| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সরওয়ার নিজামী
আইনজীবী, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত (০১৮১৫ ৮১৯২৩৯)
ভূমিকা
জমির হুকুমদখল (Requisition) হলো রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে বা জনস্বার্থে সরকার কর্তৃক সাময়িকভাবে কোনো স্থাবর সম্পত্তি দখল করার আইনানুগ প্রক্রিয়া। আপনার জমি হুকুমদখলের আদেশ হলে আতঙ্কিত না হয়ে নিম্নলিখিত আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা উচিত।
১. নোটিশ যাচাই ও নথি সংরক্ষণ:
জেলা প্রশাসক বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ থেকে প্রেরিত হুকুমদখলের লিখিত নোটিশটি ভালো করে পড়ুন। নোটিশে জমির পরিমাণ, দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর এবং কতদিনের জন্য দখল নেওয়া হচ্ছে, তা যাচাই করুন। নোটিশের কপি, আপনার জমির দলিল, খতিয়ান (পর্চা), হালনাগাদ খাজনার দাখিলা—সব কাগজপত্রের ফটোকপি এবং মূল কপি যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করুন।
২. আইনগত পরামর্শ নেওয়া:
অবিলম্বে একজন অভিজ্ঞ দেওয়ানি আইনজীবীর (সিভিল ল’ইয়ার) সাথে পরামর্শ করুন। এটি কোনো বেআইনি দখল নয়, তাই আইনগতভাবে এর ক্ষতিপূরণ দাবি করাই শ্রেয়।
৩. ক্ষতিপূরণের আবেদন (Compensation):
আইন অনুযায়ী, হুকুমদখলকৃত সম্পত্তির জন্য সরকার মালিককে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ বা ভাড়া দিতে বাধ্য। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বা দায়িত্বরত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার (LAO) কাছে ক্ষতিপূরণ বা ভাড়ার টাকা পাওয়ার জন্য লিখিত আবেদন করুন।
৪. যৌথ পরিমাপ ও তালিকা তৈরি:
জমিতে কোনো ঘরবাড়ি, গাছপালা বা ফসল থাকলে, তা হুকুমদখলের সময় সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিতিতে আপনার প্রতিনিধির মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করান। কোনো কিছু বাদ পড়লে বা ভুল তালিকা হলে তাৎক্ষণিক আপত্তি জানান।
৫. আপত্তি দায়ের (যদি প্রয়োজন হয়):
যদি মনে করেন যে হুকুমদখলটি অন্যায্য বা আইনের সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি, তবে আপনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জেলা প্রশাসক বা আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে আপত্তি বা মামলা দায়ের করতে পারেন।
৬. হুকুমদখল মুক্ত করার আবেদন:
হুকুমদখলের মেয়াদ শেষ হলে, জমিটি হুকুমদখল মুক্ত করার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করুন। আইন অনুযায়ী, হুকুমদখল মুক্ত করা হলে তা আগের মালিক বা তার উত্তরাধিকারীকে বুঝিয়ে দেওয়ার বিধান রয়েছে।
বিশেষ সতর্কতা: সরকারি কাজের বা কর্মকর্তাদের সাথে বাগবিতণ্ডা বা বাধা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন, কারণ এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
লক্ষ্য করুন: জমিটি যদি সরকারিভাবে হুকুমদখল না হয়ে আইনবহির্ভূতভাবে অন্য কেউ দখল করে, তবে আপনি দ্রুত থানায় সাধারণ ডায়েরি (GD) বা এফআইআর (FIR) করবেন এবং প্রয়োজনে দেওয়ানি আদালতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনেরর অধীনে উচ্ছেদ বা দখল পুনরুদ্ধারের মামলা করবেন।
লেখক: সরওয়ার নিজামী
অ্যাডভোকেট, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত
ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ঢাকা
ট্যাক্স, ভ্যাট এন্ড কাস্টমস ল’ কনসালট্যান্ট
চেম্বার: লেক্সলেইন চেম্বারস, ফ্ল্যাট নং- ২বি, প্রপার্টি প্যারাগন
১১৬ সেগুনবাগিচা, ঢাকা- ১০০০। মোবাইল- ০১৮১৫ ৮১৯২৩৯।

©somewhere in net ltd.