নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সরওয়ার নিজামী একাধারে লেখক, আইন গবেষক, আইনজীবী, সমাজকর্মী ও সংগঠক। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সম্পর্কিত আইন, আইনের জীবন ও দর্শন, চলচ্চিত্রে আইন, কোলাহল শেষে, বিপ্লব দেখতে আসিনি, এসেছি বিপ্লবী হতে, কিছু স্মৃতি, কিছু কথা, শূন্যলতা, চলচ্চিত্রে আইন বইয়ের লেখক।

সরওয়ার নিজামী

আইনজীবী, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত (০১৮১৫ ৮১৯২৩৯)

সরওয়ার নিজামী › বিস্তারিত পোস্টঃ

ট্রাস্ট সৃষ্টির আইনগত পদ্ধতিসমূহ

২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪

ভূমিকা
বাংলাদেশে আরজেএসসি (RJSC - যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর) বা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের মাধ্যমে ট্রাস্ট নিবন্ধন করা যায়। ট্রাস্ট সাধারণত চ্যারিটেবল বা জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে গঠন করা হয়।

আরজেএসসি হতে ট্রাস্ট সৃষ্টির পদ্ধতি
বাংলাদেশে ট্রাস্ট (Trust) সাধারণত ১৮৮২ সালের ট্রাস্ট আইন (Trust Act, 1882) অনুযায়ী তৈরি করা যায়। ট্রাস্টটি যদি চ্যারিটেবল বা জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে করা হয়, তবে এর নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন জরুরি, যা যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (RJSC) থেকে সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, ১৮৬০-এর আওতায় করা হয়ে থাকে।

১. প্রাথমিক প্রস্তুতি ও ট্রাস্ট ডিড (Trust Deed) তৈরি
উদ্দেশ্য ঠিক করা: ট্রাস্টটি কী উদ্দেশ্যে (শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ধর্মীয় বা জনকল্যাণ) তৈরি করা হচ্ছে তা সুনির্দিষ্ট হতে হবে।
ট্রাস্টি নিয়োগ: ট্রাস্ট পরিচালনা করার জন্য ন্যূনতম ৭ জন বা তার বেশি (বেজোড় সংখ্যক) ট্রাস্টি বা পরিচালনা পরিষদ ঠিক করতে হবে।
ট্রাস্ট ডিড বা দলিল: স্ট্যাম্প পেপারে ট্রাস্টের নাম, উদ্দেশ্য, ট্রাস্টিদের নাম, ঠিকানা, ক্ষমতা, এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্যাদি লিখে একটি 'ট্রাস্ট ডিড' বা দলিল তৈরি করতে হবে।
দলিল রেজিস্ট্রেশন (সাব-রেজিস্ট্রি অফিস): এই ট্রাস্ট ডিডটি প্রথমে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়।

২. আরজেএসসি (RJSC) তে নিবন্ধনের প্রক্রিয়া
ট্রাস্টটি স্থায়ী ও আইনি বৈধতা পেতে RJSC-তে নিবন্ধন করা প্রয়োজন।
নেম ক্লিয়ারেন্স (Name Clearance): প্রথমত, RJSC-এর ওয়েবসাইট থেকে ট্রাস্টের নামের জন্য নেম ক্লিয়ারেন্স সনদ নিতে হবে।
নথিপত্র প্রস্তুত:
রেজিস্ট্রার্ড ট্রাস্ট ডিড।
ট্রাস্টিদের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ও ছবি।
কাজের রূপরেখা বা মেমোরেন্ডাম।
অনলাইনে আবেদন: RJSC-এর পোর্টালে গিয়ে 'Society/Trust Registration' অপশনে আবেদন করতে হবে।
ফি জমা: নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন ফি ব্যাংকের মাধ্যমে বা অনলাইনে জমা দিতে হবে।

৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (RJSC-এর জন্য)
আবেদনপত্র ( নির্ধারিত ফরমে)।
নিবন্ধিত ট্রাস্ট ডিড (Certified Copy)।
ট্রাস্টের গঠনতন্ত্র বা বাই-লজ (Bye-laws)।
ট্রাস্টি বোর্ডের তালিকা ও তাদের সম্মতিপত্র।
ট্রাস্টের অফিস ঠিকানার প্রমাণ।

৪. নিবন্ধন প্রাপ্তি
RJSC-এর অফিসারগণ আপনার কাগজপত্র যাচাই করবেন। সব তথ্য সঠিক থাকলে তারা একটি Certificate of Registration বা নিবন্ধন সনদ প্রদান করবেন।

সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ট্রাস্ট দলিল নিবন্ধনের মাধ্যমে ট্রাস্ট সৃষ্টির পদ্ধতি
১. ট্রাস্ট ডিড (Trust Deed) প্রস্তুত করা:
ট্রাস্টের নাম, উদ্দেশ্য, ট্রাস্টিদের (Trustees) নাম, ট্রাস্টের সম্পত্তি এবং পরিচালনার নিয়মাবলী উল্লেখ করে একটি ট্রাস্ট ডিড বা দলিল তৈরি করতে হবে।
ট্রাস্টের অন্তত দুইজন বা তার বেশি ট্রাস্টি থাকতে হয়।

২. স্ট্যাম্প পেপারে দলিল সম্পাদন:
ট্রাস্টের সম্পত্তির পরিমাণ ও প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত মূল্যের স্ট্যাম্প পেপারে দলিলটি প্রিন্ট করতে হবে।

৩. সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে রেজিস্ট্রেশন:
সম্পাদিত ট্রাস্ট ডিডটি স্থানীয় সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে (যে এলাকায় ট্রাস্টের কার্যালয় হবে) ট্রাস্টিদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন ফি পরিশোধ করতে হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ট্রাস্টের কাজ বা রেজিস্ট্রেশন সম্পর্কিত আইনি পরামর্শের জন্য আইনজীবী বা আরজেএসসি বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া উত্তম।

লেখক: সরওয়ার নিজামী
অ্যাডভোকেট, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত
ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ঢাকা
ট্যাক্স, ভ্যাট এন্ড কাস্টমস ল’ কনসালট্যান্ট
চেম্বার: লেক্সলেইন চেম্বারস, ফ্ল্যাট নং- ২বি, প্রপার্টি প্যারাগন
১১৬ সেগুনবাগিচা, ঢাকা- ১০০০। মোবাইল- ০১৮১৫ ৮১৯২৩৯।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.