| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শুভ্র সামন্ত
মানবিক ও প্রগতিশীল। স্বাধীনতার স্বপক্ষের কণ্ঠস্বর। আত্ম ও পর সমালোচক। ভালোবাসি মা, মাটি ও মানুষকে।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিয়ে ইদানিং পত্র পত্রিকায় বহুকথা পড়ছি-মিডিয়াতে বহু কথা শুনছি আর ফেসবুকে বহু রকম পোস্ট দেখছি।ছাত্রলীগের কোনো এক সাবেক নেতা খাদিজাকে হত্যা চেষ্টা করেছে আর তার দায়ভার এসে পড়ছে বাংলাদেশে ছাত্রলীগের ওপর।বড় অবাক হই আমি!যখন ছাত্রলীগের কোনো কৃতিত্বের সংবাদ থাকে তখন তা উপেক্ষিত হয়েই আড়ালে চলে যায়।গত র্বষাকালেই যখন সারা দেশে ব্যাপক হারে মহামারি বন্যা হলো তখন দেশের অনেক প্রতিষ্ঠাই তো দেখলাম বন্যা র্দূগতদের পাশে দাঁড়িয়েছিলো।কিন্তু ছাত্র রাজনীতির একমাত্র সংগঠন হিসেবে একসাথে একাধিক জেলাতে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।শুধু দায় পারি দেওয়া সংবাদ ছাড়া এক ঝাক ছাত্রনেতাদের এমন জনকল্যাণকর উদ্যোগের কথা বাংলাদেশের কোনো পত্রিকা কি ছাপিয়েছিলো?কোনো টেলিভিশনে কি আমরা কেউ দেখেছি এই অনুষ্ঠানের সম্প্রচার?বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস.এম. জাকির হোসাইন অতি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হিসেবে জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিয়েছিলো।এই ব্যাপারেও তো কোনো বিশেষ প্রতিবেদন কোনও চ্যানেলে বা সংবাদপত্রে তো দেখলাম না!অথচ আজ প্রতি চ্যানেলর প্রতি ঘন্টার নিয়মিত টপ নিউজ হতো যদি তারা দুই জনই কোনো খারাপ কাজ করত!যেহেতু তারা আমাদের জাতির র্গব করার মতো কোনো অসাধ্য সাধন করেছে আর তারা ছাত্রলীগ নেতা তাই তাদের ব্যাপারে কোনো ইতিবাচক সংবাদ আমরা দেখি না।এটা কোন ধরণের রাজনীতি?এটা কোন ধরণের গণতন্ত্র?
আর তাদের সাথে এখন যোগ দিয়েছে আমাদের সমাজের কিছু সচেতন নামধারী জনগণ যারা এক সময় হাওয়া ভবনের নিয়মিত সভ্য ছিলেন।সিলেটে একজন সাবেক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা একজন কলেজ ছাত্রীকে হত্যা চেষ্টা করে কুপিয়েছে-এ কথা পানির মতো সত্য।এ কথা আমি এবং আমরা সকলেই মানি।কিন্তু সমাজের কাছে আমার প্রশ্ন একজন শিক্ষক কি করে ছাত্রলীগ নেতা হতে পারে?মিডিয়া কেনো স্বীকার করে না যে,সে সাবেক ছাত্রনেতা!একজন সাবেক ছাত্রনেতার দোষে যদি সমগ্র ছাত্রলীগ দেষী হয় তাহলে তো হযরত নূহ (আ.) কেও তো উহুদী বলতে হবে!তার এক ছেলে যেমন তার দেখানো পথে এসেছিলো তেমনি আরেক ছেলে ও স্ত্রী তো আসেন নি।কিন্তু আমরা কেউ তাকে ইহুদী বলতে পারবো না।তাহলে আজ সকল অপরাধ ছাত্রলীগের কেনো হচ্ছে?
নিন্দুকের মনে রাখা উচিত,বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বন্দুকের নল থেকে জন্ম নেওয়া কেনো সংগঠন নয়।রাজপথে সংগ্রামের ঢেউ আর অনলর্বশী স্লোগান দিয়ে জন্ম হয়েছে বাংলাুেদশ ছাত্রলীগের।বাংলার পথে প্রান্তরে হাজার হাজার কৃষক শ্রমিক রাত-দিন পরিশ্রম করে ফসল ফলায়।তারা রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে তারা ফসল উৎপাদন করে।তখন সেই রোদ থেকে সূর্যের আলো এস যখন কৃষকের কাস্তেতে লাগে তখন সেই কাস্ত চিক চিক করে ওঠে আর সেই চিকচিকার মধ্যে যে অফুরন্ত শক্তি সেই শক্তির মধ্যে থেকে জন্ম নেওয়া একটি সংগঠন হলো বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।আজ বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিয়ে বহু জন বহু কথা বলে কিন্তু ৭১ সালে যখন ছাত্র নেতারা রণাঙ্গনে সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলো তখন তো কারও কোনো কথা শুনি নি!স্বাধীনতার জন্য জীবন দিলো-অপরির্হায অবদান রাখলো বাংলাদেশ ছাত্রলীগ অথচ সেই ছাত্রলীগই বছরের পর বছর একটি স্বাধীনতা পদকের জন্য দাবী করেও পায় না।পরিশ্রমী ছাত্র নেতা রনিদের খুব সুকৌশলেই গ্রেপ্তার করা যায় কিন্তু একেকটি রনি সুকৌশলে তৈরি করা যায় না।যখন জাতির দুঃসময় তখন রাজপথে বুক বাড়িয়ে আন্দোলন করতে এগিয়ে এসেছিলো তুহিনের মতো ছাত্রনেতারা।রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস তারা করেছিলো রগ কাটা বাহিনী মুক্ত।কিন্তু আজ তুহিনকেই ডাকাত সাজানো হয়!কোথায় আমাদের সুশীল সমাজ?তারা শুধু বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দোষ দেখে বেড়ায় কেনো?বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিপদ তারা দেখতে পায় না?
একজন সাবেক ছাত্রনেতা প্রতারক কলেজ ছাত্রীকে হত্যা চেষ্টা করেছে আর তার দায়ভার এসে পড়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ওপর।খুবই ভালো!মেনে নিলাম।কিন্তু সুশীল সমাজ আর টকশোতে যারা কথা বলে তারা কি জানে যে,বদরুল গোবিন্দগন্জ কলেজের একজন সাবেক শিবির নেতা!চাপাতি দিয়ে কোপানো কাদের বৈশিষ্ট কারও অজানা নয়।বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একটি গঠনতন্ত্র আছে।এটি কোনো ফান কাব নয়।আমাদের গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট লেখা রয়েছে যে,কোনো চাকুরীজীবি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভ্য হতে পারবে না।তাহলে মিডিয়া কেনো তাকে ছাত্রলীগ নেতা বলে?আমাদের সমাজের মিডিয়া হলো কালপিঠের আরেক রূপান্তর।মানুষকে উসকে দেওয়ার সংবাদ তারা খুব ভালোভাবে দিতে পারে।হলি আর্টিজামে হামলা হয় আর তারা তা সরাসরি সম্প্রচার করে।এইতো তাদের র্দশন!
আজ বহুকথা তারা প্রচার করে।কিন্তু তারা কি জানে না যে,২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল র্পযন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কতজন নেতা-কর্মী র্নিযাতিত হয়েছে?কতজন মেধাবী ছাত্রকে বিনা অপরাধে জেল খাটতে হয়েছে সেই পরিসংখ্যান কি তাদের কাছে আছে?থাকলে এই রকম আপত্তিকর সংবাদ তারা কোনো দ্বিধা ছাড় প্রচার করতো না।ছাত্রলীগের সাবেক নেতার হাতে কোনো ছাত্রী আহত হলে সে সারা দেশের সবার বোন হয়ে যায় অথচ বগুড়াতে যখন আযিযুল হক কলেজের বাংলা বিভাগের ছাত্র ও ছাত্রলীগ নেতা কোনো অপরাধই না করে র্নিমম ভাবে সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত হয় তখন তো সে কারও দয়া পেলো না!প্রথম আলোতে আজ প্রতি পাতায় দেখি বদরুল-খাদিজার খবর।কিন্তু ছাত্রনেতা হত্যার খবর তারা ছাপিয়েছে কিনা আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।নিহত হওয়ার চেয়ে কি আহত হওয়াই বড় সংবাদ?অপ্রয়োজনে তারা কত সংবাদ প্রচার করে যায় অথচ আজ কতদিন হলো ছাত্র-ছাত্রীরা সাতটি সৃজনশীল বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে।কয়টি জায়গার আন্দোলনের নিউজ তারা ছাপিয়েছে?
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সম্পর্কে অনেক বাজে কথা অনেকেই বলতে পারে কিন্তু আমাদের জাতির চেতনা বিকাশ ও স্বাধীনতার ইতিহাসে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অবদান কেউ শোধ করতে পারবে না।আজ যারা রাজনৈতিক ইস্যুতেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে অপমান করে তাদের মনে রাখা উচিত,বাংলার রাজনীতির জন্মদাতা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।এটি কোনো ফান কাব নয়।আর যত জন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে দমিয়ে রাখার জন্য যত কথাই বলুক না কেনো বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তার আপন গতিতে এগিয়ে যাবেই।এগিয়ে যাক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ...।

©somewhere in net ltd.
১|
০৯ ই নভেম্বর, ২০১৬ ভোর ৪:০৯
চাঁদগাজী বলেছেন:
ছাত্রলীগ গঠন করে শেখ সাহেব নেতা হয়েছিলেন; আজীবন 'ছাত্র রাজনীতিবিদ' ছিলেন; ছাত্রলীগ উনার মৃত্যুর জন্য একটা বড় ফ্যাকটর।