নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার ব্লগে ঘুরতে আসায় আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি । আশা করছি আমার লেখালেখি, ফটোগ্রাফি আপনার ভালো লাগবে । ফেসবুকে আমার সাথে যুক্ত হতে পারেন— https://www.facebook.com/SA.Sabbir666

সাব্বির আহমেদ সাকিল

আমাকে যাচাই করার পূর্বে নিজেকে যাচাই করুন ।

সাব্বির আহমেদ সাকিল › বিস্তারিত পোস্টঃ

রাস্তায় পড়ে থাকা একপাটি জুতো

০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫২



রাস্তায় চলার পথে এমন দৃশ্য আমার মাঝেমধ্যেই চোখে পড়ে। আজও বাসায় ফেরার সময় ঠিক এমনই একটা দৃশ্য দেখে থমকে দাঁড়ালাম—রাস্তার একপাশে নিথর হয়ে পড়ে আছে একটি শিশুর একপাটি জুতো । কোনো এক নিষ্পাপ শিশুর হয়তো কত শখের জুতো ছিল এটি!

প্রতিদিন পৃথিবীতে কত শিশুই না বাবা-মায়ের সাথে গাড়িতে বা রিকশায় চড়ে যাওয়ার সময় এভাবে অসাবধানতাবশত নিজের প্রিয় জুতোখানা হারিয়ে ফেলে, তার কোনো হিসেব নেই।

​আমাদের চারপাশে প্রতিদিন কত ঘটনাই তো ঘটে যায়। এই দৃশ্যগুলো আমরা হরহামেশাই দেখি, কিন্তু ক’জনই বা তা গভীরভাবে খেয়াল করি? কিংবা এই হারিয়ে যাওয়া জুতোটার পেছনের গল্পটা বোঝার চেষ্টা করি?

​এই দৃশ্যটি দেখলেই আমার মনে পড়ে যায় অনেক আগে দেখা ইরানি চলচ্চিত্র 'Children of Heaven' (চিলড্রেন অব হেভেন)-এর কথা । সেখানে কেবল এক জোড়া জুতোকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছিল পুরো সিনেমাটি । দরিদ্র পরিবারের দুই ভাইবোন—আলী আর জাহরার সেই গল্পটি পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে আজীবন দাগ কেটে থাকবে । জুতো হারানোর মতো একটি ছোট্ট সমস্যা কীভাবে সময়ের সাথে এক চরম সংগ্রামে রূপ নেয়, দারিদ্র্যের কষাঘাত আর তার মাঝেও ভাইবোনের নিঃশব্দ, পবিত্র ভালোবাসা কতটা তীব্র হতে পারে—তা সিনেমাটি আমাদের শিখিয়েছে।

​অনুরূপভাবে, ২০১৮ সালে অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবুর ‘বাবাদের ঈদ’ শিরোনামের একটি শর্টফিল্ম দেখেছিলাম । সেটিও আমার হৃদয়কে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল । সন্তানের এক জোড়া জুতোর আবদার মেটাতে একজন বাবার যে কী অক্লান্ত পরিশ্রম আর আত্মত্যাগ, তা সেখানে নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে ।

আসলে, মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরিবারে এক জোড়া জুতো কেবল কোনো পরিধেয় বস্তু নয়, তার সাথে জড়িয়ে থাকে একটা পরিবারের আবেগ আর সামর্থ্যের লড়াই।

​প্রতিদিন সকালে যখন আমার নিজের ছোট্ট ছেলেটাকে জুতো পরে হেঁটে বেড়াতে দেখি, তখন মনে হয়—ওর কাছে এই জুতো জোড়া কতখানি শখের, কতখানি আনন্দের!

​রাস্তায় পড়ে থাকা ওই একপাটি জুতো হয়তো অনেকের কাছে স্রেফ একটা আবর্জনা বা হারিয়ে যাওয়া বস্তু । কিন্তু একটু গভীরভাবে ভাবলে মনে হয়, ওটি আসলে কোনো এক শিশুর কান্নার গল্প, কোনো এক মায়ের আফসোস কিংবা কোনো এক বাবার নতুন করে আরেকটি জুতো কিনে দেওয়ার বাড়তি দুশ্চিন্তার প্রতীক । আমাদের ব্যস্ত নাগরিক জীবনে চোখের পলকে মিলিয়ে যাওয়া এমন ছোট ছোট দৃশ্যগুলোর ভেতরেই লুকিয়ে থাকে জীবনের একেকটি অদৃশ্য মহাকাব্য, যা আমাদের প্রতিনিয়ত সম্পর্কের টান আর যাপনের সরলতাকে মনে করিয়ে দেয়।

______________________________________
সাব্বির আহমেদ সাকিল
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, বর্ষাকাল | বৃহস্পতিবার | ০২ জুলাই ২০১৬ ইং | নীলফামারী

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১:১৫

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: কোনো এক শিশুর কান্নার গল্প,
............................................................
আমাদের সমাজও এখন শিশুর মতো কান্না করছে
কারন, সমাজে এখন আর মানবিকতা শিখায়না,
পারলে মব করে লুটে নেয় ।
সামাজিক এই অভিশাপ থেকে কবে রক্ষা পাবো ???

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.