নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কবিতা

সরকার কুমার

ছোট একটা চাকুরী করছি।আর টুকটাক লেখালেখি করি

সরকার কুমার › বিস্তারিত পোস্টঃ

শিশুরা বেড়ে উঠুক বাধাহীন ভাবে।

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:৫৮

এমন একটা সময়ে আমরা এসে দাড়িয়েছি,যেখানে আমাদের মৌলিক অধিকার গুলো আর মৌলিক অধিকার নেই।এগুলোর জন্য রীতিমত চরম যুদ্ধ করতে হয়।সেই ছোটবেলা থেকেই জেনে আসছি,শিক্ষা আমাদের মৌলিক অধিকার।কিন্তু চার পাশের নিষ্পাপ শিশুদের দিকে একটু তাকালেই বুঝতে পারা যায়,শিক্ষার কতোটা অধিকার আমরা দিচ্ছি আমাদের সম্ভাবনাময় শিশুদের।

আমাদের শিশুরা এখন খেলার মাঠে যেতে পারে না।পায় না সবুজ প্রকৃতির ছোয়া।তারা বইয়ের পাতায় দেখেছে গোল্লাছুট পলানটুক আর কানামাছি ভোঁ ভোঁ নামের খেলাগুলো কিন্তু বাস্তবে ঐ খেলাগুলো আর খেলা হয়না।বিশেষ করে ঢাকা সহ দেশের বড় বড় শহর গুলোতে শিশুদের জীবন ভীষণ করুণ।তাদের চোখে মুখে লেপ্টে থাকে বিষণ্নতার রং।কারণ জন্মের পাচ -ছ বছর পর থেকেই তাদের নামতে হয় বিদ্যালয়ে ভর্তি যুদ্ধে।তারা ভীত,পীড়িত, কারণ কোনো কাঙ্খিত বিদ্যালয়ে ভর্তি যুদ্ধে তাদের সফল হতেই হবে,এমন চিন্তা ধারা জোর পূর্বক তাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া হয়।কিন্তু এতে যদি তারা ব্যর্থ হয়,তবে ব্যর্থতা নামক এক অসহ্য বিষয় তাদের চোখে মুখে বাসা বাধে।যে শিশুরা জানেনা ব্যর্থতা কাকে বলে,জীবনের প্রথম লগ্নেই তারা বুঝে যায় ব্যর্থতা নামক একটা বাজে বিষয় আছে।যার প্রভাবে তাদের মুখে ফুটে ওঠে বিষণ্নতার ছাপ।

এই বয়সে শিশুদের ছবি আকার কথা,গোল্লাছুট আর কানামাছি ভোঁ ভোঁ খেলার কথা।তাদের থাকার কথা সবুজ প্রকৃতি ঘেরা খোলামেলা পরিবেশে।কিন্ত তারা ছোটবেলা থেকেই অভ্যস্থ হয়ে উঠছে লম্বা লম্বা দালানের ছোট ছোট খোপ বা ফ্ল্যাট গুলোতে।এগুলোকে ফ্লাট না বলে জেল বা কারাগার বলাই ভালো।কারণ,আমি যখন ঢাকার রাস্তা বা গোলি দিয়ে কোথাও হেটে যাই,দূর থেকে এই ফ্লাট গুলোকে তখন কারাগার বা জেলের মতোই মনে হয়।মাঝে মাঝে দেখা যায় আমাদের নিষ্পাপ শিশুরা জানালার গ্রিল বা শিকে হাত রেখে, বিষণ্ন হয়ে তাকিয়ে আছে বাইরের দিকে।এই জেলের মধ্যে থাকা আর লেখাপড়ার পাহাড় সমান চাপের জন্যে শিশুদের ভেতর দেখা দিচ্ছে মানসিক সমস্যা।

সে যাই হোক,সবচেয়ে বড় ব্যপার হল~যে শিশুটি জীবনের প্রথম বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে, তাকে কেন পরিক্ষা দিতে হবে? একটি বিষয় কিছুতেই আমার মাথায় ঢোকে না,তা হল~যে শিশুটি পরিক্ষা কি, ব্যর্থতা কি, সফলতা কি, এসবের কিছুই জানেনা, তাকে দিতে হয় সামর্থ্যের পরিক্ষা।নিতে হয় পাহাড় সমান প্রস্তুতি।প্রমাণ করতে হয় তারা যোগ্য।যারা এই ভর্তি পরিক্ষায়(যুদ্ধ বলাই শ্রেয়) উত্তীর্ন হয় তারা যোগ্য আর যারা ব্যর্থ হয় তারা অযোগ্য।কেন তারা ব্যর্থ হলো ,এর কোনো কারনই তারা জানে না।শুধু জানে তার অযোগ্য হয়েছে।কিন্তু কেন এমন বাজে পরিস্থিতিতে পরতে হবে আমাদের নিষ্পাপ শিশুদের? কেন ভর্তি যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হবে অযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা মাথায় নিয়ে? কেন প্রমাণ করতে হবে যোগ্যতা?শিক্ষা কি ওদের মৌলিক অধিকার নয়?

আমাদের এই শিক্ষা ব্যবস্থা শিশুদের জন্য বয়ে নিয়ে এসেছে ভীষণ কষ্ট ও হতাশা।ওরা যদি শুরুতেই এমন বাধার সম্মুখিন হয় তবে আগামী দিনে ওদের চলার পথ মসৃণ হবেনা।আগামী দিনে আমরা হারাবো সৃষ্টিশীল নেতৃত্ব।
আমরা কি পারিনা! শিশুদের জন্য একটি মনোরম সুন্দর আবাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করতে? যেখানে থাকবেনা এতো বাধ্যবাধকতা।এখনকার শিশুরাই তো আগামি দিনের ভবিষ্যৎ।ওরা যদি মানসিক দুর্বলতা নিয়ে বেড়ে ওঠে তবে এই বঙ্গভূমির ভবিষ্যৎ বলে কিছু কি থাকবে?

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:৫৩

প্রামানিক বলেছেন: ভাল লাগল। নববর্ষের শুভেচ্ছা।

০১ লা জানুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১২:১৯

সরকার কুমার বলেছেন: আমরা কি পারিনা! শিশুদের জন্য একটি মনোরম সুন্দর আবাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করতে?
ধন্যবাদ আপনাকে।হ্যাপি নিউ ইয়ার ২০১৫।

২| ০২ রা জানুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৩:৪৭

কলমের কালি শেষ বলেছেন: নতুন প্রজন্মের জন্য এখনকার শিক্ষা ব্যবস্থা এবং অভিভাবকদের দায়িত্বশীলতা হুমকি স্বরুপ ।

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৫:৪২

সরকার কুমার বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.