নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সরওয়ার নিজামী একাধারে লেখক, আইন গবেষক, আইনজীবী, সমাজকর্মী ও সংগঠক। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সম্পর্কিত আইন, আইনের জীবন ও দর্শন, চলচ্চিত্রে আইন, কোলাহল শেষে, বিপ্লব দেখতে আসিনি, এসেছি বিপ্লবী হতে, কিছু স্মৃতি, কিছু কথা, শূন্যলতা, চলচ্চিত্রে আইন বইয়ের লেখক।

সরওয়ার নিজামী

আইনজীবী, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত (০১৮১৫ ৮১৯২৩৯)

সরওয়ার নিজামী › বিস্তারিত পোস্টঃ

মামলার এজাহার লেখার সময় কোন কোন বিষয়সমূহ খেয়াল রাখা প্রয়োজন?

২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮

ভূমিকা
বাংলাদেশে ফৌজদারি কার্যবিধির (CrPC) ১৫৪ ধারা অনুযায়ী থানায় আমলযোগ্য অপরাধের যে প্রাথমিক তথ্য বিবরণী বা এজাহার (FIR) দায়ের করা হয়, তা একটি মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দালিলিক প্রমাণ। এটি লেখার সময় অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, কারণ এখানে উল্লিখিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এজাহার লেখার সময় নিম্নোক্ত বিষয়গুলো খেয়াল রাখা প্রয়োজন:
১. প্রাথমিক ও প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ:
থানা ও জেলার নাম: আবেদনের শুরুতেই সুস্পষ্টভাবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (OC) বরাবর থানা ও জেলার নাম উল্লেখ করতে হবে।
তারিখ ও সময়: অপরাধটি কখন, কোন তারিখে সংঘটিত হয়েছে তা নির্দিষ্ট করে লিখতে হবে।
ঘটনাস্থল (Place of Occurrence - PO): অপরাধ কোথায় সংঘটিত হয়েছে তার সঠিক ও বিস্তারিত ঠিকানা (যেমন: বাড়ি নং, রাস্তা, গ্রাম/মহল্লা, থানা, জেলা) উল্লেখ করতে হবে।

২. ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ (Description of Offence):
কি ঘটেছে: অপরাধের ঘটনার একটি স্বচ্ছ, সত্য এবং বিস্তারিত বিবরণ থাকতে হবে।
কে ঘটিয়েছে (আসামির পরিচয়): অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা জানা থাকলে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। অপরিচিত হলে তাদের দৈহিক বর্ণনা দিতে হবে।
কিভাবে ঘটেছে: অপরাধটি কিভাবে সংঘটিত হলো, কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বা কী উপায় অবলম্বন করা হয়েছে, তার বর্ণনা।
পূর্বসূত্র: ঘটনার পেছনে কোনো পূর্ব শত্রুতা বা হুমকি থাকলে তা উল্লেখ করা ভালো।

৩. সাক্ষী ও অন্যান্য তথ্য:
সাক্ষীদের নাম: ঘটনাস্থলে কে বা কারা উপস্থিত ছিলেন বা কারা ঘটনাটি দেখেছেন, তাদের নাম ও ঠিকানা।
আহত ব্যক্তির তথ্য: যদি কেউ আহত হন, তবে আহত ব্যক্তির নাম এবং চিকিৎসার বিবরণ (কোথায় চিকিৎসা চলছে) উল্লেখ করতে হবে।
ক্ষয়ক্ষতি: কোনো মালামাল চুরি বা নষ্ট হলে তার তালিকা।

৪. এজাহারকারী ও স্বাক্ষর:
সঠিক নাম ও ঠিকানা: এজাহারকারীর পূর্ণ নাম, পিতার নাম এবং ঠিকানা স্পষ্টভাবে থাকতে হবে।
স্বাক্ষর বা টিপসই: লিখিত এজাহারের নিচে অবশ্যই এজাহারকারীকে স্বাক্ষর বা টিপসই দিতে হবে।

৫. গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:
বিলম্বের কারণ: যদি ঘটনা ঘটার অনেক পরে এজাহার দাখিল করা হয়, তবে দেরি হওয়ার উপযুক্ত কারণ উল্লেখ করতে হবে।
সত্য তথ্য প্রদান: মিথ্যা তথ্য দিয়ে এজাহার দায়ের করা দণ্ডনীয় অপরাধ (দণ্ডবিধি ১৮৬০ অনুযায়ী)।
অস্পষ্টতা বর্জন: অস্পষ্ট বা অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া যাবে না।
কপি সংগ্রহ: এজাহার দাখিলের পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে এজাহারের একটি অবিকল কপি (বিনামূল্যে) চেয়ে নেওয়া আইনত অধিকার।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: যদি কোনো কারণে থানা এজাহার নিতে অসম্মতি জানায়, তবে সরাসরি সংশ্লিষ্ট আদালতের (ম্যাজিস্ট্রেট) কাছে নালিশি মামলা বা পিটিশন মামলা দায়ের করা যায়।


লেখক: সরওয়ার নিজামী
অ্যাডভোকেট, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত
ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ঢাকা
ট্যাক্স, ভ্যাট এন্ড কাস্টমস ল’ কনসালট্যান্ট
চেম্বার: লেক্সলেইন চেম্বারস, ফ্ল্যাট নং- ২বি, প্রপার্টি প্যারাগন
১১৬ সেগুনবাগিচা, ঢাকা- ১০০০। মোবাইল- ০১৮১৫ ৮১৯২৩৯।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.