| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সরওয়ার নিজামী
আইনজীবী, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত (০১৮১৫ ৮১৯২৩৯)
ভূমিকা
কোনো জিনিস চুরি হলে প্রথমেই শান্ত থেকে ঘটনাটি নিশ্চিত হোন, এরপর দ্রুত স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (GD) বা মামলা করুন। পুলিশের পাশাপাশি আশেপাশে বা সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন কাউকে খোঁজার চেষ্টা করুন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র (সিরিয়াল নম্বর, ছবি) সংরক্ষণ করুন।
চুরি হলে করণীয় বিস্তারিত:
থানায় অভিযোগ (GD/FIR): অবিলম্বে নিকটস্থ থানায় চুরির ঘটনা জানিয়ে একটি জিডি বা মামলা করুন, যা বীমা দাবির জন্য বা আইনি সহায়তায় জরুরি।
সন্দেহভাজনদের খোঁজ: চুরির সময় বা স্থান আশেপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলে তা পরীক্ষা করুন।
নথিপত্র প্রস্তুত: চুরি যাওয়া জিনিসের বিবরণ, ছবি, বা কোনো সিরিয়াল নম্বর (যেমন মোবাইল বা ল্যাপটপ) থাকলে তা পুলিশকে জানান।
আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীকে জানানো: কাউকে সন্দেহ হলে সতর্ক করুন এবং খোঁজ নিন।
যদি চোর কোনো পরিচিত ব্যক্তি হন, তবে সরাসরি কথা বলে বা পারিবারিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করতে পারেন।
কোন ধারায় মামলা করবেন?
বাংলাদেশে কোনো কিছু চুরি হলে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code, 1860) অনুযায়ী মামলা করতে হবে। চুরির ধরন অনুযায়ী প্রধান ধারাগুলো নিচে দেওয়া হলো:
সাধারণ চুরির ক্ষেত্রে (ধারা ৩৭৯): কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোনো অস্থাবর সম্পত্তি (যেমন: মোবাইল, টাকা, ব্যাগ) চুরি হলে দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় মামলা করতে হয়। এই ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
বাসগৃহ বা আবদ্ধ স্থানে চুরির ক্ষেত্রে (ধারা ৩৮০): যদি কোনো বাড়ি, ঘর, তাঁবু বা জলযান থেকে চুরি হয়, তবে ৩৮০ ধারায় মামলা করতে হয়। এটি গুরুতর অপরাধ এবং এর শাস্তি সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।
কর্মচারী বা চাকর কর্তৃক চুরি (ধারা ৩৮১): যদি কোনো কর্মচারী তার মালিকের দখলভুক্ত সম্পত্তি চুরি করে, তবে ৩৮১ ধারায় মামলা করতে হয়, যার শাস্তি সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড।
আঘাত বা ভয়ের মাধ্যমে চুরির প্রস্তুতি (ধারা ৩৮২): যদি চোর চুরি করার সময় বা পরে কাউকে আঘাত করার বা মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে পালানোর প্রস্তুতি নিয়ে চুরি করে, তবে ৩৮২ ধারায় মামলা করতে হয়, যার শাস্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
করণীয়:
১. অবিলম্বে স্থানীয় থানায় জিডি (GD) অথবা এজাহার দায়ের করতে হবে।
২. চুরির মালামালের বিস্তারিত বিবরণ (সিরিয়াল নম্বর, স্বতন্ত্র চিহ্ন) থানায় জানাতে হবে।
দ্রষ্টব্য: চুরির সময় যদি বলপ্রয়োগ বা ছিনতাই করা হয়, তবে ৩৯২ ধারায় (ডাকাত বা ছিনতাই) মামলা হতে পারে।
লেখক: সরওয়ার নিজামী
অ্যাডভোকেট, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত
ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ঢাকা
ট্যাক্স, ভ্যাট এন্ড কাস্টমস ল’ কনসালট্যান্ট
চেম্বার: লেক্সলেইন চেম্বারস, ফ্ল্যাট নং- ২বি, প্রপার্টি প্যারাগন
১১৬ সেগুনবাগিচা, ঢাকা- ১০০০। মোবাইল- ০১৮১৫ ৮১৯২৩৯।

©somewhere in net ltd.