নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সরওয়ার নিজামী একাধারে লেখক, আইন গবেষক, আইনজীবী, সমাজকর্মী ও সংগঠক। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সম্পর্কিত আইন, আইনের জীবন ও দর্শন, চলচ্চিত্রে আইন, কোলাহল শেষে, বিপ্লব দেখতে আসিনি, এসেছি বিপ্লবী হতে, কিছু স্মৃতি, কিছু কথা, শূন্যলতা, চলচ্চিত্রে আইন বইয়ের লেখক।

সরওয়ার নিজামী

আইনজীবী, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত (০১৮১৫ ৮১৯২৩৯)

সরওয়ার নিজামী › বিস্তারিত পোস্টঃ

সাকসেশন সার্টিফিকেট নেওয়ার নিয়ম কী?

২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৩

সাকসেশন সার্টিফিকেট বা উত্তরাধিকার সনদ মূলত মৃত ব্যক্তির ব্যাংক জমা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র বা অন্যান্য অস্থাবর সম্পত্তি উত্তোলনের জন্য আদালত থেকে সংগ্রহ করতে হয়। ২০২৩ সালে বাংলাদেশে নতুন উত্তরাধিকার আইন (সংশোধন) কার্যকর হওয়ার পর থেকে এই প্রক্রিয়া অনেকটা সহজ হয়েছে।

আদালত থেকে সাকসেশন সার্টিফিকেট পাওয়ার ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. আবেদন দাখিল: মৃত ব্যক্তি যে এলাকায় বসবাস করতেন, সেই এলাকার সংশ্লিষ্ট জেলা জজ আদালত বা সাকসেশন আদালতে উত্তরাধিকারীদের পক্ষ থেকে আবেদন করতে হয়। ঢাকা জেলা আদালতের ওয়েবসাইট থেকে এই সংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

২. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: আবেদনের সাথে সাধারণত নিম্নলিখিত তথ্য ও দলিল জমা দিতে হয়:
মৃত ব্যক্তির মৃত্যু সনদ (Death Certificate)।
সিটি কর্পোরেশন বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রাপ্ত ওয়ারিশান সনদ।
জাতীয় পরিচয়পত্র (মৃত ব্যক্তি ও সকল উত্তরাধিকারীর)।
যে সম্পদের জন্য সাকসেশন চাওয়া হচ্ছে তার বিবরণ (যেমন: ব্যাংক স্টেটমেন্ট, শেয়ার বা সঞ্চয়পত্রের কপি)।

৩. আদালত ফি (Court Fee): সম্পত্তির পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট পরিমাণ কোর্ট ফি জমা দিতে হয়। বর্তমানে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্পদের জন্য কোনো ফি লাগে না, তবে এর বেশি হলে ১% থেকে ২% পর্যন্ত ফি নির্ধারিত হতে পারে।

৪. বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ: আবেদন জমা দেওয়ার পর আদালত সাধারণত সংবাদপত্রে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন যাতে অন্য কেউ যদি দাবিদার থাকে তবে তারা আপত্তি জানাতে পারে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেউ আপত্তি না জানালে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে যায়।

৫. সাক্ষ্য গ্রহণ ও রায়: আদালত উত্তরাধিকারীদের বক্তব্য ও দাখিলকৃত কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আদালত সাকসেশন সার্টিফিকেট প্রদানের আদেশ দেন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট সীমার নিচের টাকার জন্য আদালতের সাকসেশন সার্টিফিকেটের পরিবর্তে শুধুমাত্র ওয়ারিশান সনদ দিয়েই কাজ সম্পন্ন করে। তবে বড় অঙ্কের লেনদেনের জন্য আদালতের সাকসেশন সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক। আইনগত জটিলতা এড়াতে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে ভালো। আপনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের লিগ্যাল এইড থেকেও আইনি সহায়তা পেতে পারেন।


লেখক- সরওয়ার নিজামী
আইনজীবী, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত
যোগাযোগ- ০১৮১৫ ৮১৯২৩৯

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.