| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
লিখে যেতে চাই আত্মতৃপ্তির জন্য এক সাহসি কলম হাতে
এক চোখ দিয়ে পৃথিবী দেখতে কেমন লাগে সেটা জহিরের জানার কথা নয় , কারণ এমন অনুভূতি জীবনে এই প্রথমই হচ্ছে ।
বাম দিকের চোখের সাথে সাথে শরীরের অর্ধাংশও যেন বিদায় নিয়েছে । নিজেকে মনে হচ্ছে অর্ধ মানুষ । এবং নিজের নাক দুই চোখ থাকা অবস্থায় শুধু সর্দি হলে যার অস্তিত্ব অনুভব হত ,এক চোখ দিয়ে সেই নাককেও মুখের উপর বসে থাকা পেট মোটা এক পাহাড় মনে হচ্ছে , সেই পাহাড় বাম দিকের পৃথিবী পুরোটাই আড়াল করে ফেলেছে ।
ছাত্র ছাত্রীদের পড়ানোর টেবিলে বসলে বাম দিকের কোন ছাত্র ছাত্রীকে সে আর দেখতে পাবে না । আর কি কোনদিন সে ছাত্র ছাত্রী পড়াতে পারবে ? দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে তার বুক চিড়ে ।
আব্বু ! তার দুই বছরের ছেলে সিয়াম দৌড়ে এসে তার কোলে মাথা গোঁজে । সিয়াম আর তার মা মানে তার স্ত্রী রাখির জন্য তার আরও অনেকদিন বেঁচে থাকতে ইচ্ছে হয় ।
জহির মানেই জহির স্যার , বালীকানদা উপজেলার প্রায় সকল মানুষই ইংরেজির শিক্ষক জহির স্যারকে এক নামে চিনে । আর তা হবেই না বা কেন , বালীকানদা উপজেলায় অমন ভাল ইংরেজির শিক্ষক কি আর ছিল !
এমনকি তার স্ত্রী রাখিও তার ছাত্রী ছিল । ঐ সময় ১৭-১৮ টা ব্যাচ পড়াত । জহিরের একটা অদ্ভুত ক্ষমতা ছিল । সব ছাত্র ছাত্রীদের নাম একবারেই মনে রাখত সে ।
কত ছাত্র ছাত্রীকে ফিরিয়ে দিয়েছে ব্যাচে জায়গা নেই বলে । রাখিদের ব্যাচটা ছিল সবার চেয়ে আলাদা এবং এই আলাদা থাকার কারণটাও ছিল রাখি।
ঐ ব্যাচটাকে খুব কদর করত জহির , এক ঘণ্টার জায়গায় দু’ ঘণ্টা পড়াত তাদের । প্রায়শই বিভিন্ন উপলক্ষে এমনকি উপ উপলক্ষেও যেমন তার “ চতুর্থ বোনের মেজ ছেলের মুসলমানি ” অনুষ্ঠানেও ভোজ দিত সে ।
রাখি যখন ছোট করে বিস্কুটে কামড় দিয়ে খেত , পানি খেয়ে গ্লাসে লিপস্টিক লাগীয়ে রাখত ,টিস্যু দিয়ে ঘাম মুছত সব ভাল লাগত জহিরের ।
অনুবাদ বোঝার চেষ্টা করতে গিয়ে সে যখন ঠোঁটের ডান পাশ কামড়ে চিন্তা করত চোখের উপর পড়া চুল সরিয়ে দিত , কিম্বা বুকের উপর ওড়না ঠিক ঠাক করে দিত জহিরের মধ্যে কি যেন একটা হয়ে যেত !
রাখি কোনদিন পড়তে না এলে সেদিন জহিরের এত খারাপ লাগত ! সবাইকে তাড়াতাড়ি ছুটি দিয়ে শুয়ে থাকত সে ।
এমনকি একদিন রাখির জুতা ছিঁড়ে গিয়েছিল বলে সে তাড়াতাড়ি তার ভাগ্নেকে পাঠিয়ে চকবাজার থেকে জুতা সারিয়ে এনেছিল যাতে সে আগে আগে চলে না যায়।
আর এই সব কিছুই তো ভালবাসার নমুনার সাথে মিলে যায় । নর-নারীর ভালবাসার তথ্যটা কোন এক “ মানসিক ইথারে ” পৌঁছে যায় এবং কিছু না বললেও বাকীজন সেই “ মানসিক ইথার ” থেকে তথ্যটা জেনে যায় । ভালবাসারত ও ভালবাসাপ্রার্থীদের নিজেদের মধ্যে যতটা না কথা বিনিময় হয় তার চেয়ে অনেক বেশী তথ্য বিনিময় হয় মানসিক ইথারে । রাখিও জেনে গিয়েছিল এবং মৌণ হ্যাঁ টা ছড়িয়ে দিয়েছিল ইথারে ।
- পানি খাবে ? কপালে শীতল হাতের স্পর্শে তন্দ্রাভাব ভেঙ্গে যায় জহিরের ।
মাথার কাছে রাখি দাড়িয়ে আছে , শান্ত সৌম্য একটা মুখ ।
প্রথমদিকে অনেক কাঁদত রাখি , একটার পর একটা অপারেশোন , কেমোথেরাপি , টেস্ট, রিপোর্টে হত-বিহ্বল হত আর কাঁদত । কখনও আড়ালে , কখনও সামনেই । তার চোখের জল যেন ছিল বাধ ভাঙ্গা নদীর স্রোতের মত । কিন্তু আস্তে আস্তে সে স্রোতে পলিমাটি জমতে শুরু করে । একসময়ে শান্ত, স্থবির হয় নদী ।
ঘটনায় একটা ভয়ঙ্কর খারাপ অনাহুত আশঙ্কায় দিনাতিপাত একসময় ঘটনাটা গা সওয়া হয়ে যায় । রাখিও এখন আর শিশুর মত কাঁদে না । মাঝে মাঝে জানালা দিয়ে উদাস হয়ে ঘন রেইনট্রি গাছের সারির দিকে তাকিয়ে থাকে ।
দুপুরে জহিরকে গোসল করিয়ে জানালার পাশের বিছানায় শুইয়ে দেওয়া হয় । অনেক দিন পরে গোসল করায় তার শরীরে এক প্রশান্তি ও আরাম বোধ ছড়িয়ে যায় ।
একটা আমগাছের মাথার অংশ , দূরের রেইনট্রি গাছগুলো যেন ঘন হয়ে নিরবিচ্ছিন্ন সবুজ শামিয়ানা বানানোর চেষ্টা করছে ।
তাদের মাঝখানে হঠাৎ ডালপালাহীন মৃত এক তালগাছ চোখে পড়ে তার । সব সবুজের মাঝে বেমক্কা শ্রীহীন গাছটি বড় বেমানান ।
নিজেকে হঠাৎ করে শ্রীহীন তালগাছ মনে হয় তার । ইদানীং এই বিষয়টা বেশী হয়েছে , যেদিন থেকে সে চলার শক্তি হারিয়েছে সেদিন থেকেই নিজেকে কখনও বিদ্যুতের খুঁটি , কখনও নামাজের চৌকি কখনও এমনকি মুখ ভাঙ্গা মুড়ির কৌটাও মনে হয় ।
এই বিছানাটা জহিরের খুব পছন্দের । এখান থেকে শুয়ে শুয়ে আকাশ দেখা যায় । আকাশ থেকে ভেসে যায় বিভিন্ন আকৃতির মেঘ ।
ডানা ঝাপটে দু’ একটি কাক উঁরে যায় । ডানা না ঝাপটে ঘুরে বেড়ায় সোনালী ডানার চিল ।
দুপুর গড়ানো রোদ হলদে সাদা দ্যুতি ছড়ায় । আস্তে আস্তে চোখটা বুজে আসে তার। আচমকাই একটা কণ্ঠস্বর তার অবচেতনে কথা বলতে শুরু করে ।
- স্যার ভাল আছেন ?
- কে , কে কথা বলে !
- খুব কি জানার দরকার ? শরীর কেমন এখন ?
- আগের চেয়ে ভাল ।
- কে বলেছে আপনাকে ? এক অতি ক্ষুদ্র পোকা বসতি গেড়েছে আপনার শরীরে । একটা দুটা , একশ ,দুশ , লক্ষ কোটি তারা ঝাঁকে ঝাঁকে আপনার শরীর ঝাঁঝরা করে ফেলেছে । খুব দ্রুতই নিঃশেষ হবেন আপনি ।
- না ... না ... না......। শব্দ করে বলে উঠে জহির । ঘুম ভেঙ্গে যায় তার ।
ঘুম ভেঙ্গেই জহির টের পায় নিঃশ্বাস তার ভারী হয়ে আছে । আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে সে । চারপাশে তাকিয়ে দেখার চেষ্টা করে ।
অদূরেই পিলারের কাছে একটা কাঠের টুকরা নিয়ে খেলছে তার ছেলে সিয়াম । সিয়ামের দিকে তাকিয়ে থাকে জহির । তার ছোট রক্তমাংসের শরীরে জহিরের অধিকার আছে ।
সে মরে গেলেও একটা অংশ রয়ে যাবে সিয়ামের মাঝে । সিয়াম যখন প্রথম হাটতে শিখল তখন টালমাটাল পায়ে একটু দাড়িয়ে প্রায় পড়তে পড়তে ছোট হাতটি জহিরের দিকে বাড়িয়ে দিত । জহির এগিয়ে এসে হাতটি ধরে ফেলত , আর সিয়াম দু একটি দাঁতের মাড়ি নিয়ে খিল খিলিয়ে হেসে উঠত ।
একটু যখন বড় হবে সিয়াম এসব কিছুই কি তার মনে থাকবে ?
সিয়াম খেলতে খেলতে জহিরের খাটের পাশে এসে দাড়ায় । জহিরের গালে চুমু খেয়ে দৌড়ে অন্য রুম এ চলে যায় । মনের অজান্তেই জহিরের চোখ বেয়ে দু’ ফোটা জল গড়িয়ে পড়ে ।
বিকেল হলেই দর্শনার্থীরা আসে জহিরকে দেখতে । তাদের মধ্যে যেমন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা তেমনি দুঃসম্পর্কের স্বজনরাও । কলেজের প্রিন্সিপাল থেকে শুরু করে কলেজের সামনের আচার বিক্রেতাও আসে । ছাত্র প্রতিবেশিরাও আসে কেউ কেউ।
রাখি প্রায়ই বলে ,তুমি অনেক ভাল মানুষ গো , কত লোক তোমায় দেখতে আসে । সবার দোয়ায় তুমি নিশ্চয় ভাল হয়ে উঠবে ।
রাখির এই “নিশ্চয়” শব্দটি জহিরের মাঝে অনেক সাহস সঞ্চয় করে । মনে মনে সে আবার ক্লাশের মধ্যে পায়চারি করে , ব্যাচে পড়তে আসা ছাত্র ছাত্রীদের গ্রামার এর ফর্মুলা বোঝায় ।
দুপুর হলেই জহিরকে জানালার পাশের খাটে শোয়ানো হয় । শুয়ে শুয়ে আকাশ দেখে সে । জানালার পাশের রেইনট্রি গাছগুলোর পরিপক্ক ফল । কাঠের মত গোল আবরণের ফলগুলো ফেটে তেলাপোকার পাখনার মত দেখতে বীজগুলো বাতাসে ঘুরে ঘুরে উড়ে যায় । ছোট বেলায় এগুলো দিয়ে সে হেলিকপ্টার হেলিকপ্টার খেলত।
আস্তে আস্তে রোদের রঙ লালচে সোনালী হয় । জহিরের চোখটা বুজে আসে ।
- জহির স্যার ঘুমিয়ে পড়েছেন ?
- কে ?
- আমি আপনার শরীরে বাস করা পোকাদের প্রতিনিধি ।
- কোথায় তুমি ?
- আমায় তো আপনি দেখতে পাবেন না । খালি চোখে দেখার মত শরীর আমাদের নেই । তাছাড়া আপনার তো একটা চোখ এমনিতেই নেই ।
- ঠাট্টা করছ আমার সাথে ?
- না ,জনাব তা কি করে হয় , আপনি আমাদের আশ্রয়দাতা , আমি ত মাত্র আপনার খোজ খবর নিতে ও আমাদের খবর জানাতে এলাম ।
- আমি ভাল আছি ।
- জি স্যার সেটা জানি , কিন্তু আমাদের একটু সাহায্য দরকার ।
- কার সাহায্য ?
- জি হুজুর, আপনার ই । বিষয়টা হল আমরা আপনার শরীরের যে জায়গায় বাস করছি সেখানে আর আমাদের স্থান সংকুলান হচ্ছে না , গত পরশু আমাবস্যার রাতে আমাদের সব মেয়েছেলেরাই নতুন অনেক সদস্য জন্ম দিয়েছে । আপনি যদি আপনার যকৃতের কিছু অংশ ছেড়ে দিতেন তাহলে নতুনদের বাসস্থানের সমস্যাটার একটা সমাধান হত ।
- দয়া করে দূর হও । দূর হও .........।
কি হয়েছে ? খারাপ কোন স্বপ্ন দেখেছ ? রাখি তার গোলাপি ঠাণ্ডা হাত টি জহিরের কপালে রাখে ।
ইলিয়াস এসেছে । চোখ মেলে খাটের পাশে বসা ইলিয়াসকে দেখতে পায় জহির । ইলিয়াস “আহারে” টাইপের একটা মুখভঙ্গি করে জহিরের দিকে তাকিয়ে আছে ।
- ভাই জান কেমন আছেন ?
- ভাল আছি ।
- হ , দেখতেই ত পাইতেছি , কি মানুষটা কি হইয়া গেছেন । চক্ষুডাও কাইট্টা বাদ দেওন লাগলো । শরীরের হাড় কয়ডা গোনা যায় ।
- আমরা সবাই দোয়া করি আপনের জন্য । কানাই লালের মিষ্টি আনছি আপনের জন্য। গরম গরম খাইয়া নিয়েন ।
জহির আরেকদিকে ফিরে থাকে । কর বিভাগে চাকুরী করা বিপত্নীক এই ফুপাত ভাইকে নিয়ে মনে মনে একটা আশঙ্কা হয় তার। সেটা সত্যি হোক সে তা চায় না।
আগস্টের অলস দুপুরগুলো পার হয়ে যায়। জহিরের এক চোখ দেখে চলে বরষাঝরা দুপুর অথবা ঝকঝকে স্ফটিক নীল আকাশ ।
আকাশের আর আলোর যে এত রকম আছে তা এতদিন একাধারে না দেখলে কোনভাবেই জানত না জহির ।
রাখীও তার সেবা করে যায়। দিন দিন সে সেবায় যেন ভালবাসার থেকে দায়ীত্বের হারই বাড়তে থাকে ।
মাঝে মাঝেই দুপুরে অর্ধচেতনে পোকাদের প্রতিনিধির সাথে কথা হোয় তার। একদিন পোকাদের প্রতিনিধি তাকে বলল “ আজ একজন বিশেষ কেউ আসবে”। সেদিন বিকেলে সত্যিই তার অত্যন্ত প্রিয় একজন ছাত্র যে কিনা সৌর শক্তির গবেষণায় পৃথিবীব্যাপী নাম কামিয়েছে সে এসে উপস্থিত।
আবার যে দিন সে বলল , স্যার আপনার ছেলের দিকে খেয়াল রাখবেন। সেদিন রাত থেকেই সিয়ামের কি জ্বর ! টানা ৪ দিনেও সে জ্বর কমে নি।
তবে প্রতিবারই পোকাদের প্রতিনিধি একটু করে বাড়তি জায়গা চায়। জহির প্রতিবার দূর হও বলে তাড়িয়ে দেয় ।
সেপ্টেম্বারের শুরুর দিকে যখন আকাশে উজ্জ্বল রঙের বিশাল মেঘেরা ভেসে যাওয়া শুরু করে আর শরীর ঠাণ্ডা করা বাতাস বয় , সেইরকম এক দুপুরে তিরি তিরি বাতাসে আধবোজা চোখে শুয়ে ছিল জহির ।
- স্যার কি ঘুমিয়ে পড়েছেন ?
- কে পোকা রাজ ?
- হূম
- স্যার কি একটু ডালিম খেতে পারেন না বেশী করে ?
- কেন?
- আপনার লোহিত রক্ত কণিকা যে হারে কমে গেছে ! নিজেও বিপদে পড়বেন খাবারের অভাবে আমরাও বিপদে পড়ব ।
- কিছুক্ষণ চুপ থেকে পোকারাজ বলল স্যার আজকের দিনটা তো আপনার জন্য বিশেষ ।
- কেন বিশেষ ?
- সময় হলে জানতে পারবেন ।
জহিরের তন্দ্রা ভেঙ্গে যায় । বিকেলের আকাশে কতগুলো পায়রা ওড়াঊড়ী করছে । তারও উড়ে যেতে ইচ্ছে হয় ।
সন্ধ্যা নাগাদ তার অনেক আত্মীয় স্বজনরা আসে। জহিরের খুব ভাল লাগে । তার নিজের ভাইবোন , চাচাত ভাইবোন , তার বর্ষীয়ান বড় চাচাও এসেছেন।
এই সব আপন লোকজনের সাথে জড়িয়ে আছে তার কত সময়, স্মৃতি আর মমতা।
সুস্থ হবার প্রত্যাশা রেখে রাতে তারা ফিরে যায়।
রাতে গুটি গুটি পায়ে সিয়াম এসে তার বিছানার পাশে দাঁড়ায় ।
- আব্বু তুমি কি সত্যিই মরে যাবে ?
- কেন বাবা ? একথা বলছ কেন ?
- ইলিয়াস চাচা বলেছেন , আর বলেছেন আমি যেন তাকে আব্বু ডাকি ।
- আমি কোনদিন তাকে আব্বু ডাকব না । কোনদিনও না ।
ঠোট ফুলানো জিদ নিয়ে সিয়াম চলে যায় ।
জহিরের চুপ করে থাকে । হঠাৎ করে পৃথিবীকে মনে হয় থমকে যাওয়া কিছু। সে যেন অমসৃণ ইটের টুকরো বিছানো পথে খালি পায়ে হেঁটে যাচ্ছে । পায়ে পায়ে ব্যাথা কিন্তু পা সরানোর জো নেই ।
দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে জহিরের বুক চিড়ে ।
দিনে দিনেই বাসায় ইলিয়াসের আনাগোনা বেড়ে যায়। তার জন্য কানাইলালের মিষ্টি, সিয়ামের জন্য খেলনা আর রাখীর জন্য দুটো বড় ইলিশ বা চারটি দেশী মুরগী ।
রাখীও আজকাল অনেক সহজ হয়েছে । জহিরের অসুস্থ লিকলিকে হয়ে যাওয়া জীবনের ভার আর কতই বা সে বইবে ।
শেষ নভেম্বরের এক হিম হিম সন্ধ্যায় সিয়ামের হাত থেকে একটা গ্লাস পড়ে যায়। পাশের রুম থেকে শব্দ পেয়ে দৌড়ে আসে রাখী । অসাবধানে কাঁচে পা পড়ে যায় তার , রক্তে লাল হয়ে যায় পা ।
ইলিয়াস জহিরের পাশ থেকে দৌড়ে গিয়ে রাখীকে ধরে ফেলে ।
রাখীর ছিপছিপে শরীর এক ঝটকায় বলিষ্ঠ হাত দিয়ে তুলে বিছানায় শুইয়ে দেয় । পরম মমতায় ব্যাণ্ডীজ করে দেয় পা । এক অজানা সহানুভূতির বিনিময় ঘটে । জহির তার এক চোখ বন্ধ রাখে । কিছু অনুভূতি ,কিছু ঘটনা কিম্বা ,কিছু সহানুভূতি কোনটাই দেখার ক্ষমতা তার এই এক চোখের আর নেই ।
অবচেতনে সে পোকারাজকে স্মরণ করে ।
- কি সৌভাগ্য স্যার , আপনি কোনদিন আমায় স্মরণ করবেন ! এ এক অবাক কাণ্ড স্যার ।
- ভাল আছ পোকারাজ ?
- জী , ভাল আছি । আপনার কি অবস্থা স্যার ?
- পোকারাজ তোমার দলের সবাই ভাল আছে ?
- জী জনাব ।
- তোমাদের না থাকার জায়গার খুব সঙ্কট ?
- জী হ্যাঁ , আপনাকে তো কয়েকবার বলেছিলাম ।
- তুমি তো শুধু যকৃতে জায়গা চেয়েছিলে , আমার পুরো শরীরটাই তোমাদের দিলাম ।
- কি বলছেন স্যার ! সত্যিই !
- হ্যাঁ একদম ।
- অনেক ধন্যবাদ স্যার , জানেন না কত বড় উপকার করলেন ।
পোকাটা অদৃশ্য হয় । জহিরের শরীর ঝিম ঝিম করে উঠে । শরীরের সর্বত্র তারা ছড়িয়ে পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ......লক্ষে , কোটিতে ......।
জহির বাইরে তাকায় , বাইরে অমাবস্যার নক্ষত্রহীন গাঢ় কাল অন্ধকার আকাশ ।
২|
০৩ রা নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৮:৩৭
আলোর পরী বলেছেন: ধন্যবাদ অশেষ ! আপনার প্রথম মন্তব্যটি অনেক ভাল লাগলো । ![]()
৩|
০৩ রা নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৮:৫৫
খাটাস বলেছেন: একটা সাধারণ বাসতবতা আপনার অসাধারন আর সূহ্ম বর্ণনায় অদ্ভুত ঘোরের মত মুগ্ধতা সৃষটি করেছে। গলপে অনেক ভাল লাগা আপু। অনেক শুভকামনা।
০৩ রা নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৯:০৫
আলোর পরী বলেছেন: যদিও আপনার নাম খাটাস , কিন্তু এত সুন্দর করে গুছিয়ে বলেন , মুগ্ধ হয়ে যাই ![]()
অনেক ধন্যবাদ পোস্ট পড়ার জন্য ![]()
৪|
০৩ রা নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৯:০২
প্রোফেসর শঙ্কু বলেছেন: অসাধারণ একটা লেখা। থিম, পরিবেশের বর্ণনা, গোছানো কথোপকথন, আর পোকাদের সাথে জহিরের আলাপ- সবটা পড়ে মুগ্ধ হলাম।
প্লাস দেবার চেষ্টা করছি। শুভেচ্ছা।
০৩ রা নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৯:০৭
আলোর পরী বলেছেন: আপনি নিজেই এক অসাধারণ সাহিত্য স্রষ্টা , আপনার অনুপ্রেরণা পেয়ে খুব ভাল লাগলো ।
অনেক শুভকামনা আপনার জন্য
৫|
০৩ রা নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৯:২২
শায়মা বলেছেন: কি সাংঘাতিক লেখা!
আপু আমি মুগ্ধ!
প্রিয়তে নিয়ে গেলাম!
৬|
০৩ রা নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৯:২২
শায়মা বলেছেন: কি সাংঘাতিক লেখা!
আপু আমি মুগ্ধ!
প্রিয়তে নিয়ে গেলাম!
৭|
০৩ রা নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৯:২২
শায়মা বলেছেন: কি সাংঘাতিক লেখা!
আপু আমি মুগ্ধ!
প্রিয়তে নিয়ে গেলাম!
৮|
০৩ রা নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৯:২২
শায়মা বলেছেন: কি সাংঘাতিক লেখা!
আপু আমি মুগ্ধ!
প্রিয়তে নিয়ে গেলাম!
৯|
০৩ রা নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৯:২৩
শায়মা বলেছেন: কি সাংঘাতিক লেখা!
আপু আমি মুগ্ধ!
প্রিয়তে নিয়ে গেলাম!
০৩ রা নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৯:৩৮
আলোর পরী বলেছেন: আপুনি আপনি অসম্ভব জনপ্রিয় এক ব্লগার । আপনি আমার পোস্টটি পড়েছেন এটা যে আমায় কি পরিমাণ অণু প্রেরণা দিল সেটা আমি আপনাকে বোঝাতে পারব না ।
অনেক অনেক ধন্যবাদ ও শুভকামনা ![]()
১০|
০৩ রা নভেম্বর, ২০১৩ রাত ১০:০৪
দৃষ্টিসীমানা বলেছেন: ভাল লাগলো। হৃদয় ছুঁয়ে গেলো।
০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৩ দুপুর ১২:৩৫
আলোর পরী বলেছেন: দৃষ্টি সীমানা , অনেক ধন্যবাদ পোস্ট পড়ার জন্য । আমার সামান্য এক লেখা কারো হৃদয় ছুঁয়ে গেছে ভাবতে খুব ভাল লাগছে ।
আপনার জন্য শুভকামনা ![]()
১১|
০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৩ রাত ১২:৩২
ডাসট ইন দা উইনড বলেছেন: Just awsome !!!!!!
০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৩ দুপুর ১:১৮
আলোর পরী বলেছেন: গল্পটা যে আপনার মতই সুন্দর হয়েছে , এটা ভাবতে খুব ভাল লাগছে ।
আমার ব্লগে আপনার নিমন্ত্রণ রইল সব সময় ।
আপনার জন্য শুভকামনা ![]()
১২|
০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৩ সকাল ১০:১৭
বৃতি বলেছেন: একটা গল্প পড়েই আপনার ফ্যান হয়ে গেলাম । প্রিয়তে নিলাম ।
০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৩ দুপুর ১:২২
আলোর পরী বলেছেন: ছোট একটা লেখার এত বড় পুরষ্কার বড় মাপের মানুষরাই দিতে পারে ।
কৃতজ্ঞ হলাম ।
আপনার ছবিটা অসাধারণ । দেখে আনমনা হয়ে গেলাম ।
আপনার জন্য শুভকামনা ![]()
১৩|
০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৩ সকাল ১০:১৯
ইরফান আহমেদ বর্ষণ বলেছেন: চমৎকার!!!!
আপনি অনুসরনে
১৪|
০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৩ সকাল ১০:৩৩
অপর্ণা মম্ময় বলেছেন: খুব সুন্দর একটা গল্প। শেষ অংশে এসে মনে হল রাখিকে হারিয়ে ফেলেছে বলেই জহির তার শরীরের অধিকার পোকাদের দিয়ে দিলো।
পোকাদের সাথে কথোপকথন অংশটা খুব উপভোগ করলাম। আপনাকে অনুসরনে নিলাম।
০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৩ দুপুর ১:২৬
আলোর পরী বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপুনি । আপনি খুব ভাল বুঝতে পারেন । সম্ভবত আপনি অনেক বই পড়েন ।
অনেক ধন্যবাদ আপনার পুরস্কারের জন্য ।
আমার ব্লগে আপনাকে সব সময় নিমন্ত্রণ
১৫|
০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৩ সকাল ১১:৩১
হাসান মাহবুব বলেছেন: মানুষের বিপন্নবোধের এক অসাধারণ বিবরণ।
০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৩:৩০
আলোর পরী বলেছেন: প্রিয় লেখক , ধন্যবাদ আপনার কমেন্টের জন্য । আশীর্বাদিত অনুভব করছি ।
১৬|
০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৩ সকাল ১১:৩৮
মামুন রশিদ বলেছেন: দুর্দান্ত গল্প!
০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৪:৪১
আলোর পরী বলেছেন: জনাব মামুন রশিদ , আপনার গল্পের লিস্টে নিজের নাম উঠানোর খুব লোভ আমার ।
অনেক ধন্যবাদ আর শুভ কামনা ![]()
১৭|
০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৩ দুপুর ১:০২
কাল্পনিক_ভালোবাসা বলেছেন: অসাধারন একটা গল্প। খুব চমৎকার লিখেছেন। সমসাময়িক সময়ে আমার পড়া অন্যতম ভালো গল্প।
অনেক ভালো লাগল।
০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৫:১৬
আলোর পরী বলেছেন: " সমসাময়িক সময়ে আমার পড়া অন্যতম ভালো গল্প। "
গুগলের বাংলা ভার্সনের মত বলেই ফেললাম ,
নিজেকে ভাগ্যবান অনুভব করছি ।
অনেক ধন্যবাদ ও শুভকামনা ![]()
১৮|
০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৩ দুপুর ১:০৮
সুমন কর বলেছেন: অনেক সুন্দর হয়েছে। ভাল লাগা রেখে গেলাম।
০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:০৫
আলোর পরী বলেছেন: সু মন মানে ভাল মনের মানুষ অনেক ধন্যবাদ লেখা পড়ার জন্য । আর আপনি যে ভাল লাগা রেখে গেলেন , সেটা অবশ্যই আমার পর বর্তী লেখায় মিশিয়ে দেব ।
অশেষ শুভকামনা ।
১৯|
০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৩ দুপুর ১:০৯
নেক্সাস বলেছেন: পোকাটা অদৃশ্য হয় । জহিরের শরীর ঝিম ঝিম করে উঠে । শরীরের সর্বত্র তারা ছড়িয়ে পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ......লক্ষে , কোটিতে ......।
জহির বাইরে তাকায় , বাইরে অমাবস্যার নক্ষত্রহীন গাঢ় কাল অন্ধকার আকাশ ।
এত সুন্দর ফিনিশং খুব কম গল্পে পাই।
পুরা গল্পটা পড়ে মুগ্ধ হলাম
০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৫৭
আলোর পরী বলেছেন: এত সুন্দর ফিনিশং খুব কম গল্পে পাই ।
আশীর্বাদিত অনুভব করছি । অনেক ধন্যবাদ আমাকে চমৎকার এক কাপ চা খাওয়ানোর জন্য ।
আপনার জন্য চা এর মত সজিবতার শুভ কামনা । ![]()
২০|
০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৪:৫১
ভবঘুরের ঠিকানা বলেছেন: সুন্দর লিখেছেন।
শুভকামনা রইল লেখালেখিতে।
০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৯:০৪
আলোর পরী বলেছেন: ভবঘুরে , আপনার কবিতা লেখার হাতও বেশ সুন্দর । অনেক ধন্যবাদ আমার ব্লগে আসার জন্য ।
আপনার জন্যও রইল অনেক শুভকামনা
২১|
০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:২১
সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: একটা অদ্ভুত সুন্দর গল্প। চমৎকার স্টাইল, কথোপকথন, বাক্য নির্মাণ এবং ফিনিশিং। খুব ভালো লেগেছে ছাত্রী অবস্থায় রাখীর বিভিন্ন অবস্থার বর্ণনা।
‘পোকা’কে আমি কল্পনা করেছিলাম জহিরের কোনো ভয়ংকর অপরাধ বা পাপের কোনো রূপক হিসাবে, যা জহিরকে বর্তমান অবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ‘পোকা’কে ধরে নিলাম জহিরের মনের একটা ‘সন্দেহ’ হিসাবে।
পোকার সাথে কথোপকথনের ১ম দিকের অংশগুলো স্বকীয় হলেও শেষের দিকে তাতে হুমায়ূন আহমেদের ছাপ পাওয়া যায়। এটা দোষের না কিন্তু।
শুভেচ্ছা জানবেন।
০৫ ই নভেম্বর, ২০১৩ দুপুর ১২:১৯
আলোর পরী বলেছেন: আমার প্রিয়তে যে কয়টি পোস্ট রয়েছে , তার মধ্যে স্ব মহিমায় আপনার একটি পোস্ট রয়েছে ।
আমি যাদের কাছে শিখি মানে আমার যারা শিক্ষক , তাদের আমি অনেক শ্রদ্ধা করি ।
নিঃসন্দেহে আপনি তাদের একজন ।
অনেক ধন্যবাদ আপনার কমেন্টের জন্য ।
২২|
০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৯:২২
বোকা মানুষ বলতে চায় বলেছেন: কাল্পনিক_ভালোবাসা বলেছেন: "অসাধারন একটা গল্প। খুব চমৎকার লিখেছেন। সমসাময়িক সময়ে আমার পড়া অন্যতম ভালো গল্প।"
সহমত।
খুব কাছ থেকে দেখা, ক্যান্সারে ধুকে ধুকে মারা যাওয়া খূব কাছের এক আত্মীয়র কথা বারবার মনে পড়ে যাচ্ছিলো।
অনেক ভালোলাগা আর শুভকামনা। গল্পে AAA+++
০৫ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৯:১২
আলোর পরী বলেছেন: ওমা ! এত নম্বর !
ধন্যবাদ ভাই টুন ।
আপনার জন্য এত্ত এত্ত শুভকামনা ।
২৩|
০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৩ রাত ১০:৩৪
রাবেয়া রব্বানি বলেছেন: আনরিয়েল কিছু ইভেন্ট যোগ করেছেম তবু খুব রিয়েলিস্টিক গল্প এটা । গল্পকারের গুনে। আপনাকে প্রিয়তে নিলাম।
০৫ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ১০:৫৪
আলোর পরী বলেছেন: ধন্যবাদ আপুনি ,
আপনার প্রিয় তালিকায় যেতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি ।
আপনিও আমার অনেক প্রিয় হয়ে গেলেন আপুনি । ![]()
২৪|
০৫ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ২:২৬
মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেছেন: আজ সময় নেই, আরেক দিন এসে পড়ে যাব... ![]()
১৩ ই নভেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৩:০৪
আলোর পরী বলেছেন: ভাইয়া ,
আমি জানি আপনার অনেক কাজের চাপ , তার পরও এসে ঢু মেরে গেলেন তাতেই আমি কৃতার্থ ।
আমার জন্য দোয়া করলেই হবে ।
২৫|
০৭ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৮:৫৪
সুপান্থ সুরাহী বলেছেন:
ঘোর!
গল্পের ঘোরে আমিও হারিয়ে গেলাম...
ভাল লাগা গল্পে +++
১৩ ই নভেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৩:০৭
আলোর পরী বলেছেন: আপনার নামটা আমার মনে মুগ্ধতা ছড়িয়ে দিল । আর প্লাসগুলি অনেক উষ্ণতা ।
বিকেলের নরম রোদের শুভেচ্ছা । ![]()
২৬|
০৭ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ১১:৫২
বিশ্বাস করি 1971-এ বলেছেন: একটা প্রশ্ন। চাচা যে ছেলেকে বাবা ডাকার জন্য বলে তাতে কি মার সম্মতি ছিলো? কেমন একটু বাস্তব কিন্তু কঠিন হয়ে গেলো না? যদি বাস্তবে আমি এমন দেখেছি স্ত্রী্ এই রকম ক্ষেত্রে স্বামীর বাইরে সাহায্য চেয়েছে এবং স্বামীও এই বাস্তবতাকে গ্রহণ করেছে আফটার অল স্ত্রীকে তো বেঁচে থাকতে হবে।
১৩ ই নভেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৩:০৯
আলোর পরী বলেছেন: অনেক সময়ই বাস্তব খুব কঠিনই হয় । গল্পটি একটি বাস্তব প্রেক্ষাপট অবলম্বনে লেখা ।
ধন্যবাদ আপনার কমেন্টের জন্য ।
২৭|
০৮ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৯:৫৩
এরিস বলেছেন: সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচের একটি এখা পড়লাম।
প্রথম ধন্যবাদ বৃতিকে। উনার প্রিয় লিস্টে গল্পের নাম এবং নিকের নাম দেখে এসেছিলাম পড়তে। পড়লাম, মুগ্ধ হলাম, এবং আপনাকে অনুসরণ করলাম।
জহিরের জীবনে রূপক হিসেবে পোকা'র অস্তিত্ব ব্যবহার ভাল লেগেছে। নিজের সাথে বোঝাপড়ার জন্যে এর চেয়ে ভাল উপায় ছিল না। যখন জহির বুঝতে পেরেছে তার সেবা করার প্রতি রাখির ভালবাসার চেয়েও দায়িত্বশীলতা বেড়ে গেছে, তখন থেকেই পোকার কাছে নিজেকে মনে মনে সমর্পণ করতে শুরু করেছে। চূড়ান্ত সমর্পণ হল সেদিন, যেদিন রাখির পায়ে কাচ ঢুকলো। পোকা ছিল কখনো নিজের মূল্যমান নির্ধারণের উপায়, কখনো ম্রিয়মান জীবনীশক্তি, মৃত্যুর এগিয়ে আসা।
অনেক ভাল লাগা রেখে গেলাম পরী।
অনুসরণ করলাম যেন কখনো মিস না হয়ে যায়।
০৯ ই নভেম্বর, ২০১৩ দুপুর ১:২১
আলোর পরী বলেছেন: এরিস , আপনি নিজে একজন অসাধারণ লেখক , আমি মাত্রই আপনার ব্লগ ঘুরে এলাম ।
আপনি গল্পটার একটা চমৎকার ব্যাখ্যাও তৈরি করেছেন ।
আপনি আমাকে অনুসরণে নিয়েছেন , এ এক সম্মান আমার জন্য ।
অনুপ্রাণিত হলাম । সুখি হলাম ।
আর বৃতিকে আমার তরফ থেকেও ধন্যবাদ ।
২৮|
০৮ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ১০:০৭
কালীদাস বলেছেন: এক্সপেরিমেন্ট ভাল হৈছে! চালায়া যান ![]()
১৩ ই নভেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৩:০১
আলোর পরী বলেছেন: এক্সপেরিমেন্ট ভাল হৈছে!
লাইনটাকে সম্মান জানিয়ে আরেকটা এক্সপেরিমেন্ট মূলক লেখা লিখে ফেললাম ।
আপনার কমেন্টে অনুপ্রাণিত অনুভব করছি ![]()
২৯|
০৯ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ১২:৩০
শান্তির দেবদূত বলেছেন: একেবারেই অন্য মাত্রার একটা গল্প পড়লাম। সহজ সাবলীল বর্ণনা, কাহিনীর চমৎকারিত্ব, মৃত্যুরূপ পোঁকার সাথে কথপোকথন সব মিলিয়ে দারুন একটা ছোট গল্প। স্বার্থক।
একটা পর্যবেক্ষণ,
জানালার পাশের রেইনট্রি গাছগুলোর পরিপক্ক ফল । কাঠের মত গোল আবরণের ফলগুলো ফেটে তেলাপোকার পাখনার মত দেখতে বীজগুলো বাতাসে ঘুরে ঘুরে উড়ে যায় । ছোট বেলায় এগুলো দিয়ে সে হেলিকপ্টার হেলিকপ্টার খেলত। -- এটা মনে হয় মেহেগুনী গাছ, রেইনট্রি না। আমার ভুলও হতে পারে।
০৯ ই নভেম্বর, ২০১৩ দুপুর ১২:২৯
আলোর পরী বলেছেন: আপনি ঠিক ধরেছেন , এটা মেহেগুনী গাছই হবে ।
অসংখ্য ধন্যবাদ । আমি বই প্রকাশ করতে যাচ্ছি বিনামুল্ল্যে চমৎকার এক সম্পাদনা পেলাম ।
ভুলের জন্য মার্জনা চেয়ে নিচ্ছি ।
৩০|
০৯ ই নভেম্বর, ২০১৩ দুপুর ১:৫৬
কালোপরী বলেছেন: আপনি কি শিফা????
১৩ ই নভেম্বর, ২০১৩ দুপুর ২:৫৪
আলোর পরী বলেছেন: জি পরি আপুনি , আমিই সেই নগণ্য শিফা
৩১|
১০ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ১২:১৯
মাহমুদ০০৭ বলেছেন: নিজেকে মনে হচ্ছে অর্ধ মানুষ । এবং নিজের নাক দুই চোখ থাকা অবস্থায় শুধু সর্দি হলে যার অস্তিত্ব অনুভব হত ,এক চোখ দিয়ে সেই নাককেও মুখের উপর বসে থাকা পেট মোটা এক পাহাড় মনে হচ্ছে , সেই পাহাড় বাম দিকের পৃথিবী পুরোটাই আড়াল করে ফেলেছে
আমি করলাম কি আপনার এই লাইনটা পড়ে বাম চোখ বন্ধ করলাম । ঠিকই নাকটাকে পেটমোটা পাহাড় মনে হচ্ছে । মুগ্ধ আমি ।
নিজেকে মনে হচ্ছে অর্ধ মানুষ । এবং নিজের নাক দুই চোখ থাকা অবস্থায় শুধু সর্দি হলে যার অস্তিত্ব অনুভব হত , এই লাইনে অর্ধ মানুষ এর পর দাড়ি । এরপর এবং দিয়ে বাক্য শুরু । ব্যাপারটা কি ইচ্ছেকৃত ?
পানি খেয়ে গ্লাসে লিপস্টিক লাগীয়ে রাখত লাগীয়ে লাগিয়ে হবে । বানান ঠিক করে দেবেন ।
কিম্বা বুকের উপর ওড়না ঠিক ঠাক করে দিত জহিরের মধ্যে কি যেন একটা হয়ে যেত ! কিংবা হবে ।
নর-নারীর ভালবাসার তথ্যটা কোন এক “ মানসিক ইথারে ” পৌঁছে যায় এবং কিছু না বললেও বাকীজন সেই “ মানসিক ইথার ” থেকে তথ্যটা জেনে যায় । এখানে বাকিজন এর বদলে অপরজন লিখলে বোধ হয় ভাল হয় ।
মাথার কাছে রাখি দাড়িয়ে আছে , শান্ত সৌম্য একটা মুখ । দাঁড়িয়ে হবে ।
ডানা ঝাপটে দু’ একটি কাক উঁরে যায় । উড়ে হবে ।
তার ছোট রক্তমাংসের শরীরে জহিরের অধিকার আছে । - এই বাক্যে ভাল লাগা ।
প্রথম দিকে রাখি বানান ি কার পরে দেখি ী কার ঠিক করে দেবেন ।
- ইলিয়াস চাচা বলেছেন , আর বলেছেন আমি যেন তাকে আব্বু ডাকি ।
- আমি কোনদিন তাকে আব্বু ডাকব না । কোনদিনও না । সিয়ামের কথা যেহেতু এবং পর পরই বলা ( মনে হচ্ছে আর কি আমার )
দ্বিতীয় লাইনে ( - ) বাদ দেয়া যায় ।
অদ্ভুত সুন্দর ঘোরলাগা গল্প । গল্পটা যত এগিয়েছে ততই যেন জমে গেছে মনটা বিষণ্ণতায় । শেষের দিকে এসে বেদনায় বুকটা ধরে গেছে । স্পষ্ট ত জহিরের কষ্টটা অনুভব করছিলাম ।
।
সবচাইতে প্রিয় মানুষটা যখন নিজের থাকে না , তখন নিজেকে পোকার হাতে নিশ্চিন্তে ছেড়ে দিতে ইচ্ছে করে । গল্পটা আমি ৪ -৫ দিন আগে পড়েছি । পড়ার পর খুব অসহায় হয়ে গেছি । এভাবে এত সুন্দর করে লিখা যায় !
এভাবে আমি লিখতে পারবনা ।
।
আপনার এমভী জলরাজ গল্পটার ডিটেলস এ মুগ্ধ হয়েছি । অই গল্পেও ভাল লাগা রইল ।
আজ নোটিফিকেশনে আপনার পঞ্চাশ টাকা গল্পের উত্তর দেখে প্রথমে একটু বিরক্ত হয়েছিলাম । কি ব্যাপার ! কবে কমেন্ট করেছি এতদিন পর উত্তর এল ! ৪-৫ মাস পরে !
যা দেখলাম তা আমার জন্য অপ্রত্যাশিত । বেশ ব্যস্ততা যাচ্ছে , ব্লগেও ছিলাম না অনেক দিন । এভাবে কেউ স্মরণ করবে ভাবতেও পারিনি । কৃতজ্ঞ থাকলাম ।
লিখে যেতে চাই আত্মতৃপ্তির জন্য এক সাহসি কলম হাতে - আপনার সাহস , দক্ষতা , পরিপক্ষতা , সবই আছে স্রেফ লিখে যান ।
।
আপনার জন্য শুভকামনা থাকল ।
ভাল থাকুন ।
১০ ই নভেম্বর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৪৮
আলোর পরী বলেছেন:
আপনি যখন আমার প্রথম গল্প " পঞ্চাশ টাকাতে" কমেন্ট করেছিলেন সেই থেকে আমি আপনার একজন মুগ্ধ অনুসারী ।
এই ব্লগে যে কয়জনের আনাগোনা আমি নিয়মিত চেক করি [ অদ্ভুত এক ঘোরলাগা ভাল লাগা থেকে ] আপনি তাদের একজন ।
আমি অভ্রতে লিখি তাই কিছু বানান ভুল চাইলেও ঠিক করতে পারি না । আপনার সকল সম্পাদনার জন্য কৃতজ্ঞতা রইল ।
আমার কেন যেন মনে হয় আপনি খুব মেধাবী মানুষ এবং আপনার সময় খুব মূল্যবান । তা থেকে অনেক খানি সময় নিয়ে যে এই অধমের লেখা পড়ে সম্পাদনা করলেন , শুধুমাত্র " ধন্যবাদ" শব্দে যে তার ঋণ শোধ হবার নয় সে আমি জানি ।
ঋণী রইলাম । আটকে রইলাম স্নেহের এক সুতায় ।
আপনার জন্য রইল অনেক দোয়া ও শুভকামনা ।
৩২|
১০ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৮:৩৮
পরিবেশ বন্ধু বলেছেন: বেশ লম্বা নিবন্ধ , ধন্যবাদ লেখায়
০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:১১
আলোর পরী বলেছেন:
এইটা নিবন্ধ
কি লিখলাম !
৩৩|
১২ ই নভেম্বর, ২০১৩ দুপুর ২:৩৩
মাহমুদুর রহমান সুজন বলেছেন: অসাধারন একটা গল্প। খুব চমৎকার লিখেছেন।
৩৪|
২৫ শে নভেম্বর, ২০১৩ রাত ১১:৩৪
ইমরাজ কবির মুন বলেছেন:
বেশ চমৎকার লাগলো, সুন্দর গল্প ||
৩০ শে মে, ২০১৪ রাত ১০:১৫
আলোর পরী বলেছেন: মুন ভাইয়া আপনি কেমন আছেন ?
লেখা পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ।
৩৫|
২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ১১:৪৩
গ্রীনলাভার বলেছেন:
৩৬|
০৪ ঠা মে, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৪৯
সিকদারভাই বলেছেন: সেই রাম অইছে । তয় হাসতে হাসতে পুরুষগরে বাঁশটা ঠিকই মাইরা দিলেন । আর পুরুষরা ব্যাথা সহ্য কইরা হাসতে হাসতে আপনার পোষ্টে মন্তব্য করছে।
৩৭|
০৪ ঠা মে, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৫৩
সিকদারভাই বলেছেন: াপনার পুরুষদের নিয়ে লেখা কবিতার মন্তব্যটা এই পোষ্টে ভুলে দিয়ে ফেলেছি।
০৭ ই মে, ২০১৪ বিকাল ৫:৫৯
আলোর পরী বলেছেন: কোন সমস্যা নেই । আপনাকে অনেক ধন্যবাদ যে আপনি কষ্ট করে আমার লেখা পড়েছেন ।
আমি সত্যিই কাউকে আঘাত করে লিখতে চাই নি , কিন্তু মেয়েদের নিয়ে এত বেশি লেখা হয় যে আমার মনে হল কিছু একটা আমাদেরও লেখা উচিত ।
আপনার জন্য অনেক শুভ কামনা ।
৩৮|
২২ শে মে, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৫২
সাইদুর রহমান (রুেবল) বলেছেন: আমার কামনা আপনি অনেক দীর্ঘায়ু হন। তবে এই লেখালেখির মধ্য দিয়ে। কেননা, আপনার লেখায় পড়ে একটা মানসিক আত্মতৃপ্তি উপলব্দি করা যায়। তা্ইতো আপনার মতো লেখকরাই পারে আমাদের মতো অসুস্থ লোকের মনে খোরাক জোগাতে। শুভ কামনা রইল। ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
০৩ রা নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৮:৩৫
বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: ছুয়ে যায়!