| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রক্তিম রাকিব
পরাধীনতা, অন্যায়, মিথ্যাচার, নাটকীয়তা, তোষামোদ ইত্যাদি বিষয়গুলো আমাকে খুবই বিব্রত করে।
একটা সময় ছিল যখন মানুষ ধর্ম নিয়ে বাড়া-বাড়ি করত। সেই বাড়া-বাড়ি কখনো কখনো হাতা-হাতি কিংবা কখনো রক্তা-রক্তিতে পর্যন্ত গড়াত- এ কথা আমরা সবাই জানি। এই ধর্ম বিদ্বেষের জন্য হয়েছিল ধর্মের জন্ম থেকেই। আমরা সকলেই জানি পৃথিবীর আদি ধর্ম হচ্ছে পৌত্তলিক ধর্ম। এর পর খৃষ্ট ধর্ম, তারপর অন্যান্য ধর্ম এবং সর্ব শেষ ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব। কোন ধর্ম সত্য? - আমি সেই বিতর্ক করতে যাব না বা আমার এই লেখার উদ্দেশ্যও তা নয়। আমরা যে যেই ধর্মেরই হই না কেন, সকলেই আশা করি একটা বিষয়ে এক মত হব যে, পৃথিবীতে যত ধর্ম এসেছে তার সবগুলোরই উদ্দেশ্য ছিল মানব কল্যাণ। খুন, হত্যা, নারী ধর্ষণ, শিশু ধর্ষণ, নারী শিশুকে জ্যান্ত পুতে ফেলা ইত্যাদি মারাত্মক অপকর্মে লিপ্ত সেই যুগের পথহারা,দিশেহারা, উশৃঙ্খল মানব জাতিকে সেই সব অপকর্ম থেকে বিরত রাখবার জন্য, তাদেরকে সুশৃঙ্খল জীবন-যাপনে ফিরিয়ে আনার জন্য এই সব ধর্মের আবির্ভাব। বর্তমান পৃথিবীতে বিদ্যমান ধর্মগুলোর মধ্যে এমন কোন ধর্ম আশা করি থাকবে না যেটাতে উপরোক্ত বিষয়গুলোকে অনুমোদন করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো যে মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এই ধর্মগুলোর আবির্ভাব হয়েছিল সেই মহৎ উদ্দেশ্য থেকে ঐ ধর্মের অনুসারীরা এখন বিচ্যুত হয়েগেছে। তারা এখন পারস্পরিক গোত্রগত দ্বন্ধে জড়িয়ে পড়েছে। আমি অল্প জ্ঞানের মানুষ। তাই হয়তো আপনাদেরকে পারস্পরিক ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দ্বন্ধের সূত্রপাত ঠিক প্রথম কখন থেকে শুরু হয় তা বলতে পারবো না। কিন্তু ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলিম দ্বন্ধের কারনেই যে ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভাগ হয়েছিল সেটা আমরা সকলেই জানি। তারপর জন্ম হয় দু'টি স্বতন্ত্র স্বাধীন দেশ পাকিস্তান ও ভারত। সেই জাতিগত সহিংসতায় কত লোকের যে প্রাণ গিয়েছিল তার কোন সঠিক পরিসংখ্যান আমাদের কারো জানা নেই। হিন্দুরা মুসলিমদের আর মুসলিমরা হিন্দুদের ধরে যে যেখানে যাকে যেভাবে পাচ্ছিল সেভাবেই হত্যা করে তারা বর্বর হত্যাকাণ্ডে মেতে ওঠেছিল। ফলে ঐ সময় ভারত থেকে অনেক মুসলিম পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের অংশে আর পাকিস্তান থেকে অনেক হিন্দু ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। বোধ করি, সেই সময় যে ব্যাক্তি বা পরিবার সেই ধর্মীয়/জাতিগত সহিংসতার শিকার হয়েছিল সেই পরিবারের লোকেরা হয়তো কেউ কেউ এখন যে ধর্মের লোকদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল সেই ধর্মের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছে অথবা কেউ কেউ উভয় ধর্মের প্রতিই বীতশ্রদ্ধ হয়ে ধর্ম নিরপেক্ষ হয়ে জীবন-যাপন করছে। (চলবে)
©somewhere in net ltd.