নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সরওয়ার নিজামী একাধারে লেখক, আইন গবেষক, আইনজীবী, সমাজকর্মী ও সংগঠক। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সম্পর্কিত আইন, আইনের জীবন ও দর্শন, চলচ্চিত্রে আইন, কোলাহল শেষে, বিপ্লব দেখতে আসিনি, এসেছি বিপ্লবী হতে, কিছু স্মৃতি, কিছু কথা, শূন্যলতা, চলচ্চিত্রে আইন বইয়ের লেখক।

সরওয়ার নিজামী

আইনজীবী, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত (০১৮১৫ ৮১৯২৩৯)

সরওয়ার নিজামী › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রোপাইটরশিপ, পার্টনারশিপ ও কোম্পানির মধ্যে পার্থক্য কী?

০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫

ভূমিকা
প্রোপাইটরশিপ (একমালিকানা), পার্টনারশিপ (অংশীদারি) ও কোম্পানির মূল পার্থক্য হলো মালিকানা, দায়বদ্ধতা এবং আইনি স্বাতন্ত্র্য। প্রোপাইটরশিপে ১ জন মালিক ও অসীম দায়, পার্টনারশিপে ২+ জন ও অসীম দায়, এবং কোম্পানিতে শেয়ারহোল্ডারদের দায় সীমিত ও এটি একটি পৃথক আইনি সত্তা। কোম্পানি সাধারণত বেশি আইনি বাধ্যবাধকতার অধীন।

প্রোপাইটরশিপ, পার্টনারশিপ ও কোম্পানির তুলনামূলক পার্থক্য:

মালিকানা ও গঠন:
প্রোপাইটরশিপ (Sole Proprietorship): একজন মাত্র ব্যক্তি মালিক, গঠন করা সহজ এবং কোনো বিশেষ নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা নেই।
পার্টনারশিপ (Partnership): দুইজন বা ততোধিক ব্যক্তি (ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে ১০ জন, অন্যান্য ক্ষেত্রে ২০ জন পর্যন্ত)। চুক্তি বা নিবন্ধনের ভিত্তিতে গঠিত।
কোম্পানি (Company): প্রাইভেট লিমিটেড হলে সর্বনিম্ন ২ জন, পাবলিক হলে ৭ জন পরিচালক/শেয়ারহোল্ডার লাগে। যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (RJSC) দ্বারা আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত। বর্তমানে একক মালিকানাধীন কোম্পানিও করা যায়।

দায়বদ্ধতা (Liability):
প্রোপাইটরশিপ: অসীম দায়। ব্যবসার ঋণের জন্য মালিকের ব্যক্তিগত সম্পদ (যেমন- বাড়ি, গাড়ি) ঝুঁকির মধ্যে থাকে।
পার্টনারশিপ: অংশীদারদের অসীম ও যৌথ দায়। ঋণের জন্য ব্যক্তিগত সম্পদ ব্যবহার হতে পারে।
কোম্পানি: সীমিত দায়। শেয়ারহোল্ডাররা শুধুমাত্র তাদের বিনিয়োগকৃত শেয়ারের মূল্য পর্যন্ত দায়ী।

আইনি স্বাতন্ত্র্য (Legal Status):
প্রোপাইটরশিপ: আইনত মালিক ও ব্যবসা অভিন্ন সত্তা।
পার্টনারশিপ: অংশীদার এবং প্রতিষ্ঠান সাধারণত আইনত একই বলে গণ্য হয়।
কোম্পানি: পৃথক আইনি সত্তা। কোম্পানি নিজের নামে সম্পত্তি কিনতে বা মামলা করতে পারে।

স্থায়িত্ব (Continuity):
প্রোপাইটরশিপ: মালিকের মৃত্যু বা অসামর্থ্যে ব্যবসার অবসান ঘটে।
পার্টনারশিপ: কোনো অংশীদারের মৃত্যু বা দেউলিয়া হলে অংশীদারিত্ব ভাঙতে পারে।
কোম্পানি: চিরন্তন অস্তিত্ব। শেয়ারহোল্ডার পরিবর্তিত হলেও কোম্পানির অস্তিত্ব টিকে থাকে।

মূলধন ও ব্যবস্থাপনা:
প্রোপাইটরশিপ: এক মালিক নিজেই মূলধন দেন এবং সিদ্ধান্ত নেন।
পার্টনারশিপ: অংশীদাররা যৌথ মূলধন ও সিদ্ধান্ত নেন।
কোম্পানি: শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে বড় মূলধন সংগ্রহ করা যায়। পেশাদার বা পরিচালনা পর্ষদ (Board of Directors) দ্বারা পরিচালিত হয়।

ট্যাক্স:
প্রোপাইটরশিপ ও পার্টনারশিপ: ব্যক্তিগত আয়কর আইন প্রযোজ্য।
কোম্পানি: কোম্পানির আয়ের ওপর আলাদাভাবে কর্পোরেট ট্যাক্স দিতে হয়।
সংক্ষেপে, ব্যবসার ঝুঁকি কম ও মূলধন প্রয়োজন কম হলে প্রোপাইটরশিপ, ছোট বা মাঝারি যৌথ ব্যবসায় পার্টনারশিপ, এবং বড় স্কেলে, দীর্ঘমেয়াদী বা লিমিটেড লাইবিলিটি চাইলে কোম্পানি উপযুক্ত।

লেখক: সরওয়ার নিজামী
অ্যাডভোকেট, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত
ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ঢাকা
চেম্বার: লেক্সলেইন চেম্বারস, ফ্ল্যাট নং- ২বি, প্রপার্টি প্যারাগন
১১৬ সেগুনবাগিচা, ঢাকা- ১০০০। মোবাইল- ০১৮১৫ ৮১৯২৩৯।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.