নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাদাত হাবিবী সেতু

সাদাত হাবিবী সেতু › বিস্তারিত পোস্টঃ

জলপাই রঙের সাতার

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৫:০০

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেনাবাহীনির অবসরপ্রাপ্ত কর্মকতাদের প্রায়শই রাজনীতির ময়দানে দেখা গেছে। কেউ মন্ত্রী, এমপি কেউবা সরকারের উপদেষ্টা ইত্যাদি। অন্যান্য বাহিনীর অবশ্য এই রেসে খুব একটা প্রকটভাবে দেখা যায়নি। অন্যদিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবসময়ই জলপাই রঙের ভীতি বেশ লক্ষ্যনীয়। অনেকেই মনে করেন তত্বাবধায়ক সরকার বিধিমালার অপসারন, মূলত জলপাই রঙের উত্থানের ভীতি থেকেই। আওয়ামী নেত্রীত্বাধীন মহাজোট সরকারের একাধিক মন্ত্রী এমপিকেও বলতে শোনা গেছে “অসাংবিধানিক শক্তি ”-রুখতেই সংবিধানের এই সংশোধনী। তবে বাংলাদেশের যে দালিলিকভাবে কিন্তু একজনই রাষ্ট্রের ক্ষমতায় সরাসরি অধীষ্ট হয়েছেন। তিনি হলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি লে.জে. হোসাইন মো. এরশাদ। বাকি যারাই ক্ষমতায় এসেছেন বা আসার চেষ্টা করেছেন তার সবাই ছিলেন পর্দার আড়ালে। দেখা যাক বাংলাদেশের সেনা প্রধানদের রাজনীতি বা ক্ষমতায় বসবার সংক্ষিপ্ত বিবরনী। অর্থাৎ ক্ষমতার জন্য ডুব সাতারে অনেকের নাম আসলেও , সরাসরি সাতারকাটা সেনা প্রধানদের তালিকাটি ছোট।



দেখা যাক অবসরের আগে পরে স্বাধীন বাংলার সেনা প্রধানদের সংক্ষিপ্ত পরিচিত।বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর ২য় সেনা প্রধান মেজর জেনারেল কে এম সফিউল্লাহ(বীর উত্তম)। মেয়াদকাল এপ্রিল ১৯৭২ থেকে আগস্ট ১৯৭৫,৩বছর । ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ১৬ বছর তিনি বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেছেন। এরমধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়া, কানাডা, সুইডেন আর ইংল্যান্ড । এর বাইরে আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে পরিচিত তিনি। মহাজোট আমলের গত মেয়াদে ছিলেন নিষ্প্রান। বর্তমান ডকুমেন্টারীর জন্য পরিমেয় খাদ্যে থাকার বাইরে মোটকথা আড়ালেই আছেন তিনি। আরেক আওয়ামী নেতা তবে সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল নুরুদ্দিন খান। সেনাবাহীনীর ৭ম এই প্রধান নভেম্বর ১৯৯০ থেকে জুন ১৯৯৪ মোট ৪বছর দ্বায়িত্ব পালন করেন। সেচ্ছায় রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছেন ২০০২-এ। প্রথমে রাজনীতিতে এসে অবশ্য জ্বালানী মন্ত্রনালয়ের দ্বায়িত্ব পান। বিদ্যুতের দাম বাড়ানো ও অব্যাবস্থাপনার ইস্যুতে সেখ হাসিনার তার মন্ত্রীত্ব কেড়ে নিলেও ,২০০১ সাল পর্যন্ত মন্ত্রী প্রটোকল নিয়ে মন্ত্রনালয়বিহীন হিসেবেই ছিলেন। বর্তমানে নিজ বাসভবনে অনেকটা নিঃসঙ্গ ভাবে কাটাচ্ছেন জীবনের বাকিটা সময়।



এই বাহীনির ৬ষ্ঠ প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতিকুর রহমান ১লা সেপ্টেম্বর ১৯৮৬ থেকে আগস্ট ১৯৯০ মোট ৪বছর দ্বায়িত্ব পালন করেন । ৯০’র উত্তাল বাতাসে খুব সম্ভব তিনি সাচ্ছন্নবোধ করেননি । তবে ইতিহাস বলে এই সেনাপ্রধান ৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যা কান্ডের সময় চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন। যাই হোক বর্তমানে মানুষের চোখের বাইরে থাকতে পচ্ছন্দ করছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতিকুর রহমান। ২৪ ডিসেম্বর ২০০০ থেকে ১৬ জুন মোট ৩ বছর সেনা বাহীনির ১১তম সেনা প্রধান হিসেবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল এম হারুন-অর-রশিদ দ্বায়িত্বে ছিলেন। তিনিও দৃশ্যপটের একেবারেই বাইরে।



সেনাবাহিনীর ১০ম সেনাপ্রধান জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান (বীর প্রতীক), ২৪শে ডিসেম্বর ১৯৯৭ থেকে ২৩শে ডিসেম্বর ২০০০ পর্যন্ত মোট ৪ বছর ছিলেন জলপাই রঙের ঝান্ডা হাতে। ৯৬’এ শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন রাশিয়ার কাছ থেকে ৮টি যুদ্ধ বিমান ক্রয়করে রাষ্ট্রের ৭'শ কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগে বিলুপ্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরো শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করে। তিনিও আসামী হন ওই মামলায়। মোস্তাফিজুর রহমান অসুস্থ থাকায় মামলার বিচার কাজে হাজিরা দিতে সমস্যার মুখে পড়েন তিনি। ঔ মামলায় শেখ হাসিনা বিদেশে থাকা অবস্থায় তাকে শারিরীক অসুস্থতার কারনে অব্যাহতি পান তিনি। তবে এরপর থেকে আর দেখা যায়নি তাকে ।

আরেক সেনা প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবু সালেহ মোহাম্মদ নাসিম(বীর বিক্রম)। মেয়াদকাল জুন ১৯৯৪ থেকে জুন ১৯৯৬; ২ বছর। তিনি সেনাবাহিনীর ৮ম সেনা প্রধান। ৩১মে ২০০২ এর The Weekly Holiday প্রকাশিত "When the Constitution outshot the gun" প্রতিবেদন অনুসারে ৯৬র তত্বাবধায় সরকারের প্রধান উপদেষ্টা আব্দুর রহমান বিশ্বাসের সাথে দুই সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামুলক অপসারনের ইস্যুতে প্রধান উপদেষ্টা বিশ্বাস রাখতে পারেননি। এমনি বগুড়া, যশোর ও মায়মানসিংহ ক্যান্টমেন্টে নির্দেশ পাঠান বঙ্গভবন অভিমুখে যাত্রার। তবে কুমিল্লা ও চট্টোগ্রাম থেকে সহযোগিতা পাননি এই সাবেক সেনা প্রধান। পরর্বতিতে অবশ্য আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে তাকে আনুষ্ঠানিক ভাবে অবসরে পাঠায়। এবং তিনিও দৃশ্যের বাইরেই চলে যান।



এবার একেবারেই ভিন্ন এক সেনা প্রধানের কথা জানা যাক। তার মেয়াদকাল ৩বছর। সময়কাল ২০০২ থেকে ২০০৫।

তত্বাবধায়ক সরকার গঠনের সময় তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে পচ্ছন্দের যে তালিকা আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জামাত দিয়েছেলো; তার মধ্যে জামাতের পচ্ছন্দের তালিকায় ছিলেন তিনি। ১/১১ তে সকল দলের দেওয়া প্রস্তাব তৎকালীন তত্বাবধায়ক সরকার প্রধান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজ উদ্দিন আহমেদ ও তিনি গ্রহন করেননি। পরে ডিজিএফআই আরেক সাবেক সেনাপ্রধান মইন উ. আহমেদ ও তার বিরুদ্ধে নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ক্ষমতার আসীন হবার চক্রান্তের অভিযোগও তোলে। এর আগে তিনি দুদকের প্রধান হিসেবে অধীন হন এবং মহাজোট সরকারের ক্ষমতা আসের সাথে সাথেই ছাড়েন সেই পদ। কারাগারে নিয়েছেন দুই নেত্রীকেই। তবে মজার বিষয় হচ্ছে উকিলিকস্ এর ভাষ্য মতে বেগম খালেদা জিয়া অবশ্য সেনা বাহীনির ক্যু হবার সুযোগকে উড়িয়ে দিয়ে বলেছিলেন, “আমার সেনা বাহীনি ক্যু করবে...?(!)”।

আর একই ভাষ্য ছিলো সেখ হাসিনারও। বর্তমানে তিনিও নিভৃতচারী।



যে মইন উ. আহমেদকে ১/১১’র মূল কারিগর বলা হয়, তিনি বর্তমানে ব্যার্ধক-ক্যান্সার জাতীয় জটিল শারিরীক অবস্থায় আছেন। দেশে ফিরেছের না। কারন এমনিতে অনেক মামলা ঝুলে আছে। আর দেশে ফিরলে আরো আসন্ন মামলার সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। মানসিকভাবেও চাপেই আছেন। এর আগে সেনাপ্রধান হন খালেদা জিয়ার আপন ভাই মেজর সাইদ স্কান্দারকে ব্যবহার করে। সেনাবাহীনির প্রধান হবার সময় তার থেকে সিনিয়র জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার,পিএসসি কে পাশ কাটিয়ে নিজেই অধিষ্ট হন সেনাপ্রধান হিসেবে। ১/১১-তে বিখ্যাত হন মাইনাস টু ফরমু্লার কারনে। বিএনপি সভানেত্রীর সাথেই শুধু প্রতারনা অভিযোগ নয়। আরেক সেনা প্রধান হুসাইন মো. এরশাদকে রাষ্ট্রপতি বানাবেন এমন কথাও বাতাসে ভেসেছে। অতঃপর জাগো বাংলাদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশকে জাগাবার চেষ্টা করেছেন। জলপাই রঙের পোশাক পরিধান করে সাবেক সেনা প্রধান জিয়াউর রহমান ও হুসাইন মো. এরশাদের মত মাঠেও নেমেছেন। তবে বাঙ্গালী বড় বিনোদন প্রিয়। ফলাফল শ্যুন্য(০)।



৩রা নভেম্বরের অভ্যুত্থানে খালেদ মোশাররফ রক্তপাতহীন অভ্যুত্থান ঘটাতে চেয়েছিলেন। তাই মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে তার নিজ বাসভবনে গৃহবন্দী করে রাখেন। কর্নেল (অবঃ) আবু তাহের সে সময় চট্টগ্রামে অবস্থান করছিলেন। কর্নেল তাহের ছিলেন জিয়াউর রহমানের একজন বিশেষ শুভাকাংখী। তিনি সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। তার এই নীতির জন্য তাহের সেনাবাহিনীর সাধারণ সৈনিকদের মাঝেও দারুন জনপ্রিয় ছিলেন। কর্নেল তাহের বিশ্বাস করতেন জিয়াও তারই আদর্শের লোক। ৩রা নভেম্বরের অভ্যুত্থানের পর তাহের জানতে পারেন জিয়াউর রহমানকে বন্দী করা হয়েছে। তিনি ঢাকাতে তার অনুগত ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সিপাহীদের বিদ্রোহের নির্দেশ দিয়ে তৎক্ষণাৎ চট্টগ্রামে থেকে ঢাকা রওনা হন,এ সময় তার সঙ্গী ছিল শত শত জাসদ কর্মী। কর্নেল তাহেরের এই পাল্টা অভ্যুত্থান সফল হয় ৭ই নভেম্বর। কর্নেল তাহের,জিয়াউর রহমানকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে মুক্ত করে নিয়ে আসেন। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহান কর্নেল তাহের ফাঁসিতে ঝুলেন জিয়ার আদেশে। আর পাল্টা এই অভ্যুত্থানে ইষ্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্যরা জেনারেল খালেদ মোশাররফকে হত্যা করে। জেনারেল জিয়াউর রহমান তাঁর পাঁচ বছরের শাসনামলে প্রায় ২১টি অভ্যুত্থানের মুখোমুখি হয়েছিলেন। এদিকে মেজর জিয়া ২১টি অভ্যুত্থান থেকে বেঁচে গেলেও ২২তম অভ্যুত্থানে তিনি মৃত্যুবরন করেন। কারন আরেক সেনা কর্মকর্তা জেনারেল মঞ্জুর।তিনি মানসিক ভাবে কার স্ত্রী দ্বারা প্রভাবিত হয়ে,চাপ আর ক্ষোভে প্রেসিডেন্ট জিয়াকে হত্যা করেন। এমনটাই লিগাসি অব ব্লাডে লিখেছেন আন্থনি মাসকারেনহাস। জিয়াউর রহমানের হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে ৩০শে এপ্রিল, ১৯৮১-তে এই ক্যু সংঘঠিত হয় দেশের দক্ষিণের বন্দর নগরী চট্টগ্রামে। রাষ্ট্রপতি জিয়ার প্রধান সেনাপতি এরশাদের ষড়যন্ত্রে একদল আর্মি অফিসার দ্বারা সংঘটিত এই ক্যুয়ের দায় চাপানো হয় জেনারেল মঞ্জুরের উপর। প্রমাণ মুছে ফেলার জন্য ঢাকা থেকে ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুল হাসানকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে পাঠিয়ে মঞ্জুরকে ক্যান্টনেমেন্ট বন্দী অবস্থায় হত্যা করা হয় বলে লরেন্স লিফশ্যুলজ দাবী করেন। জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ একটি রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২৫শে মার্চ, ১৯৮২-তে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে পদচ্যুত করেন এবং নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে ঘোষনা দেন।



লক্ষ্য করলেই দেখুন, জিয়া নিহত হয়েছেন কি নৃশংশ ভাবে, যেমনটা তার ক্ষমতায় উঠতে গিয়ে অনেক সেনা কর্মকর্তা হারিয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরিক্লপনা জানা সত্তেও নেননি কোন পদক্ষেপ। যদিও জেলে আটক ছিলেন তবে সুযোগ ছিলো। মেজর মন্জুকেও জিয়ার রাস্তায় হাটতে হয়েছে। মেজর মন্জু হত্যা মামলায় পিষ্ঠ এরশাদকে মানসিকভাবে সুস্থ বলা যাবে কিনা তা নিয়ে বিএসটিআই একটা গবেষনা করতেই পারে।



এবার অতি সম্প্রতি রাজনৈতিকভাবে বেশ বিব্রতকর অবস্থায় থাকা তারবাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির দিকে। রাজনীতির মাঠে একেরপর এক ইস্যু সৃষ্ট হলেও কাজে লাগাতে পারে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় মহাজোট। তার উপরে জোট ভেঙে যাওয়ার গুঞ্জন বাজারে ব্যাপক হারে চলছে। বিএনপি সর্মথিত গনমাধ্যম ব্যতীত মোটামুটি সকল গণমাধ্যমেই জামাতের ভাঙ্গনের ইতিবৃত্য। তাছাড়া বিএনপি মানুক আর না মানুক শাহাবাগের আন্দোলনের পর জামায়াত ইস্যুতে বিএপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনী পর্যায়ও বেশ খানিকটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। হলর্মাক,পদ্মা সেতু,ডেসটিনি,সোনালী ব্যাংক,রানা প্লাজা, ব্যাপক র্দূনীতি আর দুদকের নখদর্পহীনতার অবস্থান চালিয়ে যাওয়া, নির্বচন কমিশনের পৌষ্যতা,গার্মেন্টস সেক্টেরর অশন্তোস, ঢাকা সিটি নির্বাচন না দেওয়া,একের পর এক রাজনৈতিক মামলা কোন কিছুই কাজে লাগাতে পারেনি দলটি। বাংলাদেশে যে বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি হচ্ছে ক্ষমতায় যাওয়া। সেই ক্ষমতার পালাবদলের জন্য নির্বাচনকে থামানোতো দুরের কথা দলটির সামনে আওয়ামীলীগ অহরহ বলে যাচ্ছে পরর্বতী ২০১৯’র আগে নির্বাচন নয়। দলটি মূলত লন্ডনের হাইকমান্ড আর সভানেত্রীর রাত্রীকালীন বৈঠক ছাড়া মুলত আর কোন করকমের কার্যক্রমের সাথে যুক্ত নেই। তবে এর কারনও আছে। প্রথমত যে আন্দোলন বিএনপি করেছে তাহলো বিএনপি নেত্রীর মামলা, নেত্রীর বাড়ি এবং নেত্রীর সন্তান তারেক রহমান ও কোকোর মুক্তি বা দেশে ফেরা-না ফেরার। আর ৯০’র আগে পরে এতো দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় না থাকার অভিজ্ঞতা দেই দলটির। এছাড়া সামরিক বাহিনীর নিবিড় পর্যবেক্ষনে সৃষ্ট একটি দলের এর থেকে খারাপ ভবিষৎ হলেও অবাক হবার কিছু নেই। বাংলাদেশে সামরিক বাহিনীর অবসর প্রাপ্তদের মধ্যে যারা সক্রিয় বা নিষ্ক্রয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন তাদের অধিকাংশই এই বিএনপি যোগ দিয়েছেন। আর মাঠের রাজনীতিতে বিএনপি টানতে পারছেন না আন্দোলনে। অন্যদিকে ঈদের পর কঠোর আন্দোলনের ঘোষনা এখন রীতিমতো হাস্যকর উধৃতি হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগ সরাসরি ঈদ পর আন্দোলন নিয়ে বেশ রসালো উক্তি দিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে রোজার ঈদের পর আন্দোলনের কার্যক্রমের কোন অবস্থানই সৃষ্টিই করতে পারেনি দলটি। উল্টো দল মাওয়ায় লঞ্চ ডুবি ও তোবা গার্মেন্টস ধর্মঘট দেখেছেন টিভি পর্দায়। সর্বশেষ সম্প্রচার নীতিমালার বলটি পায়ে আসলেও, লন্ডন প্রবাসী দলের সর্বচ্চো হাইকমান্ডের কুলাঙ্গার’শব্দের ভাব সম্প্রসারনেই পার হয়ে হচ্ছে মেজর জিয়ার হাতে গড়া বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল। আর যাই হোক মানুষ এই মুহুর্তে কোরবানীর পরে আন্দোলন তীব্র হবে এ জাতীয় কথা আশা করেছিলো না।



ঠিক এমন সময় আবারো “ডিসিপ্লিন ইস ব্যাক”।



যার কথা এতোক্ষন বলা হয়নি। এবছরের আগষ্টের মাঝামাঝিতে লে.জে মাহাবুবুর রহমান বললেন “কোরবানীর পরে আন্দোলনে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে”। ৯ম এইসেনা প্রধান জুন ১৯৯৬ থেকে ডিসেম্বর ১৯৯৭ দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত ছিলেন সেনাপ্রধানের দ্বায়িত্পালরন করেন। স্বাভাবিকভাবে সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে গড়ে ২/৩ বছরের বেশী দ্বায়িত্ব পলনের ইতিহাস কম। আর সেনা বাহিনীর ১ম প্রধান মেজর জেনারেলএম আবদুর রব(বীর উত্তম) পর , লে.জে. মাহবুবের মেয়াদ সবচেয় কম, এক বছর। এই বিএনপি নেতার শারিরীক অবস্থা যাই হোক না কেন মানসিক অবস্থার সার্বিক বিবরন “আন্দোলনে নতুন মাত্রা” বিনোদন দ্বারাই বোঝা যায়।



নিঃসন্দেহে স্বীকার করতে হবে বাংলাদেশে সেনাবাহিনী বিশ্ব দরবারে ব্যাপক সুখ্যাতি অর্জন করেছে। তবে ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়,জলপাই পোশাকে বা পোশাক ছেড়ে রাজনীতি এসে ক্ষমতার আশেপাশে খুব একটা সস্তিতে সময় কাটাতে পারেনি সেনাপ্রধানরা। যারাই ক্ষমতায় অসীন হতে গিয়েছেন তারাই মানসিক বা শারীরিক ভাবে আর সুস্থতা রাখতে পারেন নাই। পোশাকে অত্যন্ত কর্মদক্ষ এই মানুষগোলো সবসময়ই রাজনীতিতে বেশ খানিকটা পিছিয়েই পড়েছেন। বাংলাদেশে বিরাজমান বড় দুটি দলের মধ্যেই সামরিক প্রধানদের আবসরে দেখা গেছে। এক্ষেত্রে আওয়ামীলীগ এগিয়ে। তবে অবসর প্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের হিসেব করলে অবশ্য বিএনপি এগিয়ে। আর বর্তমান বিরোধী দল ও সাবেক বিরোধী দল উভয়েরই প্রতিষ্ঠাতা এসছেন সেনাবাহিনী থেকে। তবে ১/১১র প্রক্ষাপটে মোটামুটি ভাবে স্বীকৃত যে জলপাই রঙের সরকার আসার সম্ভাবনা এই ব-দ্বিপে খুবই ক্ষীন। কারন বর্হিবিশ্বের চাপটা সামলানো কঠিন হয়ে যায়। আর এই সাবেক সেনা প্রধানদোর মধ্যে যারাই চেষ্টা করেছেন বরাবর সক্রিয় রাজনীতিতে সাতার কাটতে গিয়ে উল্টো ডুবেছেন, কখনো ডুবিয়েছেন।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.