| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সরওয়ার নিজামী
আইনজীবী, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত (০১৮১৫ ৮১৯২৩৯)
ওয়ারিশ সনদ ও সাকসেশন সার্টিফিকেট (উত্তরাধিকার সনদ) উভয়ই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির আইনগত উত্তরাধিকার নির্ধারণ করে, তবে এদের উদ্দেশ্য ও ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষ ভিন্ন। ওয়ারিশ সনদ পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেয়া হয়, যা মূলত উত্তরাধিকারীর পরিচয় প্রমাণ করে। অন্যদিকে, সাকসেশন সার্টিফিকেট আদালতের মাধ্যমে পাওয়া যায়, যা ব্যাংকের টাকা, শেয়ার বা স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের জন্য অপরিহার্য।
ওয়ারিশ সনদ ও সাকসেশন সার্টিফিকেটের মূল পার্থক্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষ: ওয়ারিশ সনদ ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা থেকে পাওয়া যায়, কিন্তু সাকসেশন সার্টিফিকেট জেলা জজ আদালত বা উপযুক্ত দেওয়ানী আদালত থেকে ইস্যু করা হয়।
উদ্দেশ্য ও ব্যবহার: ওয়ারিশ সনদ সাধারণত মৃত ব্যক্তির সাথে উত্তরাধিকারীদের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে (স্থাবর সম্পত্তি/পেনশন)। সাকসেশন সার্টিফিকেট মূলত অস্থাবর সম্পত্তি (ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার) হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয়।
প্রক্রিয়া: ওয়ারিশ সনদ সহজে এবং দ্রুত (১৫-৩০ দিনে) পাওয়া যায়। সাকসেশন সার্টিফিকেট পেতে আদালতের মাধ্যমে দীর্ঘ ও জটিল আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়, যার জন্য সময় বেশি লাগে।
আইনগত ভিত্তি: সাকসেশন সার্টিফিকেট ১৯২৫ সালের সাকসেশন অ্যাক্টের ৩৭০-৩৮৯ ধারায় পরিচালিত হয়।
আইনি স্বীকৃতি: সাকসেশন সার্টিফিকেট চূড়ান্ত আইনি নিশ্চয়তা প্রদান করে, যা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অপরিহার্য।
সংক্ষেপে, সাধারণ সম্পর্ক প্রমাণের জন্য ওয়ারিশ সনদ এবং ব্যাংক বা আর্থিক সম্পদ সংক্রান্ত বিরোধ এড়াতে সাকসেশন সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়।
লেখক- সরওয়ার নিজামী
আইনজীবী, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত
যোগাযোগ- ০১৮১৫ ৮১৯২৩৯
©somewhere in net ltd.