নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

রোকসানা লেইস

প্রকৃতি আমার হৃদয়

রোকসানা লেইস › বিস্তারিত পোস্টঃ

সী পার্ল এবং চারপাশ

০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৪


খুব ভোরে ঘুম ভাঙ্গল। সূর্য তখনও জাগেনি। ব্যালকুনিতে গিয়ে বসলাম কিছুক্ষন। সামনে সাগর আপনমনে ঢেউ তুলে নাচছে। একজন মানুষও নাই সাগরপাড়ে। এমন নিরিবিলি সাগরপাড়ই চেয়েছিলাম। যেখানে পুরোটাই আমার থাকবে। চেঞ্জ করে বাইরে চলে গেলাম। হোটল ও একদম চুপচাপ কেউ জাগেনি তখনও।
অনেকদিন পর মন ভরে সাগরের জলের সাথে কাটালাম। লবনজলে ভিজলাম অনেক্ষণ ধরে। ঢেউয়ের দোলায় সাঁতার কাটলাম।
দু একজন স্থানীয় বাচ্চার দেখা পেলাম। ওরা মাছ ধরতে বেড়িয়েছে। সূর্য তখন কেবল জাগছে। বোনের মেয়ে আর আমি দুজনেই উপভোগ করলাম সময়টা। এক সময় বোনও আসল। একটা বিষয় অদ্ভুত লাগল। একটাও ঝিনুক পেলাম না। ঢেউয়ের সাথে ভেসে আসা ঝিনুকও নাই পাড়ে পরে থাকা কোন ঝিনুকেরও চিহ্ন নাই। বাংলাদেশে
প্রায় ঘন্টা তিন পরে আমরা ঘরে ফিরে গোসল সেরে নাস্তা করতে গেলাম হোটেলের ডাইনিংয়ে।
খিচুরি আর ডিম, মোরগের মাংস, সালাদ, চা। সোজা সাপটা সহজ নাস্তা। খিচুরি না হয়ে পরটা হলে ভালোলাগত আমার। সকালবেলা ভাত খাওয়াটা কষ্টের। তবে বাংলাদেশের মানুষ মনে হয় তিনবেলা ভাত খেতেই বেশি পছন্দ করে।
দু চারজন আর যারা ছিল সবাই দেখলাম থালা উপচিয়ে খিচুরি নিয়ে আনন্দ মনে খাচ্ছে। খাওয়ার মান তেমন ভালো ছিল না। চা টাও মোটামুটি।
খাওয়া দাওয়া শেষ হতে দশটা বেজে গেলো। এগারোটায় চেক আউট এই হোটেল থেকে। আজ আমরা যাবো সি পার্ল রিসোর্টে। ছেলে সেখানে বুকিং দিয়ে রেখেছে। দেখলাম খুব বেশি দূরে নয় সি পার্ল। এখান থেকে বেরিয়ে আমরা ঐ হোটেলে গিয়ে ব্যাগ রেখে ঘুরতে যেতে পারি। ছেলেদের আসতে বারোটা বেজে যাবে।
আস্তে ধীরে গোছ গাছ করে আমরা রওনা হয়ে গেলাম সি পার্ল হেটেলে। বিশাল বড় দালান। সমুদ্র থেকে অনেকটা দূরে ভিতরের দিকে নিয়ে গেল আমাদের। সামনে সুইমিংপুল এবং অনেকটা জায়গা জুড়ে নানা রকম আকর্ষনীয় বিনোদনের ব্যবস্থা । ওয়াটার পার্ক যেখানে যেতে আবার নতুন করে টিকেট কিনতে হয়। এক পাশে বডি ম্যাসাজ ব্যবস্থা। বিকাল সন্ধ্যায় বারবিকিউ খাওয়ার ব্যবস্থা। আর সুইমিং পুলে নামলে সেখানে জুস খাওয়ার ছোট দোকান। সব কিছুই আলাদা ভাবে কিনতে হবে। অনেকটা জায়গা জুড়ে বাগান। আর এসব পার হয়ে রাস্তা পেরিয়ে অনেক মানুষের ভিড়ে সাগরপাড়ে পৌঁছানো যাবে। ডাইনিংয়ের ব্যবস্থাই কয়েকটি ভিন্ন জায়গায় ভিন্ন রকমমের খাওয়ার আয়োজন সেখানে।
বিশাল বড় রিসিপশন। অনেক মানুষের আসা যাওয়া চলছে। কেউ চলে যাচ্ছে বেড়ানো শেষ করে।কেউ নতুন করে আসছে আমাদের মতন। বাচ্চারা হৈ চৈ করছে। দৌড়া দৌড়ি করছে। আমরা পৌছালে জানাল আমাদের রুম রেডি আছে চেকিংয়ের সময় না হলেও আমরা রুমে যেতে পারব। অভ্যর্থনা কক্ষে কিছুটা অপেক্ষা করতেই জুস নিয়ে হাজির হলো আমাদের জন্য। এটা কোন টাটকা ফলের জুস ছিল না। প্যাকেট খোলা পাউডার মিশানো জুস। যা একদমই বিশ্রী স্বাদের। যাহোক আমরা রুমে গেলাম। রুমটা একদমই দম বন্ধ মনে হলো। মনে হয় অনেকদিন এই রুমে আলো বাতাস ঢুকেনি গুমোট ভ্যাপসা গন্ধ। জানালা আছে কিন্তু খোলার কোন ব্যাবস্থা নেই। দুখানা বিছানা মনে হলো হল জীবনের সিঙ্গল খাট যেখানে একজন শুলে মনে হতো যে কোন সময় পরে যাবো।
আমরা তিনজন এখানে কি ভাবে থাকব বুঝলাম না। খাটগুলো ফিক্স করে দেয়ালে লাগানো । দুটো খাট এক সাথে জুড়ে দেয়ার মতন কোন ব্যাবস্থা নেই। জানালা দিয়ে নিচে সুইমিং পুলে মানুষ দেখা যাচ্ছে। এছাড়া দর্শনীয় কিছু নেই। এই ঘরে দুদিন কাটাতে হবে। যা হোক সুটকেস রেখে নিচে নামলাম। ছেলে জানাল তারা পৌঁছে গেছে। সাটল বাসে আছে অল।প সময়ে চলে আসছে। আমরা নিচে গিয়ে ওদের অপেক্ষায় থাকলাম।
কোন অভ্যর্থনা জুস ওদের কে দেয়নি। সে সময়টা অনেক মানুষ এক সাথে আসায় হয়তো বুঝতে পারেনি কারা নতুন। যা হওয়া উচিত নয়। সবারই সমান ট্রিট পাওয়া উচিৎ, এমন একটা বিশাল হোটেলে। যার দাম দিতে হচ্ছে অনেক। যা হোক আমাদের সাথে একজন সিঙ্গেল মানুষকে আমাদের রুমে পাঠিয়ে আমরা ছেলেদের ভিলায় যেয়ে উঠলাম। যেখানে দুটো বেডরুমসহ তিনটি বাথরুম। কিচেন, ড্রয়িংরুম, এবং রুমের বিছানা গুলোও বড় ছিল। এখান থেকে সমুদ্রের কিছুটা আভাসও পাওয়া যাচ্ছিল। ছেলেরা ফ্রেশ হয়ে নিচেই খেতে গেলো পালঙ্কির খাওয়া ওদের বাচ্চার জন্য সুবিধার হবে না তাই আমরা তিন মূর্তি আবার দুপুরের খাবারের জন্য পালঙ্কিতে গেলাম। ওরে ব্বাহ কি ভিড় সে সময়। ঠিক খাওয়ার সময় বিশাল দুই রুমের বসার জায়গাসহ বাইরের প্যাটিও সবই প্যাক্ট আপ। মানুষ যেন গিজ গিজ করছে । তার ভিতর দিয়ে বড় বড় ট্রে ভর্তি খাবার দুজনে তিনজনে ধরে নিয়ে যাচ্ছে সার্ভ করার জন্য।
এই বিশাল যজ্ঞটা ঠিক সেই সময়টা না গেলে দেখা হতো না। এত মানুষের খাবারের ওর্ডার ঠিক একই রকম স্বাদে সার্ভ করা চাট্টিখানী কথা নয়। খুবই ভালো ব্যবস্থাপনায় চলছে এই খাবারের রেস্টুরেন্টটি। এবং অভিজ্ঞ ও ভালো সেফও আছে তাদের বুঝলাম।
আমাদের ওর্ডার নেয়ার জন্য কেউ আগের রাতের মতন তড়িৎ গতিতে আসছেনা যদিও অসংখ্য সার্ভার আমাদের পাশ দিয়ে ব্যাস্ততার সাথে চলে ফেরা করছে। আমরা বসার জায়গা পেলেও খাবার ওর্ডাার করার সুযোগ পাচ্ছি না। এক সময় একজনকে ডাকলাম এবং বললাম আমরা কি চলে যাবো। জানতে চাইল আপনারা কি ওর্ডার দিয়ে ফেলেছেন বললাম কেউ তো আসছে না ওর্ডার নেয়ার জন্য অনেকক্ষণ বসে আছি। আমাকে বলুন, আমরা বিশ মিনিটের মধ্যেই খাবার দিয়ে দেই। ওর্ডার নিয়ে চলে গেলো এবং বিশ মিনিট বা তার কম সময়ের মধ্যেই খাবার এনে হাজির করল।
খাবার আগের দিনের মতনই ভালো ছিল খাবার। এই রেস্টুরেন্ট যে চালায় তার ইনকাম দিনে কত হয় তাই ভাবছিলাম। তবে প্রতিটা খাবার গুণগত ভাবে উন্নত।
ছেলেরা জানাল তারা একটু রেস্ট করবে। আমরা বললাম তাহলে আমমরা টেকনাফ ঘুরে আসি। টেকনাফ কাল হোটেলের বাস নিয়ে যাবে। তাহলে আমরা আসেপাশে ঘুরে আসি। বিকালে তোমাদের সাথে বের হবো। সিএসজিওয়ালা আমাদের হীমঝরি নিয়ে যেতে চাইল। আরো অনেক জায়গায় দূরে। কিন্তু আমাদের আজ আর বেশি ঘুরতে ইচ্ছা করছিল না। পাশেই ছিল বে ওয়াচ হোটেল সেখানে নেমে গেলাম একটু ভালো কফি বা চা খাওয়ার জন্য। সামনের জায়গাটা বেশ সুন্দর। বাঁশের ঝুপরি, শাম্পান সাজানো। আমরা সেদিকে গিয়ে বসলাম। কফির ওর্ডার করে। সাজানো রিসোর্টে বসে সামনে সমুদ্র দেখছি। হাওয়া খাচ্ছি। গল্প করতে করতে আমাদের ঘুম এসে যাচ্ছে। দুই নায়িকা বা নায়িকার মতন ছবি উঠাতে চাওয়া টিকটকার হতে পারে। নানা ভঙ্গীতে ছবি তুলেই যাচ্ছেন। ভাড়া করা ফটোগ্রাফার নিয়ে আসছে হয়তো। অথবা এখানেই ভাড়া করছে।
বসে থাকতে থাকতে টায়ার্ড হয়ে আমরা চারপাশ ঘুরে ফিরে দুচারটা ছবি তুলে আসলাম। কিন্তু কফি আসার নাম নাই। কি ব্যাপার এরা কি ভুলে গেছে আমাদের কফি দেয়ার কথা! আরো খানিক পরে এক কাপ কফি এনে রাখল আমাদের সামনে। কি ব্যাপার আর দুজনের কফি কই? আনছি ম্যাডাম। গেলো গেলোই ওর আর পাত্তা নাই। আরো অনেকক্ষণ পরে আরো এক কাপ এলো। এভাবে অনেক সময় নিয়ে তিন বারে তিনজনের কফি সার্ভ করতে আমি আর কোথাও দেখিনি। দেখলাম বে ওয়াচ রিসোর্টে। তিন কাপ কফির দাম ছিল বারোশ টাকা।
মোটামুটি টাইপের কফি খেলাম, মনে হলো টাকাই চিবিয়ে খেলাম। ফিরে অসলাম ঘরে বিকালে সবাই মিলে সাগরপাড়ে ঘুরতে গেলাম। সূর্যান্ত দেখা হলো না। মেঘের জন্য। তবে সবাই মিলে সাগরপাড়ে ঘুরে বেড়ানোর সুন্দর সময় ছিল।
অনেকক্ষণ সাগর পাড়ে কাটিয়ে হোটেলে ফিরলাম। চারপাশে অনেক আলো এই চলছে সুইমিং পুলে ঝাপাঝাপি মানুষদের চলছে রাত দশটা পর্যন্ত সুইমিং
করা যায়।
চারপাশে নানারকম দোকানগুলো এখন খোলা অনেক রকম খাবারের ঘ্রাণ ভাসছে। বাচ্চারা সব সুইমিং করতে গেল। আমি আর বোন মিলে চারপাশে হোটেলের আধুনিক সাজসজ্জা ঘুরে দেখলাম, সুইমিং পুলের পাশে বসে থাকলাম। পানির ক্লোরোফিলের গন্ধের মাঝে ফুলের গন্ধ ভেসে আসছিল কখনো। এখানে সেখানে কয়েকটা শিউলি, হাসনাহেনা, কনকচাঁপা এবং আরো নানা ধরনের গাছ আছে। রাতের খাবার আপ্যায়ন নামের রেস্টুরেন্টে করলাম। মোটামুটি মানের খাবার ছিল।
রাতের বেলা সবাই মিলে আবার সাগরপাড়ে চলে গেলাম। আলো গুলো নিভানোর পর কিছুটা প্রকৃতি উপভোগ করা গেল। চাঁদ কিছুটা ক্ষয়ে গেছে একপাশে তারপরও প্রচুর আলো ছিল চাঁদের সাগরজলে। মাঝরাতে গান গেয়ে সাগরের ঢেউয়ের সাথে সুর মিলালাম সবাই মিলে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.