| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সরওয়ার নিজামী
আইনজীবী, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত (০১৮১৫ ৮১৯২৩৯)
১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় দণ্ডবিধি প্রণয়নের সময় ব্রিটিশরা চেয়েছিল ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষকে আত্মহত্যা থেকে বিরত রাখতে এবং সমাজে আত্মহত্যার প্রবণতা রোধ করতে। এই বিধানটি ব্রিটিশরা মূলত তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে প্রাপ্ত হয়ে সর্বপ্রথম যুক্তরাজ্যের আইনে অভিযোজন করেছিল।
পরবর্তীতে লর্ড থমাস ব্যাবিংটন মেকলে-র নেতৃত্বে গঠিত প্রথম ভারতীয় আইন কমিশন যখন ভারতীয় দণ্ডবিধির খসড়া তৈরি করে, তখনই ব্রিটিশ আইন থেকে ধার করে আত্মহত্যার চেষ্টাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধানটি ৩০৯ ধারায় যুক্ত করা হয়। তারা ভেবেছিল যে, শাস্তির বিধান থাকলে মানুষ আত্মহত্যা করা থেকে বিরত থাকবে।
১৮৬০ খ্রিস্টাব্দের মূল আইনে বিধান ছিল যে, কোনো ব্যক্তি আত্মহত্যা করার চেষ্টা করলে তাকে এক বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে এবং জরিমানা দিতে হবে। ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দের ৮ নম্বর আইনের মাধ্যমে ধারাটি কিছুটা শিথিল করা হয়। তখন শাস্তির বিধান বদলে করা হয়—এক বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড।
কিন্তু ব্রিটিশদের তৈরি এই বিধান কি আত্মহত্যা থেকে মানুষকে বিরত রাখতে পেরেছে? ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় যে, এই আইন কখনোই মানুষকে আত্মহত্যা থেকে বিরত রাখতে পারে নাই, বরং যুগে যুগে আত্মহত্যার পরিমাণ আরও বেড়েছে। মজার বিষয় হল, যে যুক্তরাজ্যের আইন থেকে উপমহাদেশে এই ধারাটির জন্ম হয়েছিল, সে যুক্তরাজ্য নিজেই ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে তাদের Suicide Act 1961 পাসের মাধ্যমে আত্মহত্যার চেষ্টাকে অপরাধের তালিকা থেকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দিয়ে দেয়।
আমার দৃষ্টিতে ৩০৯ ধারাটি মানুষকে আত্মহত্যা থেকে বিরত রাখতে পারে না, বরং উল্টো আত্মহত্যায় উৎসাহ দেয় যে। এই ধারাটির কারণে মানুষের মনে বিশ্বাস জন্মে যে, আত্মহত্যার চেষ্টা করলে পরিপূর্ণ আত্মহত্যা করাই শ্রেয়, বেঁচে থাকলে পুনরায় পৃথিবীতে আইনের ঝামেলা পোহাতে হবে। তাছাড়া, যে আত্মহত্যা করার সে আত্মহত্যা করবেই। তাকে আইন দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা যাবে না। সুতরাং আইন নয়, বরং আত্মহত্যা থেকে বিরত রাখার একমাত্র উপায় হল ধর্মীয় বিধান ও অনুশাসন। তাছাড়া, কেউ আত্মহত্যার চেষ্টা করে বেঁচে গেলে তাকে কোনো প্রকার আইনি শাস্তির মুখোমুখি করা নয়, বরং তার মানসিক চিকিৎসা ও সামাজিক সহায়তার প্রয়োজন
লেখক: সরওয়ার নিজামী
অ্যাডভোকেট, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত
ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ঢাকা
ট্যাক্স, ভ্যাট এন্ড কাস্টমস ল’ কনসালট্যান্ট
আইনগ্রন্থসহ বিভিন্ন গ্রন্থ প্রণেতা
যোগাযোগের ঠিকানা: লেক্সলেইন চেম্বারস, ফ্ল্যাট নং- ২বি, প্রপার্টি প্যারাগন
১১৬ সেগুনবাগিচা, ঢাকা- ১০০০। মোবাইল- ০১৮১৫ ৮১৯২৩৯।


©somewhere in net ltd.