নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শাহানুর আহাম্মেদ

আমি ভয় করি নে! আমি দুরন্ত পথিক!

শাহানুর আহাম্মেদ

জীবনটাকে উপলব্ধি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি.......

শাহানুর আহাম্মেদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

দৃষ্টিকোণঃ জীবনের গল্প

০৫ ই জুন, ২০১৩ রাত ৮:৪১

অর্কের আসতে দেরি হবে। তাই তার জন্য আমার ‘বিরক্তিকর’ অপেক্ষা করতে হবে। অর্ক আমার বন্ধু। দুই জনের একসাথে আমার টিউশনির ব্যাপারে কথা বলার জন্য ফার্মগেট যাওয়ার কথা। আমি শাহবাগে শিশু পার্কের বাইরে তার জন্য অপেক্ষা করতেছি। কোন কিছু না করে এক জায়গায় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে আমার ভাল লাগেনা। তাই এই সময়টাকে কাটানোর জন্য রাস্তার পাশের দোকান থেকে চা খাচ্ছি। চা টা খুব একটা ভাল হয়নি তারপরও খাচ্ছি। চা যত খারাপ বা ভাল যে ধরনেরই হোক না কেন তা আমি যে কোন পরিবেশে যে কোন সময়ে খেতে পারি। চা খাচ্ছি আর ভাবছি এই ব্যস্ত শহর আর এই ব্যস্ত শহরের নিজেকে নিয়ে।



অনেক দিন ধরে এই শহরে আছি তারপর ও শহরটার সাথে সখ্য গড়ে তুলতে পারিনি। শহরটা কেমন জানি! শহরটা নিজেকে চিনতে দেয় না। প্রতিনিয়ত রঙ পালটায়। জীবনের মতো এখানেও অসংখ্য গলি। প্রতিটি গলিতে প্রবেশ করা অসম্ভব। এখানকার মানুষগুলোও অদ্ভূত! চেনা বড় দায়!

অর্কের সাথে আমার পরিচয় ভার্সিটির প্রথম দিনে। আমি মফস্বল থেকে এসে এই ভার্সিটিতে ভর্তি হয়। আর অর্ক এই শহরেরই ছেলে। মফস্বল থেকে আসার সময় শুনেছি ঢাকা শহরের ছেলেরা অনেক চালাক হয়। তাদের এড়িয়ে চলা ভাল। আমিও প্রথম দিকে অর্ককে এড়িয়ে চলেছি, কিন্তু ও এটা বুঝতো না । তাই ওর সাথে আমার বন্ধুত্ব তৈরি হলই। অর্ক এতটা চালাক না। সরল মনের ছেলে। ওরা অনেক ধনী, ওদের কোন কিছুর অভাব নাই এমনকি সুখের ও অভাব নাই!

আমার নিজের জীবনটা হতাশায় ভরা, জীবনটা আমার কাছে অসংজ্ঞায়িত! নিজের জীবনটাকে অনেক কষ্টের মনে হয়। অনেক হতাশা আর চিন্তা আমার জীবনকে আমার কাছে বিষন্নময় করে তুলছে। ভার্সিটির ফি, মেস ভাড়া, খাওয়ার টাকা জোগানো, অসুস্থ বাবাকে কাজ থেকে অবসর দেয়া, মায়ের মুখে হাসি ফুটানো, বোনদের পড়ালেখা করানো, তাদের বিয়ে দেয়া আরো হাজারো চিন্তা আমার মাঝে কাজ করে। কবে পড়ালেখা শেষ করে চাকরি করে পরিবারের হাল ধরব এই চিন্তা প্রতিনিয়ত আমার মাথায় ঘুরপাক খায়। অর্কের জীবনটাকে আমার হিংসা হয়, ওর এতো সুখের জীবন আছে এই জন্য নয় বরং আমার কেন নেই!



এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ নিজের চোখ জোড়া রাস্তার ফুটপাতের একটা দৃশ্যের উপর আটকে গেলো। ১৪-১৫ বছরের একটা ছেলে ফুটপাতের উপর ভিক্ষা করছে। ছেলেটি প্রতিবন্ধী, হাত এবং পা দুইটাই অচল। দেখে মায়া হলো। ছেলেটির কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম

-তোমার এই অবস্থা কি করে হয়েছে?

-কাঁদতে কাঁদতে ছেলেটি উত্তর দিলো “জন্ম থেকে এই অবস্থা”।

-কাঁদছো কেন?

-এই প্রথম কেউ আমার খোঁজ নিলো তাই!

- পরিবারে কে আছে?

-“মা মারা গেছে, বাবা আমায় রেখে চলে গেছে, নানির কাছে থাকি”।



ছেলেটিকে আর কিছু জিজ্ঞেস করার সাহস হয় নি। পকেট থেকে কিছু টাকা বের করে তার থালায় রাখি। নিজের অজান্তেই চোখের কোণে এক ফোঁটা জল আবিষ্কার করলাম। একটু আগে অর্কের জীবনের জন্য আমার হিংসা হচ্ছিল আর এখন ভিক্ষুক প্রতিবন্ধী ছেলেটিকে দেখে নিজেকে অনেক সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে। একটু আগেও নিজের জীবনকে নিজের কাছে অসংজ্ঞায়িত মনে হয়েছিল কিন্তু ছেলেটাকে দেখার পর নিজের জীবনের সংজ্ঞা খুঁজে পেলাম। আমার কষ্টগুলোতো চেষ্টা করলে হয়তো মুচে ফেলা যাবে কিন্তু ছেলেটার জীবনের কষ্টগুলো কি করে মুচবে!!

অর্ক এসে গেছে। শহর আর জীবনের গল্প ফেলে দিয়ে আমি হেঁটে চলছি শহরের কোন এক গলির দিকে নিজের গন্তব্যের লক্ষে.......।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই জুন, ২০১৩ দুপুর ১২:১৩

আরজু পনি বলেছেন:
বাস্তবতার গল্প পড়ে বেশ ভালো লাগলো।
চালিয়ে যাবেন লেখা।

শুভ ব্লগিং। !:#P

২| ০৭ ই জুন, ২০১৩ বিকাল ৩:৩৪

শাহানুর আহাম্মেদ বলেছেন: ধন্যবাদ। ধন্যবাদ। ২ বার ধন্যবাদের প্রথমটা কমেন্ট করার জন্য আর ২য় টা আমার প্রথম ব্লগে প্রথম কমেন্ট করার জন্য!! চেষ্টা চালিয়ে যাবো। !:#P

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.