নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শিক্ষার্থী, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

শুভ্র সামন্ত

মানবিক ও প্রগতিশীল। স্বাধীনতার স্বপক্ষের কণ্ঠস্বর। আত্ম ও পর সমালোচক। ভালোবাসি মা, মাটি ও মানুষকে।

শুভ্র সামন্ত › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইসলাম প্রচারে ও প্রসারে বাঙালির শেখ মুজিবুর রহমান

২৬ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ৩:৩৬

বাঙারির হাজার বছরের সহস্র সংগ্রামের ইতিহাসে বঙ্গন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি অনবদ্য ও সংগ্রামী আত্নচেতনার নাম।তিনি ১৯২০ সালের ১৭ ই র্মাচ তৎকালীন মাদারীপুর জেলার গোপালগন্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।তার পিতা শেখ লুৎফর রহমান ও সাহেরা খাতুন।বঙ্গবন্ধুর র্পূব পুরুষ শেখ আউয়াল ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে হযরত বায়জিদ বোস্তামী (রা.) এর শিষত্ব্য গ্রহণ করে তার সাথে ভারতীয় উপমহাদেশে আসেন।বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্নজীবনীর সূচনার ইতিহাস এটিই এবং তা ইসলাম দ্বারা শুরু।তারপর তার র্পূবপুরুষ শেখ বোরহান উদ্দীন ব্যবসার উদ্দেশ্যে বাইগার নদীর তীরর্বতী টুঙ্গিপাড়া গ্রামে গমন করেন এবং সেখানে তিনি শেখ বংশে বিবাহ করেন।তারপর থেকে সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।তারপর শেখ বোরহান উদ্দীনের বংশেই একদিন জন্ম গ্রহণ করেন বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব ও বাঙালির স্বাধিকার আদায়ের সংগ্রামের সবচেয়ে সাহসী মহানেতা,বাঙালির স্বপ্নের স্বাধীনতার মহান ঘোষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।একজন মানুষ হিসেবে তিনি পালন করেছেন তার ব্যক্তিসত্তায় সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য কল্যাণকর গুরুদায়িত্ব,একজন বাঙালি হিসেবে তিনি বাঙালির স্বাধীনতার জন্য বিলিয়ে দিয়েছেন তার জীবন-যৌবনের প্রায় সাড়ে তের বছর আর একজন মুসলমান হিসেবে তিনি বাঙালি জাতির জন্য করে দিয়েছেন র্ধম র্চচার সুর্বণ সুযোগ।প্রতিষ্ঠা করেছেন জাতীয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন,জন্ম দিয়েছেন তাবলীগ জামাত নামক ইসলামিক সংগঠনের এবং ভিত্তি রচনা করেছেন বিশ্ব ইজতেমার।

বাঙালির জাতীয়তাবাদে অভ্যুথ্থান ঘটিয়ে নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর বঙ্গবন্ধু ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন,৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন,৬৬ এর ছয় দফা আন্দোলন,৬৯ এর গণ অভ্যুথ্থান,৭১ এর মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বের মাধ্যমে মজলুম জননেতার মহামিছিলে নেতৃত্ব দিয়ে মূলত ইসলামের চিরন্তর শিক্ষা “তোমরা অত্যাচারিতদের পক্ষ নিয়ে তাদের অভিশাপ থেকে বাঁচো” এর বাস্তব রূপ দান করেছিলেন।

যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুর্ণগঠনের জন্য পুর্ণগঠনের সূচনা কালীন সময়ে স্বাধীনতা বিরোধী চক্র ও এক শ্রেণির র্ধম ব্যবসায়ীরা দেশকে বিপথে নেওয়ার জন্য র্ধম ব্যবসা শুরু করেন।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার র্পূব থেকেই পাকিস্তান পন্থি রা বিভিন্ন সময় ইসলাম র্ধমের অপব্যাখ্যা করেছেন এবং তারা বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামকে “ইসলামের ভাঙ্গন” বলে অবিহিত করতেন।দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও তাদেও এই রূপ হীন কৌশন ও নোংরা প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিলো যা বঙ্গবন্ধু তার তীব্র ক’টনৈতিক কৌশল দ্বারা অনুমান করতে পেরেছিলোন।বঙ্গবন্ধু তাদের র্ধম ব্যবসা চিরতরে বন্ধ করতে শান্তির র্ধম ইসলাম প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে হাক্কানী আলিমদের সম্পৃক্ত করার জন্য এক র্অডিন্যান্স বলে ১৯৭৫ সালের ২৮ শে মে ইসলামীক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন।

মাদ্রাসা শিক্ষাকে স্বায়ত্বশাসন করে পুণঃগঠন করেন এবং গঠন করেন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা র্বোড।পূর্বে মাদরাসা শিক্ষার কোন র্পূণ স্বায়ত্বশাসন ছিলো না এবং মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য কোন শিক্ষা র্বোড ছিলো না।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই প্রথম বাংলাদেশে ইসলামী শিক্ষার জন্য এমন মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং মাদ্রাসা শিক্ষাকেও দান করেন সামাজিকভাবে যথাযথ র্মযাদা।

বাংলাদেশে বেতার ও টিভিতে কোরআন তিলাওয়াত ও তা প্রচারের উদ্যোগ প্রথম বঙ্গবন্ধুই গ্রহণ করেন।পাকিস্তান ইসলামী রাষ্ট্র হলেও সেখানে এমন কোন র্কাযক্রমের প্রচলন ছিলো না।প্রতিদিন সকালে বেতারে ও টিভিতে আল-কোরআন থেকে তিলাওয়াতের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের র্নিদেশ দেন।এই র্কাযক্রমটির সূচনা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমাদের দেশে তখন থেকেই মূলত শুরু হয় যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

আমরা জানি,বাংলাদেশ তাবলীগ জামাতের প্রাণকেন্দ্র হলো কাকরাইল মসজিদ।বৃহৎ আকৃতির এই মসজিদটি থেকেই পরিচালিত হয় বাংলাদেশে তাবলীগের সকল র্কাযক্রম। কিন্তু এই মসজিদ একসময় অনেক ছোট আকারের ও অনুন্নত ব্যবস্থার ছিলো।দেশ স্বাধীন হবার পর বঙ্গবন্ধু সরকার যে সমস্ত উদ্যোগ গ্রহণ করেন তার মধ্যে অন্যতম হলো কাকরাইল মসজিদের সীমানা বৃদ্ধি।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই প্রথম কাকরাইল মসজিদের জন্য অতিরিক্ত জায়গা বরাদ্দ করেন এবং সামগ্রীক অর্থে কাকরাইল মসজিদকে আরও বৃহদাকারে তৈরি করার উদ্যোগ নেন।তিনি তার স্বল্প সময়ের শাসনামলে মুসলান ও ইসলামের জন্য যে সকল গুরুত্বর্পূণ উদ্যোগ গ্রহণ করেন তার মধ্যে অন্যতম এটি।

মুসলিম উম্মার দ্বিতীয় হজ্ব বলে খ্যাত বিশ্ব ইজতেমা।এটি গঠনের পেছনে যে র্পূব ইতিহাস রয়েছে তা মূলত বঙ্গবন্ধু সরকারেরই প্রচেষ্টার ফসল।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই প্রথম বিশ্ব ইজতেমার জন্য স্থান বরাদ্দ করেন।ঢাকা শহরের অদূরে তুরাগ নদীর তীরে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার জন্য অদম্য উদ্যোগ গ্রহণ করা ছিলো সত্যিকার র্অথে অনেক কঠিন কাজ।কিন্তু হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন মুসলমান হিসেবে তার সে র্ধমীয় দায়িত্বটি পালন করেন অতি নিপূণভাবে।

হজ্ব যাত্রীদের জন্য ভ্রমণ কর রহিত করণ করেন।পাকিস্তান আমলে হজ্ব যাত্রীদের জন্য কোন সরকারী অনুদানের ব্যবস্থা ছিলো না।বঙ্গবন্ধুই স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে প্রথম হজ্ব যাত্রীদের সরকারী তহবিল থেকে র্অথ অনুদানের ব্যবস্থা করেন এবং তিনি হজ্ব যাত্রীদের জন্য ভ্রমণ কর রহিত করেন।

ইসলামের সঠিক দিক মানুষের সামনে তুলে ধরতে বঙ্গবন্ধু ঢাকায় প্রত্যক্ষ ভাবে সিরাত মজলিস নামে একটি সংগঠন গঠন করেন।এই সংগঠনটি ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালে রবিউল আউয়াল মাসে প্রথম বৃহৎ আঙ্গিকে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) মাফিলের র্কমসূচী গ্রহণ করেন।সরকার প্রধান হিসেবে বঙ্গবন্ধুই প্রথম বায়তুল মোকাররমে এই মাহফিলেরর শুভ উদ্বোধন করেন।সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতি বছর এই র্ধমীয় উৎসবটি উদ্যাপন করেন।

ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী(স.),শব-ই-ক্বদর,শব-ই-বরাতে বঙ্গবন্ধুই প্রথম সারা দেশের সকল প্রতিষ্ঠানে সরকারী ছুটি ঘোষণা করেন।সেই সাথে দিনগুলির পবিত্রতা রর্ক্ষাথে সিনেমা হলে সিনেমা প্রর্দশন বন্ধ রাখার র্নিদেশ দেন।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার র্পূবে পাকিস্তানী সরকার বিভিন্ন সময় ইসলাম রক্ষার জন্য নানা রকম কৌশল অবলম্বণকরী কথা বললেও সত্যিকার র্অথে তারা এমন পদক্ষেপ কখনও নিতে সক্ষম হয় নি।বঙ্গবন্ধু সরকারই উপমহাদেশে ইসলামীক দিবসগুলোতে প্রথম সরকারী ছুটি ঘোষণা করেন।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু সরকারের সময়ে বাংলাদেশ তাবলীগের একটি দল ইসলাম প্রচার ও দিনের দাওয়াত দিতে রাশিয়ায় যান।সে দেশের ইতিহাসে বাংলাদেশই প্রথম দেশ যে দেশ ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় প্রবেশ করে।তার র্পূবে সে দেশে কোন দেশ ইসলাম প্রচারের জন্য প্রবেশের অনুমতি পেত না।এক্ষেত্রে বাংলাদেশই প্রথম।আমাদেও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তারা আমদেরকে বিভিন্ন রকম ভাবে সহযোগীতা করেছে যা আমাদের স্বাধীনতার পেছন বিরাট ভ’মিকা পালন করে।এতে করে বঙ্গবন্ধু সরকার ও তৎকালীন আওয়ামিলীগ নেতাদেও সাথে সে দেশের একটি ভালো ক’টনৈতিক সর্ম্পক গড়ে ওঠে।আর সে সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বঙ্গবন্ধুই প্রথম তার দূরর্দশী নেতৃত্ব ও কুটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে বিশ্বে র্সবাধিক জনসংখ্যার মধ্যে অন্যতম এ দেশে ইসলাম প্রচারের লক্ষে অনবদ্য অনুমোদন লাভ করেন।

আমাদের স্বাধীনতার পূর্বে ও স্বাধীনতার পরেও এদেশে জুয়া খেলা,মদ্যপান ও ঘৌড়দৌড় ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিলো।কিন্তু র্ধমান্ধ পাকিস্তান সরকার তা ২৩ বছরেও বন্ধ করার জন্য কোন উদ্যোগই নেন নি।বাঙালির মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকার গঠন করে প্রথমেই যে সকল উদ্দ্যোগ গ্রহণ করেন তার মধ্যে অন্যতম হলো তিনি রেসর্কোস ময়দানে ঘোড়দৌড় নিষিদ্ধ করেন।এবং তারপরই তিনি ইসলামের পরম বাণী অনুযায়ী রেসর্কোস ময়দারেন বৃক্ষ রোপন করেন।পরর্বতীতে তিনি সে ময়দানের নাম রের্কোস ময়দানের পরির্বতে রাখেন সোহরাওর্য়াদী উদ্যান।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশে প্রকাশ্যে মদ্যপান ও জুয়া খেলা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।যা আমাদের উপমহাদেশে উসলামীক নৈতিক উৎর্কষ সাধনের ইতিহাসে এক অনবধ্য মাইলফলক।


১৯৭৩ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধেও সময় আরবদের সহায়তার জন্যে একটি মেডিক্যাল মিশন ও বিপুল পরিমাণ চা পাঠান।তিনি ঘোষণা করেন,“আরবরা আমাদের ভাই।আমরা তাদের পাশে রয়েছি।”বঙ্গবন্ধু বলেন,“র্ধম নিরপেক্ষতা মানে র্ধমহীনতা নয়।এতে বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষের র্ধম-র্কম নিশ্চিত করা হয়েছে।র্ধম অতি পবিত্র।পবিত্র র্ধমকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না।”ব্যক্তিগত ভাবেও তিনি ছিলেন একজন ইসলামী চিন্তা চেতনার অধীকারী।তিনি তার ঐতিহাসিক ৭ই র্মাচের ভাষণে বলেন,“এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।”এ থেকেই বোঝা যয়ি যে,তার ইমানী বিশ্বাস কত সুদৃঢ় ছিলো।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে যেমন একজন মহানায়ক তেমনি উপমহাদেশে ইসলামের প্রচার ও প্রাসারের ইতিহাসেও সত্যিকার র্অথে একজন সফল র্ধামীক রাষ্ট্রনায়কই ছিলেন বটে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.