নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সরওয়ার নিজামী একাধারে লেখক, আইন গবেষক, আইনজীবী, সমাজকর্মী ও সংগঠক। প্রকাশিত বই: পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সম্পর্কিত আইন, আইনের জীবন ও দর্শন, চলচ্চিত্রে আইন, কোলাহল শেষে, বিপ্লব দেখতে আসিনি, এসেছি বিপ্লবী হতে, শূন্যলতা, কিছু স্মৃতি, কিছু কথা, ধূসর মেঘের ওপারে।

সরওয়ার নিজামী

আইনজীবী, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত (০১৮১৫ ৮১৯২৩৯)

সরওয়ার নিজামী › বিস্তারিত পোস্টঃ

দুদক কমিশনার ও চেয়ারম্যান হিসেবে সাবেক বিচারপতি জনাব এ. কে. এম. আসাদুজ্জামানের নিয়োগ বৈধ না কি বৈধ নয় : আমার মতামত

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৯

প্রথমত, বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৯ অনুচ্ছেদে ‘অবসর গ্রহণের পর বিচারকগণের অক্ষমতা’ সম্পর্কিত কিছু কথা বলা আছে। উক্ত অনুচ্ছেদের বিধানুযায়ী বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের কোনো স্থায়ী বিচারক অবসর গ্রহণের পর বা তাঁকে অপসারণের পর আইনপেশায় নিয়োজিত হতে পারবেন না এবং বিচার বিভাগীয় বা আধা বিচার বিভাগীয় পদ ছাড়া প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোনো লাভজনক পদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হবেন না। তবে হাইকোর্ট বিভাগের কোনো বিচারক অবসর গ্রহণের পর চাইলে আপীল বিভাগে ওকালতি বা কার্য করতে পারবেন। শিরোনামে বর্ণিত ফ্যাক্ট অনুযায়ী সাবেক বিচারপতি জনাব এ. কে. এম. আসাদুজ্জামান ২০২৬ খ্রিস্টাব্দের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপীল বিভাগের বিচারক পদ থেকে অবসর নেন। উল্লেখ্য, তিনি ২০০৩ খ্রিস্ট্রাব্দের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে ২০০৫ খ্রিস্টাব্দের ২৭ আগস্ট স্থায়ী বিচারক হয়েছিলেন।

দ্বিতীয়ত, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ৮(১) ধারানুযায়ী আইনে, শিক্ষায়, প্রশাসনে, বিচারে বা শৃঙ্খলা বাহিনীতে অন্যূন ২০ (বিশ) বৎসরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোনো ব্যক্তি দুদক কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য। শিরোনামে বর্ণিত ফ্যাক্ট অনুযায়ী, সাবেক বিচারপতি জনাব এ. কে. এম আসাদুজ্জামান ২০০৪ খ্রিস্টাব্দের দুদক আইনের ৬(১) ধারানুযায়ী দুদক কমিশনার হিসেবে ও ৫(১) ধারা অনুযায়ী কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, এবং ১৩ ধারানুযায়ী বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্য হবেন। এখানে সাবেক বিচারপতি জনাব এ. কে. এম আসাদুজ্জামান ৮(১) ধারার শর্ত মোতাবেক আইনে অন্যূন ২০ (বিশ) বৎসরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হলেও তিনি সংবিধানের উপরোক্ত ৯৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দুদক কমিশনার তথা চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেতে অক্ষম। কেননা- দুদক কমিশনার বা চেয়ারম্যান পদ কোনো ‘বিচারবিভাগীয় বা আধা-বিচারবিভাগীয় পদ’ নয়, এবং একই সাথে এটি একটি ‘লাভজনক পদ’ বটে। লাভজনক পদের সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ উচ্চ আদালতের বিভিন্ন রায়ে বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে।

তৃতীয়ত, সংবিধান হল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭(২) ও ২৬ অনুযায়ী সংবিধানের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা সাংঘর্ষিক কোনো আইন তৈরি হলে বা বিদ্যমান থাকলে, সেই আইনের যতখানি সংবিধানের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য। শিরোনামে বর্ণিত ফ্যাক্ট অনুযায়ী, দুদক কমিশনার বা চেয়ারম্যান নিয়োগ সংক্রান্ত ২০০৪ খ্রিস্টাব্দের দুদক আইনের বিধানগুলো সংবিধানের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তবে বিগত সোমবার তথা ১৭ আগস্ট ২০২৬ইং তারিখে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপনটিতে সাবেক বিচারপতি জনাব এ. কে. এম আসাদুজ্জামানের নিয়োগ অবৈধ বলে গণ্য হবে। কেননা- বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান। মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উক্ত প্রজ্ঞাপনটিতে দুদক কমিশনার ও চেয়ারম্যান হিসেবে সাবেক বিচারপতি জনাব এ. কে. এম আসাদুজ্জামানের নিয়োগ সংবিধানের ৯৯ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন বিধায় এই নিয়োগ বৈধ নয় এবং প্রজ্ঞাপনটির সংশ্লিষ্ট বিধানও বাতিল বলে গণ্য হবে।

চতুর্থত, দুর্নীতি দমন কমিশন সৃষ্টি হওয়ার পর ২১ নভেম্বর ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে দুদকের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন সাবেক বিচারপতি সুলতান হোসেন খান। তিনি ১৩ মার্চ ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়ে ১ জানুয়ারি ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে অবসরে যান। এরপর তিনি ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়ে ২৪ ডিসেম্বর ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে, ২১ নভেম্বর ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে দুদকের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর নিয়োগ ও দুদক আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট দায়ের হয়েছিল। রিটটি Aminul Haque Helal v. Justice Sultan Hossain Khan and others (reported in 11 BLC (HCD) 339 / (2007) 15 BLT 1) হিসেবে পরিচিত। সে রিটে যুক্তি দেখানো হয়েছিল যে, সাবেক বিচারপতি ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে জনাব সুলতান হোসেন খান এর নিয়োগ সাংবিধানিক বিধানের পরিপন্থী। কিন্তু হাইকোর্ট বিভাগ ২০০৬ খ্রিস্টাব্দের ৬ মার্চ সেই রিট আবেদনটি খারিজ করে দিয়ে সাবেক বিচারপতি সুলতান হোসেন খান এর নিয়োগ ও দুদকের কার্যক্রমের বৈধতা বহাল রাখে।

পঞ্চমত, বর্তমানে দুদক কমিশনার ও চেয়ারম্যান হিসেবে সাবেক বিচারপতি জনাব এ. কে. এম আসাদুজ্জামানের নিয়োগ বৈধ কি না তা নিয়ে কেউ হাইকোর্ট বিভাগে রিট দায়ের করলে তিনি প্রথমে পূর্বোক্ত Aminul Haque Helal v. Justice Sultan Hossain Khan and others রিটের নজীর দ্বারা সরকারপক্ষ হতে বাধাপ্রাপ্ত হবেন। তারপরও হাইকোর্ট বিভাগ ভিন্নরকম রায় দিতে পারেন। বিষয়টি পরবর্তীতে আপিল বিভাগেও যেতে পারে।

ষষ্টত, আমার দৃষ্টিতে দুদক কমিশনার ও চেয়ারম্যান হিসেবে সাবেক বিচারপতি জনাব এ. কে. এম আসাদুজ্জামানের নিয়োগ বৈধ নয়। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁর নিয়োগ উচ্চ আদালতের দৃষ্টিতে অবৈধ বলে ঘোষিত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি বৈধ বলে আমার অভিমত।

© লেখক

লেখক: সরওয়ার নিজামী
অ্যাডভোকেট, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত
ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ঢাকা
ট্যাক্স, ভ্যাট এন্ড কাস্টমস ল’ কনসালট্যান্ট
আইনগ্রন্থসহ বিভিন্ন গ্রন্থ প্রণেতা
যোগাযোগের ঠিকানা: লেক্সলেইন চেম্বারস, ফ্ল্যাট নং- ২বি, প্রপার্টি প্যারাগন
১১৬ সেগুনবাগিচা, ঢাকা- ১০০০। মোবাইল- ০১৮১৫ ৮১৯২৩৯।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.