নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি \'স্মৃতিকাতরতা \' নামক ভীষণ এক রোগগ্রস্ত, সেই সাথে বিষাদগ্রস্থ মানুষ। আমার চিকিৎসার প্রয়োজন।

স্বপ্নবাজ সৌরভ

এক ফালি মেঘ, এক ফোঁটা জল- রংধনুকের একটি কণায়, একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা ।

স্বপ্নবাজ সৌরভ › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমার সমস্ত অভিমান আকাশের কাছে জমা আছে ...

০৯ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১২:১৫



১.
অংকের স্যার বিরস মুখে ক্লাসে ঢুকলেন। তাঁর হাতে প্রথম সাময়িক পরীক্ষার খাতা । আমাদের ক্লাস এইটের 'ক' শাখার ৪৫ জন ছাত্র। সবার মধ্যেই উৎকণ্ঠা কাজ করছে। স্যার সবার রোল কল করে একে একে সবার হাতে পরীক্ষার খাতা দিতে লাগলেন। ৪৫ জন ছাত্রের মধ্যে ৩০ জনই ফেল করলো। আমি পেলাম ৪৩ ! ক্লাস ক্যাপ্টেনকে স্যার বেত আনতে বললেন। অন্যান্য সময় ক্লাস ক্যাপ্টেন প্রবল উৎসাহে দৌড় দেয়। কিন্তু আজ চললো ধীর গতিতে। কারণ সে নিজেই পেয়েছে ৩৫। টেনে টুনে পাশ।

আমরা যারা কম মার্কস পেয়েছি তারা বেতের বাড়ি খাওয়ার অপেক্ষায় রইলাম। ক্লাস ক্যাপ্টেন ছিপছিপে একটা বেত নিয়ে মাথা নিচু করে হাজির হলো। আমার শিরদাঁড়ায় শীতল বাতাস বয়ে গেল।

না , স্যার সেদিন মারেননি। স্যার শুধু বললেন , "ক্লাস এইটের অংক কি খুব কঠিন ? আমি কি তোমাদের বোঝাতে পারছিনা ?"

আমরা কোন কথা বললাম না। সেদিন স্যার পুরো ক্লাস নেননি। কথা গুলো বলার কিছুক্ষন পরেই স্যার বের হয়ে যান। অন্যান্য সময় এমন পরিস্থিতি আমাদের জন্য ভীষণ আনন্দদায়ক হয়। কিন্তু সেইদিন ক্লাসে আমরা আর কোন কথায় বললাম না। অপরাধীর মত চুপচাপ বসে থাকলাম। পুরো ক্লাস স্তব্ধ !


২.
ফাইনাল পরীক্ষায় ৪৩ জন অঙ্কে পাশ করলো। সবচেয়ে কম নাম্বার নিয়ে যে পাশ করলো সে পেলো ৬৫। আমার মত অংকে 'অগামগা' ছাত্রও পেয়ে গেলো ৮২। মানে লেটার মার্কস !

না, স্যার সেদিন খাতা নিয়ে আসেননি। স্যার অসুস্থ ছিলেন। ভীষণ অসুস্থ। স্যারের প্রতিক্রিয়া কেমন হয় সেটাও আমাদের দেখা হলো না। স্যারকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল অপারেশনের জন্য। তার কিছুদিন পরেই স্যার মারা যান। ক্যান্সার বাসা বেঁধেছিলো উনার শরীরে।

৩.
স্যারের জানাজা হলো স্কুল প্রাঙ্গনে। সবাই হুহু করে কাঁদলো। আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলাম আর ভীষণ অভিমান নিয়ে বাকি জীবনটি অঙ্কে টেনে টুনে পাশ করতে লাগলাম।

মন্তব্য ২৩ টি রেটিং +৬/-০

মন্তব্য (২৩) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:২৩

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন:
এটিকি গল্প? নাকি সত্যি ঘটনা?

০৯ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:৩৩

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: প্রিয় জলদস্যূ,
আমার লেখার অধিকাংশ ই আমার জীবনের ঘটনা। এটা গল্প নয়। সত্য।
এবং বাকি জীবনের অংকে টেনেটুনেই পাশ করে যাচ্ছি, এখনো।

ধন্যবাদ আপনাকে। ভালো থাকবেন।

২| ০৯ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:২৬

অপু তানভীর বলেছেন: স্কুলের শিক্ষকদের ব্যাপারে একটা আলাদা মায়া আছে । স্কুল শিক্ষকেরা যত মায়া তাদের ছাত্রদের জন্য অনুভব করেন বড় ক্লাসের স্যারেরা তেমনটা করেন না কখনই !
আমি এখন আমার স্কুলের কয়েকজন শিক্ষকে খুব মিস করি । অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন স্যারের কথা আমার মনেও পড়ে না । বেশির ভাগেরই নাম পর্যন্ত ভুলে গেছি !

০৯ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:৩৯

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন:
ঠিক বলেছেন। স্যারের কথা কদিন ধরে খুব মনে পড়ছে। স্যার বেঁচে থাকলে হয়তো জীবনের অনেক অংকই মিলতো।


আমরা সেদিন এতোটাই মন খারাপ করেছিলাম যে সেটা ঠিক বুকে বুকে এসে আঘাত করেছিল। ভালো ছাত্ররা মিডিয়ারদের সাহায্য করা শুরু করলো। বাসায় গিয়ে একসাথে পড়তো। অনেক কিছু। চেস্টার ত্রুটি ছিল না ভালো করার। এটা স্যারের প্রতি ভালোবাসার আর সন্মানের নিদর্শন ছিল। স্যার আমরা সরি বলতে পারিনি।সেই নিদর্শন দেখাতে পারিনি।

৩| ০৯ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:৫২

শূন্য সারমর্ম বলেছেন:


অনুভব করলাম; স্যারের সাথে অংকপ্রেমও উপরে চলে গিয়েছিলো।

০৯ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৪:০৭

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন:
হমম। বড় ধরনের আঘাত পেয়েছিলাম।

৪| ০৯ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ২:১১

নজসু বলেছেন:



সেদিন স্যার যদি বেত দিয়ে পেটাতেন তাহলে হয়তো ৪৩ জনই ভালো করতো। স্যার বুঝিয়েছেন অভিমান ভরা মমত্ব দিয়ে।
আমি কি তোমাদের বোঝাতে পারছিনা? এই একটি বাক্যই অনেক কিছু। কথাটায় স্যারেরও অভিমান ছিলো। স্যার বেত আনালেন, কিন্তু পেটালেন না। এটাও স্যারের অভিমান।

স্যারের সব অভিমান জমা হলো আপনার হৃদয়ে। যা একত্রিত হয়ে আকাশের আকার ধারণ করলো। স্যার যদি দেখতেন তার শিষ্যরা ভালো রেজাল্ট করেছে তাহলে খুশি হতেন। নিজেকে সফল মনে করতেন।

সময়ের কাজটা সময়ে না করলে আফসোস থেকে যায়। সকল শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা। আপনার বেদনা ফুল হয়ে ফুটুক।

০৯ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৪:০৯

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন:
সকল শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা। চমৎকার মন্তব্য, পড়ে ভালো লাগলো।

৫| ০৯ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ২:৫৪

ককচক বলেছেন: আপনার জীবন থেকে বলা গল্পটা পড়ে আমার ক্লাস সিক্সের একটা গল মনে পড়ছে। পাড়ার প্রাইমারি স্কুল থেকে পাশ করে ভর্তি হয়েছি উপজেলার পিসি মডেল উচ্চবিদ্যালয়ে। আমাদের ক্লাসে লাইসিয়াম স্কুল (উপজেলার নামকরা প্রাথমিক স্কুল) থেকে এসে ভর্তি হওয়া আমার নামের একটা ছেলে ছিলো।
দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা শেষে গনিতের স্যার, পেপার নিয়ে এলেন। নাম বা রোল ডেকে ডেকে পেপার দিলেন। প্রথমবার যখন আমার নাম তখন ছেলেটা আমার নিয়ে গেলো। তারপর আবার নাম ডাকা হলো... রোল ঠিক না থাকায় আমি পেপার আনতে যাইনি।
সবার হাতে পেপার দেওয়া শেষে, স্যার জিজ্ঞেস করলেন... সবাই পরিক্ষার খ্যাতা পেয়েছো? আমি দাড়ালাম। বললাম, আমি পাইনি স্যার।
স্যার নাম জিজ্ঞেস করে খাতা নিয়ে এলেন। হাতে লম্বা ব্যাত...
দিয়ে বললেন, মন কই থাকে? ক্লাসে থাকে...?

আমি বলতে চাইলাম, খাতা আমার না স্যার। কিন্তু স্যার না শুনেই উত্তমমধ্যম দেওয়া শুরু করলেন। স্যার যখন চ্যায়ারে গিয়ে বসলেন; তখন আমার একটা ক্লাসমেট খাতা দেখে বললো স্যার এটা তার খাতা না। স্যার আবার এলেন, তারপর দুঃখপ্রকাশ করলেন....
এবং ভুল খাতা নেওয়া ও ফেল করার অপরাধে ভয়ংকর উত্তম মাধ্যম দিলেন।
আমি ঐ পরীক্ষায় ৭৩ পেয়েছিলাম।

এই ঘটনা স্যার আমার বাবাচাচাদের সাথে দেখা হলে স্যার প্রায়ই বলতেন। স্যারের কাছে আমি কখনো প্রাইভেট পড়িনি, কিন্তু স্যার আমাকে স্নেহ করতেন।

০৯ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৪:০৯

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন:
আরো গল্প আছে। বলবো একদিন।সকল শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা। ভালো থাকবেন।

৬| ০৯ ই আগস্ট, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:৪৯

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: স্যারের অল্প কথাতেই আপনারা সবাই সম্মোহিত হয়েছিলেন। তাই পরে ভালো করেছেন। বেতের চেয়ে কথার শক্তি বেশী ছিল।

১০ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ১২:০৯

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: হ্যাঁ। আসলে মনটা খুব খারাপ হয়েছিল। যত না মার্কস তারচেয়ে হাজার গুনে স্যারের প্রতিক্রিয়া আর কথা গুলো। বেতের মার খেলে হয়তো এই গল্প হতো না।

৭| ০৯ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ৮:২৫

মনিরা সুলতানা বলেছেন: পরিশ্রমী শিক্ষকদের জন্য আমাদের হৃদয়ে সবসময় আলাদা স্থান থাকে।

১০ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ১২:১৩

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: ঠিক বলেছেন মনিরাবু। আমার আব্বা ছিলেন ঐ স্কুলের হেডমাস্টার। ৩৬ বছর ধরে হেডমাস্টারের দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষক দের জন্য আমার আলাদা জায়গা আছে। প্রেসিডেন্ট এরশাদের আমলে যখন শিক্ষক আন্দোলন হয়েছিল তখন আমি আব্বা আম্মার কোলে ঘুরে ঘুরে আন্দোলনে যোগ দিয়েছি। আমার আম্মাও গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন।

৮| ০৯ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ৮:৫৫

মুক্তা নীল বলেছেন:
আমরাও স্কুলে পড়ার সময় এমন কিছু শিক্ষক-শিক্ষিকা পেয়েছিলাম উনাদের কথা প্রায়ই মনে পড়ে। আপনার লেখাটি পড়ে আমারও এক ম্যাডামের কথা মনে পড়লো আজ ।

১০ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ১২:১৫

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন:
স্কুল শিক্ষক শিক্ষিকাদের ব্যপারটাই ছিল আলাদা।উনারা আমাদের অভিভাবক ছিলেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন।

৯| ১০ ই আগস্ট, ২০২২ সকাল ৯:৫৫

ইমরোজ৭৫ বলেছেন: আমার কান্না পাচ্ছে।

১০ ই আগস্ট, ২০২২ সকাল ১১:০৩

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: লিখতে লিখতেই কান্না চেপেছি।

১০| ১০ ই আগস্ট, ২০২২ সকাল ১১:৫৭

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন: দুই একজন স্যার থাকেন যারা এভারেজ ছাত্রদের দিকে মনোযোগ দিলে সেই ছাত্র ভাল মানের ছাত্রে পরিণত হয়।+++

১০ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:২৪

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: ঠিক বলেছেন। কিন্তু আমাদের ব্যাপারটা ছিল ভিন্ন। স্যারের প্রতিক্রিয়ায় আমরা ধাক্কা খেয়েছিলাম। ঐটাই প্রেরণা।

ধন্যবাদ ভাই।

১১| ১০ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১২:২৩

সৈয়দ মশিউর রহমান বলেছেন: স্যারের সম্মোহনি কথায় সবাই সম্মোহিত হয়েছিলেন; এরকম স্যারদের সবাই মনে রাখে জীবনের প্রতিটিক্ষন।

১০ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:২৪

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন:
স্যারকে জীবনেও ভুলবোনা। ধন্যবাদ মন্তব্যে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.