| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শাওন আহমাদ
এটা আমার ক্যানভাস। এখানে আমি আমার মনের কোণে উঁকি দেয়া রঙ-বেরঙের কথাগুলোর আঁকিবুঁকি করি।

বছরের শেষ সূর্যাস্তের পর যখন পুরো পৃথিবী নতুন বছরকে বরণ করার প্রস্তুতি নেয়, তখন আকাশ-বাতাস এক অদ্ভুত আতঙ্কে ভারী হয়ে ওঠে। সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয়, অপসংস্কৃতি, অশ্লীলতা, মাদক সেবন ও উচ্ছৃঙ্খলতার জয়গান গেয়ে উদযাপিত হয় ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’।
আলোকসজ্জা, আতসবাজি আর উচ্চশব্দের গান—সব মিলিয়ে এক উন্মাদনা। কিন্তু একবার কি ভেবে দেখেছি, আমাদের এই কয়েক ঘণ্টার আনন্দ অন্য কারোর জন্য কতটা ভয়াবহ হতে পারে?
আমরা যখন আকাশের বুক চিরে আতসবাজির শব্দ আর আলোর ঝলকানি দেখে আনন্দে মেতে ওঠি, তখন সেই আকাশে দিনমান উড়ে বেড়ানো পাখিদের পৃথিবীটা ওলটপালট হয়ে যায়। প্রচণ্ড শব্দ আর আগুনের ঝলকানিতে আতঙ্কিত হয়ে পাখিরা দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে উড়তে থাকে। অন্ধকারে তারা দালানের কাচ বা বৈদ্যুতিক তারে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরদিন সকালে রাস্তার ধারে পড়ে থাকা সেই নিথর দেহগুলো আমাদের উৎসবের বীভৎস সাক্ষ্য দেয়। তারা তো কথা বলতে পারে না, তাই হয়তো তাদের এই নীরব কান্না আমাদের কানে পৌঁছায় না।
আপনার পাশের বাসার সেই অসুস্থ বৃদ্ধ মানুষটি কিংবা দোলনায় শুয়ে থাকা নিষ্পাপ শিশুটির কথা ভাবুন তো? লাউড স্পিকারের বিকট শব্দ যখন দেয়াল ভেদ করে তাদের কানে যায়, তখন তাদের বুকটা কতটা ভয়ে কেঁপে ওঠে! উচ্চ রক্তচাপ বা হার্টের রোগীদের জন্য এই শব্দগুলো একেকটি মরণকামড়। গত কয়েক বছরে আমরা এমন খবরও শুনেছি যে, আতসবাজির শব্দে হার্ট অ্যাটাক করে অবুঝ শিশু মারা গেছে। যে উৎসব মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়, তাকে কি আদৌ উৎসব বলা যায়?
আকাশে রঙিন ফানুস উড়তে দেখলে খুব সুন্দর লাগে, তাই না? কিন্তু সেই ফানুস যখন কোনো বস্তিতে, পাটের গুদামে বা মানুষের বসতবাড়িতে গিয়ে পড়ে, তখন কয়েক সেকেন্ডে ছাই হয়ে যায় কারো সারাজীবনের সম্বল। আগুনের লেলিহান শিখা যখন চারপাশ গ্রাস করে, তখন আমাদের সেই আনন্দ অন্যের সারাজীবনের কান্নায় রূপ নেয়।
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে আমাদের প্রথম দায়িত্ব হলো অন্যকে কষ্ট না দেওয়া। ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয়, "প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার হাত ও মুখ থেকে অন্য মানুষ নিরাপদ থাকে।" অথচ আমরা আনন্দের নামে প্রতিবেশীর হক নষ্ট করছি, পরিবেশ দূষিত করছি এবং অবলা প্রাণীদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছি। অপচয় আর বিশৃঙ্খলা কোনো ধর্মই সমর্থন করে না। অকারণে কাউকে কষ্ট দেওয়া, ভয় দেখানো কিংবা ক্ষতি করা—এগুলো কখনোই ইসলামের শিক্ষা হতে পারে না।
আমরা নিজেদের ‘সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব’ বলে গর্ব করি। কিন্তু শ্রেষ্ঠত্ব কি সেই আনন্দ-উল্লাসের নাম যা অন্যের জীবননাশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়? নাকি শ্রেষ্ঠত্ব হলো নিজের আনন্দকে নিয়ন্ত্রণ করে অন্যের কষ্ট অনুভব করার নাম?
নতুন বছর আসবে, বসার ঘরে ঝোলানো ক্যালেন্ডার বদলে যাবে—এটাই তো চিরায়ত নিয়ম। জীবন থেকে একটি বছর হারিয়ে যাচ্ছে কালের অতল গহ্বরে; এক পা দু পা করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি মৃত্যুর দিকে। পৃথিবীতে আমাদের কেন পাঠানো হয়েছে আর আমরা কী করছি—সেই চিন্তায় আমাদের সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাওয়ার কথা; অথচ আমরা এসব ভুলে বিজাতীয় সংস্কৃতিতে মেতে উঠছি।
আসুন না, এবার একটু অন্যভাবে বছরটাকে বিদায় জানাই। থার্টি ফার্স্ট নাইটে বিকট শব্দ, আতসবাজি আর বিজাতীয় সংস্কৃতি বাদ দিয়ে আমরা কি পারি না কোনো অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে? শীতার্ত মানুষের হাতে গরম কাপড় তুলে দিতে? কিংবা বিগত বছরের ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে, আগামী বছরের বিপদাপদ থেকে সুরক্ষার জন্য সাহায্য প্রার্থনা করতে?
২|
৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:২৬
করুণাধারা বলেছেন: কয়েক বছর আগের একজন ব্লগারের পোস্ট মনে পড়লো। তার শিশু সন্তান হার্টের রোগী। তিনি আক্ষেপ করে লিখেছিলেন, পটকার শব্দে তার সন্তান সারারাত ভয়ে কেঁপে উঠেছে।
৩|
০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:১৯
আলামিন১০৪ বলেছেন: @নতুন, মুসলিমদের দেশ থেকে অন্য দেশে চলে যেতে পারেন যদি আযানের শব্দ বিরাক্তকর মনে হয়।
বাই দ্যা ওয়ে, আযান মাইকে দেওয়া বাধ্যতামূলক না। মসজিদের আশে পাশে কারো বাসা থাকলে লাউড স্পীকারের দিক কিছটা উপরের দিকে মুখ করে কিংবা শব্দের ভলিউম কমিয়ে অসুস্থ্য বা তীব্র শব্দের প্রতি সংবেদনশীল মানুষদের স্বস্তি দিলে ইসলামে বাধা নেই। নামাজের সময়ও উচ্চ শব্দের মাইক ব্যবহার না করে, নিম্মমাত্রার শব্দের অধিক সংখ্যাক স্পীকার মসজিদ প্রাঙ্গনে ব্যবহার করা দরকার। তা না হলে তীব্র শব্তের কারণে স্বাস্থ্য ঝুকি ছাড়াও নামাজের ক্বিরআত শুনতে অসুবিধা হয়। রমজান মাসে তারাবীর জামাতে আমি এমন মসজিদ খুঁজে বের করি যেখানে স্বল্প ভলিউমে সুমিষ্ট স্বরে ক্বিরআত শোনা যায়।
একইভাবে জনসমাবেশ এবং মন্দিরসহ সব স্খানে গ্রহণযোগ্য মাত্রার বাইরে যেন শব্দ দুষণ রোধ করতে হবে।
৪|
০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১৮
রাজীব নুর বলেছেন: নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানবেন।
৫|
০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩০
নতুন বলেছেন: আলামিন১০৪ বলেছেন: @নতুন, মুসলিমদের দেশ থেকে অন্য দেশে চলে যেতে পারেন যদি আযানের শব্দ বিরাক্তকর মনে হয়।
বাই দ্যা ওয়ে, আযান মাইকে দেওয়া বাধ্যতামূলক না।
আমার কমেন্টকা একটু আরেকবার পড়ে আসেন। আমি মাইক ব্যবহার করে উচ্চস্বরে শব্দ বন্ধের কথা বলেছি, আযান বন্ধের কথা বলিনাই।
আপনাদের মতন অতিউতসাহী ধার্মিকরাই ধর্মকে বিতকিত করে। ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৫:০৪
নতুন বলেছেন: আতসবাজীর জন্য স্টেডিয়াম অথবা দুরের কোথাও নিদ্ধারিত করে দেওয়া উচিত।
ফাসুন নিষিদ্ধ করা উচিত। মাইকে আজান, পুজা, বিয়ে বাড়ীর গানবাজনা নিষেধ করা উচিত।
স্পিকার ব্রবহার করা যেতে পারে সেটাও অন্যদের বিরক্ত না করে এমন শব্দে।