| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সাইদুল অপু
ভেবে নিন
আল্লাহের অশেষ রহমতে মা বাবা দুই ভাই দুই বোন নিয়ে আমাদের পরিবার।
আমি বোন বোন ভাই।
কোন এক অজানা কারণে আমার ছোট বোন আমাকে "ভায়ি" বলে ডাকে। আস্তে আস্তে আমি নিজেও এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি। আজ আমার ব্লগটি তাকে নিয়েই লিখা।
আমার খুব ছোট বেলার কথা , আমরা ছিলাম পিঠাপিঠি ভাই বোন । তাই ওর সাথেই আমার সব সময় ঝগড়া লেগেই থাকত! প্রথমে এক দফা আমাকে মারত তারপর আবার কান্না করে আম্মার কাসে বিচার দিত,তখন আরেক দফা মার খেতাম। এমনকি একদিন আমাকে সে বটি দা দিয়ে কপাতে পর্যন্ত এসেছিল। আবার আমার অসুখ করলে সারারাত সে আম্মার সাথে আমার পাশে জেগে থাকত।
স্কুলে পড়ার কত তার হাত খরচের জমান টাকা চুরি করেছি তার হিসেব নেই।
এসএসসি তে জিপিএ ৫ পাবার পর প্রথম উপহার পেয়েসিলাম তার কাছ থেকে।
তার খুব শখ ছিল পাইলট হবার। কিন্তু আমার মধ্যবিত্ত বাবার সেই শখ পুরণ করার সামর্থ্য ছিলনা । তাই তার উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ইউনাইটেড এয়ারওয়এজে কেবিন ক্রু হিসেবে চাকরী নেয়। এরপর নানাভাবে যুদ্ধ করে উপরে উঠতে থকে। প্রাইভেট ভারসিটিতে পড়াশনার জন্য টিউশঅনি করতাম । সেও আমাকে হেল্প করত নানা ভাবে।
এরই মাঝে নিজের পছন্দের একজনকে বিয়ে করি আমি পারিবারিক ভাবেই। কিন্তু আমার সামর্থ্য তেমন ছিলনা আমার বউকে কিছু দেবার। বিয়ের দিন সে হঠাত করে তার সব গয়না বের করে দিয়ে বলে এগুলা ভায়ির বউকে দাও। সে আমাকে শর্ত দেয় তার বিয়ের সময় তাকে নতুন করে আমাকে বানিয়ে দিতে হবে। যদিও আমি জানতাম কখনই দিতে হবেনা।
বিয়ের ৮ মাসের মাথায় চাকরি যোগাড় করতে না পেরে মালয়েশিয়া চলে আসি। তখনও সে আমাকে নানাভাবে সাহায্য করে।
আসার পর প্রতিদিনই তার সাথে কথা হত। আমার বউও তার সাথেই থাকত।
একদিন রাত ৫টার সময় সে ফোন করে জিজ্ঞেস করে, ভায়ি ঘুমাচ্ছিস? আমি বললাম , না, কেন? সে বলল,আমার ভয় করছে । আমার খাটের নিচে ভুত আছে! ঐদিন সকাল হবার পর সে ফোন রাখে। মাঝে মাঝেই এরকম অদ্ভুত কথা বলত সে!
গত ১৮ তারিখ আমি একটা গ্যালাক্সী এস ৪ ফোন আর কিছু ব্যাগ পাঠাই তার জন্য। সে গুলি পেয়ে সে অনেক খুশি হয়। রাত৪টা পর্যন্ত তার সাথে স্কাইপে কথা হয়। সে বারবার বলছিল, ভায়ি সকাল হয়না কেন? আমি নতুন ফোন আর ব্যাগ নিয়া ভার্সিটি যাব!
ভোর ৪ টায় ফোন কেটে ঘুমাতে যাই খুশি মনে।আর বিকেল ৪ টায় দেশ থেকে ফোন আসে সে আর নেই!!!!!!!!!!! ১২ ঘন্টার ব্যবধানে আমার সবথেক প্রিয় মানুষটি আর নেই।
কত কথা বলার ছিল তাকে, কত ঋণ শোধাবার ছিল, কোন সুযোগ না দিয়ে সে চলে গেল না ফেরার দেশে। যে বোন আমার কাছে লাখ টাকার বিয়র শাড়ী চেয়েছিল তাকে কিনে দিতে হল কাফনের কাপড়। হায়রে প্রবাস জীবন শেষ বারের মত বোন কে দেখতেও পারলাম না। আর কেউ কোনদিন আমাকে ভায়ি বলে ডাকবে না!!!!!
লেখাটা খাপছাড়া হবার কারণে দুঃখিত। সবাই দয়াকরে আমার বোনের জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন তাকে বেহেস্ত নসীব করেন। আমীন।
২|
২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ রাত ৮:৪৮
মুক্তকণ্ঠ বলেছেন: বোনের জন্যে দোয়া। আল্লাহ তাঁকে বেহেস্তবাসিনী করুক।
২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ রাত ৮:৫৪
সাইদুল অপু বলেছেন: ধন্যবাদ, আমার বোনের জন্য দোয়া করবেন।
©somewhere in net ltd.
১|
২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ রাত ৮:৪৮
মুক্তকণ্ঠ বলেছেন: