| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সরওয়ার নিজামী
আইনজীবী, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত (০১৮১৫ ৮১৯২৩৯)
ভূমিকা
রেন্ট সার্টিফিকেট মামলা হলো জমি মালিকদের দ্বারা দীর্ঘ সময় (সাধারণত ৩ বছর বা তার বেশি) ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা অনাদায়ী থাকলে সরকার কর্তৃক পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্ট, ১৯১৩ (PDR Act) অনুযায়ী বকেয়া রাজস্ব আদায়ের একটি বিশেষ আইনি প্রক্রিয়া। এটি মূলত একটি সার্টিফিকেট মামলা, যা শুধুমাত্র ভূমি করের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে রেন্ট সার্টিফিকেট মামলা হিসেবে পরিচিত।
রেন্ট সার্টিফিকেট মামলার বিস্তারিত ও পরিত্রাণের উপায়সমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
রেন্ট সার্টিফিকেট মামলা কী?
আইন: পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি (পিডিআর) অ্যাক্ট, ১৯১৩-এর অধীনে এই মামলা পরিচালিত হয়।
কারণ: ভূমি মালিক বা জমির দখলদার যখন নির্ধারিত সময়ে ভূমির কর (খাজনা) পরিশোধ করেন না, তখন সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা সার্টিফিকেট অফিসার পাওনা আদায়ের জন্য এই মামলা দায়ের করেন।
প্রক্রিয়া: প্রথমে কর পরিশোধের নোটিশ দেওয়া হয়। এতে কাজ না হলে রেন্ট সার্টিফিকেট মামলা চালু করা হয় এবং ৭ ধারার অধীনে দেনাদারের নামে নোটিশ জারি করা হয়।
ফলাফল: নোটিশ জারির পর দেনাদার ওই সম্পত্তি হস্তান্তর, বিক্রি বা দান করতে পারেন না। পাওনা টাকা পরিশোধ না করলে জমি নিলাম করে সরকারি টাকা আদায় করা হতে পারে।
রেন্ট সার্টিফিকেট মামলা থেকে পরিত্রাণের উপায়
১. বকেয়া কর পরিশোধ: সার্টিফিকেট মামলা হওয়ার পর সবচেয়ে দ্রুত পরিত্রাণের উপায় হলো সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয়ে গিয়ে বকেয়া কর, জরিমানা এবং মামলার খরচসহ সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করা।
২. আপত্তি দাখিল (Section 10): যদি কর পরিশোধ করা হয়ে থাকে বা ভুলবশত মামলা হয়ে থাকে, তবে ৭ ধারার নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সার্টিফিকেট অফিসারের নিকট দেনা অস্বীকার করে লিখিত আপত্তি (Objection) দাখিল করা যায়।
৩. শুনানিতে অংশগ্রহণ: নোটিশে উল্লিখিত তারিখে শুনানিতে উপস্থিত হয়ে প্রমাণসহ (যেমন—পুরানো দাখিলা বা খাজনার রসিদ) দাবি করা যে আপনার কোনো কর বকেয়া নেই।
৪. আপিল করা: যদি সার্টিফিকেট অফিসারের আদেশে আপনি সংক্ষুব্ধ হন বা আদেশটি সঠিক মনে না হয়, তবে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে (যেমন—কালেক্টর বা আপিল ট্রাইব্যুনাল) আপিল করার আইনি সুযোগ রয়েছে।
বিশেষ সতর্কতা: ৭ ধারার নোটিশ পাওয়ার পর কোনোভাবেই জমি হস্তান্তর করবেন না, কারণ এটি দণ্ডবিধি আইনের ২০৬ ধারা অনুযায়ী অপরাধ।
লেখক: সরওয়ার নিজামী
অ্যাডভোকেট, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত
ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ঢাকা
ট্যাক্স, ভ্যাট এন্ড কাস্টমস ল’ কনসালট্যান্ট
চেম্বার: লেক্সলেইন চেম্বারস, ফ্ল্যাট নং- ২বি, প্রপার্টি প্যারাগন
১১৬ সেগুনবাগিচা, ঢাকা- ১০০০। মোবাইল- ০১৮১৫ ৮১৯২৩৯।

©somewhere in net ltd.