| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সরওয়ার নিজামী
আইনজীবী, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত (০১৮১৫ ৮১৯২৩৯)
ভূমিকা
বাংলাদেশে ভূমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলনের প্রক্রিয়াটি স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের (DC) কার্যালয় থেকে সম্পন্ন করতে হয়। অধিগ্রহণের নোটিশ পাওয়ার পর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য নিচে বর্ণিত ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে
ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলনের ধাপসমূহ:
১. নোটিশ প্রাপ্তি ও যাচাই:
জমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের অফিস থেকে একটি নোটিশ (ধারা-৭) দেওয়া হয়। এই নোটিশ পাওয়ার পর বা প্রকল্পের কাজের সময় আপনি জমির মালিক বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে আপনার অধিকার যাচাই করুন।
২. আবেদন দাখিল (ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তির আবেদন):
ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (LAO) বরাবর সাদা কাগজে বা নির্দিষ্ট ফরম-এ (যদি দেওয়া হয়) ক্ষতিপূরণের চেক পাওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্রে জমির তফসিল, মৌজা, খতিয়ান নং, দাগ নং এবং আপনার ব্যাংক হিসাবের তথ্য উল্লেখ করতে হবে।
৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত ও জমা দেওয়া:
আবেদনের সাথে নিম্নোক্ত কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে:জমির মালিকানার দলিল (দলিল বা বায়া দলিল)।হালনাগাদ নামজারি খতিয়ান (দাখিলাসহ)।জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)। পাসপোর্ট সাইজের ছবি।বর্গাদার বা কৃষিজমি হলে, ফসলের জন্য পৃথক আবেদনপত্র।
৪. শুনানি ও যাচাইকরণ (Verification):
আবেদন জমা দেওয়ার পর ভূমি অধিগ্রহণ অফিস থেকে একটি শুনানির তারিখ দেওয়া হবে। কানুনগো বা সার্ভেয়ার জমির কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই করবেন।
৫. ক্ষতিপূরণের টাকা নির্ধারণ:
জেলা প্রশাসক জমির বাজারমূল্য, স্থাপনা, গাছপালা বা ফসলের ক্ষতির ওপর ভিত্তি করে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। বর্তমানে আইনের ধারা অনুযায়ী, সরকার জমি অধিগ্রহণ করলে, জমির মূল দামের অতিরিক্ত হিসেবে আরও ২০০% (2 গুণ) ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়।
৬. চেক উত্তোলন:
সব কাগজপত্র সঠিক থাকলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে চেক ইস্যু করা হবে। সাধারণত ক্ষতিপূরণ মঞ্জুরির প্রাক্কলিত অর্থ জমা দেওয়ার ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসক ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর করেন।
গুরুত্বপূর্ণ টিপস:
বিকল্প নামজারি: যদি জমির দলিল আপনার নামে না থাকে, তবে দ্রুত নামজারি সম্পন্ন করুন।মামলা: জমি নিয়ে আদালতে কোনো মামলা বা বিরোধ থাকলে ক্ষতিপূরণের টাকা কোর্টে জমা দেওয়া হতে পারে।
অনলাইন আবেদন: বর্তমান ডিজিটাল পদ্ধতিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ওয়েবসাইট বা ই-সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমেও অনেক ক্ষেত্রে আবেদন করা যায়।
লেখক: সরওয়ার নিজামী
অ্যাডভোকেট, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত
ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ঢাকা
ট্যাক্স, ভ্যাট এন্ড কাস্টমস ল’ কনসালট্যান্ট
চেম্বার: লেক্সলেইন চেম্বারস, ফ্ল্যাট নং- ২বি, প্রপার্টি প্যারাগন
১১৬ সেগুনবাগিচা, ঢাকা- ১০০০। মোবাইল- ০১৮১৫ ৮১৯২৩৯।

©somewhere in net ltd.