নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি ভেড়ামারা হাই স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকের ছেলে। অনেকে আমাকে \'স্বপ্নবাজ সৌরভ\' নামে চেনে।

স্বপ্নবাজ সৌরভ

এমন যদি হতো , ইচ্ছে হলে আমি হতাম প্রজাপতির মতো!

স্বপ্নবাজ সৌরভ › বিস্তারিত পোস্টঃ

কোথায় খুঁজিবো আমারে

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৪০

এই লেখাটি অদ্ভুত আঁধার এর পরের কোন অংশ হিসেবে পড়তে পারেন। যারা 'অদ্ভুত আঁধার' পড়েননি , তারা অনেক কিছুই বুঝতে পারবেন না। তাই ' অদ্ভুত আঁধার' পড়ে আসলে ভালো হবে।



“প্রথমে ভোঁতা ছুরি বিদ্ধ করা হবে সরাসরি বুকে
আটকে থাকবে হৃদপিণ্ডে
শুনেছি ওখানে নাকি হৃদয় থাকে!
এরপর পোঁচ দেয়া হবে গলায়
কণ্ঠনালীতে , ফিনকি দিয়ে ছিটকে বের হবে রক্ত
ভয়ার্ত রক্ত, নীল রক্ত।“

ভাবছি, চমকে দেব নাকি? আমি চুপচাপ বসে আছি সাইকিয়াট্রিস্ট ডাঃ আসগরের কক্ষের বাইরে। সিরিয়াল এলেই ঢুকবো। ডাঃ আসগর নামকরা কোন ডাক্তার নন । তবু বেশ রুগী বসে আছে আশে পাশে। আমাদের সমাজে মানসিক ডাক্তারের কাছে যাওয়া বেশ লজ্জার ব্যাপার। মানুষজন এমন ভাবে তাকায় যেন রুগী হয়তো পাগল নয়তো ড্র্যাগ এডিক্টেড।
আমি ভাবছি আমার কবিতার ওই কয়টা লাইন কোন ভাবে ডাক্তার কে শোনাবো। ডাক্তার শুনে নিশ্চয় জানতে চাইবেন এই কবিতার মানে কি । আমি তখন রহস্যময় হাসি দেব যাতে ডাক্তারের কৌতূহল আরো বাড়ে। নাকি বলে দেব এই কবিতা কেন লিখেছিলাম ?
কবিতাটা আমার মাথায় এসেছিল ২০০৭ সালে। জামিম ভাইয়ের দোকান থেকে গোল্ডলিফ সিগারেট কিনে মাঠের পাশের বাঁশঝাড়ে বসে বসে সিগারেট টানছি আর পিকুর জন্য অপেক্ষা করছি। জীবনের প্রথম আব্বার পকেট থেকে ১০ টাকা চুরি করলাম আজ তাও আবার সিগারেট কেনার জন্য। মনের ভেতর কেমন যেন খচ খচ করছে। সিগারেট বিস্বাদ লাগছে। কিন্তু দুপুরের খাওয়ার পর সিগারেট টানতে সবচে ভালো লাগার কথা ! সিগারেট ড্যাম নাকি? না তা হবার কথা না। জামিম ভাই দিনের সিগারেট দিনে বিক্রি করে। আরেকটা সিগারেট পকেটে আছে ওটা ধরিয়ে পরীক্ষা করা যেতে পারে। আমি অপেক্ষা করছি পিকুর জন্য। ওর আসার নাম নেই। দ্বিতীয় সিগারেট টানতে টানতে মাথায় কবিতার লাইন গুলো এলো। মনের ভেতর খুব খারাপ লাগছে। বিবেক কে আজ খুন করলাম , ভোঁতা ছুরি বিদ্ধ করলাম সরাসরি হৃৎপিন্ডে।আব্বার পকেট থেকে চুরি করা ১০ টাকা বিঁধে থাকলো হৃদয়ে। এটাই ছিল প্রথম এবং শেষ চুরি !


ঐযে পিকু আসছে। হেলতে দুলতে একটা গা ছাড়া ভাব। কমান্ডোজ গেমস একটা ক্রিটিক্যাল পজিশনে রেখে এসেছি। একা একা খেলতে ভালো লাগে না।
আচ্ছা এগুলো কি ডাক্তার কে বললো? কি লাভ? তার চেয়ে মুচকি হাসা বেশ ভালো। একটা রহস্য রহস্য ভাব থাকে।

-- 'আপনার কি ধরনের সমস্যা হয় ?' ডাক্তার আসগর সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে জানতে চাইলেন।
আমি চোখ নামিয়ে নিলাম। কারো চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে অস্বস্তি লাগে।
-- মাঝে মাঝে মনে হয় আমি আসলে আমি না , অন্য কেউ। চারপাশের পরিচিত পরিবেশটাও অপরিচিত মনে হয়, মনে হয় অচেনা জগৎ , যে জগতে আমি একা । রাতে ঘুম হয়না , অস্থির লাগে। মনে হয় ঘুমালে আর জাগবো না। হাত পা অসার হয়ে আসে। জোর পাই না। ভয় লাগে খুব।
--- আর কি মনে হয় ?
-- পুরাতন কথা মনে হয়। ফেলে আসা দিন , সময় , স্মৃতি । আমার ভয়ানক স্মৃতিকাতরতা আছে।
-- কয়বার এমন হয়েছে ?
-- বেশ কয়েকবার এমন হয়েছে , কিছুক্ষন পরেই ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু একবার সাতদিন ছিল। ঠিক হয়ে গেলেও রেশ কাটতে সময় লেগে গেছে। আরেক বার হয়েছিল দুই এক দিনের জন্য তারপর ঠিক হয়েছিল।
-- আপনি কি কখনো ভয় পেয়েছিছিলেন ?
--- হ্যা। পেয়েছিলাম। অনেক ভয় পেয়েছিলাম।
-- কিসের ভয় ?
--- জানি না কি ছিল। খুব ভয় পেয়েছিলাম। ঐটা মাঝে মাঝে খুব মনে হয়। কিছু একটা ছিল।

--- কিছু দেখেছিলেন ? কি দেখেছিলেন ?
---- “আমি তখন মসজিদে গিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তাম। মুখে দাঁড়ি ছিল। সামনের কাতারে দাঁড়াতাম। আজানও দিয়েছি। তাহাজ্জুদ পড়তাম মাঝে মাঝে। একদিন ফজরের আগে মসজিদে যেতে গিয়ে রাস্তায় ভয় পেয়েছিলাম। একটা সাদা আলখাল্লা আর দাঁড়িওয়ালা আগন্তক দেখেছিলাম।’’
---- “দেখতে কেমন ছিল ? মানে চেহারা ? পরিচিত ? কারো মত কি ?’’
--- “চেহারা শান্ত , মায়াময়। চোখ দুটোতে বেশি মায়া। আমার দিকে যখন তাকিয়ে ছিল যখন চোখ দেখেছি। চেহারা ..... ’’
আমি চুপ হয়ে গেলাম। এই প্রশ্ন কখনো মাথায় আসে নি। চেহারা কি পরিচিত কারো মত? কিংবা সে কি ... থাক। আমি ব্যাপারটা এড়িয়ে গেলাম।
--- “শান্ত মায়াময় চেহারা। এখানে ভয়ের কি ? চেহারা তো ভয়ংকর না। তবে ভয় পেলেন কেন ? ’’
--- “আসলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল না।’’ আমি সেই রাতের অভিজ্ঞতা কথা ডাক্তারের কে বললাম। ডাক্তার কেবল শুনলো। তেমন কোন ভাবান্তর লক্ষ্য করলাম না।
--- “আপনার কি মনে হয়। এই আগন্তুক টা কি ছিল ? জ্বীন বা অন্যকিছু ?’’
--- জানিনা। আমিও জানতে চাই।
--- হতে পারে না ? সেটা পুরোটায় আপনার কল্পনা। যেটা আপনার কাছে সত্যি মনে হচ্ছে।
--- না , কিছু একটা ছিল। আমি দেখেছি। আমার সাথে মসজিদের রাস্তা পর্যন্ত গেছে।
--- মসজিদ পর্যন্তই যাবার কথা ছিল। কারণ আপনি বিশ্বাস করেন মসজিদে ঢুকে গেলে সে আর আপনার সাথে আসবে না। পিছু ছেড়ে দেবে। সে কিন্তু আগেই পিছু ছেড়ে দিতো , যদি আপনি আয়াতুল কুরসী পড়তে পারতেন। কারণ আপনি বিশ্বাস করেন আয়াতুল কুরসী পড়লে সেই আগুন্তক চলে যাবে।
আপনি অনেকদিন ধরেই এমন একটা পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে চেয়েছিলেন। আপনার সেই সময়ের লেবাস , ধ্যান ধারণা , পোশাক , চাল চলন আপনাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেয়েছিলো যেটা কিনা একটা আধ্যাত্মিকতার পরিবেশ খুঁজত। মনে প্রাণে চাইতেন এমন আধ্যাত্মিক কিছু আমার সাথে ঘটুক।
ঘটনার দিন রাতে হয়তো আপনি অসুস্থ ছিলেন এবং আপনি দুঃস্বপ্ন দেখেছিলেন। মনের ভেতর ভয় আর অস্থিরতা নিয়ে আপনি ঘর থেকে বের হলেন। মসজিদ খোলা আর আজান দেয়ার একটা পবিত্র এবং মহান দায়িত্ব আপনার উপর পড়েছে। এই ব্যাপারটাও আপনার উপর একটা মনস্তান্তিক প্রভাব ফেলেছে। যেটা আপনার আধ্যাত্মিক জগৎটাকে আরও সুগঠিত করেছিল। আপনার কল্পনা আর বিশ্বাস এতোই দৃঢ় ছিল যে , পরিবেশ আর সার্বিক পরিস্থিতি ওই ঘটনাটাকে আপনার সম্মুখীন করতে বাধ্য হয়েছে। ওই ঘটনা আপনার কল্পনা এবং সেটা একেবারেই সত্যের মত।
--- আপনি কল্পনা বলছেন কিন্তু আমি জানি সেটা কতটা ভয়াবহ বাস্তব। যে সম্মুখীন হয়েছে সে বিশ্বাস করবে। আমি ভয় পেয়েছিলাম এবং অসুস্থ হয়েছিলাম। পরবর্তীতে আমার পক্স হয়েছিল।
-- “ভয় আপনি ঠিকই পেয়েছিলেন। এবং আপনি চেয়েছিলেন তার সাথে আরো কিছুক্ষন কথা হোক। প্রচন্ড ভয়ের কারণে আপনি সেটা পারেন নি। এটা কিন্তু আপনার জন্য ভালোই হয়েছে। বলতে পারেন আপনি বেঁচে গেছেন। তানাহলে আজ পর্যন্ত সে আপনার পিছু ছাড়তো না।যখন ইচ্ছে তখন তার সম্মুখীন হতেন আপনি। এমন কি একটা সময় আপনি তার সাথে কথা বলতেন এবং যেকোন সময় তাকে ডেকে আনতেন। আমার কথা কি আপনি বুঝতে পারছেন?” -ডাক্তার মুচকি হেসে জানতে চাইলেন।

--- “বুঝতে পড়েছি। আপনি আপনার মত যুক্তি দিতে পারেন। সমাধান দিতে পারেন। আমি হলে হয়তো সেটাই করতাম। পৃথিবীতে অনেক অদেখা সত্য আছে। যতক্ষণ না দেখবেন ততক্ষন মিথ্যা মনে হবে। অদেখা জগত একদিন হয়তো আপনাকেও স্বাগতম জানাবে। ’’

-- 'আচ্ছা , আপনার জীবনে কোন ভয়ংকর অধ্যায় আছে ?' ডাক্তার আমার চোখের দিকে তাকিয়ে জানতে চাইলেন।
ডাক্তার সরাসরি আমার চোখের দিকে আছেন। কারণ কি ? উনি চোখের দিকে তাকিয়ে কোন কিছু বোঝার চেষ্টা করছেন। সত্য মিথ্যা কিংবা যা আমি বলতে চাচ্ছি না। না , আমি কিছু গোপন করবো না। আমি তো বলতেই এসেছি।
-- ' হ্যা , আছে।' আমি আবার চোখ নামিয়ে ফেললাম। মাথায় নামিয়ে নিলাম একটু।
-- ' বলুন। মাথা নিচু করবেন না। আমি খেয়াল করছি বারবার আপনি এই কাজটা করছেন। নিজেকে চেনার চেষ্টা করুন। নিজেকে জানুন। '
আমি খানিকটা নড়ে বসলাম। ঠোঁট টিপে একটু হাসলাম।
--- ' ইন্টারমিডিয়েটে আমি ভর্তি হই ২০০০ সালে। প্রথমবার প্রিপারেশন ভালো ছিলো না তাই পরীক্ষা দেয়নি। দ্বিতীয় বার পড়াশোনা করিনি , পাশ করতে পারিনি। পড়াশোনা বাদ দিয়েছিলাম। দুই বছর পর বিজনেস ম্যানেজমেন্ট (কারিগরি) থেকে এইচএসসি করি। রেজাল্ট বেশ ভালো ছিল।'
--- এটাই আপনার জীবনের ভয়ংকর অধ্যায়? ডাক্তার আসগর কে খানিকটা কৌতূহলী মনে হলো।

--- ' হ্যা ! ' গলাটা কেঁপে উঠলো। -- “ওই কয়টা বছর খুব খারাপ কেটেছে। নিজেকে আটকিয়ে রাখতাম। ঘরের মধ্যে। আব্বা আম্মার মুখের দিকে তাকাতে পারতাম না।তারা কোন সময় বকাবকি করেননি এইসব নিয়ে। নিজের ভেতর অপরাধবোধ বাড়তে থাকতো। একসময় আমার ঘরটায় ছিল আমার জগৎ। নামাজ পড়তে যেতাম আর বাড়ির পিছনের আমগাছতলায় ক্রিকেট খেলাম। শুধু এই দুইটাই ভালো লাগতো। বাড়ি থেকে বের হতাম না। আমার আরো একটা জগৎ ছিল। সেটা হচ্ছে বই। আমার মনে হয় নামাজ , খেলা আর বই না থাকলে আমার বেঁচে থাকা কঠিন হত সেই সময়। এরপর হুট করে নামাজ বাদ হয়ে গেল। এরপর বাড়ির বাইরে চলাচল শুরু হল। কয়েক বছর বাদে আবার পড়াশোনা শুরু করলাম। পাশ করলাম। এরপর ভার্সিটি। তারপর চাকুরী।"
--- এটা আপনার ঘুরে দাঁড়ানোর অধ্যায়। এটাকে ভয়ঙ্কর বলছেন কেন?
--- আমার মনে হয় , ইন্টারমিডিয়েট লেভেলটা ভালো হলে আজ আমার জীবন অন্যরকম হতে পারতো।
--- তবে হয়তো আপনি এমন কিছু পেতেন না , যেগুলো আপনার জীবনে খুবই দরকার ছিল। যেগুলো আপনার আগামীর রসদ হবে।
আমি ডাক্তারের দিকে তাকিয়ে হেসে বললাম , 'হয়তো। '
--- আপনার এই অবস্থা থেকে ফিরে আসার পেছনে কারো কি অবদান ছিল।

--- 'আমার আব্বা আম্মা, পরিবার। আরেকজন আছে স্পেশাল একজন। সে না থাকলে হয়তো এভাবে ফেরা হতো না। আমার জীবন সম্ভব ২০০০ সালেই আটকে থাকতো।'
ডাক্তার একটু হেসে জানতে চাইলেন , -- কে উনি ?
আমি বললাম , ভবিষ্যতে আমি তাকে বিয়ে করবো।

--- আপনি আসলে যে সমস্যা নিয়ে এসেছেন সেটা জটিল কিছু না। এটা নিয়ে বেশি চিন্তা করার কিছু নেই। কিছু অপরাধবোধ , হতাশা সেই সাথে বিষণ্নতা এইগুলো আপনাকে মানসিক সমস্যায় ফেলছে।আপনি অতি আবেগপ্রবন এবং আপনার কল্পনা শক্তি ভালো।হুট্ করে নামাজ ছেড়ে দেয়া এবং পড়াশোনার বিষয় টা নিয়ে আপনি অপরাধবোধ ভোগেন। সেই সাথে বাড়ে হতাশা আর বিষণ্নতা। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের দায়িত্ব আপনার , আপনি চাইলেই পারবেন। আমি শুধুমাত্র কিছু ওষুধ দিতে পারি , তবে কেন জানি মনে হচ্ছে লাগবে না। আপনার কল্পনাশক্তি আর আবেগ আপনাকে সাহায্য করবে।
আপনি প্রচুর বই পড়েছেন এবং হয়তো কিছু কিছু ক্যারেক্টর প্লে করার চেষ্টা করেন। কল্পনা শক্তি যাদের প্রবল তাদের মধ্যে এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
আপনি বলেছিলেন , আপনি প্রচন্ড স্মৃতিকাতর। এটা তো আশীর্বাদ মনে হয় আমার কাছে। যার ভালো স্মৃতি থাকে সেই স্মৃতি নিয়ে কাতরতা থাকবে। আপনি কি আপনার ভালো কোন স্মৃতির কথা বলবেন ?
-- আমার একটা খুব সুন্দর স্মৃতি মনে পরে গেল। সেই সাথে ভিজে উঠলো চোখ। গলাটা ধরে আসলো । অস্ফুট কণ্ঠে বললাম , "না। ''
-- “আর হ্যাঁ , আরেকটা কথা। সেই রাতের আগুন্তক বিষয়ে একটা প্রশ্ন কিন্তু আপনি এড়িয়ে গেছেন। ওই আগন্তুকের চেহারা কার মত ? শান্ত চেহারা। মায়াময় চোখ। ’’
আমি উত্তর দেই না। শুধু নোনতা জলে চোখ ভিজে ওঠে। গাল বেয়ে নেমে আসতে চায়। আমি জামার হাতায় চোখ মুছি।
--ডাক্তার আসগর প্রেসক্রিপশন এগিয়ে দিয়ে বললেন , '' আপনার চোখেও কিন্তু অনেক মায়া। ''

আমি নেমে এলাম রাস্তায়। কুটিকুটি করে ছিড়ে ফেললাম প্রেসক্রিপশন। কেন জানি মনে হচ্ছে লাগবে না। ডাক্তার কে আমি অনেক কথায় বলিনি। কবিতাটা শোনানো হয়নি।
যে অদেখা জগৎ আমি সাথী করে ঘুরে বেড়ায় জানি, একদিন সাড়া দেবে।

আমি কি আসলেই ক্যারেক্টার প্লে করে যাচ্ছি , যে ক্যারেক্টারে কখনো আমি এক কর্পোরেট যুবক যার উদ্যানে আর ঘাস নেই , কংক্রিটে বাসা বাঁধছে কর্পোরেট স্বপ্ন। কখনো জলাভাবে জরাগ্রস্থ কোন খ্যাপাটে কবি যার মেধা আর মননের নিদারুন অপচয় হয়েছে দিস্তা দিস্তা কাগজে।অথবা ভীষণ স্মৃতিকাতর আর বিষাদগ্রস্ত এক যুবক যার গলা আটকে আসে ফেলে আসা কোন নিস্তব্ধ দুপুরের জন্য। নাকি উদ্ধত ভোঁতা ছুরি হাতে উন্মাদ খুনি যে নিজের বিবেককে কে টুকরো টুকরো করার জন্য অপেক্ষা করছে। কিংবা রোদ ঝলমলে দুপুরে ভাসতে ভাসতে হাসতে হাসতে আনমনে বলে ফেলে - ' এতো চমৎকার জীবন আমার। ' কোনটা আমি ? কি আমি ?

“কোথায় খুঁজিবো আমারে
বসন্তের পাতায় , নক্ষত্র পাড়ে
উর্দ্ধ আকাশ
অতল সমুদ্র , অনন্ত জলে
আমিতো রয়েছি আমাতেই বুঝি
তবু কেন হায় আমারেই খুঁজি !”




** লেখাটি চলমান আছে। ইচ্ছা আছে ২০ থেকে ২৫ টা চ্যাপ্টারে গিয়ে শেষ করব। আপাতত সাতটি চ্যাপ্টার লেখা হয়েছে। দেখা যাক কতদূর এগোয়। ধন্যবাদ পড়ার জন্য।

মন্তব্য ১৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:০২

ইসিয়াক বলেছেন: কিছুটা পড়লাম ।আগের পর্ব পড়তে হবে । পড়ব ....।তারপর কমেন্ট করবো । আমি কিন্তু অনেক অনেক পোষ্ট দিয়েছি । সময় সুযোগ পেলে পড়বেন আশা করি । এই তো সবে এলেন । একটু বিশ্রাম নিন । এই গরম ........।চা চলবে না শরবত । কি পান করবেন বলুন ।

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:১৪

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: হা হা হা। অনেক ধন্যবাদ। চা ছেড়েছি ৫ বছর আগে।আসলে চা খেলে সিগারেট খেতে হয় তো ? এই ঝামেলা এড়াতে দুটোই বাদ দিয়েছি , তবে আপনি যখন বলছেন লাল চা খেতে পারি , লেবু ছাড়া।
আপনি আছেন কোথায় বলুন? আমিই না হয় চলে যায়।

কাল আবার ঢুকতে পারবো কিনা জানি না।

২| ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:২০

ইসিয়াক বলেছেন: আমি তো এখন অনেক দূরে যশোহর শহরে ..............

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:২৫

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: দাঁড়ান আজ রাতেই বেনাপোল এক্সপ্রেসে উঠে বসবো !! :)

৩| ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:১০

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন:
সাইকোলজীকাল গল্প/উপন্যাস মনে হচ্ছে চলুক, চলতে থাকুক।

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:১৫

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। প্রথম অংশ কি পড়েছিলেন ?

৪| ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:৩৬

রাজীব নুর বলেছেন: আপনার লেখা ভালো লাগে। অথচ সামুতে আপনার পোষ্ট নিয়মিত পাই না।

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:৩৯

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: সামুতে ঢুকতে পারিনি এতদিন। আজ ঢুকলাম। কাল আবার কি হবে কে জানে ?
ধন্যবাদ রাজীব ভাই।

৫| ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:১৪

রাজীব নুর বলেছেন: লেখক বলেছেন: সামুতে ঢুকতে পারিনি এতদিন। আজ ঢুকলাম। কাল আবার কি হবে কে জানে ?
ধন্যবাদ রাজীব ভাই।

আমি তো ভিপিএন দিয়ে সামু চালাই।

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:৪২

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: আমার এমন সুযোগ নাই রাজীব ভাই। :(

৬| ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:২৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: স্বপ্নবাজ সৌরভ,



আগেরগুলো সম্ভবত পড়া হয়নি। এটা পড়লুম। সাইকোলজিক্যাল ব্যাপার-স্যাপার। ইঙ্গিত দিয়েছেন, বেশ বিশালাকার হবে গল্পটা।
তবে এ অংশের সবটার সারমর্ম হলো আপনারই কবিতার এই দু'টো লাইন -
আমি তো রয়েছি আমাতেই বুঝি
তবু কেন হায় আমারেই খুঁজি!


নিজেকে খোঁজা খুব একটা সহজ কাজ নয়। এর তল নেই, নেই কিনারা। তবুও মানুষ নিজেকে খোঁজায় রত নিরন্তর....

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:২৯

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: ধন্যবাদ স্যার ,
নিজেকে খুঁজতে খুঁজতে শুধু এই গল্প নয় , পুরো জীবনটাই ফুরিয়ে যাবে। আমার সাথে ঘটনা গুলো লিখার চেষ্টা করছি , সেই সাথে আমার চিন্তাধারা।
দেখা যাক কিভাবে , কোথায় শেষ হয়। (আদৌ হবে কি ?)
অনুপ্রেরণার জন্য ধন্যবাদ। অনেক ভালো থাকবেন।

৭| ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৩১

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: হুম... বেশ জমে উঠেছে :)

শেষটাই কি সত্যি?
রোল প্লে করা! যেটাকে মাল্টিপারসনাল ডিজঅর্ডারও বলে ডাক্তারি ভাষায়!
একই মানুষ বহুরুপে নিজেকে খূঁজে পায়!

চলুক শেষ হয় কোথায়?

++++

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৩২

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: স্যার ডাক্তারের কথা গুলো কিন্তু আমার মাথা থেকে যাচ্ছে না। স্যার ডাক্তারের কথা গুলো কিন্তু আমার মাথা থেকে যাচ্ছে না।


নিচের অংশটা দেখতে পারেন। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

ঝরা ফসলের গান

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.