নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শাহানুর আহাম্মেদ

আমি ভয় করি নে! আমি দুরন্ত পথিক!

শাহানুর আহাম্মেদ

জীবনটাকে উপলব্ধি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি.......

শাহানুর আহাম্মেদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

হাসির ‘থ’ময় একটা দিন!

০৯ ই জুন, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৪১

সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্যান্টের মধ্যে পানি আবিষ্কার করিলাম। কিন্তু পানির মধ্যে গন্ধ দেখিয়া বুঝিলাম ইহা পানি নয় ইহা মূত্র। সেই কবে ঘুমের মধ্যে বিছানায় মূত্র বিসর্জন করা ছাড়িয়াছি তা চিন্তা করিতে করিতে বিছানা থেকে নামিবার জন্য যেই না নিচে পা দিলাম সাথে সাথে পায়ে আধা তরল কি জানি লাগিল অনুভব করিলাম। নিচে তাকাইয়া দেখি ইহা কোন এক অবলা মনুষ্যের মল! আম্মুকে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম “ আম্মু! আমার প্যান্টে মূত্র আর পায়ে মনুষ্য মল আসিল কোই থেকে?” আম্মু উত্তর দেয়ার আগেই আপু বলিল” ইহা তোর ১৬ মাস বয়সি ভাগ্নির কাজ”। ভাগ্নি ঘুম থেকে উঠিয়া আমাকে দেখিতে আসিয়া এই অপকর্ম সারে।



এগুলা পরিষ্কার করিয়া মুখমন্ডল ধুতে গেলাম। ব্রাস এ টু্থপেস্ট লাগাতে গিয়া দেখি টিউবে টুথপেস্ট নাই। টুথপেস্ট না থাকার পরও টুথপেস্ট এর টিউব টা বেসিং এ রাখার কি প্রয়োজন তা বুঝার চেষ্টা করিতে গিয়ে বুঝিলাম আলস্য আমাদের ধরে বসেছে। আলস্য আমাদের এতটা চেয়ে গেছে যে আমিও কষ্ট করে তা ঝুড়িতে ফেলার প্রয়োজন বোধ করিলাম না!

দাঁত ব্রাস না করেই শুধু মুখখানা ধুইয়ে নাস্তা করিতে বসিয়া গেলাম। এক খানা রুটি ভক্ষন করিবার পর প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেবার তীব্র প্রয়োজনীয়তা অনুভব করিলাম। বাসার দুইখানা বাথরুম চেক কররিয়া দেখিলাম একটাতে দাদা আর একটাতে দাদি! দাদি অনেক সময় লাগাইয়া প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয় আর দাদাতো প্রকৃতি পুরোপুরি ডাকার আগেই বাথরুমে গিয়ে বসিয়া থাকে! আমার প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়া তীব্র থেকে তীব্রতর হইয়া দাঁডাইলে আমি নিজের বাসার বাথরুমের আশা ছাড়িয়া পাশের বাসার বাথরুমে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দোঁড় লাগাইলাম।



এইসব ঘটনা ভুলিয়া অতঃপর ক্লাসের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। বাসা থেকে বের হইয়া এক রিক্সাওয়ালাকে জিজ্ঞাসা করিলাম রাস্তার মাথায় যাইবে কিনা। রিক্সাওয়ালা ওইদিক যাইবে না বলে আমাকে জানাইলো। কিন্তু খানিক পরে দুই জন সুন্দরি রমনী রিক্সাওয়ালাকে একই জায়গায় যাইবে কিনা জিজ্ঞাসা করিলে রিক্সাওয়ালা বলিল- “ আপা! ওঠেন!” বুঝিলাম- দেশ থেকে জেন্ডার ডিসক্রিমিনেসান এখনো পুরাপুরি দূর হয় নাই!



আজকে শেষ ক্লাসের ৫০ মিনিটের মধ্যে ৪০ মিনিট পরীক্ষা নেওয়া হইবে, বাকি ১০ নিনিট স্যার লেকচার দিবে। আমার প্রস্তুতি ভাল। ১০ মিনিট পরীক্ষা দেওয়ার পর প্রক্টোর এসে আমার কয়েকজন বন্ধুসহ আমাকে ওনার রুমে ডাকিয়া নিলেন। গতকালকে আমার সহিত প্রতিষ্ঠানের এক জুনিয়র ছাত্রের ঝামেলা হইয়াছিলো। সে আমার সাথে বেয়াদবি করিয়াছিলো যাহার ফলস্বরুপ আমি এবং আমার কয়েকজন বন্ধু তাহাকে বকাঝকা করিয়াছি । ক্লাস শেষ করে চলে আসার পর আমার এক বন্ধু রাস্তায় ওই ছেলেকে কিঞ্ছিত উত্তম মাধ্যম দিয়াছিলো যে বিষয়ে কিনা আমি কিছুই জানিতাম না। পরে ওই ছেলে প্রক্টোরের কাছে আমার বন্ধুর নামে নালিশ দিয়াছে কিন্তু আমার নামে দেয় নাই। কারণ সে জানিতো আমার সাথে তার যে ঝামেলা হইয়াছে তাহাতে দোষ তাহারই। প্রক্টোর বন্ধুর বিচার করিতে গিয়া পুরা ঘটনা জানিয়াছেন। তাই আজকে আমাদের সবাইকে ডাকিয়া নিয়াছেন। আমার দোষ না থাকা সত্তেও প্রক্টোর আমার কোন কথা না শুনিয়া আমকে বকাঝকা করিলেন। প্রক্টোরের এহেন কর্মকান্ড দেখে আমার সেই সাংসদের সেই উক্তিটি মনে পড়িয়া গেলো- “ মাননীয় স্পীকার! আমিতো চোদনা হয়ে গেলাম”।



বকা শুনিয়া ক্লাসে ঢুকিয়া দেখি পরীক্ষা শেষ হইতে আর মাত্র ২ মিনিট বাকি! ২ মিনিট লেখার পর স্যার খাতা নিতে আসিলে আমি স্যারকে ক্লাসের বাকি ১০ মিনিট সময় আমাকে লিখতে দেওয়ার অনুমতি চাইলাম। কিন্তু স্যার আমাকে হতাশ করিয়া বলিলেন- “ সময় সবার জন্য সমান গতিতে চলে। তোমার আর লিখিবার দরকার নাই”। স্যারের এই কথা শুনার পর আমার সেই সাংসদের সেই ২য় উক্তিটি মনে পড়িয়া গেলো- “ মাননীয় স্পীকার আমিতো আবারও চোদনা হয়ে গেলাম”।

পরীক্ষা শেষ করিয়া ক্যান্টিনে খাইতে গেলাম। সেখানে আমার দুই বন্ধু আমার থেকে খাওয়ার জন্য অপেক্ষা করিতেছে। আমাদের তিন বন্ধুর মধ্যে লাস্ট পরীক্ষার সময় একটা চুক্তি হইয়াছিলো- তিন জনের মধ্যে যে পরীক্ষায় হাইয়েস্ট পাইবে সে বাকি দুই জনরে খাওয়াইবে। ২০ এর মধ্যে তাহারা একজনে ১ আর একজনে ২ পাইলেও আমি অবলা দূর্ভাগ্যক্রমে ৩ পাইয়াছি!

রাত্রে বাসায় টিভিতে ছবি দেখিতেছিলাম। যেই না আব্বু টিভির সামনে আসিলো তখনি টিভিতে একটা অতীব রোমান্টিক ওই টাইপের দৃশ্য ফুটিয়া উঠিল। এই দৃশ্য দেখিয়া আব্বু আমাকে বলিল টিভিতে কি ভাল কিছু দেখায় না!

টিভি দেখা বাদ দিয়া আমি পড়াশুনা আরম্ভ করিলাম। অনেক্ষন মুখস্ত বিদ্যা অর্জন করিবার পর আমি মোবাইল খানা হাতে নিলাম। ঠিক সেই সময় আম্মু আমার রুমে আসিল। আম্মু আমার হাতে মোবাইল দেখিয়া কহিল- “ তোরে তো সব সময় মোবাইল টিপতে দেখি। পড়ালেখা করতে মন না চাইলে লাইট- ফ্যান অফ কইরা শুইয়া যা শুধু শুধু কারেন্টের বিল উঠানোর কোন দরকার নাই”।

এতসব ঘটনার পর খাওয়া সেরে রাতে বিচানা না দেখেই আমি শুইয়া পড়িলাম। শোয়ার পর হাটুর মধ্যে পানি আর আধা তরল কি জানি লাগিল অনুভব করিলাম! গন্ধ শুকিয়া বুঝিলাম ইহা কোন এক অবলা মনুষ্যের কুকর্ম। এই কুকর্ম কে করিয়াছে তা জানিবার জন্য আমি কাউকে ডাকিবার প্রয়োজন বোধ করি নাই কারণ ততক্ষণে আমি বুঝিয়া গিয়াছি ইহা অন্য কারো নয় ইহা আমার ১৬ মাস বয়সি ভাগ্নির কাজ!!

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.