নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বিষন্নতা

সাদ আমান

মনে ভাবিলাম মোরে ভগবান রাখিবে না মোহ গর্তে। তাই লিখে

সাদ আমান › বিস্তারিত পোস্টঃ

ড. জাফর ইকবাল স্যারের শুভ জন্মদিন আজ

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ৯:৪৯

আজ ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের জন্ম দিন। তিনি
১৯৫২ সালের এই দিনে সিলেটে জন্মগ্রহন
করেন।
তিনি একাধারে শিক্ষক,পদার্থবিদ,,মুক্তিযোদ্ধা
,মুক্তিযোদ্ধা গবেষক,লেখক,কলামিষ্ট ও একজন
বিজ্ঞানী।
স্যার ব্যক্তিজীবনে ১ স্ত্রী ২ সন্তানের জনক।
তার স্ত্রীর নাম ড. ইয়াসমীন হক, ছেলে নাবিল
ইকবাল ও মেয়ে ইয়াশিম ইকবাল।
স্যার ছোট বেলায় একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।
তিনি ড্রোন নিয়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহীনির উপর
ঝাপিয়ে পড়বেন এমন চিন্তা করেছিলেন,কিন্তু
ড্রোন নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ার আগেই দেশ
স্বাধীন হয়ে যায়।
স্যার এখনো এই দেশের মৌলবাদী,জামাতি,
হেফাজতি জঙ্গী সংগঠন গুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ
করে যাচ্ছেন।
স্যারের সব চেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন সফল
সাহিত্যক। বাংলা সাহিত্য তার কাছে অনেক ঋনী।
স্যারের লেখা বিশেষ করে সাইন্স ফিকশান গুলো
সারা বিশ্বে এত জন প্রিয়তা পেয়েছে যে বিভিন্ন
দেশের নামি দামী লেখক্গন তার লেখা চুরি করে।
নিচে কিছু তার উদাহরন দিচ্ছি।
১) স্যার " অবনীল " নামক একটি বই প্রকাশ করেন
২০০৪ সালে। আর বইটি হবুহ নকল করে ২০০০
সালে জিম হুইট আর কেন হুইট নামে দুই ভাই মিলে "
পিচ ব্লাক " নামে একটি হলিউডের সিনেমা বানিয়ে
ফেলেন।
২) স্যার ১৯৯৯ সালে আরেকটি বই লেখেন " নিতু
তার বন্ধুরা "। স্যারের এই বইটা নকল করে দানি
দেভিতো নামে এক ভদ্র লোক " ম্যাটিল্ডা "
নামে এক হলিউডের সিনেমা বানিয়ে ফেললেন
১৯৯৪ সালে। ছবিটি বাজেটের চেয়ে ৬৫ কোটি
ডলার বেশি নিজের পকেটে ঢুকিয়েছেন অথচ
স্যারকে একটি টাকাও দিলেন না।
৩) ঠিক তেমনি স্যারের ২০০৫ সালে বের হওয়া "
আমি তপু " ১০ বছর আগে ১৯৯৫ সালে ডেবিড
পেলজার নামে আমিরিকান এক সাহিত্যক নকল
করেন। তার বইটির নাম দেন " আ চাইল্ড কল্ড ইট "
৪) স্যারের ২০০০ সালে বের হওয়া " মেকু কাহিনী
" বইটি নকল করে ১৯৯৪ সালে প্যাট্রিক রিড জনসন
নামে এক হলিউডের পরিচালক বানিয়ে ফেললেন
বিশ্ব বিখ্যাত শিশুতোষ ছবি " বেবিজ ডে আউট "
৫) একই ভাবে স্যারের ১৯৮৮ সালে ট্রাইটন একটি
গ্রহের নাম বইটি নকল করে ১৯৭৯ সালে বের করা
হয় " এলিয়ন "।
সারা বিশ্ব স্যারের বই নকল করে এ জন্য স্যার তিন
তিন বার সাহিত্যে নোবেল পেলেও তিনি তা
প্রত্যাখান করেন।
২০১৪ সাল একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে
বাংলাদেশের জন্য। এই বছরই স্যার বাংলাদেশে
প্রথম আবিষ্কার করেন দ্রুত গতি সম্পন্ন ড্রোন।
পেন্সিল ব্যাটারী চালিত এই ড্রোন ভুমি থেকে ১
হাজার মিলি মিটার উপরে উড়তে সক্ষম। আমেরিকার
পেন্টাগন স্যারের এই ড্রোন কিনতে চাইলে
স্যার দেশের স্বার্থে তা বিক্রি করতে চান নি।
তবে এ বছরের শেষের দিকে আনসারুল্লাহ বাংলা
টিম নেমে এক জঙ্গী সংগঠন স্যারের এই
ড্রোন চুরি করলে সরকারের চৌকস গোয়েন্দা
টিম তা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
স্যার অনেক সামাজিক, মানবাধিকার ও কল্যানমুলক
সংগঠনের সাথে জড়িত, স্যার বিশেষ করে নারী
অধিকার সংগঠনের হয়ে কাজ বেশি করেন।তিনি
নারীদের অনেক সম্মান দেন ভালবাসেন। এ জন্য
তিনি কোন ছাত্রের সাথে সেলফি ও ফটো
সেশনে অংশগ্রহন করেন না। তিনি কোন
ছেলেদের নাচেও যুক্ত হন না।
স্যারের আজকের জন্মদিনে অনেক অনেক
বেলুন ও মোমবাতির শুভেচ্ছা।তার দীর্ঘায়ু কামনা
করছি।

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ৯:৫৯

আমি আবুলের বাপ বলেছেন: স্যারের মুক্তিযুদ্ধের অংশগ্রহনের প্রমান।


“... ডিসেম্বর মাসে যখন 'শেষ যুদ্ধ' শুরু হয়েছে তখন আমি যাত্রাবাড়ীতে এক দূরসম্পর্কের মামার বাসায়। ঢাকার আকাশে জঙ্গি বিমানের ডগ ফাইট দেখে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। সারা রাত এন্টি এয়ার ক্রাফটের গুলিতে আকাশ উজ্জ্বল হয়ে থাকে, রেডিওতে খবর শুনতে পাই মিত্রবাহিনী আর মুক্তিবাহিনীর সৈন্যরা ঢাকার দিকে এগিয়ে আসছে। যাত্রাবাড়ীতে যেখানে থাকি সেখান থেকে শেলিংয়ের শব্দ শোনা যায়, কাছেই রাস্তা, ঘরে বসে রাস্তার দিকে তাকিয়ে দেখি আর্মি কনভয় যাচ্ছে এবং আসছে। একদিন দেখলাম কয়েকটা ট্যাঙ্ক গুটগুট করে যুদ্ধ করতে যাচ্ছে।
মামার ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের চোখেমুখে যুদ্ধের উত্তেজনা, আমি সবাইকে নিয়ে বসে থাকি। রেডিওতে খবর শুনে কী হচ্ছে বোঝার চেষ্টা করি। বাইরে বের হওয়া যায় না, কারফিউ দিয়েছে কী না জানি না, কিন্তু এত মিলিটারির যাতায়াত কেউ সাহস করে বের হচ্ছে না। মাত্র একদিন আগে রাতের বেলা রাস্তায় গোলাগুলির শব্দ শুনেছি, সকালে দেখি রাস্তার পাশে একটা বেবিট্যাক্সি দাঁড়িয়ে আছে। বেবিট্যাক্সির ভেতরে একজন মৃত প্যাসেঞ্জার, তার দুই পা বের হয়ে আছে। মানুষকে মেরে ফেলা তখন কোনো ব্যাপার নয়, বেঁচে থাকাটাই একটা রহস্যের মতো।
যখন শেলিংয়ের শব্দ খুব বেড়ে গেল এবং আশেপাশে শেল এসে পড়ছে এ ধরণের সংবাদ আসতে শুরু করলো তখন আমার মামা বললেন, 'যখন 'আসল যুদ্ধ' শুরু হবে তখন ভয়ঙ্কর ব্যাপার হবে। বাসার সামনে একটা ট্রেঞ্চ কাটা যাক।'
আমাদের কারোই ট্রেঞ্চ কাটার পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই, কিন্তু তাতে কেউ নিরুৎসাহিত হলো না, বাসার সামনে একটা ট্রেঞ্চ কাটা হলো এবং সেটাকে ট্রেঞ্চের মতো না দেখিয়ে একটা কবরের মতো দেখাতে লাগলো। উপরে টিনের ছাউনি, সেখানে মাটিচাপা দেওয়া, ঢোকার এবং বের হওয়ার জন্য একটা ছোট গর্ত। যখন গোলাগুলি এবং শেলিংয়ের শব্দ অসহ্য মনে হয় তখন দূরন্ত বাচ্চাগুলোকে নিয়ে সেখানে বসে থাকি। এখনো 'আসল যুদ্ধ' শুরু হয়নি, যখন সেটি শুরু হবে তখন কী হবে সেটি নিয়ে সবার ভেতরেই উত্তেজনা এবং জল্পনা কল্পনা॥"
- মুহম্মদ জাফর ইকবাল / কলামসমগ্র - ২ ॥ [ অনন্যা - ফেব্রুয়ারী, ২০১০ । পৃ: ১৯৭-১৯৮ ]

২| ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:০২

আমি আবুলের বাপ বলেছেন: "... ১৫ তারিখ রাতটি ট্রেঞ্চে এবং ঘরের ভেতরে ছোটাছুটি করে কাটিয়ে দিয়েছি। ১৬ তারিখ ভোরে আমরা সবাই অনুভব করতে শুরু করেছি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম দ্রুত একটি সমাপ্তির দিকে পৌঁছতে শুরু করেছে। রেডিওতে ক্রমাগত বলছে 'হাতিয়ার ডাল দো'। কিন্তু পাকিস্তান মিলিটারিরা হাতিয়ার 'ডাল' দেওয়ার কোনো লক্ষণ দেখালো না। আমরা সবিস্ময়ে আবিষ্কার করলাম যাত্রাবাড়ী রাস্তার লাইটপোস্টের নিচে রাস্তার ঢালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী মেশিনগান পেতে পজিশন নিচ্ছে। বাসা থেকে এতো কাছে যে আমরা সেই মিলিটারির ক্রুর চেহারা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। এই রাস্তা দিয়ে একটু পরেই মুক্তিবাহিনী আর মিত্রবাহিনীর সৈন্যরা আসবে - তারা তখন তাদেরকে এখান থেকে বাধা দেবে? আমরা ঘরে বসে সেই যুদ্ধ দেখবো - আমার বিশ্বাস হয় না।
ঘন্টা দুয়েক পর হঠাৎ একটি বিচিত্র দৃশ্য দেখতে পেলাম। বিশাল কনভয় করে যে সব মিলিটারি গিয়েছে তারা ফিরে আসতে শুরু করেছে। আমাদের কেউ বলে দেয়নি - কিন্তু দেখেই আমরা বুঝতে পারলাম ফিরে আসা এই সৈন্য হচ্ছে পরাজিত সৈন্য, পালিয়ে আসা সৈন্য। আমরা অবাক হয়ে দেখলাম মিলিটারি ট্রাকের মাঝে সাদা পোষাকের মানুষ, এই দেশের দালাল এবং রাজাকার। মিলিটারির আশ্রয়ে তারা পালিয়ে আসছে। একটু পরেই দেখতে পেলাম বিহারি পরিবার, নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর ভয়ার্ত মুখে ছুটে যাচ্ছে। স্বাধীনতা সংগ্রামে তারা ভুল দিকে অংশ নিয়েছিল, স্বাধীনতার পূর্ব মূহুর্তে তারা এখন ভয়ে-আতঙ্কে দিশেহারা। যুদ্ধের ৯ মাস তাদের অনেকে এই দেশের মানুষের ওপর কী ভয়ঙ্কর নির্যাতন করেছে, এই মূহুর্তে সেই অন্যায়ের প্রতিফলের আশঙ্কায় তাদের মুখ রক্তহীন-ফ্যাকাশে। মা ছোট শিশুকে বুকে চেপে ছুটে যাচ্ছে, উজ্জল কাপড়পরা কিশোরী বাবার পিছু পিছু ছুটে যাচ্ছে, তাদের চোখেমুখে কী ভয়ঙ্কর আতঙ্ক। স্বাধীনতার পর তাদেরকে কী ভয়ানক চড়া মূল্য দিতে হয়েছিল - সেই কথা মনে করে আমি এখনো এক ধরণের বেদনা অনুভব করি।
পাকিস্তানি মিলিটারির সঙ্গে ফিরে যাওয়া সেই বিহারি পরিবারগুলোকে প্রাণভয়ে ছুটে যেতে দেখে আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে স্বাধীনতার জন্য দেশের মানুষ ৯ মাস এক নারকীয় হত্যাযজ্ঞের ভেতর দিয়ে এসেছে - সেই স্বাধীনতা শেষ পর্যন্ত আমাদের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে।
পরদিন খুব ভোরে আমি স্বাধীন বাংলাদেশে বের হয়েছি। যে মাটিতে পা দিচ্ছি সেটি একটি স্বাধীন দেশের মাটি। যে বাতাসে নি:শ্বাস নিচ্ছি সেটি স্বাধীন দেশের বাতাস, সেটি এখনো আমার বিশ্বাস হয় না। বাসা থেকে বের হয়ে কয়েক পা অগ্রসর হয়েছি তখন দেখলাম রিকশা করে দুজন মানুষ যাচ্ছে। তাদের পায়ের কাছে ফর্সা একজন মানুষ বসে আছে। গলায় গামছা দিয়ে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে, গামছার শেষ প্রান্ত দিয়ে অনেকটা খেলার ছলে মাঝে মাঝে তার মুখে মারছে। ফর্সা মানুষটির চোখে এক ধরণের শুন্য দৃষ্টি। রিকশায় বসে থাকা মানুষ দুজন আমার দিকে তাকিয়ে ফর্সা মানুষটিকে দেখিয়ে বললো, 'বিহারি রাজাকার'।
রিকশাটা এগিয়ে গেল, একটু সামনেই একটা পুকুর, সেখানে এলাকার সব রাজাকারদের ধরে এনে জবাই করা হচ্ছে। আমি যাত্রাবাড়ী থেকে হেঁটে হেঁটে ঢাকা শহরে এসেছি। পথেঘাটে মানুষের ভিড়, মানুষের আন্দোচ্ছাস। বাংলাদেশের পতাকা আবার পতপত করে উড়ছে। মুক্তিযোদ্ধারা গাড়ি করে যাচ্ছে-আসছে। মাঝে মাঝে ইতস্তত গুলির শব্দ। কিছু আনন্দ প্রকাশের গুলি, কিছু প্রতিহিংসার গুলি। হেঁটে যেতে যেতে পথেঘাটে মৃতদেহ ডিঙ্গিয়ে যেতে হলো, এই মৃতদেহগুলো নতুন, এগুলো দেশদ্রোহী রাজাকারের মৃতদেহ। বিহারিদের মৃতদেহ॥"
- মুহম্মদ জাফর ইকবাল / কলামসমগ্র - ২ ॥ [ অনন্যা - ফেব্রুয়ারী, ২০১০ । পৃ: ১৯৮-১৯৯ ]

৩| ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:১৬

মাঘের নীল আকাশ বলেছেন: তিনি তখন বাড়ীর পাশে খাল খনন কর্মসুচী হাতে নিয়েছিলেন!
সবসময় ক্যামেরার সমানে থাকতে চাওয়া এই লোকটার অতি ভালোমানুষী ভাব তার ভন্ডামীর পরিচায়ক!!

৪| ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:৪৪

সাদ আমান বলেছেন: জন্মদিনের শুভেচ্ছা রইল ষাঁড়ের প্রতি

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.