির বলেছেন: আপাতত শোকেসে রাখলাম। ম্যালা কথা বইলা ফেলছেন।

মধ্যবিত্তের তামাশা দেইখা টায়ার্ড হইয়া যাইতেছি। কাইরে নিয়া মিড়িয়া মাতামাতি করলে আর ব্যবসার ধান্ধা থাকলে দ্রুতই তাঁর নামের আগে 'সম্রাট' বইসা যায়।

০১ লা অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১০:০০

সৈয়দ মবনু বলেছেন: ভাইরে, মিডিয়ায় পাওনের আগেই আব্দুল করিম বাউল সম্রাট উপাধি পাইছেন জনগনের কাছ থাইক্কা। টায়ার্ড হইলে আইয়েন বিশ্রামের দাওয়াত রইলো। শোকেস থাইক্কা বের কইররা পড়নের পর জানাইয়েন কেমন হইলো। ম্যালা কথা বলনের জন্য দুঃখিত।

২১| ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৪

'লেনিন' বলেছেন: পোস্টটি দীর্ঘ হওয়ায় মাঝে স্পেস দিয়ে প্যারা করে দিলে ভালো হয়। পড়তে গিয়ে ক্লান্ত হতে হয়।

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৮:০২

সৈয়দ মবনু বলেছেন: বিস্তারিত পড়ার জন্য দেখুন
WWW. syedmobnu.com

২২| ০১ লা অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:১২

ত্রিশোনকু বলেছেন: "ভাই বাউলের সজ্ঞা কি একটু লিখে জানাবেন।"

লিখে জানাচ্ছিঃ

বাউল একটি ধর্ম, একটা জাত, একটা জীবন ধারা। ধর্মীয় বিশ্বাস তাদের ইসলাম ধর্ম থকে ভিন্ন। তাদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান (ritual ) এক্কেবারেই নিজস্ব। তাদের একটা বয়সে এসে দীক্ষা নিতে হয়। তাদের সংগিনী তাদের সাধনার অংশ। গান তাদের সৃষ্টিকর্তার কাছে পৌছুবার মাধ্যম।

এসব বিচারে শাহ আবদুল করিম কখনো বাউল ছিলেন না। যেমন কুরআনের প্রথম বাংলা অনুবাদক "ভাই গিরীশ চন্দ্র" কখনোই ছিলেন না মুসলিম।

০১ লা অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:৪৮

সৈয়দ মবনু বলেছেন: এটাতো আপনাদের বানানো সজ্ঞা।বাউলরা এই সজ্ঞার বিশ্বাস করেন না। শাহ আব্দুল করিম বাউল ছিলেন না, এটা আপনার বক্তব্য। কেউ যদি কবি রবীন্দ্রনাথকে যিনি বিশ্ব কবি মানেন না, তিনির হয়তো যুক্তি আছে এবং যুক্তি থাকতেই পারে। তাঁর যুক্তিকে আমি অশ্রদ্ধা করবো না। আপনার যুক্তিকেও অশ্রদ্ধা করবো না। তবে আপনার বক্তব্যই যে একমাত্র সত্য তা স্বীকার করা যাবে না। আপনি কিছু বাউলের তালিকা বলুন, এবং তাদের জীবন এবং কর্ম বিশ্লেষন করে বলুন শাহ আব্দুল করিম বাউল নয় কেনো। বাউল কোন পৃথক ধর্ম নয়, পৃথক জাত নয়, পৃথক জীবন ধারা নয়। এখানে অভিন্নতার মধ্যে আপনি যে ভিন্নতা দেখেন তা শুধু আপনার চশমার রং। মানুষের একের সাথে অন্যের ভিন্নতা থাকেই। এই ভিন্নতার মধ্যে থাকে অভিন্নতা। বাংগালী একটা ভিন্ন জাতি। বাংগালীর মধ্যে হিন্দু_মুসলিম_বৌদ্ধ_খৃষ্টান সবই আছে। আবার বাউল একটা গোষ্ঠি, যেখানে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খৃষ্টান আছে। বাউলের ভাষা-ধর্ম- বর্ণ-রাষ্ট্র ভিন্ন হতে পারে। বাউল খুব ধার্মিক কিংবা অধার্মিক হতে পারেন। এর সাথে ধর্মের কোন সংঘাত যেমন নেই তেমনি নেই বন্ধুত্ব। এটা তার নিজস্ব গতিতে চলে। বাউলদের কোন সংবিধান কিংবা আইন বই কেই। বাউলরা এগুলোর বিশ্বাসও করেন না। বই পড়ে বাউলের সজ্ঞা খুজতে গেলে ভুল করবেন। আসুন বাউল সমাজে। মিশে দেখুন তাদের ধর্ম এবং জীবন।

২৩| ০১ লা অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:৪১

রণদীপম বসু বলেছেন: মনে হচ্ছে আপনার উদ্দেশ্যমূলক মিশন ছিলো শাহ আবদুল করিম-কে ধর্মের চাদরে মুড়ে দেয়ার। নইলে বারে বারে 'খোয়াব'-এ দেয়া সাক্ষাতকারের প্রসঙ্গ নিয়ে আপনার প্রশ্নগুলো আবর্তিত হতো না।
অথচ আমার পড়া এ যাবৎ শাহ করিমের সবগুলো সাক্ষাৎকারের মধ্যে 'খোয়াব'-এ দেয়া সাক্ষাতকারটাই খুব উল্লেখযোগ্য মনে হয়েছে, যেখানে শাহ আবদুল কবিম যথার্থ উপস্থাপিত হয়েছেন।
আগ্রহী পাঠকের জন্য 'খোয়াব'-এ দেয়া সেই সাক্ষাৎকারের লিঙ্ক দেয়া হলো : Click This Link

০১ লা অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:১০

সৈয়দ মবনু বলেছেন: উদ্দেশ্যমূলকভাবে কেউ কাউকে নাস্তিক বানাতে চাইলে সততার খাতিরে জবাব দিতে হয়। শাহ করিমের সবগুলো সাক্ষাৎকারের মধ্যে 'খোয়াব'-এ দেয়া সাক্ষাতকারটাই খুব উল্লেখযোগ্যই শুধু নয় উন্নতও তাতে কোন সন্দেহ নেই। এই সাক্ষাতকার যারা নিয়েছেন তারা আমার বন্ধু। তারা সবাই প্রতিষ্ঠিত লেখক। তারা অনুন্নত কিছু করতে পারেন বলে আমার মনে হয় না। কিন্তু তারা করিমকে কেনো যে নাস্তিক বানানোর চেষ্টা করলেন তা আমার নিজেরই বুঝে আসছে না। এমনও হতে পারে যে করিমের ভাবের কথার ফাঁকে তারা ভুল বুঝেছেন। আমি বলছি না করিম আস্তিক কিংবা নাস্তিক ছিলেন। করিম নিজেই বলছেন তিনি নাস্তিক নয়। আস্তিক কিংবা নাস্তিক হলো যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমার প্রশ্ন করিম যে কথা খোয়াবকে বললেন সেকথা আমাকে কেনো বললেন না। আমার কাছে তার বক্তব্য রেকর্ড করা আছে। করিম মুসলমান হলে আমি তাকে নাস্তিক বানাতে যাবো কেনো আবার করিম নাস্তিক হলে আমি তাকে মুসলমান বানাতে যাবো কেনো। যে যা আছেন আমি তাকে তা রাখতে বিশ্বাস করি। আমি রাজনীতি করি না। আমার কাছে সাদা সর্বদাই সাদা। কালো সর্বদাই কালে। আসুন আমরা দল ভিত্তিক, গ্রুপ ভিত্তিক সাহিত্য চর্চা ছেড়ে সত্য-সুন্দর ভিত্তিক সাহিত্য চর্চা করি। আপনি খোয়াবের কথা বিশ্বাস করতে পারেন। আমি যদি করিমের সাথে কথা না বলতাম তবে আমিও বিশ্বাস করতাম। বরং আপনা থেকে বেশি বিশ্বাস করতাম যেহেতু খোয়াবের সম্পাদক থেকে সাক্ষাত গ্রহণকারি সবাই আমার আপনজন, বন্ধু এবং আত্মীয়। হয়তো আমি তাদেরকে আপনার থেকে বেশি জানি। আপনার নামটা আসল না নকল তা আমি জানি না। নকল হলে আমি আপনার সাথে কথা বলতে অনাগ্রহী। নকল জিনিষ আমি পছন্দ করি না।

২৪| ০১ লা অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:৫৪

ত্রিশোনকু বলেছেন: আরেকটি কথা। ভিক্ষাবৃত্তি বাউল ধর্মের একটি অতি উল্লেখযোগ্য আচার।
ভিক্ষে করা তাদের জন্যে অবশ্য কর্তব্য (ফরজ)।

____________________________________________

অনেক দিন আগে (সত্তুরের দশকে) কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে কুষ্টিয়ায় বাউল আখড়ায় চলে যেতাম বাড়ি যাবার নাম করে। থাকতাম তাদের সাথে একসাথে ৭ দিন/১০ দিন /১৫ দিন। বার বার যেতাম। উইক এন্ডেও দেড় দিনের জন্যে গেছি বহুবার(কর্ম স্থল থকে কাছে ছিল)। নিজের আত্মার আত্মিয়ের মত করে মিশেছি। আপনাদের যদি এখনও সন্দেহ থেকে থাকে যে শাহ আবদুল করিম বাউল ছিলেন আমি আপনাদেরকে অনুরোধ করবো লালনের আখড়ায় চলে যান, অন্তত পক্ষে সাতটা দিন তাদের সাথে বাস করেন (পরিদর্শন বাংলোয় না থেকে)। তারপর এব্লগে বসে লিখুন শাহ আবদুল করিম বাউল ছিলেন কিনা।

০১ লা অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:২৫

সৈয়দ মবনু বলেছেন: ভাই সাতদিন, দশদিনে কি বুঝবেন? আমি ইংল্যান্ডের মায়া ছেড়ে বাউলকে বুঝতে বাংলায় পূর্ণাঙ্গরূপে গিয়েছি। নদিয়ার সভ্যতা আমি বুঝতে চেষ্টা করছি। লালন গবেষক ফরহাদ মজহারের সহবতেও গিয়েছি। আর শাহ করিম শুধু নয়, সিলেট অঞ্চলের বাউলদের সাথে আমার আদি সম্পর্ক চার পুরুষের। তা ছাড়া এই ধারার উর্দু, হিন্দি, ফার্সী কবিদের নিয়েও পড়তে চেষ্টা করেছি। কিন্তু আপনি যা বলছেন তার সাথে লালন কিংবা সিরাজ শাই-এর ও মিল নেই।

২৫| ০১ লা অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:১৮

রণদীপম বসু বলেছেন: নকল হইতে সাবধান ! http://hi.im/ranadipam

০১ লা অক্টোবর, ২০০৯ রাত ২:২৭

সৈয়দ মবনু বলেছেন: নকল নয় জেনে খুশি হলাম।

২৬| ০১ লা অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৯:৪২

সৈয়দ হিলাল সাইফ ছড়াকার বলেছেন: বাউল আব্দুল করিম গায়............

বাউলা কে বানাইলরে হাছন রাজারে..........

এই দু লাইন দুই বাউলের।
আব্দুল করিম হাছন রাজা বাউল নন
একথা কজন আউলের।
কতো মণ গাঁজা খেলে বাউল হয় জানিনা তবে,
আব্দুল করিম বাউল সম্রাট।

পড়ে ভলো লাগলো ।ভালো লেখা।

০১ লা অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৯:৫০

সৈয়দ মবনু বলেছেন: ধন্যবাদ ছড়াকার হিলাল সাইফকে এই ছান্দিক মন্তব্যের জন্য।

২৭| ০১ লা অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০৮

ত্রিশোনকু বলেছেন: "এটাতো আপনাদের বানানো সজ্ঞা।"

-আমি কোন সংগা দেই নি। '৭০ এর দশকে তাদের সাথে থেকে তাদের যা করতে দেখেছি তারই বনর্না দিয়েছি আমি। এটা শুধু মাত্র আমার পর্যবেক্ষন, নিজের বানানো বা নিজের বিশ্বাসের কোন ব্যাপার এখানে নেই।

আমার দেখা ও বোঝা বাউল দর্শন যা আমি আপনাকে তাই জানালাম।

আমি বলেছিলাম এক নাগারে ৭ দিন ১০ দিন ১৫ দিন। সে রকম কত গুচ্ছদিন আমি তাদের সাথে পার করেছি তার হিসেব আমার কাছে নেই।

আমি সিরাজ সাই বা লালন শাহএর জীবন নি্য়ে গবেষনা করিনি। জীবিত বাউলদের জীবন ধারা তাদের সাথে নিবিড়ভাবে মিশে অনুধাবন করার চেষ্টা করেছি মাত্র।

গবেষক ফরহাদ মজহারের প্রসংগে এখানে আর বলতে চাচ্ছিনা। প্রসংগান্তরে চলে যাব এবং আলোচনা ভয়াবহভাবে প্রলম্বিত হবে। তিনি স্ব মহিমায় দীপ্ত। শুধু বলে রাখি আপনার ১০টি শব্দের মুখের কথা গবেষক ফরহাদ মজহারের সারা জীবনের গবেষনার চেয়ে মুল্যবান।

ভাল থাকুন।

০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৯:৪১

সৈয়দ মবনু বলেছেন: আমি বলছি না আপনি বুঝতে চেষ্টা করেননি। ভাই একটা কথা বলি--- অধ্যাপক মার্কা গবেষকদের সাথে প্রকৃত বাউলদের ব্যবধান হলো কৃষক আর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিন্সপালের মতো। কিংবা শহরে যারা বিলাসিতা করে ফাইভস্টার বাড়িতে কৃষকের ছবি ঝুলিয়ে রাখেন কিন্তু একজন নিকটাত্মীয় কৃষককে বাড়িতে প্রবেশ করতে দেন না, এরই মতো। আমি বলছি না যে মৃত বাউলদের জীবনী পড়ে বাউল সম্পর্কে জানতে। জীবিত বাউলদের সাথে মিশেই জনতে হবে। একেক অঞ্চলের বাউলদের আবার একেক চরিত্র। শাহ আব্দুল করিম কেনো বাউল নয় তা কিন্তু আপনি বলেন নি।

২৮| ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৫

ত্রিশোনকু বলেছেন: "শাহ আব্দুল করিম কেনো বাউল নয় তা কিন্তু আপনি বলেন নি"


-বলেছি। আবার বলছি:

বাউল একটি ধর্ম, একটা জাত, একটা জীবন ধারা। ধর্মীয় বিশ্বাস তাদের ইসলাম ধর্ম থকে ভিন্ন। তাদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান (ritual ) এক্কেবারেই নিজস্ব। তাদের একটা বয়সে এসে দীক্ষা নিতে হয়। তাদের সংগিনী তাদের সাধনার অংশ। গান তাদের সৃষ্টিকর্তার কাছে পৌছুবার মাধ্যম।

শাহ আবদুল করিমকে উপরের ছাঁচে ফেলা যায় কি?

এসব বিচারে শাহ আবদুল করিম কখনো বাউল ছিলেন না। যেমন কুরআনের প্রথম বাংলা অনুবাদক "ভাই গিরীশ চন্দ্র" কখনোই ছিলেন না মুসলিম।

১৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৯:২৪

সৈয়দ মবনু বলেছেন: আপনি কোন চশমায় কোথায় থেকে কি ভাবে কি দেখছেন তা আপনার ব্যক্তিগত বিষয়। আপনার ব্যক্তিগত মতামতকে সম্মান জানিয়ে বলছি_শাহ আবদুল করিম একজন প্রকৃত বাউল ছিলেন। তাই তিনি বাংলার বাউল সমাজের কাছে বাউল সম্রাট হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছেন।

২৯| ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:১৯

শাহরিনা রহমান বীথি বলেছেন: শাহ আব্দুল করিমের সাক্ষাৎকার পড়লাম। আমার কাছে মনে হলো অনেকে বাউলদ-মরমীদের কথার মর্মবাণী না বুঝে যখন শুধু গানের শব্দার্থ ব্যাখ্যা করেন তারা বিভ্রান্ত হতেই পারেন। আমি সিলেটের এক মরমিয়া ঘরের মেয়ে হিসেবে বিষয়টাকে অনুভব করতে পারি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.