| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রক্তিম রাকিব
পরাধীনতা, অন্যায়, মিথ্যাচার, নাটকীয়তা, তোষামোদ ইত্যাদি বিষয়গুলো আমাকে খুবই বিব্রত করে।
সেই সময় যে জাতিগত দাঙ্গা সংঘটিত হয়েছিল তা কোন নির্দিষ্ট জাতি বা ধর্মের লোকদের জন্য বিশেষ কোন মঙ্গল বয়ে এনেছিল বলে আমার মনে হয় না। তারা সকলেই শুধু দেশের মধ্যে নিজেদের আমিত্ব প্রকাশ করার জন্যই এই ঘৃণ্য দাঙ্গায় লিপ্ত হয়েছিল। যার ফলে ভারত এবং পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল। তারপর আবার জাতিগত বিরোধ, এলো ১৯৭১। অবশেষে পাকিস্তান থেকে জন্ম হলো আরো একটি রাষ্ট্রের- বাংলাদেশ। যদিও পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ আলাদা বা স্বাধীন হওয়ার মূল কারণ ছিল ভাষাগত মতপার্থক্য এবং পূর্ব পাকিস্তানিদের প্রতি রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক আচরণ। কিন্তু তাতে আরেকটি সূক্ষ্ম কারণও ছিল - জাতিগত বিরোধ। আমরা সকলেই জানি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত আমাদের মিত্র দেশ হিসেবে অংশ নিয়েছিল। আর আমি যতদূর জানি যেহেতু ভারত তাতে অংশ নিয়েছিল তাই পাকিস্তানিরাও সেই সময় বেছে বেছে হিন্দুদেরই বেশি হত্যা বা নির্যাতন করেছিল। অর্থাৎ এটা বলা যায় যে, পূর্ব পাকিস্তান(বাংলাদেশ) ও পশ্চিম পাকিস্তান( পাকিস্তান)-এর মধ্যে সৃষ্ট ভাষাগত ও অর্থনৈতিক বিরোধটি শেষপর্যন্ত জাতিগত বিরোধে রূপ নেয়। আর শুধু সেই কারনেই ঐ যুদ্ধে এত বেশি সংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছিল। অবশ্য ভারত কেন উপযাচক হয়ে সেই যুদ্ধে বাংলাদেশকে সাহায্য করেছিল তা আমার এই স্বল্প বুদ্ধির মাথা দিয়ে বুঝা সম্ভব নয়। সে যাই হোক,জাতিগত সেই সংঘাত কাটিয়ে আমরা এখন বহুদূর পথ অতিক্রম করেছি। আজ থেকে ৬০/৭০ বছর আগে যারা যুবক ছিলেন তারা এখন বৃদ্ধ অথবা তাদের অধিকাংশই এখন আর বেঁচে নেই। সেই ৬০/৭০ দশকের লোকদের আমরা এখন বলি সেকেলে। আমরা এখন একবিংশ শতাব্দীর নাগরিক। আমাদের চিন্তা, চেতনা, মনন, প্রজ্ঞা তাদের চেয়ে অনেক আধুনিক এবং প্রগতিশীল। বলা হয়ে থাকে পুরো পৃথিবীটা এখন একটা গ্লোবাল ভিলেজ। প্রতিটি দেশ এখন তাদের নিজ সংষ্কৃতি, অর্থনীতিকে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর মানুষগুলো এখন আর আত্মকেন্দ্রিক নয়। তারা পরস্পর পরস্পরের সংকটে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রতিটি দেশ এখন পরস্পরের সাথে মুক্ত সংষ্কৃতি, মুক্ত বাণিজ্যনীতি চালু করছে। পরস্পরের মধ্যে একটা দৃঢ ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরি হতে চলেছে। সমস্ত পৃথিবী যখন অতীতের সব জাতিগত দ্বন্ধ, সংঘাত, সংকীর্ণতা ভুলে সামনে এগিয়া যাচ্ছে এমন সময়ে ভারত, যাদের আমরা এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি বলে আখ্যায়িত করি, যারা আজ বর্তমান সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তিধর রাষ্ট্র চীনের সাথে পাল্লা দিয়ে তাদের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তারা কিনা এখনো পুরোনো সেই ধর্মীয় সংকীর্ণতাকে আকড়ে পড়ে আছে! আমি বিস্মিত হই যখন দেখি ভারতে এখনো চলচ্চিত্রে মুসলিমদের গণহারে ভিলেন হিসেবে প্রদর্শন করা হয়। তাদের ভাব দেখে মনে হয় পৃথিবীতে সন্ত্রাসী মানেই মুসলিম। একটু ভাল করে যদি ভারতীয় চলচ্চিত্রগুলো আপনারা দেখেন তাহলে দেখবেন যে সেখানে প্রায় প্রতিটি চলচ্চিত্রেই হয় কোন পার্শ্ব ভিলেন, না হয় প্রধান ভিলেন, আর না হয় কোন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে মুসলমানদেরকে দাঁড়ি-টুপি পরিয়ে প্রদর্শন করা হয়। আরেকটু পরিস্কার করে বললে- ভারতীয় এই চলচ্চিত্রগুলোতে প্রায় সময় দেখা যায় - কোন গানের জলসা, কোন নাইট ক্লাব কিংবা কোন বার -এ টুপি পরে নর্তকীর সাথে কুৎসিত সব অঙ্গভঙ্গিতে মুসলিমদের নাচতে। অথচ এই টুপি পরিহিত মুসলিম চরিত্রগুলো প্রায় সময়ই গল্পের প্রয়োজন বা যৌক্তিকতা মেনে যে সংযোজন করা হয় তা কিন্তু না। অথবা অন্য কোন মহৎ উদ্দেশ্যেও যে সেই মুসলিম চরিত্রটির অবতারণা করা হয় তাও না। আমার ধারণা যারা ভারতীয় এই সব ছবিতে অযৌক্তিকভাবে, গল্পের দাবীকে উপেক্ষা করে মুসলিম চরিত্র সংযোজন করেন, তারা এটা খুবই হীন উদ্দেশ্যেই করেন। যারা এই সব ছবি তৈরি করেন তাদের জানা থাকা উচিত যে, মুসলাম ধর্মে গান-বাজনা নিষিদ্ধ। এ কথা শোনে হয়তো তারা বলবেন - কত মুসলিমরা নিজেরাইতো গান করেন, আর সেখানে গানের তালে নাচা, এ আর এমন কি? তাদের জ্ঞাতার্থে বলি - মুসলিম মাত্রই যে ধর্মীয় সকল রীতি-নীতি অনুসরণ করে চলবে এমনটি আশা করা যায় না। সকল ধর্মের মধ্যেই এমনটি হয়ে থাকে। একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীতে জন্ম নিয়ে সেই ধর্মের সকল রীতি-মেনে চলতেই হবে - এমনটি কেউ বলতে পারে না। অর্থাৎ পৃথিবীর সব দেশে এখন ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা ধীরে ধীরে ঐচ্ছিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোন দেশে কোন ধর্মীয় গোষ্ঠীর নেতা যদি কোন ব্যক্তিকে কোন ধর্মের অনুশাসন মেনে চলতে বাধ্য করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান চালু হয়েছে। আমাদের দেশেও এখন একটি নতুন নিয়ম চালু করেছে সরকার যে, কোন পিতা-মাতা যদি তার মেয়ে সন্তানকে বোরকা পরতে বাধ্য করেন তাহলে সে তার মা-বাবার বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিতে পারবে ।কিন্তু তাই বলে যারা স্বেচ্ছায় ধর্মীয় আচার পালন করেন তাদেরকে সেই কর্ম থেকেও বিরত রাখার কোন চেষ্টা বা তাদের সেই কর্মে বাধা দেওয়া যাবে না। কোন নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীকে অবমাননা করা হয় এমন কিছু বলা বা করাও যাবে না। কিন্তু এতকিছুর পরও ভারত সমানে তাদের ছবিতে মুসলিম চরিত্রের যুক্তিহীন সংযোজন ঘটিয়ে তাদের মাথায় টুপি পরিয়ে তাদেরকে দিয়ে নেতিবাচক কর্মকাণ্ড চালিয়েই যাচ্ছেন। আমি জানি যারা এই সব ছবি তৈরি করছেন তারা ঐ যুক্তিহীন মুসলিম চরিত্র সংযোজনের পক্ষে না না যুক্তি তুলে ধরবেন। অথবা আমার এই লেখা পড়ে অনেক হিন্দু ধর্মাবলম্বী, প্রগতিশীল, বুদ্ধিজীবি, সুশীল সমাজের লোকরাও হয়তো বলবেন -আমার চিন্তা অমূলক। কিংবা হয়তো বলবেন, এর মাধ্যমে আমি নিজেই দ্বন্ধ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছি। অথবা সেই সব তথাকথিত অসামপ্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী অনেকেই বলবেন- আমি সাম্প্রদায়িকতাকে উসকে দিচ্ছি। তবে যে যাই বলুক না কেন, আমি বলবো আমার এই উপলব্ধি কতটুকু সত্য বা মিথ্যা তা আপনারাই বিচার করবেন। আমার এই লেখা যারা পড়ছেন তারা যে ধর্মের বা যে বিশ্বাসের অনুসারীই হউন না কেন তাদের নিকট আমার অনুরোধ - আপনারা সকলেই একটু গভীরভাবে ভারতীয় ছবিগুলো (বিশেষ করে হিন্দি ছবিগুলো)পর্যবেক্ষণ করলেই বিষয়টির সত্যতা নির্ণয় করতে পারবেন। আমি আগেই বলে রেখেছি- তারা সেখানে বিষয়টাকে এমনভাবে উপস্থাপন করেন যে তার পেছনে অনেক যুক্তিই দাঁড় করানো যায় এবং তারা খুব সূক্ষ্মভাবেই এটা করে থাকেন। তারা হয়তো বলবেন- সেখানেতো হিন্দুদেরও একই ধরণের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, তাহলে মুসলিমদের কথা আলাদাভাবে আসছে কেন? কারন মুসলিমরা আর যাই করুক, কোন নাচের, গানের কিংবা নাইট ক্লাবে টুপি পরে তারা যাবে না। আর সেখানে গিয়ে তারা টুপি পরে অর্ধ নগ্ন নারীদের সাথে নৃত্যে অংশ নেবে না। টুপি হচ্ছে মুসলিমের ইবাদাত করার জন্য যে সব উপাদান প্রয়োজন হয় তার একটি। এই টুপি পরে তারা মসজিদ, মাদ্রাসা কিংবা কোন ধর্মীয় মাহফিলে অংশ নিতে পারে, কিন্তু কোনভাবেই নগ্ন নাচে নয়। এছাড়াও কিছু মুসলিম সার্বক্ষণিক মাথায় টুপি পরিধান করে থাকেন, যারা অত্যন্ত ধার্মিক কিংবা ধর্মীয় গুরু শ্রেণীর কেউ হয়ে থাকেন। এক কথায় বলতে গেলে ইসলাম ধর্মে টুপি ব্যবহারের স্থান নির্দিষ্ট করা আছে, যেখানে-সেখানে এটি ব্যবহার করা যায় না। তারপরও যদি সেই সব পরিচালকরা বলেন যে, তারা কোন কোন মুসলিমকে টুপি পরে নাচ-গান করতে দেখেছেন তাহলে সেটা ঐ ব্যক্তির সমস্যা, গোটা মুসলিম সম্প্রদায়ের সমস্যা নয়। কিন্তু আপনারা, চলচ্চিত্র পরিচালকরা যখন দাঁড়ি, টুপি পরিহিত কোন মুসলিমকে ছবিতে নগ্ন নৃত্যে প্রদর্শন করেন তখন তা একটু দৃষ্টিকটুতো মনে হবেই। সকল মুসলিমের তো আর দাঁড়ি-টুপি থাকে না! আপনাদের যদি একটি নাচের দৃশ্যে সকল ধর্মের উপস্থিতি নিশ্চিত করার ইচ্ছা থাকে বা তেমন কোন প্রবণতা থাকে তাহলে দাঁড়ি-টুপি দিয়ে কেন? দাঁড়ি-টুপি ছাড়াই করুন না! তাতে অন্তত আমার মতো সন্দেহবাতিকগ্রস্ত ব্যক্তিদের সন্দেহের তীর আর আপনাদের দিকে যাবে না।
এছাড়াও ভারতীয় বিভিন্ন ছবিতে দেখা যায়, কোন ভারতীয় মুসলিম(ভিলেন) নাগরিক (যার কিনা সেই একই দাঁড়ি-টুপি রয়েছে) কে দেশের সাথে বেঈমানী করে পাকিস্তানের সাথে আঁতাত করতে, পাকিস্তানি জঙ্গীদের সাথে বসে ভারতকে দখল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে। অবশ্য এই বিষয়ে আমার তেমন কিছু বলার নেই। কেননা, ভারতীয়দের স্বাভাবিকভাবেই মনে হতে পারে যে পাকিস্তানিরা সদা ভারত দখল করার পায়তারা করছে। তাদের দেশপ্রেম বোধ থেকেই ছবিতে এমন বিষয়ের আবির্ভাব ঘটতে পারে। কিন্তু দাঁড়ি-টুপি পরা নৃত্যে অংশরত মুসলিম চরিত্রটির ব্যাপারে কি বলবেন? আপনারা যখন একটি ছবিতে এমন ভাবে দাঁড়ি-টুপি পরিয়ে নগ্ন নৃত্যের দৃশ্যে একজন মুসলিমকে প্রদর্শন করেন তখন ছোট শিশুরা এই ছবি দেখলে তাদের মনে ধারণা হতে পারে -মুসলিম মোল্লারা বোধহয় এইরকমই, তাদের স্বভাব ভাল না, তারা নষ্ট চরিত্রের লোক, তাদের মনে এমনই নানা ধারণার জন্ম নিতে পার। এছাড়াও ভারতীয় ছবিতে খুন,হত্যা,ধর্ষণ,নারী পাচার,শিশু পাচার ইত্যাদি যত প্রকার অপকর্ম আছে সব ওই দাঁড়ি-টুপিওয়ালাদের দিয়ে করানোর একটা সংকীর্ণ প্রবণতা আমরা দেখতে পাই। ভাবখানা দেখে মনে হয়- যত নষ্টের গোঁড়া ঐ টুপিওয়ালারা(!)। আমি আগেই বলেছি ইসলাম ধর্মের অনুসারী সকল মুসলিম দাঁড়ি-টুপি পরে না, একমাত্র অত্যন্ত ধার্মিক ও মোল্লারাই পরে। এই দুই শ্রেণীর মুসলিমই ইসলাম ধর্মের দৃষ্টিতে উৎকৃষ্ট শ্রেণীর বলে গণ্য হয়। আর তাদেরই বেশ-ভূশাকে ব্যবহার করে সেই সব পরিচালকরা মুসলিমদের উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন। নতুন প্রজন্মের কাছে মুসলিমদের নিকট নেতিবাচকভাবে প্রদর্শন করছেন। হয়তো তাদের এটা বুঝাতে চাইছেন যে, যাদের মাথায় টুপি মুখে দাঁড়ি থাকে তারা উগ্র, তারা চরিত্রহীন লম্পট(!)। এর কি কোন সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য আছে? যদি নাই থাকে তাহলে বলছি, এই সংকীর্ণ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসুন।
আমরা যারা প্রগতিশীল, যুক্তিবাদী, তাদের কোন ধর্মের প্রতি বিশেষ করুণা থাকতে পারে না। আর আমরা যারা বস্তুবাদী তারা বস্তুবাদী হয়েই থাকি। আর যারা মৌলবাদী তারা মৌলবাদী হয়েই থাকুক না! খামোকা তাদের খোচা মেরে বিরক্ত করার কি দরকার? শুধু এই মৌলবাদীতা জঙ্গীবাদে রূপ না নিলেইতো হলো! আর যারা জঙ্গী তারা তো মুসলিম না। বিভিন্ন ধর্মের মানুষ জঙ্গী হয়েছে। কিন্তু আমি মনে করি তাদের কোন ধর্ম থাকতে পারে না। তারা শুধুই জঙ্গী।
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৫:৩৮
রক্তিম রাকিব বলেছেন: আপনি ঠিক বলেছেন ভাই সোনালীমাঠ। মসলাদার খাবার খেতে খুব সুস্বাদু হলেও পরবর্তীতে তা আমাদের জন্য নানান ব্যাধির কারন হয়ে দাঁড়ায়।
©somewhere in net ltd.
১|
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১:২৭
সোনালীমাঠ বলেছেন: এই ছবি-ই আবার মুসলমান দেখে বাহ বাহ দেয় কিন্তু বুঝেনা যে আস্তে আস্তে কি বিষবাস্প মনে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে ।