| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সরওয়ার নিজামী
আইনজীবী, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত (০১৮১৫ ৮১৯২৩৯)
ভূমিকা
পার্টনারশিপ বা অংশীদারি ব্যবসা শুরুর পূর্বে দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য এবং পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য বেশ কিছু বিষয় সতর্কতার সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পার্টনারশিপ ব্যবসার মূল ভিত্তি হলো বিশ্বাস এবং লিখিত চুক্তি।
পার্টনারশিপ ব্যবসা শুরুর পূর্বে বিবেচ্য প্রধান বিষয়সমূহ নিচে দেওয়া হলো:
১. লিখিত ও আইনি চুক্তিপত্র (Partnership Deed): মৌখিক কথায় পার্টনারশিপ না করে অবশ্যই আইনি স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তি করতে হবে। বাংলাদেশে ব্যবসার মূলধন ১ লক্ষ টাকার কম হলে ২০০০ টাকার এবং ১ লক্ষ টাকার বেশি হলে ৪০০০ টাকার স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র করা প্রয়োজন। চুক্তিপত্রে মুনাফা বন্টন, মূলধন বিনিয়োগ, দায়-দায়িত্ব ইত্যাদি স্পষ্ট থাকতে হবে।
২. পার্টনারের ভূমিকা ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ: কে কোন কাজ করবে, কে কত সময় দেবে এবং কার ক্ষমতার পরিধি কতটুকু—তা শুরুতেই ঠিক করে নিতে হবে। ওয়ার্কিং পার্টনার (যারা সময় দেবেন) এবং ফিন্যান্সিয়াল পার্টনার (যারা শুধু টাকা বিনিয়োগ করবেন) এর মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট থাকা উচিত।
৩. মূলধন বিনিয়োগ ও মুনাফা বন্টন: কোন পার্টনার কত টাকা বা সম্পদ (যন্ত্রপাতি, জমি ইত্যাদি) বিনিয়োগ করবে এবং ব্যবসার লাভ বা লোকসান কোন অনুপাতে ভাগ হবে, তা আগেই নির্ধারিত হতে হবে।
৪. সঠিক পার্টনার নির্বাচন ও বিশ্বাস: সমমনা এবং সমমূল্যবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি পার্টনার হিসেবে নির্বাচন করা উচিত। পার্টনারের সততা, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও মানসিকতা বুঝে নেওয়া প্রয়োজন।
৫. ব্যবসায়িক লক্ষ্য ও ভিশন: সব পার্টনারের লক্ষ্য এক হতে হবে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, কাজের পরিধি এবং ব্যবসার ভিশন নিয়ে মতবিরোধ থাকলে ব্যবসা শুরু না করাই ভালো।
৬. বিরোধ নিরসন প্রক্রিয়া (Conflict Resolution): ভবিষ্যতে মতবিরোধ হলে তা কীভাবে সমাধান করা হবে (যেমন: সালিশি বা মিটিং) তা চুক্তিপত্রে উল্লেখ থাকতে হবে।
৭. এক্সিট স্ট্র্যাটেজি বা ব্যবসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার নিয়ম: যদি কোনো পার্টনার ব্যবসা ছেড়ে যেতে চান বা মারা যান, তবে তার শেয়ারের মূল্য কীভাবে নির্ধারণ করা হবে এবং কীভাবে টাকা পরিশোধ করা হবে, তার পরিকল্পনা আগে থেকেই থাকতে হবে।
৮. স্বচ্ছ হিসাবরক্ষণ ও তদারকি: ব্যবসার দৈনন্দিন হিসাব এবং আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করতে হবে। সব পার্টনারের হিসাব দেখার অধিকার থাকতে হবে।
৯. আইনি ও প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা: ব্যবসার রেজিস্ট্রেশন বা ট্রেড লাইসেন্স করা, টিআইএন (TIN) সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা এবং পার্টনারদের ব্যক্তিগত নথিপত্র (জাতীয় পরিচয়পত্র) সংরক্ষিত রাখা।
উপসংহার
পার্টনারশিপে ব্যবসা শুরু করার আগে এই বিষয়গুলো পরিষ্কার করে নিলে ভবিষ্যতে ভুল বোঝাবুঝি ও আইনি জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়।পার্টনারশিপ বা অংশীদারি ব্যবসা শুরুর পূর্বে দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য এবং পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য বেশ কিছু বিষয় সতর্কতার সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পার্টনারশিপ ব্যবসার মূল ভিত্তি হলো বিশ্বাস এবং লিখিত চুক্তি।
লেখক: সরওয়ার নিজামী
অ্যাডভোকেট, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত
ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ঢাকা
চেম্বার: লেক্সলেইন চেম্বারস, ফ্ল্যাট নং- ২বি, প্রপার্টি প্যারাগন
১১৬ সেগুনবাগিচা, ঢাকা- ১০০০। মোবাইল- ০১৮১৫ ৮১৯২৩৯।
©somewhere in net ltd.