| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সরওয়ার নিজামী
আইনজীবী, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত (০১৮১৫ ৮১৯২৩৯)
ভূমিকা
দণ্ডবিধির (Penal Code) ১৭০, ১৭১, ৩৯৯ ও ৪০২ এই চারটি ধারা মূলত সংঘবদ্ধ অপরাধ, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছদ্মবেশে বা ভুয়া পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একসঙ্গে প্রয়োগ করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে (যেমন: ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, নারায়ণগঞ্জ বা সাভার এলাকায়) ভুয়া ডিবি পুলিশ ও র্যাব সেজে মহাসড়কে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ডাকাত দল ধরা পড়ার পর পুলিশ প্রায়ই এই ধারাগুলোতে নিয়মিত মামলা দায়ের করে।
ধারাগুলোর বিস্তারিত অর্থ নিচে দেওয়া হলো:
ধারা ১৭০: সরকারি কর্মচারীর ভুয়া পরিচয় দেওয়া। কেউ যদি জেনেশুনে নিজেকে কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী (যেমন—পুলিশ, র্যাব, বা অন্য কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা) হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দেয় এবং সেই ছদ্মবেশে কোনো কাজ করে বা করার চেষ্টা করে, তবে এই ধারায় অপরাধ হয়।
ধারা ১৭১: সরকারি কর্মচারীর পরিধেয় পোশাক বা ব্যবহৃত প্রতীক প্রতারণামূলকভাবে ব্যবহার করা। ভুয়া পরিচয়ের অংশ হিসেবে যখন অপরাধীরা ডিবি জ্যাকেট, ভুয়া পুলিশ আইডি, হ্যান্ডকাফ বা ওয়াকিটকি ব্যবহার করে, তখন এই ধারাটি প্রযোজ্য হয়।
ধারা ৩৯৯: ডাকাতির প্রস্তুতি গ্রহণ। অপরাধীরা যদি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ডাকাতি সংঘটনের উদ্দেশ্যে কোথাও একত্রিত হয় বা প্রস্তুতি নিতে থাকে, তবে তা এই ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
ধারা ৪০২: ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়া। পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি যদি ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়, তবে ডাকাতি সংঘটিত না হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র একত্রিত হওয়ার কারণে প্রত্যেকে এই ধারায় অপরাধী হিসেবে গণ্য হয়।
এই ধরনের মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হলে আসামিদের দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে।
লেখক: সরওয়ার নিজামী
অ্যাডভোকেট, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত
ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ঢাকা
ট্যাক্স, ভ্যাট এন্ড কাস্টমস ল’ কনসালট্যান্ট
আইনগ্রন্থসহ বিভিন্ন গ্রন্থ প্রণেতা
যোগাযোগের ঠিকানা: লেক্সলেইন চেম্বারস, ফ্ল্যাট নং- ২বি, প্রপার্টি প্যারাগন
১১৬ সেগুনবাগিচা, ঢাকা- ১০০০। মোবাইল- ০১৮১৫ ৮১৯২৩৯।


©somewhere in net ltd.