নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সরওয়ার নিজামী একাধারে লেখক, আইন গবেষক, আইনজীবী, সমাজকর্মী ও সংগঠক। প্রকাশিত বই: পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সম্পর্কিত আইন, আইনের জীবন ও দর্শন, চলচ্চিত্রে আইন, কোলাহল শেষে, বিপ্লব দেখতে আসিনি, এসেছি বিপ্লবী হতে, শূন্যলতা, কিছু স্মৃতি, কিছু কথা, ধূসর মেঘের ওপারে।

সরওয়ার নিজামী

আইনজীবী, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত (০১৮১৫ ৮১৯২৩৯)

সরওয়ার নিজামী › বিস্তারিত পোস্টঃ

আপনার কোনো নামজারি আবেদন নামঞ্জুর হলে, আইনগত করণীয় কী?

০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:২৮

ভূমিকা
আপনার কোনো নামজারী বা মিউটেশন আবেদন নামঞ্জুর হলে, আদেশের সার্টিফাইড কপি বা ওয়েবসাইটে কারণ যাচাই করে তৎপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। এক্ষেত্রে যথাযথ দেওয়ানী বা সম্পত্তি-বিষয়ক অভিজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তা নিতে পারেন।

১. কারণ যাচাই ও সংশোধন:
নামজারী আবেদন কেন নামঞ্জুর হয়েছে তার বিস্তারিত কারণ অনলাইন মিউটেশন সিস্টেমে লগইন করে ‘আবেদন ট্র্যাকিং’ অপশন থেকে জেনে নিন। আপনার আবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল থাকলে কিংবা পর্যাপ্ত সাপোর্টিং দলিল বা নথি উপস্থাপিত না হলে, আবেদনটি সংশোধন করে যথাযথ দলিলাদিসহ পুনরায় নতুন করে আবেদন করুন। অন্যদিকে, আবেদনটি সঠিক হয়ে থাকলে এবং যথাযথ দলিলাদি উপস্থাপিত হয়ে থাকলে, নামঞ্জুর আদেশের বিরুদ্ধে আপনি নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করতে পারে।

২. আপিল দায়ের:
একটি নামজারী আবেদন নামঞ্জুরের বিরুদ্ধে আপনি তিনটি স্বতন্ত্র ধাপে তিনবার আপিল দায়ের করতে পারবেন।
প্রথম আপিল (এডিসি রেভিনিউ): এসি ল্যান্ডের আদেশের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বা ADC (Revenue) আদালতে আপিল করতে হবে।
দ্বিতীয় আপিল (অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার): এডিসি (রাজস্ব) আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হলে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) এর আদালতে আপিল করতে হবে।
চূড়ান্ত আপিল (ভূমি আপিল বোর্ড): অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের আদেশের বিরুদ্ধেও আপত্তি থাকলে উক্ত আদেশের ৯০ দিনের মধ্যে সরকারের সর্বোচ্চ রাজস্ব আদালত ভূমি আপিল বোর্ডে আপিল দায়ের করা যায়।

৩. রিভিউ:
আপনি যদি মনে করেন যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দলিলপত্র ভুলভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন বা কোনো তথ্য বাদ পড়েছে, তবে আদেশ দেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে একই কর্মকর্তার (এসিল্যান্ড) বরাবর রিভিউ বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যেতে পারে।

৪. হাইকোর্ট বিভাগে রীট দায়ের
ভূমি আপিল বোর্ডের চূড়ান্ত আদেশও যদি আপনার বিপক্ষে যায়, তবে প্রশাসনিকভাবে আর কোনো আপিল করার সুযোগ থাকে না। এই পর্যায়ে আপনার একমাত্র আইনি প্রতিকার হলো বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন (Writ Petition) দায়ের করা। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল বা সর্বোচ্চ রাজস্ব আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিচারিক পর্যালোচনার জন্য রিট করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে।

৫. রিভিশন:
উর্ধ্বতন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রয়োজনবোধে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নথি তলব করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের নির্দেশ বা রিভিশন করতে পারেন।

উপসংহার
আপনার নামজারী আবেদন মঞ্জুর হওয়ার যথেষ্ঠ আইনি ভিত্তি থাকলে আপনি নামজারী পাওয়ার অধিকারী। এক্ষেত্রে আপনি দেওয়ানী বা সম্পত্তি আইন বিষয়ক একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করতে পারে।


লেখক: সরওয়ার নিজামী
অ্যাডভোকেট, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত
ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ঢাকা
ট্যাক্স, ভ্যাট এন্ড কাস্টমস ল’ কনসালট্যান্ট
আইনগ্রন্থসহ বিভিন্ন গ্রন্থ প্রণেতা
যোগাযোগের ঠিকানা: লেক্সলেইন চেম্বারস, ফ্ল্যাট নং- ২বি, প্রপার্টি প্যারাগন
১১৬ সেগুনবাগিচা, ঢাকা- ১০০০। মোবাইল- ০১৮১৫ ৮১৯২৩৯।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.